Barta24

বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০১৯, ৩ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

নাটোরবাসীর সাধ্যের ফল ‘বাঙ্গি’

নাটোরবাসীর সাধ্যের ফল ‘বাঙ্গি’
বাজারে বাঙ্গি বাছাই করছেন ক্রেতারা / ছবি: বার্তা২৪
ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
নাটোর


  • Font increase
  • Font Decrease

মধুমাস জ্যৈষ্ঠের এক সপ্তাহ পার হলেও নাটোরের বাজারে নেই আম। একমাত্র ফল হিসেবে লিচুর দামও আকাশচুম্বী। কেজি দরে বিক্রি হওয়া তরমুজও নিম্ন আয়ের মানুষের নাগালের বাইরে। মধুমাসের স্বাদ নেওয়ার আয়োজনে হিমসিম খাওয়া নাটোরবাসীর সাধ্যের ফল এখন শুধুই বাঙ্গি।

মৌসুমের শুরু থেকেই নাটোরে ছোট, বড় ও মাঝারি ধরনের বাঙ্গি পাওয়া যাচ্ছে পর্যাপ্ত পরিমাণে। দামও সস্তা। প্রতি পিস ১০ টাকা থেকে শুরু করে আকারভেদে ১৫০ টাকা পর্যন্ত। ফলে যার যতটুকু প্রয়োজন, ততটুকুই কিনে স্বাদ নিচ্ছেন বাঙ্গির।

প্রতিদিন শহরের স্টেশন বাজার, চকবৈদ্যনাথ, গুড়পট্টি, বড়গাছা বাজার, হাফরাস্তা, আলাইপুর, নীচাবাজার, মাদ্রাসামোড়, হরিশপুর, দত্তপাড়াসহ বিভিন্ন বাজার আর মোড়ে ভ্যানে চেপে বিক্রি হচ্ছে বাঙ্গি। ইফতারে তাই ফল হিসেবে কমবেশি সব শ্রেণির মানুষের টেবিলেই শোভা পাচ্ছে এ ফল।

বাঙ্গির খুচরা ব্যবসায়ীরা জানান, নাটোরসহ আশেপাশের বাজারগুলোতে বাঙ্গি আসে দুইভাগে বিভক্ত হয়ে। ভোরের আলো ফোঁটার পরপরই স্থানীয় পাইকাররা ছুটে যান বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে। সেখান থেকেই সকালে সংগ্রহ করা হয় পাকা বাঙ্গি। সেগুলো দিনের অর্ধেকটা সময় বিক্রি শেষে আবার ফিরে যান এবং সংগ্রহ করেন কাঁচা ও আধাপাকা বাঙ্গি। রাতভর পেকে পরদিন সকাল থেকেই শহরের বাজারগুলোতে মেলে সুস্বাদু বাঙ্গি।

চাষিদের মতে, বাঙ্গি চাষের জন্য আলাদা করে জমির প্রয়োজন হয় না। রসুনের জমিতেই বাঙ্গির বীজ বপন করতে হয়। রসুন উঠে যাওয়ার পরই বাঙ্গির গাছ ছড়িয়ে পড়ে ক্ষেতে। সেই সময়ে সামান্য সেচ, সার-কীটনাশক দিলেই গাছে গাছে ফুল ও ফল ধরতে শুরু করে। রসুনের সাথী ফসল হিসেবে এখানে বাঙ্গির পাশাপাশি তরমুজের আবাদ হলেও তা পরিমাণে অনেক কম। রসুনের জমিতে বাঙ্গির আবাদ কমিয়েছে চাষির খরচ ও শ্রম।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/24/1558695451640.jpg

শুারুদাসপুর থেকে ভ্যানে বিভিন্ন সাইজের ৬০টি বাঙ্গি এনে শহরের মাদরাসামোড়ে বিক্রি করছিলেন মনসুর আলী। তিনি বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘বাঙ্গির চাহিদা বেশি। তবে ছুটির দিন হওয়ায় বিক্রি কম হচ্ছে। অন্যদিনে অর্ধেক বেলায় সব বাঙ্গি শেষ।’

আনসার আলী নামের স্টেশন বাজার এলাকার এক ক্রেতা বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘এক কেজি তরমুজের দাম ৫০ টাকা। ২৫০-৩০০ টাকার নিচে একপিস তরমুজ কিনতে পাওয়া যায় না। অপরদিকে লিচুর দাম ২০০ টাকা। এই অবস্থায় বাঙ্গিই একমাত্র দেশি ফল, যা কিনে খেতে পারি।’

নাটোর কেন্দ্রীয় মসজিদ মার্কেটের সামনে আবুল কালাম নামের এক ক্রেতা বলেন, ‘বাজারে সস্তা বলতে একমাত্র বাঙ্গিই আছে। এক হালি কলার দামে প্রায় এক কেজি সাইজের একটি বাঙ্গি পাওয়া যায়। সে হিসেবে বাঙ্গিই লাভজনক।’

অপর ক্রেতা রশিদুল ইসলাম বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘বাঙ্গির জুস কোষ্ঠকাঠিন্যের জন্য উপকারী। কিনতে দরাদরী করার প্রয়োজন হয় না। অন্য ফলের দাম বেশি। তাই বাঙ্গি কিনি।’

ফলিক এসিডে পরিপূর্ণ বাঙ্গিতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ‘এ’ এবং ‘সি’ রয়েছে। ফলিক এসিড রক্ত তৈরিতে সাহায্য করে। ১০০ গ্রাম বাঙ্গিতে ৩৪ কিলোক্যালরি খাদ্যশক্তি পাওয়া যায়। এছাড়া কোলেস্টোরেলমুক্ত হওয়ায় খাদ্য হিসেবেও নিরাপদ বাঙ্গি।

গুরুদাসপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল করিম বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘প্রায় বিনা খরচে রসুনের জমিতে বাঙ্গি চাষ সম্ভব হওয়ায় কৃষক ও ভোক্তা উভয়ই উপকৃত হচ্ছে। দিনদিন বাঙ্গি চাষের পরিধি বাড়ছে। কম দামে বাজারে মেলায় সকলের ক্রয়ক্ষমতায় এখন পুষ্টিগুণসম্পন্ন মৌসুমী এ ফল।

আপনার মতামত লিখুন :

শেরপুর-জামালপুর মহাসড়কে হাঁটু পানি

শেরপুর-জামালপুর মহাসড়কে হাঁটু পানি
ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম।

পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে পানি বৃদ্ধির ফলে শেরপুরে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের পুরাতন ভাঙন অংশ দিয়ে পানি দ্রুতবেগে প্রবেশ করায় চরাঞ্চলের নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র নদের পানি শেরপুর ফেরিঘাট পয়েন্টে ১ মিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমা ছুঁই ছুঁই করছে। এতে শেরপুর-জামালপুর মহাসড়কের পোড়ার দোকান কজওয়ের (ডাইভারশন) উপর দিয়ে প্রবলবেগে বন্যার পানি প্রবাহিত হচ্ছে। স্থানীয়রা হাঁটু পানি মাড়িয়ে ঝুঁকি নিয়ে ওই মহাসড়ক দিয়ে চলাচল করছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/18/1563438434171.jpg

এদিকে ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলাচল করলেও যেকোনো সময় শেরপুর থেকে জামালপুর হয়ে রাজধানী ঢাকা ও উত্তরাঞ্চলের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হতে পারে।

স্থানীয়রা বলছেন, হঠাৎ করে গত রাত থেকে এই ডাইভারশনে পানি এসেছে। এতে আতঙ্কে আছেন তারা। যেকোনো মুহূর্তে বন্ধ হয়ে যেতে পারে শেরপুর-জামালপুর রুটে যানবাহন চলাচল।

স্থানীয় রহমত আলী, মজিবর রহমান, খলিলুর রহমানসহ অনেকে জানান, বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) সকাল থেকে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে তারা আতঙ্কে আছেন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/18/1563438456420.jpg

পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘শুনেছি গতরাত থেকে ডাইভারশন দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। তবে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রস্তুত রয়েছে।’

এদিকে অবিরাম বর্ষণ ও উজানের পাহাড়ি ঢলে শেরপুরের ৫ উপজেলার ৩৫টি ইউনিয়নের ২ শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে পানিবন্দী রয়েছে প্রায় লক্ষাধিক মানুষ। এছাড়া পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ৫২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। গত ৫ দিনে বন্যার পানিতে ডুবে ৬ জনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।

আদালতে হাজিরা দিলেন সাবেক এম‌পি রানা

আদালতে হাজিরা দিলেন সাবেক এম‌পি রানা
সাবেক সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানা, ছবি: সংগৃহীত

আওয়ামী ল‌ীগ নেতা ফারুক আহ‌ম্মেদ হত্যা মামলায় উচ্চ আদালতে জা‌মিনে মুক্ত হওয়ার পর নিম্ন আদালতে হা‌জিরা দিয়েছেন ঘাটাইল-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য (এম‌পি) আমানুর রহমান খান রানা।

বৃহস্প‌তিবার (১৮ জুলাই) দুপুরে টাঙ্গেইলের প্রথম অতি‌রিক্ত জেলা ও দায়রা জজ রা‌শেদ কবীরের বিচা‌রিক আদাল‌তে হা‌জিরা দেন তিনি। এ সময় চি‌কিৎসক ‌মোজা‌ম্মেল হো‌সে‌নের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। প‌রে আসামি পক্ষ থে‌কে চি‌কিৎসক‌কে জেরা করা হয়।

টাঙ্গাইল জজ কো‌র্টের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মোহসীন শিকদার ও টাঙ্গাইল আদাল‌তের কোর্ট ইন্সপেক্টর তানভীর আহ‌ম্মেদ জানান, চি‌কিৎসক মোজা‌ম্মেল হো‌সেনের সাক্ষ্যগ্রহণ শে‌ষে আসামি পক্ষ থে‌কে তা‌কে জে‌রা করা হয়। এ নি‌য়ে মোট ১৮ জ‌ন সাক্ষির সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হল।

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ১৮ জানুয়ারি জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ফারুক আহম্মে‌দের গুলিবিদ্ধ মরদেহ তার কলেজপাড়া এলাকার বাসার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়। ঘটনার তিনদিন পর তার স্ত্রী নাহার আহমেদ বাদী হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। ২০১৪ সালের আগস্টে গোয়েন্দা পুলিশের তদন্তে এই হত্যায় তৎকালীন সাংসদ আমানুর ও তার ভাইদের জাড়িত থাকার বিষয়টি বের হয়ে আসে।

২০১৬ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় গোয়েন্দা পুলিশ। এই মামলায় আমানুর ছাড়াও তার তিন ভাই টাঙ্গাইল পৌরসভার সাবেক মেয়র সহিদুর রহমান খান মুক্তি, ব্যবসায়ী নেতা জাহিদুর রহমান খান কাকন, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি সানিয়াত খান বাপ্পাসহ ১৪ জন আসামি রয়েছে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র