Barta24

রোববার, ২১ জুলাই ২০১৯, ৬ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

তাদের ঈদ কাটবে ধার করা টাকায়

তাদের ঈদ কাটবে ধার করা টাকায়
লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার মতিরহাট এলাকার কয়েকজন জেলে। ছবি: বার্তা২৪.কম
হাসান মাহমুদ শাকিল
ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
লক্ষ্মীপুর


  • Font increase
  • Font Decrease

'যেসময় নদীতে মাছ আছিল (ছিল), হেসময় (সে সময়) আঙ্গোরে (আমাদের) মাছ ধইরতে দেয় নাই। আবার নদীতে নাইমলে (নামলে) অফিসাররা আই (এসে) জাল আর নৌকা লই (নিয়ে) যায়। অফিসাররা কয় (বলে) কারেন্ট জাল দিয়ে মাছ ধরা অবৈধ। হরে (পরে) আবার ধার-দেনা করি নৌকা আর জাল কিনতে অই (হয়)। এখন নিষেধও নাই, আবার নদীতে মাছও নাই। তাই ঈদের দিন হোলা-মাইয়ার (ছেলে মেয়ে) মুখে একটু সেমাই তুলে দেনের (দেওয়ার) লাই (জন্য) সুদের ওপর টিয়া (টাকা) নিতে অইছে (হয়েছে)।'

লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার মতিরহাট এলাকার কয়েকজন জেলের কাছ থেকে ঈদ কাটানোর পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে বার্তা২৪.কমকে এসব কথা বলেন তারা।

জেলেদের মধ্যে রয়েছে ইব্রাহিম হোসেন, সিরাজুল ইসলাম, নুরুল হক ও আলাউদ্দিন মাঝি। যদিও তাদের উপার্জন এই মেঘনায়ই, আবার এই মেঘনার কারণেই তারা আজ নিঃস্ব। বাড়ি-ঘর সর্বস্ব হারিয়ে তাদের থাকতে হচ্ছে বেড়িবাঁধ এলাকায়। ধর্মীয় উৎসবগুলোও ঠিকমতো উদযাপন করতে পারে না। ধার-দেনাতেই তাদের ঈদ কাটাতে হয়।

জানা গেছে, লক্ষ্মীপুরে প্রায় ৬২ হাজার জেলে রয়েছে। এর মধ্যে নিষেধাজ্ঞার সময় প্রায় ২৫ হাজার জেলে সরকারি খাদ্য সহায়তা পায়। অধিকাংশরাই এই সহায়তা থেকে বঞ্চিত। নিষেধাজ্ঞা শেষে গত এক মাস নদীতে ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে না। যার কারণে জেলার অধিকাংশ জেলেই নদীতে যাচ্ছে না। অন্য কোনো কাজ না করায়, এখন তাদের উপার্জনও নেই। কিন্তু ঈদতো কাটাতে হবে। তাই দাদনদারদের থেকে সুদের ওপর টাকা নিতে হয়েছে তাদের।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/02/1559464948896.jpg

আলাউদ্দিন নামে এক জেলে বলেন, ‘মার্চ-এপ্রিল দুই মাস নিষেধাজ্ঞা থাকায় নদীতে যাইনি। গত এক মাস ধরে নদীতে মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। প্রথম দুই-একদিন গেলেও এরপর আর নদীতে নৌকা ভাসানোর ইচ্ছা জাগছে না। সংসার চলে ধার করে। ঈদের জন্য ছেলেমেয়েকে একটি জামাও কিনে দিতে পারিনি।’

আক্ষেপ করে নুরুল হক মাঝি বলেন, ‘কার্ড আছে, কিন্তু সরকারি সহায়তা আমাদের কপালে জোটে না। অনেকে নাম মাত্র জেলে, অথচ তারাই সরকারি বরাদ্দকৃত চাল পায়। আমরা পেশাদার কার্ডধারীরা চাল পাই না। চালের জন্য বোর্ড অফিসে গেলে বলে আমাদের জন্য বরাদ্দ নাই। এদিকে নদীতেও মাছ নেই, তাই বাড়তি খরচ করে নদীতে যেতে পারছি না।’

জেলে সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘দুই মাস নিষেধাজ্ঞার সময় ধার-দেনা করে নৌকা মেরামত করে রেখেছি। প্রথম দুইদিন গিয়ে মাছ পাইনি। এজন্য এখন আর যাচ্ছি না। ধারের টাকাও পরিশোধ করতে পারছি না। উপার্জন যেহেতু নেই, ঈদ আনন্দও আমাদের থাকতে নেই।’

আপনার মতামত লিখুন :

খোয়াই নদীতে ভেসে উঠল মরদেহ

খোয়াই নদীতে ভেসে উঠল মরদেহ
খোয়াই নদীতে ভেসে উঠল মরদেহ

হবিগঞ্জ সদর উপজেলার জয়নগর এলাকায় খোয়াই নদীতে ভেসে থাকা অজ্ঞাত পরিচয় (৪৫) এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

