Barta24

রোববার, ২৫ আগস্ট ২০১৯, ১০ ভাদ্র ১৪২৬

English

‘এবার ঈদে ছুয়ালাক সেমাই খিলাবা পারিম’

‘এবার ঈদে ছুয়ালাক সেমাই খিলাবা পারিম’
নবীন আলোর আয়োজনে দরিদ্রদের মাঝে ঈদ সামগ্রী বিতরণ করা হয়। ছবি: বার্তা২৪.কম
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
ঠাকুরগাঁও


  • Font increase
  • Font Decrease

‘ঈদের দিন সকালে আমার ছুয়ালাক (ছেলে) সেমাই খাইতে চাইছিল। কিন্তু আমরা তো গরিব। সেমাই কিনে ক্যামনে খাওয়ামু। তাই মন খারাপ ছিল। কিন্তু এখন সেমাই উপহার পাইয়া খুব ভালো লাগছে। এবার ঈদে ছুয়ালাক সেমাই খিলাবা পারিম।’

‘ঈদের আনন্দ বিলিয়ে দেই তাদের মাঝে’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে শনিবার (১ জুন) সকালে ঠাকুরগাঁও জেলা পরিষদ অডিটোরিয়াম হলরুমে অসহায় দরিদ্রদের মাঝে ঈদ সামগ্রী বিতরণ করা হয়। সেমাই হাতে পেয়ে এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন স্থানীয় আমবিয়া খাতুন। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন নবীন আলো এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/01/1559386400959.jpg

মনের মধ্যে আনন্দ ও উচ্ছ্বাস নিয়ে আকলিমা বেগম নামে আরেক নারী বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘কখনো ভাবি নাই ঈদে আমাদেরকে এভাবে কেউ কিছু দেবে। সেমাই পেয়ে খুব ভালো লাগছে।’

এর আগে সকালে প্রধান অতিথি হিসেবে এই ঈদ সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক ড.কে.এম কামরুজ্জামান সেলিম।

নীবন আলো সংগঠনের সভাপতি সৈয়দ সিহাবের সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন- জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মুহা. সাদেক কুরাইশী, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মাসুদুর রহমান বাবু, আরএসডিও আনন্দ প্রতিবন্ধী স্কুল ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক ইকলিমা খাতুন মিনা, ডা. শুভেন্দু কুমার দেবনাথ, নীবন আলো সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল আল রিয়াদ প্রমুখ।

আপনার মতামত লিখুন :

কুষ্টিয়ায় পার্চিং পদ্ধতিতে পোকা দমন

কুষ্টিয়ায় পার্চিং পদ্ধতিতে পোকা দমন
ধানক্ষেতে পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহার। ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম।

কুষ্টিয়ার ছয়টি উপজেলায় এ বছর আমন মৌসুমে ধানক্ষেতে পোকা দমনে কীটনাশকের পরিবর্তে পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহার জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

এসব উপজেলার কৃষকরা তাদের আমন মৌসুমে রোপণকৃত ফসলের ক্ষেতে গাছের ডাল পুঁতে দিচ্ছেন।

গাছের ডালে বিভিন্ন ধরনের পাখি বসে ক্ষতিকর পোকা খেয়ে ফেলছে এবং ওইসব পাখি পার্চিংয়ে বসে ক্ষণিক সময়ের জন্য বিশ্রামও নিচ্ছে। এভাবে কীটনাশক ছাড়াই পোকার আক্রমণ থেকে ধান গাছ রক্ষা পাচ্ছে বলে জানান উপজেলা কৃষি বিভাগ।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/25/1566719133900.jpg

কৃষি অফিসগুলো বিভিন্ন এলাকায় কৃষকদের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে পার্চিংয়ের আয়োজন করেছে। এর ফলে কৃষকরা একদিকে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছে, অন্যদিকে পরিশ্রমও কমে যাচ্ছে।

রোববার (২৫ আগস্ট) সকালে বারুইপাড়া ব্লকের বিভাগ গ্রামের কৃষক নাজিম উদ্দীনের জমিতে গিয়ে দেখা যায়, সম্প্রতি রোপণ করা ধান ক্ষেতে গাছের ডাল পুঁতে দেওয়া হচ্ছে। ইউনিয়ন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মইনুল ইসলামের পরামর্শে এই ডাল পুঁতে দিচ্ছেন তিনি।

পার্চিং কার্যক্রম পরিদর্শন করেন মিরপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ সাবিহা সুলতানা।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/25/1566719149571.jpg

তিনি বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে জানান, মাটি, ফসল ও মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর কীটনাশকের পরিবর্তে ক্ষেতে পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহারে কৃষকরা এখন বেশি সচেতন। পার্চিং পদ্ধতি হচ্ছে পাখির মাধ্যমে ফসলের পোকা দমনের উত্তম ব্যবস্থা।

মিরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রমেশ চন্দ্র ঘোষ বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে জানান, পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহারের জন্য উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা এলাকার বিভিন্ন স্থানে গিয়ে ধারাবাহিকভাবে কৃষকদের সঙ্গে মতবিনিময় করে এর উপকারিতা সম্পর্কে উদ্বুদ্ধ করছে। পাশাপাশি ধান ক্ষেতের পোকা দমনের জন্য পার্চিং ব্যবহার পদ্ধতি ইতোমধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

বগুড়ায় প্রেমের প্রলোভন দেখিয়ে বাড়ছে ধর্ষণ-অপহরণ

বগুড়ায় প্রেমের প্রলোভন দেখিয়ে বাড়ছে ধর্ষণ-অপহরণ
প্রতীকী ছবি

বগুড়ায় প্রেম বা বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ, অপহরণ ও যৌন নিপীড়নের ঘটনা বেড়েই চলেছে। গত জানুয়ারি থেকে চলতি আগস্ট মাস পর্যন্ত জেলার ১২টি থানায় মোট ১০০টি মামলা হয়েছে। এরমধ্যে ধর্ষণ মামলা ৪৮টি, অপহরণ মামলা ৩৫টি এবং যৌন নিপীড়নের অভিযোগে ১৭টি মামলা হয়েছে।

জানা গেছে, মামলা তদন্ত করতে গিয়ে উদ্বেগজনক তথ্য পেয়েছে পুলিশ। তাদের মতে, সমাজের নৈতিক অবক্ষয়, প্রযুক্তির অপব্যবহার ও অভিভাবকদের অসচেতনার কারণে এসব ঘটনা ঘটছে।

আর মামলা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ধর্ষণের দায়ে ৪৮টি মামলার মধ্যে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ করা হয়েছে ২৭ জনকে, যাদের বয়স ১৮ বছরের কম। আর পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে ধর্ষণ করা হয়েছে ১২ জনকে, যাদের বয়স ১৮ বছর। এছাড়া সাতজন গৃহবধূ ও স্বামী পরিত্যক্তা নারী প্রেমের সম্পর্ক করে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। আর বাকি দুইটি মামলার অভিযোগের প্রমাণ পায়নি পুলিশ।

অন্যদিকে, প্রেমের সম্পর্ক গড়ে অপহরণের ঘটনায় মামলা হয়েছে ৩৫টি। যাদের মধ্যে ১৬ জন স্কুল ছাত্রী, ১৬ জন কলেজ ছাত্রী ও তিনজন গৃহবধূ। একই সময়ে প্রেমের সম্পর্ক করে যৌন নিপীড়নের ঘটনা ঘটেছে ১৭টি। যাদের মধ্যে সাত বছরের শিশু থেকে এসএসসি পাস করেনি এমন ছয়জন, কলেজ ছাত্রী চারজন ও গৃহবধূ ও স্বামী পরিত্যক্তা সাতজন।

জানা গেছে, এসব মামলায় ভিকটিমদের কাছে সম্পর্ক বা প্রেমটি প্রথমে বিনোদনের বিষয় ছিল। পরবর্তীতে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তাদের ধর্ষণ করা হয়েছে। পুলিশের কাছে এক স্কুল ছাত্রী অভিযোগ করেছে, বন্ধুর সাথে মোবাইলে প্রেমের সম্পর্ক, পরে স্কুল ফাঁকি দিয়ে পার্কে আড্ডা, এরপর সম্পর্ক আরো গভীর হয়। এক পর্যায়ে সে গর্ভবতী হয়ে পড়ে কিন্তু তার বাবা-মা বিষয়টি জানেন না।

এছাড়াও বগুড়ায় অভিভাবকদের অগোচরে কিশোর গ্যাং কালচার গড়ে উঠেছে। অনেককে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হচ্ছে। ফলে অভিভাবকরা নিরুপায় হয়ে পুলিশের দারস্ত হচ্ছেন। অভিভাবক ও সুশীল সমাজের অনুরোধে পুলিশ গত ২১ আগস্ট শহরের পার্কে অভিযান চালায়। এ সময় স্কুল কলেজ ফাঁকি দিয়ে আড্ডা দেয়ার সময় কয়েকজন ছাত্র-ছাত্রীকে আটক করা হয়। পরে প্রত্যেকের অভিভাবককে ডেকে তাদের কাছে শিক্ষার্থীদের বুঝিয়ে দেয়া হয়। এ ঘটনার পর শহরের পার্কগুলোর দৃশ্য পরিবর্তন হয়েছে।

বগুড়ার পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভুঞা বিপিএম বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে বলেন, ‘আমাদের সন্তানরা বিপদে পড়ুন সেটা আমরা কোনোভাবেই চাই না। কোনো অভিভাবকই চাননা তার সন্তানকে অজ্ঞাত চর বা অন্য কোনো জায়গা থেকে বিপদগ্রস্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হোক। তবে এ বিষয়ে অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে। তাদের সন্তানরা ঠিক সময় স্কুলে যাচ্ছে কিনা বা বাসায় ফিরে আসছে কিনা সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।’

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র