Barta24

বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০১৯, ৩ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

পঞ্চগড়ে ঘোড়া দিয়ে জমি চাষ!

পঞ্চগড়ে ঘোড়া দিয়ে জমি চাষ!
ঘোড়া দিয়ে হাল চাষ, ছবি: সংগৃহীত
মোহাম্মদ রনি মিয়াজী
ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
পঞ্চগড়


  • Font increase
  • Font Decrease

কৃষকেরা গরু দিয়ে হাল চাষ করে ফসল ফলায়। এই পদ্ধতিতে চাষ একটি আদি প্রচলন। তবে বর্তমানে বাজারে গরুর দাম অনেক বেশি হওয়াতে, চাষাবাদে গরুর বদলে ব্যবহার করা হচ্ছে ঘোড়া। দেশের পঞ্চগড়ের উত্তরের জেলার বোদা উপজেলাধীন মাড়েয়া এলাকায় গ্রামাঞ্চলে এমন দৃশ্যই দেখা গেছে। বাজারে এক হাল গরুর দাম প্রায় ৫০-৬০ হাজার টাকা। অপরদিকে এক হাল ঘোড়া ১০-১৫ হাজার টাকা দিয়ে পাওয়া যায়। এক জোড়া গরুর টাকা দিয়ে বর্তমান বাজারে ৩ জোড়া ঘোড়া পাওয়া যায়।

কৃষক রুবেল হোসেন তিনি প্রতি বছর স্বল্প পরিমাণে আখ চাষ করেন। আখ চাষের ওপরেই চলে তার সংসার। রুবেলের জমি চাষাবাদের জন্য পূর্বে গরু থাকলেও এখন নেই। গরু কেনার সামর্থ্য না থাকায় তিনি ৩০হাজার টাকা দিয়ে জমি চাষ করার জন্য এক জোড়া ঘোড়া কিনেন।

শুরুতেই ঘোড়াগুলোকে হাল চাষ শেখাতে অনেক কষ্ট হলেও অবশেষে আয়ত্তে আসে। এখন পুরো দমে ঘোড়া দিয়ে তিনি হাল চাষ করছেন। শুধু নিজের জমিই নয়, অন্যের জমিও টাকার বিনিময়ে চাষ করে দিচ্ছেন। এক বিঘা জমি চাষ করতে তিনি ৩০০ টাকা নিচ্ছেন।

পঞ্চগড়ে ঘোড়া দিয়ে জমি চাষ!

রুবেলের ঘোড়া দিয়ে হাল চাষের দৃশ্য দেখে মোবাইল ফোনে ধারণ করেন পঞ্চগড় সুগার মিলের আখ উন্নয়ন সহকারী আব্দুল জব্বার মোল্লা। পরে তার সহকর্মী হরিস চন্দ্র রায় ছবিগুলো তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের টাইম লাইনে শেয়ার করলে মুহূর্তের মধ্যে তা ছড়িয়ে পড়ে।

রুবেল হোসেন বলেন, ‘গরুর দাম বেশি হওয়ায় আমি দুটা ঘোড়া ক্রয় করি। জমি চাষাবাদে ঘোড়ার হাল ব্যবহার করি। ঘোড়ার শক্তি বেশি ও দ্রুত হওয়ায় সুন্দরভাবে জমি চাষ করা যায়। আমি ঘোড়া দিয়ে নিজের জমি চাষ করার পাশাপাশি মানুষের জমি চাষ করি।'

কৃষক ফারুক হোসেন বলেন, ‘জমি চাষ করার জন্য গরুর হাল আর পাওয়া যায় না। এখন ঘোড়ার দাম কম হওয়ায় ঘোড়া দিয়ে জমি চাষাবাদ করছেন অনেকে।'

পঞ্চগড় সুগার মিলের স্থানীয় ইক্ষু সেন্টারর ইনচার্জ হরিশ চন্দ্র রায় বার্তা২৪.কম-কে বলেন, ‘ঘোড়া দিয়ে জমি চাষের দৃশ্য দেখাতে আমার সহকর্মী মাড়েয়া এলাকায় নিয়ে যায়। আখ রোপণের পর আখ বড় হলে আখের গোড়ার মাটি নরম করার জন্য গরুর হাল দিয়ে নরম করতে হয় কিন্তু গরুর হাল না পাওয়ায় ঘোড়ার হাল দিয়েই তা করা যায়। ঘোড়া দিয়ে হাল চাষে সুবিধা ও ঘোড়ার দাম অনেক কম।'

আপনার মতামত লিখুন :

