Barta24

বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০১৯, ৩ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

ঈদে পর্যটক হয়রানি রোধে কক্সবাজারে আগাম সতর্কতা

ঈদে পর্যটক হয়রানি রোধে কক্সবাজারে আগাম সতর্কতা
কক্সবাজার বিচ পয়েন্ট
মুহিববুল্লাহ মুহিব
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
কক্সবাজার
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

'ঈদ' মানে আনন্দ উৎসব; এই ঈদ উৎসবে কক্সবাজারে বেড়াতে আসবে দেশি-বিদেশি হাজারো পর্যটক। এসব ভ্রমণ পিপাসু পর্যটকদের নিরাপত্তা ও হয়রানি প্রতিরোধ করতে আগাম সতর্ক বার্তা দিয়েছে জেলা প্রশাসন।

সাগরের নীল জলরাশি ও প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য প্রতিবছর ঈদে কক্সবাজারে বেড়াতে আসে হাজারো পর্যটক। শহরের ৪ শতাধিকের বেশি হোটেল-মোটেল ও রিসোর্টগুলোতে এখন ‘ঠাঁই নেই’ অবস্থার সৃষ্টি। পর্যটকরা সৈকতের লাবনী, সুগন্ধা, ইনানী, হিমছড়িসহ ৬টি পয়েন্ট ছাড়াও দরিয়ানগর, হিমছড়ি ঝনা, রামুর বৌদ্ধ বিহার, রেডিয়েন্ট ফিশ ওর্য়াল্ড, মহেশখালীর আদিনাথ মন্দির, সোনাদিয়াসহ বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে ঘুরে বেড়ান। আর এসব পর্যটকদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে আগাম সতর্ক বার্তা দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/25/1558763434806.jpg

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ঈদুল ফিতরে আসা পর্যটকরা যাতে কোন ধরণের প্রতারণার স্বীকার না হয় সেদিকে নজর রাখতে সব সংস্থাকে নির্দেশনা দিয়েছে প্রশাসন। পাশাপাশি হোটেল-মোটেল জোনে রুম ভাড়া বাবদ অতিরিক্ত টাকা আদায়, রুম না পাওয়া, টিকিট কাটার পরও বাস না পাওয়া, রেস্টুরেন্টগুলোতে অতিরিক্ত দামে খাবার বিক্রি, পচা বাসী খাবার পরিবেশন, দোকানদার কর্তৃক পর্যটকদের সাথে খারাপ আচরণ ও ফটোগ্রাফার-সিএনজি চালক কর্তৃক হয়রানি রোধে এ সতর্কতা জারি করেছে প্রশাসন।

সুত্র আরও জানায়, সমুদ্র সৈকতের লাবনী, সুগন্ধা, কলাতলীসহ ১১টি পয়েন্টে স্থাপন করা হয়েছে তথ্য কেন্দ্র (ইনবক্স)। যে কোন অভিযোগ এখানে করতে পারবে পর্যটকরা। পাশাপাশি দেয়া হয়েছে একটি হটলাইন নাম্বার (০১৭৩৩৩৭৩১২৭)।

এদিকে পুরো শহরজুড়ে নজরদারি বাড়িয়েছে আইনশৃঙ্খলাবাহিনী। র‌্যাব-পুলিশের পাশাপাশি থাকবে সাদা পোশাকধারী গোয়েন্দারাও।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/25/1558763464160.jpg

র‌্যাব-পুলিশ বলছে, ঈদে কেনাকাটা করতে আসা ক্রেতা ও ব্যাংক গ্রাহকদের নিরাপত্তার পাশাপাশি দেশি-বিদেশি পর্যটক নিরাপত্তায় পুরো শহরে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। শহরের বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে টহল দিবে পুলিশের কয়েকটি টিম। পুলিশের পাশাপশি র‌্যাবও শহরের বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি চৌকি বসাবে।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ইকবাল হোসেন বার্তা ২৪.কমকে বলেন, ঈদ উৎসবে কক্সবাজারে আগত পর্যটক হয়রানি রোধে বিশেষ নজরদারি রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ঈদের আগে কেনা-কাটা করতে আসা স্থানীয় বাসিন্দারা যাতে ইভটিজিং বা অন্য কোন ঘটনার সম্মুখীন না হয় সেদিকে নজর রয়েছে আমাদের।

তিনি আরও বলেন, শহরের ৫৪ টি স্পটে আমাদের সিসিটিভি ক্যামরা রয়েছে। যেগুলো দিয়ে পুরো শহরকে নিয়ন্ত্রণে রাখা যাবে। কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে তাৎক্ষণিকভাবে অপরাধীকে চিহ্নিত করতে সহায়ক হবে এ ক্যামরা।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/25/1558763496955.jpg

