Barta24

রোববার, ২১ জুলাই ২০১৯, ৬ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

৫৯ জন শিক্ষার্থীর কলেজে ভর্তি অনিশ্চিত!

৫৯ জন শিক্ষার্থীর কলেজে ভর্তি অনিশ্চিত!
নড়াইল সদর উপজেলার চালিতাতলা সম্মিলনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়। ছবি: বার্তা২৪.কম
ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
নড়াইল


  • Font increase
  • Font Decrease

চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার ব্যবহারিকের প্রাপ্ত নম্বর যোগ না হওয়ায় ফেল দেখানো হয়েছিল নড়াইলের ৫৯ শিক্ষার্থীকে। পরে ব্যবহারিকের প্রাপ্ত নম্বর যোগ হলে তারা পাশ করে। তবে তাদের কলেজে ভর্তি নিয়ে নতুন করে এখন দেখা দিয়েছে আরেক জটিলতা।

আর তা হচ্ছে তারা অনলাইনে ভর্তির আবেদনের সুযোগ পায়নি। কারণ তাদের নামের পাশে এখনো অকৃতকার্য দেখানো হচ্ছে। ফলে ওই ৫৯ জন শিক্ষার্থীর কলেজে ভর্তি এখন অনিশ্চিত!

নড়াইল সদর উপজেলার চালিতাতলা সম্মিলনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ওই ৫৯ জন শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা বিষয়টি নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছে।

চালিতাতলা সম্মিলনী মাধ্যমিক বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, স্কুল থেকে যথাসময়ে ৭১ জন শিক্ষার্থীর আইসিটি প্র্যাকটিক্যাল পরীক্ষার ফলাফল তৈরি করে নড়াইল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়। এরপর নিয়ম অনুযায়ী নড়াইল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র প্র্যাকটিক্যাল পরীক্ষার নম্বরপত্র বোর্ডে পাঠানোর কথা। কিন্তু পরীক্ষার নম্বরপত্র বোর্ডে পাঠানো হয়নি।

নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের সবারই আইসিটি ছিল, তাদের মধ্যে তিনজনের প্র্যাকটিক্যাল নম্বর বোর্ডে পাঠানো হয় এবং তারা সবাই ভালো ফলাফল করে। বাকিদের নম্বরপত্র পাঠানো হয়নি। ফলে ফলাফলে ৬৮ জন শিক্ষার্থীকে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিতে ফেল দেখানো হয়।

পরে ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ধ্রুব কুমার ভদ্র এবং নড়াইল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, কেন্দ্র সচিব মহিতোষ কুমার দে গত ৭ মে আইসিটি ব্যবহারিক পরীক্ষার নম্বরপত্র নিয়ে যশোর বোর্ড কর্তৃপক্ষের কাছে যান। বোর্ড বিষয়টি দেখে ব্যবহারিক পরীক্ষার নম্বর যোগ করে দেয়। এতে ৬৮ জনের মধ্যে ৫৯ জন পাশ করে। তবে তারা এখন অনলাইনে ভর্তির আবেদন করতে পারছে না।

জিপিএ-৫ পাওয়া পিয়া খানম, খাদিজা আক্তার, আরাফাত হোসেন এবং বিজয় কুমার পাল জানায়, অনলাইনে ভর্তির আবেদন করলে রোল নম্বরের পাশে অকৃতকার্য দেখানো হচ্ছে।

তারা হতাশা প্রকাশ করে বলে, ‘ভালো ফলাফল করেও কলেজে ভর্তির জন্য এখন অনলাইনে আবেদন পূরণ করতে পারছি না। আমরা কলেজে ভর্তি হতে পারব তো?’

চালিতাতলা সম্মিলনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ধ্রুব কুমার ভদ্র জানান, প্রথম ধাপের শেষ দিন ২৩ মে পর্যন্ত এ স্কুল থেকে পাশ করা ৫৯ জন শিক্ষার্থী অনলাইনে ভর্তির সুযোগ পায়নি।

এ ব্যাপারে কেন্দ্র সচিব ও নড়াইল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মহিতোষ কুমার দে বলেন, ‘যশোর শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মাধব চন্দ্র রুদ্র এবং বুয়েট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কয়েকবার যোগাযোগ করেছি। যশোর শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক জানিয়েছেন, যশোর বোর্ড থেকে রেজাল্ট সংশোধনের জন্য বুয়েটে পাঠানো হয়েছে। এখন বুয়েট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি দেখভাল করবেন। বুয়েট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা জানিয়েছে, রেজাল্ট সংশোধন করতে আরও কয়েকদিন সময় লাগবে।’

জানা গেছে, একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির নীতিমালা অনুযায়ী দ্বিতীয় পর্যায়ে আবেদন করা যাবে ১৯ ও ২০ জুন এবং তৃতীয় ধাপের আবেদনের তারিখ ২৪ জুন। আগামী ১ জুলাই থেকে একাদশ শ্রেণির ক্লাস শুরু হবে।

আপনার মতামত লিখুন :

খোয়াই নদীতে ভেসে উঠল মরদেহ

খোয়াই নদীতে ভেসে উঠল মরদেহ
খোয়াই নদীতে ভেসে উঠল মরদেহ

হবিগঞ্জ সদর উপজেলার জয়নগর এলাকায় খোয়াই নদীতে ভেসে থাকা অজ্ঞাত পরিচয় (৪৫) এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

