Barta24

শনিবার, ২০ জুলাই ২০১৯, ৪ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

অভাবকে জয় করা মধু বেগমের গল্প

অভাবকে জয় করা মধু বেগমের গল্প
মধু বেগম। ছবি: বার্তা২৪.কম
সোহাগ আলী
ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
ঝিনাইদহ


  • Font increase
  • Font Decrease

ঝিনাইদহ সদর উপজেলার পোড়াহাটি ইউনিয়নের ভূপতিপুর গ্রামের বাসিন্দা মধু বেগম। বয়স পঞ্চাশের কোটায়। নিজের এক খণ্ড জমিতে খামার গড়ে তুলে অভাবকে জয় করেছেন তিনি। এখন সন্তান-পরিবার নিয়ে সুখেই দিন কাটছে তার। তার কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে এলাকার অনেকেই খামার তৈরিতে উদ্বুদ্ধ হচ্ছে।

জানা যায়, অভাব অনটনের সংসারে ১৯৮৮ সালে স্বামী বেলাল মিয়ার সঙ্গে ১০ কাঠা জমিতে ফলজ ও বনজ বৃক্ষের নার্সারি গড়ে তোলেন মধু বেগম। ওই জমিটুকু ছাড়া আর কোনো সম্পদ ছিল না তাদের। নার্সারির চারা বিক্রি করে সংসার চালাত বেলাল মিয়া। এক ছেলে, তিন মেয়ে নিয়ে ছিল তাদের সংসার। নার্সারির চারা বিক্রি আর অন্যের জমিতে কাজ করে কোনো মতে দিন কাটছিল তাদের।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/21/1558427603222.jpg

এরপর ২০০৩ সালে মারা যান বেলাল মিয়া। ছেলে-মেয়েকে নিয়ে একা হয়ে পড়েন মধু বেগম। উপায় না পেয়ে সন্তানদের সঙ্গে নিয়ে হাল ধরেন নার্সারির। অন্য গাছের সঙ্গে পেঁপের চারা উৎপাদন করেন। ১১ শতক জমিতে উৎপাদিত পেঁপের চারা বিক্রি করেন। এভাবে টানা কয়েক বছর লক্ষাধিক টাকা উপার্জন করেন তিনি।

এরপর জমানো টাকা দিয়ে বাড়ির পাশে ৪০ শতক জমি ক্রয় করেন। সেখানে পুকুর কেটে শুরু করেন মাছ চাষ। এখন বছরে কয়েকদফায় বিক্রি করেন মাছ।

এছাড়াও বাড়িতে গড়ে তুলেছেন ফার্ম। সংসারে সচ্ছলতা আসার পর মধু বেগম শুরু করেন কেঁচো সার উৎপাদন। সদর উপজেলা কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় বাড়ির পাশে একটি ঘর বানিয়ে সেখানে কেঁচো কম্পোস্ট সার উৎপাদন শুরু করেন তিনি। প্রতি মাসে ৩শ কেজি কেঁচো সার উৎপাদিত হয় তার খামারে। আর তা বিক্রি করে পাচ্ছেন প্রায় ১৫ হাজার টাকা।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/21/1558427643414.jpg

মধু বেগম বলেন, ‘জীবনে অনেক কষ্ট করেছি। এখন আর কষ্ট নেই। এই বাড়ির ক্ষুদ্র খামারের আয় থেকে আমার পরিবারের সকল খরচ চলে। খামারে কোনো সমস্যা হলে ঝিনাইদহ সদর উপজেলা কৃষি অফিস সহযোগিতা করে।’

ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা মোফাকখারুল ইসলাম জানান, জীবন সংগ্রামে জয়ী মধু বেগম। তার খামার ও ফার্মের জন্য কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে যতটুকু সম্ভব সহযোগিতা করা হয়।

আপনার মতামত লিখুন :

ফেনীতে বিএনপির ৮ নেতা আটক

ফেনীতে বিএনপির ৮ নেতা আটক
ছবি: সংগৃহীত

ফেনী জেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক গাজী হাবিব উল্যাহ মানিকসহ দলের অঙ্গ সংগঠনের আট নেতাকে আটক করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (১৯ জুলাই) রাতে শহরের মিজান পাড়া থেকে তাদের আটক করা হয়।