জেলা প্রশাসরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (পর্যটন সেল) মো. সাইফুল ইসলাম জয় বার্তা২৪.কমকে বলেন, সৈকতের ১১ টি পয়েন্টে বিচ কর্মী, ট্যুরিস্ট পুলিশ সম্বনয়ে কাজ করছে। কিছু পয়েন্ট চিহ্নিত করে এসব পয়েন্টে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি কক্ষ ভাড়া বা খাবার নিয়ে যাতে পর্যটকরা হয়রানির শিকার না হয় সেদিকেও নজর রাখা হচ্ছে।

ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার জোনের এসপি মো. জিল্লুর রহমান বার্তা২৪.কমকে বলেন, এবারের ঈদে বিপুল সংখ্যক পর্যটক আসবেন কক্সবাজারে। এ উৎসবে যেন পর্যটকরা কোনো ধরনের হয়রানি কিংবা দুর্ঘটনায় কবলে না পড়েন সেজন্য সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পর্যটক জোনগুলোতে ট্যুরিস্ট পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন রয়েছে। এছাড়া পর্যটকদের তথ্য প্রদানের মাধ্যমে সেবা নিশ্চিত করা হবে।

কক্সবাজার র‌্যাব ১৫ এর অধিনায়ক উইন কমান্ডার আজিম আহমেদ বার্তা২৪.কমকে বলেন, মাদক বিরোধী অভিযানে র‌্যাবের যেমন কঠোর ভুমিকা রয়েছে। তেমনি পর্যটন এলাকা হিসেবে কক্সবাজারে আগত দেশি-বিদেশি পর্যটকদের নিরাপত্তায় র‌্যাব সব সময় কাজ করছে। তবে ঈদকে সামনে রেখে অপরাধীরা সক্রিয় হয়ে উঠে। তাই তল্লাশি চৌকির পাশাপাশি থাকবে র‌্যাবের টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি।

আপনার মতামত লিখুন :

২০০ যাত্রী নিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে বনলতা এক্সপ্রেসের প্রথম যাত্রা

২০০ যাত্রী নিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে বনলতা এক্সপ্রেসের প্রথম যাত্রা
চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে বনলতা এক্সপ্রেসের যাত্রার প্রথম দিনে যাত্রীদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসি ইসলাম জেসি/ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

 

২০০ জন যাত্রী নিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে প্রথম যাত্রা করেছে বিরতিহীন ট্রেন বনলতা এক্সপ্রেস। ভোর ৫ টা ৫০ মিনিটে চাঁপাইনবাবগঞ্জ রেল স্টেশন থেকে ছেড়ে যায় ট্রেনটি।

বনলতা এক্সপ্রেসের মাধ্যমে চালু হলো প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি চাঁপাইনবাবগঞ্জ-ঢাকা রুটে সরাসরি ট্রেন যোগাযোগ। বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) ট্রেনটি ছাড়ার আগে স্টেশনে গিয়ে যাত্রীদের ফুলের শুভেচ্ছা জানান সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসি ইসলাম জেসি।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/18/1563431043305.jpg

চাঁপাইনবাবগঞ্জের স্টেশন মাস্টার মনিরুজ্জামান মনির জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জের জন্য বনলতা এক্সপ্রেসে আসন বরাদ্দ ২৬৪ টি। প্রথম যাত্রায় এসি, নন এসি মিলিয়ে যাত্রী ছিলেন ২০০। ট্রেনটি রাজশাহীতে বিরতি নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবে।

তবে বেশ কয়েকজন যাত্রী অভিযোগ করে বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ স্টেশন হতে ৮০টি টিকিটি বরাদ্দ থাকলেও কাউকে এসি টিকিট দেয়া হয়নি।  বেলা ১ টা ৩০ মিনিটে আবারো ঢাকা থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসবে ট্রেনটি।

শুক্রবার বন্ধ দিয়ে সপ্তাহে ছয়দিন চাঁপাইনবাবগঞ্জ-ঢাকা রুটে চলবে বনলতা এক্সপ্রেস।

ম্যাসাজ পারলারের আড়ালে অবৈধ কর্মকাণ্ড

ম্যাসাজ পারলারের আড়ালে অবৈধ কর্মকাণ্ড
অ্যাঞ্জেল টাস ম্যাসাজ পারলার। ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম।

