Barta24

বুধবার, ১৭ জুলাই ২০১৯, ২ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

দৌলতদিয়ায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ

দৌলতদিয়ায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ
ছবি: বার্তা২৪
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
রাজবাড়ী


  • Font increase
  • Font Decrease

ঈদের আর মাত্র দুই একদিন বাকি। এরই মধ্যে প্রিয়জনদের সাথে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে ঘরে ফিরতে শুরু করেছেন কর্মজীবীরা। রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ঘাটে কোনো ধরনের ভোগান্তি ছাড়াই এখন পর্যন্ত নির্বিঘ্নে বাড়ি ফিরতে পারছেন যাত্রীরা। তবে ঈদযাত্রায় বাস ও মাহেন্দ্রগুলো অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

প্রশাসনের দাবি, পরিবহন মালিক সমিতির সাথে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বৈঠকে, গত ঈদে যে ভাড়া নেওয়া হয়েছে সেই ভাড়াই নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো যাত্রী অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সোমবার (৩ জুন) সকালে দৌলতদিয়া বাস টার্মিনালে গিয়ে দেখা যায়, যাত্রীদের কাছ থেকে ৪০ টাকার ভাড়ার বদলে চাওয়া হচ্ছে ৮০-১০০ টাকা। উপায় না পেয়ে বাধ্য হয়ে বাড়তি ভাড়াই দিতে হচ্ছে তাদের।

অনুসন্ধানে জানা যায়, স্বাভাবিক সময়ে দৌলতদিয়া ঘাট থেকে রাজবাড়ী পর্যন্ত বাসে ৪০ টাকা, মাহেন্দ্রে ৫০ টাকা এবং ফরিদপুরে বাসভাড়া ৫০ টাকা। কিন্তু ঈদ উপলক্ষে যাত্রীদের কাছ থেকে আদায় করা হচ্ছে রাজবাড়ী ৮০ টাকা এবং ফরিদপর ১০০ টাকা। পদ্মা গড়াই বাস সার্ভিস সরাসরি কুষ্টিয়া ছাড়া রাজবাড়ীর কোনো যাত্রী তুলছে না। তুললেও যাত্রীর কাছ থেকে কুষ্টিয়ার ভাড়া ২০০ টাকা নিচ্ছে।

Doulotdia Ghat

তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থী মাগুরার শ্রীপুরের বাসিন্দা মইনুল রানা বার্তা ২৪.কমকে বলেন, প্রতি বছরই ঈদে বাড়ি ফেরার সময় ঘাটে বেশ ভোগান্তি পোহাতে হয়। কিন্তু এবারই ঘাটের চিত্রটা ভিন্ন। কোনো ধরনের ঝামেলা ছাড়াই ঘাট পার হতে পেরেছি। কিন্তু ভাড়ার বিষয়টি প্রশাসন নিয়ন্ত্রণ করছে না, না-কি করতে পারছে না, সেটা বুঝতে পারছি না। ৪০ টাকার ভাড়া ৮০ টাকা চাচ্ছে। কী করব! কোনো উপায় নেই। এভাবেই আমাদের যেতে হবে।

ফরিদপুর শহরের বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বার্তা ২৪.কমকে বলেন, ঈদ উপলক্ষে ৫-১০ টাকা ভাড়া বাড়ালে যাত্রীদের তেমন কোনো অভিযোগ থাকতো না। কিন্তু দ্বিগুণ ভাড়া গুনতে হচ্ছে, এটা খুবই দুঃখজনক।

অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়টি তাহলে ঘাটে কর্মরত পুলিশ সদস্যদের কাছে অভিযোগ কেন করছেন না, এমন প্রশ্ন করলে উভয়েই বলেন, অনেক দিন পর বাড়ি যাচ্ছি। ঈদে সবার সাথে আনন্দ করব। কে যাবে এই ঝামেলা করতে! ঝামেলা না করে এভাবেই অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে চলে যায় সবাই।

Doulotdia Ghat

তবে রাজবাড়ী ডিজেল চালিত অটোরিকশা অটোটেম্পু মালিক সমিতির সভাপতি আবু বক্কর সিদ্দিকের দাবি, জেলা প্রশাসকের আইনশৃঙ্খলা সভায় যে ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে, সেই ভাড়াই নেওয়াই হচ্ছে। এর অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের কোনো সুযোগ নেই।