আটককৃত বাকিদের মধ্যে জেলা যুবদলের সভাপতি জাকির হোসেন জসিম, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি সাইদুর রহমান জুয়েল, ফেনী পৌর যুবদলের সমন্বয়ক জাহিদ হোসেন বাবরের পরিচয় জানা গেছে। আর বাকি চারজনের পরিচয় এখনো জানা যায়নি।

ফেনী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আলমগীর হোসেন তাদেরকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ডানাহীন সেই পাখি এইচএসসিতে পেলেন জিপিএ ৪.৩৩

ডানাহীন সেই পাখি এইচএসসিতে পেলেন জিপিএ ৪.৩৩
পুরনো ছবি

ফরিদপুরের নাঈমা সুলতানা পাখি। আর দশ জনের মতো নয়। একজন বিশেষ মানুষ। সব থাকতেও যেন কি যেন নেই। তাতে কি, পাখিকে দমিয়ে রাখা যায়নি। পাখি উড়ছে নিরবধি। এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পেয়েছেন জিপিএ ৪.৩৩।

ফরিদপুর সদর উপজেলার কানাইপুর ইউনিয়নের নাদের হোসেন ও শাহেদা বেগম দম্পতির প্রথম সন্তান নাঈমা সুলতানা পাখি। জন্ম থেকে নানা রোগ ছিল দেহে। চিকিৎসার পর চিকিৎসা চলেছেই। এক পর্যায়ে বাবা-মা জানতে পারলেন অন্যসব রোগ ভালো হলেও পাখি উচ্চতায় খুব একটা লম্বা হবেন না। পাখির ২০ বছর বয়স, উচ্চতা মাত্র ২৮ ইঞ্চি।

পাখি পারিবারিক ও সামাজিক বাধা পেরিয়ে লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছেন। ফরিদপুর মুসলিম মিশন কলেজ থেকে ২০১৯ সালের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় ব্যবসা বাণিজ্য শাখা থেকে তিনি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন।

ভবিষ্যতের স্বপ্ন নিয়ে পাখি বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, ‘বড় হয়ে সরকারি চাকরি করতে চাই। বিসিএস ক্যাডার হতে চাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘৯ বছর আগে বাবা যখন অসুস্থ হয়ে ঘরে পড়ে গেলো তখন আমার পড়ালেখা অনিশ্চিত হয়ে যায়। কিন্তু মা সব সময় পাশে ছিল। আর আমিও চেষ্টা করেছি। কখনো ছটো মনে করিনি নিজেকে। মানুষ হিসেবে লেখাপড়া করে গেছি।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/20/1563563395502.jpg

পাখি বলেন, ‘বাবার যে জমি জমা আছে সেসব বর্গা দিয়ে যে টাকা পয়সা পাই, তা দিয়ে কোনো রকম সংসার চলছে। তার উপর তিন বোনের লেখাপড়া চালানো মায়ের জন্য কষ্টকর। তবে আমি সরকারি প্রতিবন্ধী ভাতা ও উপবৃত্তি পাই। তা দিয়ে আমার লেখাপড়ার অনেকটা সহায়ক হয়। সকল বাধা পেরিয়ে আমার স্বপ্ন নিয়ে লেখাপড়া করে আমি এগিয়ে চলছি। আমি সকলের দোয়া চাই।’

পাখির মা শাহেদা বেগম বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, ‘পাখির আরও দুটি বোন আছে মেজ বোন হাফছা এবার এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে। ছোট বোন ছামিয়া পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ে। স্বামী দীর্ঘদিন শয্যাশায়ী।’

পাখির কলেজের অধ্যক্ষ আবদুল্লাহ আল মামুন বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম বলেন, পাখি হয়তো আর দশ জনের মতো নয়। ক্লাসে প্রাণচাঞ্চল্য থাকতো সে। দেখা হলেই সবাইকে সালাম দেয়। লেখাপড়াও ভালো।’

তিনি জানান, পাখির লেখাপড়ার সুবিধার্থে মুসলিম মিশনে ফ্রিতে থাকা ও খাওয়া এবং লেখাপড়ার ব্যবস্থা ছিল। কিন্তু এবার পাশ করে অনার্সে ভর্তি হলে পাখির আরও সাহায্যের প্রয়োজন হবে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র