শনিবার (২১ জুলাই) বিকেল ৪টার দিকে হবিগঞ্জ সদর থানা পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) মো. জিয়াউর রহমান জানান, মরদেহটি ফুলে গিয়ে নদীতে ভেসে উঠেছে। স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ উদ্ধার করে হবিগঞ্জ মর্গে প্রেরণ করে। ময়না তদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে মৃত্যুর কারণ জানা যাবে।

শ্রেণিকক্ষের অভাবে মাটিতে বসে পাঠদান

শ্রেণিকক্ষের অভাবে মাটিতে বসে পাঠদান
প্রয়োজনের তুলনায় চেয়ার, টেবিল ও বেঞ্চ কিছুই নেই বিদ্যালয়টিতে, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলায় জাতীয়করণকৃত ১২টি বিদ্যালয়ের মধ্যে একটি জাগছড়া চা বাগান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বিদ্যালয়টিতে শ্রেণিকক্ষ সঙ্কট থাকায় ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম। স্কুলের পাশে চা বাগানের হাসপাতালের একটি রুমে চলছে পাঠদান কার্যক্রম। এমনকি বিদ্যালয়টিতে নেই কোনো বসার ব্যবস্থা, নিরাপদ খাবার পানি, উন্নত স্যানিটেশন কিংবা অবকাঠামো ব্যবস্থা।

সূত্রে জানা যায়, এই প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ১৯৫৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর ২০১৪ সালে বিদ্যালয়টি সরকারি করা হলে এখনও পর্যন্ত কোনো পাকা ভবন নির্মাণ করা হয়নি। দোচালা টিনের ঘরে মাত্র দুটি শ্রেণিকক্ষে ৩০০ ছাত্র-ছাত্রীকে দুই শিফটে কোনোরকমে পাঠদান করা হচ্ছে।

এদিকে প্রয়োজনের তুলনায় চেয়ার, টেবিল ও বেঞ্চ কিছুই নেই বিদ্যালয়টিতে। ছাত্র-ছাত্রীদের মাটিতে বসে ক্লাস করতে হচ্ছে।

স্কুলের বাহিরে টেবিল নিয়ে অফিস বানিয়ে কোন রকমে প্রধান শিক্ষকসহ পাঁচজন শিক্ষক তাদের দাফতরিক কার্যক্রম পরিচালনা করেন। সকালের শিফটে দুটি কক্ষে ১ম ও ২য় শ্রেণির পাঠদান এবং বিকেলের শিফটে ৩য়, ৪র্থ ও ৫ম শ্রেণির পাঠদান কার্যক্রম চালায়।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/21/1563706122113.jpg
স্কুলের বাহিরে টেবিল নিয়ে অফিস বানিয়ে দাফতরিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে

 

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়টির ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষের মেঝেতে বসে ক্লাস করছে। ওই শ্রেণিতে ক্লাস করাচ্ছেন সহকারী শিক্ষিকা সালমা আক্তার। তিনি বলেন, 'গরমের মধ্যে ক্লাস করতে অনেক কষ্ট হচ্ছে। ছাত্র-ছাত্রীরা ঠাসাঠাসি করে মাটিতে বসেছে। এতে তাদের লেখাপড়ার সমস্যা হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা বেশ কষ্ট পায়। বিদ্যালয়ে বিদ্যমান ১টি শ্রেণিকক্ষে পর্যাপ্ত পরিমাণ বেঞ্চ নেই, ভাঙা কয়েকটি বেঞ্চ দিয়ে কোন রকমে চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে পাঠদান। অপর আরেকটি শ্রেণিকক্ষে কোন বেঞ্চ'ই নেই।'

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানায়, 'মাটিতে বসে আমাদের ক্লাস করতে হয়। এতে আমাদের অনেক কষ্ট হয়। গরমে আমরা একদম বসতেই পারি না।'

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কল্পনা রানী দাস বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে বলেন, 'স্কুলে শ্রেণিকক্ষ সঙ্কটের কারণে ছাত্র-ছাত্রীদরে মেঝেতে বসিয়ে ক্লাস নিতে হচ্ছে। শ্রেণিকক্ষ সঙ্কটের কথা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তারা শুধু নতুন ভবনের আশ্বাস দিচ্ছেন।' 

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/21/1563706168582.jpg
জাগছড়া চা বাগান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

 

বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি পরেশ কালেন্দি বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে বলেন, 'শ্রেণিকক্ষের অভাবে মাটিতে বসিয়ে কোমলমতি শিশুদের পাঠদান দেয়া হচ্ছে। অতি দ্রুত বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের বসার জন্য পর্যাপ্ত আসনের ব্যবস্থাসহ পাঠদানের উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টির জন্য কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করছি।' 

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সাইফুল ইসলাম তালুকদার বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে বলেন, 'এই বিদ্যালয়ের সমস্যার কথা সম্পর্কে অবগত আছি। অন্যান্য বিদ্যালয়গুলোতে নতুন ভবনের কাজ চলছে। আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে এই বিদ্যালয়ে নতুন ভবনের কাজ শুরু হবে। এছাড়াও সকল সমস্যা সমাধানের জন্য আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।'

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র