রাজবাড়ীর ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক আলমগীর হুসাইন বার্তা২৪.কমকে জানান, আইনশৃঙ্খলা সভায় জেলা বাস মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দের সাথে ভাড়ার ব্যাপারে কথা হয়েছিল এবং তারা বলেছিলেন, গত ঈদে যে ভাড়া নিয়েছে, এবারও সেই ভাড়া নেওয়া হবে। আর ভাড়ার তালিকা নিজ নিজ কাউন্টারে টাঙানো থাকবে।

অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হলে ঘাট কর্তৃপক্ষকে জানালে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি।

আপনার মতামত লিখুন :

লালমনিরহাটে বন্যার পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

লালমনিরহাটে বন্যার পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু
ফাইল ছবি

লালমনিরহাটের ধরলা নদীর বন্যার পানিতে ডুবে ইশি মনি (২) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার (১৭ জুলাই) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার কুলাঘাট ইউনিয়নের ওয়াবদা বাজারের পাশে ধরলা নদী থেকে শিশুটির লাশ উদ্ধার করা হয়।

শিশু ইশি মনি সদর উপজেলার কুলাঘাট ইউনিয়নের ওয়াবদা বাজার এলাকার মজনু মিয়ার ছেলে।

সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান সুজন জানান, কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে ধরলা নদীর পানি বৃদ্ধি পায়। ওই বন্যার পানি বাড়িতে ওঠায় শিশু ইশি মনিকে উঁচু স্থানে রেখে কাজ করছিল পরিবারের লোকজন। তবে সবার অজান্তে বন্যার পানিতে পড়ে ওই শিশুটির মৃত্যু হয়।

দুদকের মামলায় পুলিশ কর্মকর্তা কারাগারে

দুদকের মামলায় পুলিশ কর্মকর্তা কারাগারে
প্রতীকী ছবি

ফরিদপুরে নির্দিষ্ট সময়ে সম্পত্তির বিবরণ জমা না দেওয়ায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলায় এক সহকারী পুলিশ সুপারকে (এএসপি) কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

বুধবার (১৭ জুলাই) বিকালে ঐ পুলিশ কর্মকর্তা ফরিদপুরের জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন জানালে আদালতের হাকিম মো. সেলিম মিয়া আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

ঐ পুলিশ কর্মকর্তার নাম এস এম বদরুল আলম। তিনি গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার ধানকোড়া গ্রামের বাসিন্দা। এস এম বদরুল আলম বর্তমানে গাজীপুর জেলার হাইওয়ে পুলিশের এএসপি হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০০৯ সালে এস এম বদরুল আলম যশোরের ঝিকরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ঐ বছরের ৪ মে তার সম্পত্তির হিসাব চেয়ে সাত দিনের মধ্যে তা দুদকে জমা দিতে বলা হয়। বদরুল আলম দুদকের নোটিশের ঐ চিঠিটি ৫ মে গ্রহণ করেন। সেই হিসেবে ১৪ মে’র মধ্যে তার সম্পত্তির হিসাব দেওয়ার কথা ছিল।

বদরুল আলম নির্দিষ্ট সময়ে সম্পত্তির হিসাব জমা না দেওয়ায় দুদকের ফরিদপুর জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আবুল হোসেন বাদী হয়ে ২০০৯ সালের ৮ সেপ্টেম্বর বদরুল আলমকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন ফরিদপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতে।

মামলা দায়েরের পর বদরুল আলম হাইকোর্ট থেকে অন্তর্বর্তিকালীন জামিন নেন। হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ গত ২০১৪ সালের ১৬ জুন এ ব্যাপারে একটি রুল জারি করে রুল নিস্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বদরুল আলমের বিরুদ্ধে দায়ের করা দুদকের মামলার কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করেন। গত ২০১৬ সালের ২৬ জুলাই হাইকোর্ট বদরুল আলমের দায়ের করা রুলটি খারিজ করে দেন।

জেলা দুদকের আইনজীবী নারায়ন চন্দ্র দাস জানান, হাইকোর্ট রুল খারিজ করে দিলেও বদরুল আলম সেই তথ্য গোপন রাখেন। অতপর বুধবার তিনি ফরিদপুরের জেলা ও দায়রা জজ আদালতে এসে আত্মসমর্পণ করে জামিন প্রার্থনা করেন। তবে আদালত জামিনের আবেদন খারিজ করে দিয়ে তাকে কারাগারে প্রেরণের আদেশ দেন।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র