শনিবার (২১ জুলাই) বিকেল ৪টার দিকে হবিগঞ্জ সদর থানা পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) মো. জিয়াউর রহমান জানান, মরদেহটি ফুলে গিয়ে নদীতে ভেসে উঠেছে। স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ উদ্ধার করে হবিগঞ্জ মর্গে প্রেরণ করে। ময়না তদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে মৃত্যুর কারণ জানা যাবে।

শ্রেণিকক্ষের অভাবে মাটিতে বসে পাঠদান

শ্রেণিকক্ষের অভাবে মাটিতে বসে পাঠদান
প্রয়োজনের তুলনায় চেয়ার, টেবিল ও বেঞ্চ কিছুই নেই বিদ্যালয়টিতে, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলায় জাতীয়করণকৃত ১২টি বিদ্যালয়ের মধ্যে একটি জাগছড়া চা বাগান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বিদ্যালয়টিতে শ্রেণিকক্ষ সঙ্কট থাকায় ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম। স্কুলের পাশে চা বাগানের হাসপাতালের একটি রুমে চলছে পাঠদান কার্যক্রম। এমনকি বিদ্যালয়টিতে নেই কোনো বসার ব্যবস্থা, নিরাপদ খাবার পানি, উন্নত স্যানিটেশন কিংবা অবকাঠামো ব্যবস্থা।

সূত্রে জানা যায়, এই প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ১৯৫৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর ২০১৪ সালে বিদ্যালয়টি সরকারি করা হলে এখনও পর্যন্ত কোনো পাকা ভবন নির্মাণ করা হয়নি। দোচালা টিনের ঘরে মাত্র দুটি শ্রেণিকক্ষে ৩০০ ছাত্র-ছাত্রীকে দুই শিফটে কোনোরকমে পাঠদান করা হচ্ছে।

এদিকে প্রয়োজনের তুলনায় চেয়ার, টেবিল ও বেঞ্চ কিছুই নেই বিদ্যালয়টিতে। ছাত্র-ছাত্রীদের মাটিতে বসে ক্লাস করতে হচ্ছে।

স্কুলের বাহিরে টেবিল নিয়ে অফিস বানিয়ে কোন রকমে প্রধান শিক্ষকসহ পাঁচজন শিক্ষক তাদের দাফতরিক কার্যক্রম পরিচালনা করেন। সকালের শিফটে দুটি কক্ষে ১ম ও ২য় শ্রেণির পাঠদান এবং বিকেলের শিফটে ৩য়, ৪র্থ ও ৫ম শ্রেণির পাঠদান কার্যক্রম চালায়।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/21/1563706122113.jpg
স্কুলের বাহিরে টেবিল নিয়ে অফিস বানিয়ে দাফতরিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে

 

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়টির ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষের মেঝেতে বসে ক্লাস করছে। ওই শ্রেণিতে ক্লাস করাচ্ছেন সহকারী শিক্ষিকা সালমা আক্তার। তিনি বলেন, 'গরমের মধ্যে ক্লাস করতে অনেক কষ্ট হচ্ছে। ছাত্র-ছাত্রীরা ঠাসাঠাসি করে মাটিতে বসেছে। এতে তাদের লেখাপড়ার সমস্যা হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা বেশ কষ্ট পায়। বিদ্যালয়ে বিদ্যমান ১টি শ্রেণিকক্ষে পর্যাপ্ত পরিমাণ বেঞ্চ নেই, ভাঙা কয়েকটি বেঞ্চ দিয়ে কোন রকমে চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে পাঠদান। অপর আরেকটি শ্রেণিকক্ষে কোন বেঞ্চ'ই নেই।'

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানায়, 'মাটিতে বসে আমাদের ক্লাস করতে হয়। এতে আমাদের অনেক কষ্ট হয়। গরমে আমরা একদম বসতেই পারি না।'

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কল্পনা রানী দাস বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে বলেন, 'স্কুলে শ্রেণিকক্ষ সঙ্কটের কারণে ছাত্র-ছাত্রীদরে মেঝেতে বসিয়ে ক্লাস নিতে হচ্ছে। শ্রেণিকক্ষ সঙ্কটের কথা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তারা শুধু নতুন ভবনের আশ্বাস দিচ্ছেন।' 

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/21/1563706168582.jpg
জাগছড়া চা বাগান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

 

বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি পরেশ কালেন্দি বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে বলেন, 'শ্রেণিকক্ষের অভাবে মাটিতে বসিয়ে কোমলমতি শিশুদের পাঠদান দেয়া হচ্ছে। অতি দ্রুত বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের বসার জন্য পর্যাপ্ত আসনের ব্যবস্থাসহ পাঠদানের উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টির জন্য কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করছি।' 

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সাইফুল ইসলাম তালুকদার বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে বলেন, 'এই বিদ্যালয়ের সমস্যার কথা সম্পর্কে অবগত আছি। অন্যান্য বিদ্যালয়গুলোতে নতুন ভবনের কাজ চলছে। আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে এই বিদ্যালয়ে নতুন ভবনের কাজ শুরু হবে। এছাড়াও সকল সমস্যা সমাধানের জন্য আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।'

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র