আরিচায় যমুনার পানি বিপদসীমার ওপরে, শুরু হয়েছে ভাঙন

আরিচায় যমুনার পানি বিপদসীমার ওপরে, শুরু হয়েছে ভাঙন
নদীতে বিলীন হচ্ছে জনপদ, সে দৃশ্য অসহায়ভাবে দেখছেন কেউ কেউ, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

বিপদসীমার দুই সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে যমুনা নদীর মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার আরিচা পয়েন্টের পানি। এরই মধ্যে বিভিন্ন শাখা নদী নালা হয়ে সেই পানি প্রবেশ করেছে জেলার বিভিন্ন এলাকায়। যমুনায় পানি বাড়ার প্রভাবে পানি বাড়ছে পদ্মায়ও।

পদ্মা-যমুনায় পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয়েছে ভাঙন। এরই মধ্যে মানিকগঞ্জের তিনটি উপজেলার চার শতাধিক ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি বিলীন হয়ে গেছে। এতে করে চরম হতাশায় দিন কাটছে নদীর আশাপাশের এলাকার বাসিন্দাদের।

1
নদীতে বিলীন হচ্ছে জনপদ, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

 

মানিকগঞ্জের দৌলতপুর ও শিবালয় উপজেলার পাশ দিয়ে প্রবাহিত যমুনা নদী। বর্ষার শুরু থেকেই যমুনা তীরের এলাকাগুলোতে শুরু হয়েছে ভাঙন। নদী ভাঙনে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন দৌলতপুর ও শিবালয় এলাকার বাসিন্দারা। এছাড়া জেলার হরিরামপুর উপজেলার বেশ কয়েকটি পয়েন্টে পদ্মার ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শতাধিক পরিবার।

1
ভাঙন ঠেকানোর তুচ্ছ চেষ্টা, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

 

বিআইডব্লিউটিএ মানিকগঞ্জের আরিচা কার্যালয়ের গ্রেজ রিডার আলমগীর হোসেন বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে জানান, প্রায় এক মাস ধরেই কিছু কিছু মাত্রায় পানি বাড়ছে যমুনা নদীর আরিচা পয়েন্টে। তবে এতোদিন পানি বাড়ার মাত্রা ছিল অল্প। কিন্তু গেল দুই-তিন দিন ধরে অতি মাত্রায় পানি বাড়ছে যমুনা নদীর আরিচা পয়েন্টে।

সবশেষ বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত বিপদসীমার দুই সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে যমুনার পানি প্রবাহিত হচ্ছিল বলেও জানান তিনি।

1
নদীতে বিলীন হচ্ছে জনপদ, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

 

মানিকগঞ্জের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক বাবুল মিয়া বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে জানান, পদ্মা ও যমুনার ভাঙনে মানিকগঞ্জের শিবালয়, দৌলতপুর ও হরিরামপুর উপজেলার কয়েকশ’ পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এসব এলাকা পরিদর্শন শেষে আট মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

ভাঙন ও বন্যা মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন সতর্ক রয়েছে বলেও জানান তিনি।

হুমকির মুখে ভূঞাপুর-তারাকান্দি সড়ক

হুমকির মুখে ভূঞাপুর-তারাকান্দি সড়ক
ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম।

টাঙ্গাইলে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে ১১১টি গ্রামের কয়েক লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি তলিয়ে গেছে ফসলি জমি। বন্যাকব‌লিত মানুষজন গবাদিপশু নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছে। রয়েছে খাদ্য সংকট।

বৃহস্প‌তিবার (১৮ জুলাই) টাঙ্গাইলে যমুনা নদীর পা‌নি বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৯১ সে‌ন্টি‌মিটার উপর দি‌য়ে প্রবা‌হিত হ‌চ্ছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/18/1563427996601.jpg

বুধবার (১৭ জুলাই) রাত ১১টার দিকে ভূঞাপুর উপজেলার তাড়াই এলাকার বাঁধ ভেঙে নতুন করে প্রায় ১০টি গ্রাম প্লাবিত হয়। ওই সময় তীব্র স্রো‌তে নদীর পা‌নি প্রবেশ করায় ভে‌ঙে গেছে কয়েকটি ঘর-বা‌ড়ি। এছাড়া ভূঞাপুর-তারাকান্দি সড়কের বেশ কয়েকটি স্থান দিয়ে পানি লিকেজ হচ্ছে। এতে হুমকির মুখে রয়েছে সড়কটি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাড়াই এলাকার বাঁধ রক্ষায় কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় গ্রামবাসী চেষ্টা করেও সেটি রক্ষা করতে পারেনি।

অন্যদিকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বন্যার্তদের মাঝে ২০০ মেট্রিক টন চাল বিতরণ করা হয়েছে। তবে অধিকাংশ বানভাসি মানুষ ত্রাণ না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র