Barta24

রোববার, ২১ জুলাই ২০১৯, ৬ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

জেলে পল্লীর ময়নার নতুন জামা পাওয়ার আনন্দ

জেলে পল্লীর ময়নার নতুন জামা পাওয়ার আনন্দ
নতুন জামা হাতে জেলে পল্লীর শিশু ময়না আক্তার/ ছবি: বার্তা২৪.কম
ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪. কম
লক্ষ্মীপুর


  • Font increase
  • Font Decrease

জেলে পল্লীর শিশু ময়না আক্তার। বয়স তার পাঁচ বছর। সবার ছোট মেয়েটি বাবা মায়ের বেশ আদরের। এই বয়সটিতে কিছুই বুঝে না সে। তবে প্রতিদিনই বাবা-মায়ের কাছে বায়না ধরে নতুন জামার।

কিন্তু ঈদ উপলক্ষে নতুন জামা কিনে দিতে পারেননি তার বাবা। নদীতে না যাওয়ায় তার বাবার সামর্থ্য হয়ে উঠেনি নতুন জামা কেনার। অবশেষে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন থেকে নতুন জামা পেয়ে খুশি হয়েছে ময়না। এখন সে ঈদের দিন অন্যদের মতো নতুন জামা পড়বে।

ময়না লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার চর কালকিনি ইউনিয়নের মতিরহাট এলাকার বেড়িবাঁধ এলাকার জেলে ইসলাম মাঝির মেয়ে। তার মায়ের নাম তৈয়বা খাতুন। তার পরিবারে ভাই ফয়সাল ও আরেক বোন সুমিও রয়েছে।

রোববার (২ জুন) বেলা যখন দুপুর ১২টা ঠিক তখন ময়নার দেখা মেলে বাড়ির সামনে বেড়িবাঁধের ওপর। খালি গায়ে দাঁড়িয়ে ছিল ময়না।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/02/1559482272986.jpg

জানতে চাইলে সে জানায়, তার বাবা অনেকদিন নদীতে যায় না। এজন্য তার বাবার কাছে কোনো টাকা পয়সা নেই। ধার-দেনা করে সংসার চালাতে হচ্ছে। তাই ঈদের জন্য নতুন জামা কিনে দিতে পারছেন না। সে এটাও জানায়, এসব কথা তার মা তাকে বলেছিল।

ময়না আরও জানায়, শুধু সে নয়, তার ভাই-বোনও নতুন জামা পায়নি। দুই-একদিন সে কান্নাকাটিও করেছে। সর্বশেষ কবে তার বাবা নতুন জামা নিয়ে দিয়েছে তা বলতে পারেনি সে।

জানতে চাইলে ময়নার মা তৈয়বা খাতুন বলেন, ‘কারো হাতে নতুন জামা দেখলেই ছুটে আসে আমার কাছে। কিন্তু কিছুই করার নেই। নদীতে ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে না। এজন্য গত একমাস থেকে তার বাবা নদীতে যাননি। ধার-দেনা করে কোনো রকম সংসার চালাতে হচ্ছে।’

‘ছেলে-মেয়েদের নতুন জামা-কাপড় কেনে দেওয়ার অবস্থা এখন আমাদের নেই। তবে স্বেচ্ছসেবী ভাইদের দেওয়া নতুন জামা পেয়ে আমার মেয়েটি অনেক খুশি হয়েছে।’

প্রসঙ্গত, অনলাইনভিত্তিক স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠন প্রিয় লক্ষ্মীপুর জেলার পক্ষ থেকে ময়না ও তার ভাইবোনসহ জেলে পল্লীর শতাধিক শিশুকে ঈদ উপলক্ষে নতুন জামা দেওয়া হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন :

বিশুদ্ধ পানির জন্য হাহাকার

বিশুদ্ধ পানির জন্য হাহাকার
লাইনে দাঁড়িয়ে বিশুদ্ধ পানি সংগ্রহ করছেন বন্যা কবলিত জনগণ, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর

বন্যায় গাইবান্ধা জেলার প্রায় চার লাখ মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের টিউবয়েলগুলো পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে। ফলে বন্যা কবলিত এলাকায় দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির সঙ্কট। বিশুদ্ধ পানির জন্য তাদের মধ্যে শুরু হয়েছে হাহাকার।

ডেভিট কোম্পানিপাড়ার বাসিন্দা স্বপন মিয়া বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, ‘এমনিতে আমাদের অন্নের সঙ্কট, সেই সঙ্গে যোগ হয়েছে বিশুদ্ধ পানির অভাব।’

এদিকে দূষিত পানির কারণে কারো যাতে ডায়রিয়া বা অন্য কোনো পানিবাহিত রোগ না হয়, সে জন্য কাজ করে যাচ্ছে ‘এভারগ্রিন জুম বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন’ নামের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ ও ভলান্টিয়াররা প্লাবিত এলাকার মানুষদের মধ্যে বিশুদ্ধ পানি পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন। শুধু পানিই নয়, তারা দিচ্ছেন পানি বিশুদ্ধ করণ ট্যাবলেট, খাবার স্যালাইন, কার্বলিক এসিড, অ্যামোডিস ও প্যারাসিটামলসহ বিভিন্ন ধরনের ত্রাণ সামগ্রী।