পর্যটন নগরী কক্সবাজারে ক্রমেই বেড়ে চলেছে ম্যাসাজ পারলার। এসব পারলারের আড়ালে চলছে অনৈতিক ও অসামাজিক কর্মকাণ্ড। অভিযোগ আছে এই ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ দিয়ে মোটা অংকের অর্থ মাসোহারা তুলছে এক শ্রেণির প্রভাবশালী।

কক্সবাজার হোটেল-মোটেল জোনের হুয়াইট বিচ হোটেলের তৃতীয় তলায় গড়ে উঠেছে অ্যাঞ্জেল টাস ম্যাসাজ পারলার। এছাড়া ওশান প্যারাডাইজ হোটেলের বিপরীত দিকে গড়ে উঠেছে আরও একটি ম্যাসাজ পারলার। কিন্তু এসব পারলারের ভেতরে ম্যাসাজের বদলে চলছে অবৈধ কর্মকাণ্ড।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, এসব পারলারে অনুমোদনের জন্য আবেদন করলেও তাদের পরিবেশ ভালো না থাকায় অনুমতি দেয়া হয়নি। তারপরও তারা স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের হাত করে এসব পারলারে অবৈধ কর্মকাণ্ড চলমান রেখেছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাইরে থেকে ভেতরের পরিবেশ অনুমান করা খুবই কঠিন। ভেতরে প্রবেশ করলেই চোখে পড়বে ছিমছাম পরিপাটি সেলুন। অথচ এর মধ্যে চলছে ভয়ংকর অনৈতিক কর্মকাণ্ড। স্কুল-কলেজের উঠতি বয়সী ছেলেরাসহ যুব-সমাজের একটি বড় অংশ এদের কাস্টমার। সেখানে দেখা মিলে ম্যাসাজের দায়িত্বে থাকা সুন্দরী রমণীদের। যাদের দেখে বোঝার উপায় নেই তারা কী পতিতা নাকি অন্যকিছু।

একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র বলছে, শুধু স্কুল-কলেজ পড়ুয়ারাই নয়, আড়ালে এ ম্যাসাজ পারলারে আসে ইয়াবা গডফাদাররাও। তারা এখানে এসে আত্মগোপনে থাকে। আর এসব ম্যাসাজ পারলারের মালিকরা মোটা অংকের টাকার লাভে প্রশাসনকে ম্যানেজ করে এ কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে।

অ্যাঞ্জেল টাস ম্যাসাজ পারলারের কাস্টমার রাশেদ জানান, তিনি একজন ছাত্র। কক্সবাজারের একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েন। মাঝে মধ্যে এখানে আসেন শরীর ম্যাসাজ করাতে।

অ্যাঞ্জেল টাস ম্যাসাজ পারলারে কাজ করেন এমন একজনের নাম মিষ্টি (ছদ্মনাম)। তিনি জানান, মাসিক ১৫ হাজার টাকা বেতনে চাকরি করেন তিনি। তবে তিনি কী ধরনের ম্যাসাজ করেন সে ব্যাপারে প্রতিবেদকের প্রশ্নের উত্তরে চুপ হয়ে যান।

অ্যাঞ্জেল টাস ম্যাসাজ পারলারের পাশের ফ্ল্যাটের একজন জানান, এখানে অনৈতিক কাজ হয়, তা সবাই জানে। কিন্তু প্রশাসন তাদের কিছু বলে না। অসামাজিক এসব পারলার থেকে প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা মোটা অংকের মাসোহারা নিয়ে তাদের সুযোগ করে দেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কক্সবাজারের সাবেক এনডিসি লুৎফর রহমান সোহাগ বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, ‘আমি দায়িত্বে থাকতে অ্যাঞ্জেল টাস ম্যাসাজ কর্তৃপক্ষ অনুমোদনের জন্য আবেদন করে। কিন্তু তাদের পরিবেশ ভালো না থাকায় এবং অবৈধ কর্মকাণ্ডের অভিযোগে অনুমোদন দেয়া হয়নি।’

মোবাইলে এসব বিষয়ে অ্যাঞ্জেল টাস ম্যাসাজ পারলারের ম্যানেজার সাজু বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, ‘আমাদের জেলা প্রশাসনের সব অনুমোদন রয়েছে। আপনি এসে দেখে যান।’ পরে সেখানে গেলে কিছুই দেখাতে পারেননি তিনি। বরং আর্থিকভাবে এ প্রতিবেদককে ম্যানেজ করার চেষ্টা করেন।

এ বিষয়ে কক্সবাজারের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মো. আশরাফুল আবছার বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত নই। খোঁজ-খবর নিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র