Barta24

বৃহস্পতিবার, ২৭ জুন ২০১৯, ১৩ আষাঢ় ১৪২৬

English Version

কলেজ অধ্যক্ষের অপসারণের দাবিতে আন্দোলনে শিক্ষকরা

কলেজ অধ্যক্ষের অপসারণের দাবিতে আন্দোলনে শিক্ষকরা
কলেজ অধ্যক্ষের অপসারণের দাবিতে আন্দোলনে শিক্ষকরা, ছবি: বার্তা২৪.কম
ডিষ্ট্রিক করেসপন্ডেন্ট
পাবনা
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

পাবনার চাটমোহর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মিজানুর রহমানের বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি, হয়রানি, স্বেচ্ছাচারীতা ও ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে তার অপসারণ চেয়ে লিফলেট বিতরণ করেছে একই কলেজের সহকারী শিক্ষকরা। বৃহস্পতিবার (২৩ মে) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত পৌর শহরের বিভিন্ন এলাকা এসব ঘুরে লিফলেট বিতরণ করা হয়। লিফলেট বিতরণ কর্মসূচিতে ওই কলেজের প্রায় ৫১ জন শিক্ষক অংশ নেন।

লিফলেটে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে বেশ কিছু অভিযোগ উত্থাপতি হয়েছে। তার বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্য, স্বজনতোষণ, স্বেচ্ছাচারিতা, কলেজ মার্কেটের টাকাসহ কলেজের বিভিন্ন তহবিল থেকে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।

এর আগে কলেজ সরকারিকরণের পদ সৃজনের তথ্য ছক, প্রত্যয়নপত্র ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সরবরাহ না করাসহ তার অসহযোগিতার কথা উল্লেখ করে পাবনা জেলা প্রশাসক, চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও কলেজের সভাপতি সরকার অসীম কুমারের কাছে ওই কলেজের বিভিন্ন বিভাগের ৫১ জন শিক্ষক অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দেন। এ ঘটনার জের ধরে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার ঘটনা ঘটে। যার কারণে ভুক্তভোগী শিক্ষকরা জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে চাটমোহর থানায় অধ্যক্ষসহ মোট ১২ জনকে অভিযুক্ত করে একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। জিডি নং-৫১১। এর পর অধ্যক্ষ মিজানুর রহমানও তাদের বিরুদ্ধে থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। জিডি নং- ৫৪৩।

এর পর পরই কলেজের পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এদিকে এই জটিলতা নিরসনে অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান সোমবার (২০ মে) হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন দায়ের করেন।

চাটমোহর সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক কামাল মোস্তফা জানান, দীর্ঘদিন ধরে আমাদের শ্রম ঘামে কলেজটি গড়ে উঠেছে। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে কলেজটি জাতীয়করণের দ্বারপ্রান্তে এসেও তার কারণে ভেস্তে যেতে চলেছে। অধ্যক্ষ আমাদের নানাভাবে হেনস্তা করছেন। শেষ সময়ে এসে তার (অধ্যক্ষ) অনিয়ম ঢাকতে হাইকোর্টে গিয়ে রিট করেছেন। যা মোটেই কাম্য নয়। এতে শিক্ষক এবং প্রতিষ্ঠান হুমকির সম্মুখীন হয়ে পড়েছে।

চলমান ঘটনার বিষয়ে জানতে অধ্যক্ষ মিজানুর রহমানের মোবাইলে ফোন দিলেও কল ওয়েটিং পাওয়া যায়। পরে বার বার কল দিলে তিনি রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। এর আগেও তিনি সাংবাদিকদের ফোন রিসিভ করেননি।

তবে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সরকার অসীম কুমার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, কলেজটি সরকারিকরণের পর বিষয়টি নানাভাবেই আমার দৃষ্টিগোচরে এসেছে। ইতোমধ্যে কলেজে শিক্ষকদের মধ্যে গ্রুপিং দেখা দিয়েছে। খুব শীঘ্রই শান্তিপূর্ণ সমাধানে আসবে এমন দাবী ইউএনও অসীমের।

আপনার মতামত লিখুন :

কলার বাগানে সাথী ফসল চাষে লাভবান কৃষকরা

কলার বাগানে সাথী ফসল চাষে লাভবান কৃষকরা
কলার বাগানে সাথী ফসল চাষ, ছবি: বার্তা২৪

কুষ্টিয়ার বিভিন্ন উপজেলায় কলা চাষের পাশাপাশি সাথী ফসল হিসেবে বিভিন্ন শাক-সবজি চাষ করে লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা। এ পন্থা অবলম্বন করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন অনেক চাষি।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, এবার চার হাজার ১৯১ হেক্টর জমিতে কলা চাষ হয়েছে। এরমধ্যে অধিকাংশ জমিতে কলার সাথী ফসল হিসেবে মুগ, কলাই, তিল, পুঁইশাক, লাল শাক, বরবটি, ঢেড়সসহ অন্যান্য সবজি চাষ করা হয়েছে।