এরই মধ্যে জেলার গোদারহাট, পুলবন্দি, ফারাজিপাড়া ও কোটিপাড়া এলাকাসহ বিভিন্ন এলাকার প্রায় এক হাজার ৩০০ পরিবারের মধ্যে এসব বিতরণ করেছে সংগঠনটি।

গাইবান্ধা শাখার এ সংগঠনের সমন্বয়ক মো. মেহেদী হাসান বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন দাতদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ এবং সংগঠনের অর্থ সমন্বয় করে বন্যা কবলিত মানুষের মধ্যে নিরাপদ পানিসহ বিভিন্ন সামগ্রী বিতরণ করে আসছি। দানশীল মানুষরা সহযোগিতা করলে এ কার্যক্রম চলমান থাকবে।’

বন্যা: মশালের চরে তিন শতাধিক পরিবারের নৌকায় বসবাস

বন্যা: মশালের চরে তিন শতাধিক পরিবারের নৌকায় বসবাস
বন্যায় নৌকায় আশ্রয়, , ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

দুই শিশু সন্তানসহ পরিবারের ছয় সদস্য নিয়ে নৌকায় সংসার পেতেছেন কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার বেগমগঞ্জ ইউনিয়নের মশালের চরের মরিয়ম বেগম (৪০)। ১২ দিন আগে বন্যার পানি বিছানা পর্যন্ত ওঠায় পরিবারের সদস্যরা মিলে নিজেদের মাছ ধরার ছোট ডিঙ্গি নৌকায় উঠেছেন। সেই থেকে নৌকাতেই কাটছে দিন-রাত। রান্না, খাওয়া এমনকি টয়লেটের কাজও সারতে হচ্ছে নৌকাতেই।

শুধু মরিয়মের পরিবারই নয়, তার মতো প্রায় তিন শতাধিক পরিবার ১২ দিন ধরে নৌকায় বাস করছেন।

সরেজমিন দেখা গেছে, নিকটবর্তী সব উঁচু বাঁধ ও উঁচু জায়গা বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। ফলে ডুবে যাওয়া ঘর-বাড়ির পাশেই নৌকাতে বসবাস করছে এসব পরিবার। আর বন্যা দীর্ঘমেয়াদী হওয়ায় নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে তাদের। ঘরে সঞ্চিত শুকনা খড়ি বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় রান্নাও হচ্ছে না ঠিক মতো। ফলে কোনও রকম একবার রান্না করে দিন পার করতে হচ্ছে সবাইকে।

জমিয়ে রাখা শুকনা খাবারও শেষ হয়ে গেছে। তবে কিছু পরিবার স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যের মাধ্যমে সরকারি ত্রাণের আট-১০ কেজি চাল পেয়েছেন, যা অনেক পরিবারের ভাগ্যে জোটেনি। অন্যদিকে নৌকায় বসবাস করায় বন্ধ রয়েছে মাছ ধরা। ফলে বন্ধ আছে আয় রোজগারও। আর বিকল্প নৌকা না থাকায় বাজার থেকে শুকনো খড়ি বা শুকনা খাবার কিনতে যাওয়ার কোনও উপায় নেই।

আরও জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে নৌকায় বসবাস করতে হওয়ায় শিশুরা ডায়রিয়া, জ্বরসহ নানা পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। দ্রুত বন্যার পানি নেমে না গেলে খাওয়ার সমস্যাসহ রোগব্যাধিতে দুর্ভোগ আরও বাড়বে।

https
বন্যায় নৌকায় আশ্রয়, , ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

 

মশালের চরের ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য আবু বকর সিদ্দিক বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, ‘নিকটবর্তী কোনও শুকনা জায়গা না থাকায় এই চরের লোকজন নৌকায় আশ্রয় নিয়েছেন। ডিঙ্গি নৌকায় সব সময় সাবধান না থাকলে যে কোনও সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। নৌকায় বসবাসকারী বেশির ভাগ পরিবারকে ১০ কেজি করে চাল দেওয়া হয়েছে। যারা পাননি তারা পরবর্তী ত্রাণ সহায়তা এলে পাবেন।’

উলিপুর উপজেলার বেগমগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. বেলাল হোসেন বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, ‘এ ইউনিয়নে কমপক্ষে ছয়শ’ পরিবার ছোট নৌকায় উঠেছে। এর মধ্যে মশালের চরেরই রয়েছে তিন শতাধিক পরিবার। নৌকায় বসবাসকারী বেশির ভাগ পরিবার তাদের মাছ ধরার নৌকায় সংসার পেতেছেন। রান্না-বান্না, খাওয়া-দাওয়া, ঘুম সব নৌকাতেই। আর যাদের নৌকা নেই, তারা দূরবর্তী উঁচু জায়গা বা আত্মীয় স্বজনদের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। পর্যাপ্ত সহায়তা না আসায় প্রয়োজন অনুযায়ী তাদের ত্রাণ দেওয়া সম্ভব হয়নি।’

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র