মিরপুর উপজেলার কেউপুর গ্রামের কৃষক নজরুল ইসলাম বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘আমি আড়াই বিঘা জমিতে কলা চাষ করেছি। কলাবাগানের মধ্যে সাথী ফসল হিসেবে পুঁইশাক, লাল শাক, বরবটি, ঢেড়শ চাষ করেছি। সবজি বিক্রি করে ইতোমধ্যেই এক লাখ টাকা আয় হয়েছে। এখনো কিছু সবজি বিক্রি করা যাবে।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/27/1561603442932.jpg

তিনি আরও বলেন, ‘মিরপুর উপজেলা কৃষি অফিসারের পরামর্শে প্রথমবার এক বিঘা জমিতে কলার পাশাপাশি সবজি চাষ করেছিলাম। কৃষি অফিস থেকে আমাকে কয়েকবার প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়েছে।’

চিথলিয়া এলাকার কৃষক মফিজুল ইসলাম এক বিঘা জমিতে কলার বাগানে মুগ ডালও লাগিয়েছেন। কলা চাষ করতে ২৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। ইতোমধ্যে ৬০ হাজার টাকার কলা বিক্রি হয়েছে। আর বাড়তি ১০ হাজার টাকার মুগ বিক্রি হবে বলে আশা করেন তিনি।

বারুইপাড়া ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মাহিরুল ইসলাম বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘আমরা কৃষকদের বাড়িতে গিয়ে কলার পাশাপাশি সাথী ফসল চাষে উৎসাহ দিচ্ছি। এছাড়াও তাদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণসহ প্রণোদনা দিয়ে সহযোগিতা করা হচ্ছে।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/27/1561603463185.JPG

কুষ্টিয়া সদর উপজেলার উজানগ্রাম ইউনিয়নের দুর্বাচারা এলাকার আব্দুল লতিফ মোল্লা জানান, দেড় বিঘা জমিতে কলার সঙ্গে তিলের আবাদ করেছেন। তিল থেকে অন্তত ২০ হাজার টাকা বাড়তি আয় হবে বলে আশা তার।

কুষ্টিয়া সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বিষ্ণুপদ সাহা বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘একই জমিতে একাধিক ফসল চাষে আমরা কৃষকদের পরামর্শ দেই। পাশাপাশি সুষম সার ব্যবহারেও উৎসাহ দেওয়া হয়।’

১০ বছর পর সড়ক সংস্কারে স্বস্তিতে এলাকাবাসী

১০ বছর পর সড়ক সংস্কারে স্বস্তিতে এলাকাবাসী
হাজীগঞ্জ উপজেলা লাওকোরা মুক্তিযোদ্ধা সড়ক সংস্কার করা হয়, ছবি: বার্তা২৪

প্রায় ১০ বছর পর চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলা লাওকোরা মুক্তিযোদ্ধা সড়কের সংস্কার কাজ শেষ হয়েছে। গত বুধবার (২৬ জুন) ওই সড়কের উয়ারুক স্টেশন থেকে টঙ্গীরপাড় পর্যন্ত পিচ ঢালাই করা হয়। এতে উপজেলার ৮নং হাটিলা ইউনিয়নের প্রায় আটটি গ্রামের অর্ধ লাখ মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরেছে।

উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এলজিডির মেরামত কর্মসূচির আওতায় ৯৪ লাখ টাকা ব্যায়ে প্রায় তিন কিলো মিটার সড়কের সংস্কার করা হলো। বিশেষ করে টঙ্গীরপাড় প্রধানীয়া বাড়ির সামনে ৩০০ মিটার সড়ক সংস্কার হওয়ায় এলাকাবাসীর মাঝে স্বস্তি ফিরেছে।

দীর্ঘদিন সড়কটি মেরামত না হওয়ায় স্কুল কলেজের শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। সড়কটি সংস্কার হওয়ায় এখন দুর্ভোগ কমবে।

ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা কামাল মজুমদার বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘মামলা জটিলতায় ইউনিয়নের প্রধান সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার করা হয়নি। স্থানীয় সংসদ সদস্য মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম বীরউত্তমের আন্তরিক প্রচেষ্টায় কাজটি শেষ হয়েছে। আমরা সংসদ সদস্যের কাছে কৃতজ্ঞ।’

সড়ক সংস্কার কাজের ঠিকাদার আকবর মৃধা জানান, কাজটি শেষ হওয়ায় জনগণের দুর্ভোগ কমবে।

উপজেলা প্রকৌশলী রাহাত আমিন পাটওয়ারী বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘সড়কটির কিছু অংশ সংস্কারে আদালতের স্থগিতাদেশ থাকায় ২০১০-২০১৫ সাল পর্যন্ত কাজ করা যায়নি। আর ২০১৬ সালের পর স্থগিতাদেশ নবায়ন করেননি অভিযোগকারী জহির উদ্দিন বাবর চৌধুরী। ফলে ২০১৯ সালে নতুন বরাদ্দ এনে কাজটি শেষ করা হয়েছে।’

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র