Barta24

রোববার, ২৫ আগস্ট ২০১৯, ১০ ভাদ্র ১৪২৬

English

চাঁদা না পেয়ে ডিম নষ্ট: ৬ পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার

চাঁদা না পেয়ে ডিম নষ্ট: ৬ পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার
ঘুষ না দেওয়ায় প্রায় তিন লাখ টাকার ডিম রাস্তায় ফেলে দিয়েছে পুলিশ, অভিযোগ ট্রাক চালকের, ছবি: সংগৃহীত
ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
নাটোর
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

নাটোরের বড়াইগ্রামে হাইওয়ে পুলিশ কর্তৃক ডিম ভাঙার অভিযোগ খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

শুক্রবার (১৭ মে) সকালে এই কমিটি গঠন করা হয়। এদিকে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ৬ পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করেছে হাইওয়ে পুলিশ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে হাইওয়ে পুলিশ বগুড়া অঞ্চলের পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম।

বগুড়া হাইওয়ে রেঞ্জের পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম জানান, বৃহস্পতিবার সকালে বড়াইগ্রামে ঘুষ না দেয়ায় রশি কেটে পিকআপে থাকা প্রায় তিন লাখ টাকার ডিম রাস্তায় ফেলে নষ্ট করেছে বনপাড়া হাইওয়ে পুলিশ।

বিভিন্ন গণমাধ্যমে এমন সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি সত্যতা অনুসন্ধানের জন্য অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ শহীদকে প্রধান করে এক সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

এদিকে তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ শহীদ শুক্রবার দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

এসময় তিনি ঘটনাস্থল থেকে পিকআপের কেটে দেওয়া রশিসহ বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেন। এছাড়া স্থানীয় প্রত্যেক্ষদর্শী, ভুক্তভোগী এবং এলাকাবাসীর সাথে কথা বলেন। পরে বনপাড়া হাইওয়ে থানায় যান তদন্ত কমিটির প্রধান। সেখানে হাইওয়ে থানা পরিদশর্নও করেন তিনি।

তদন্ত কমিটির প্রধান মোহাম্মাদ শহীদ সাংবাদিকদের বলেন, তিনি বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এসেছেন। তদন্তে যারাই দোষী প্রমাণিত হবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা প্রতিবেদন দেওয়া হবে। তবে তদন্তের স্বার্থে ক্যামেরার সামনে কোন কথা বলতে রাজি হননি তিনি।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার সকালে একটি পিকআপ (ঢাকা মেট্রে-ন ১৭-৩৭৮০) ৩৫ হাজার একশ’ ডিম নিয়ে সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ থেকে যশোর এ যাচ্ছিল। বড়াইগ্রামের আগ্রান সূতিরপাড় এলাকায় পিকআপটির চাকা পাংচার হয়ে গেলে সেটি পাশের ফিডার রোডে নেমে যায়। খবর পেয়ে বনপাড়া হাইওয়ে পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে আসে। এ সময় পুলিশ সদস্যরা পিকআপ উদ্ধারের জন্য রকার ভাড়াসহ ২০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করে। চালক এতে রাজি না হওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে পুলিশ সদস্যরা পিকআপে ডিমের খাঁচি বাঁধার রশি চাকু দিয়ে কেটে দেয়। এতে প্রায় তিন লাখ টাকার মুল্যের ডিম পুলিশ নষ্ট করে ফেলে বলে অভিযোগ করেন ডিম ব্যবসায়ী।

আপনার মতামত লিখুন :

বিদ্যালয়ের মাঠ ভরাট, খুশির চেয়ে দুশ্চিন্তা বেশি

বিদ্যালয়ের মাঠ ভরাট, খুশির চেয়ে দুশ্চিন্তা বেশি
হাজীগঞ্জ উপজেলার মোহাম্মদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম।

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার মোহাম্মদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ১৯৩৫ সালে স্থাপিত হয়। ২০১৯ সালে এই বিদ্যালয়ের মাঠ ভরাট করা হয়। তবে স্কুল আর এই মাঠের মাঝখান দিয়ে এখন উপজেলার ৯নং ও ১০নং গন্ধর্ব্যপুর ইউনিয়নের প্রধান সড়ক চলে গেছে।

সরেজমিনে রোববার (২৫ আগস্ট) দুপুরে ওই বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে, বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নতুন মাঠে খেলাধুলা করছে। আবার কেউ ছোটাছুটি করছে। ছোটাছুটি করতে করতে কেউ কেউ মাঠ পার হয়ে সড়কের উপরে উঠে যাচ্ছে। সড়কটিতে দৈনিক শতাধিক অটোচালিত সিএনজি, ট্রাক, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহন চলছে। এতে যেকোনো সময় ঘটতে পারে দুর্ঘটনা। তাই মাঠ ভরাট করায় খুশির চেয়ে দুশ্চিন্তা যেন বেশি।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/25/1566742336561.jpg

জানা গেছে, বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৫ শতাধিক। শিক্ষক রয়েছেন ৮ জন।

ওই বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাছান ও উম্মে হাবিবা বলে, ‘আমরা নতুন মাঠ পেয়ে খুশি। মাঠে আমরা ক্রিকেট, ফুটবলসহ বিভিন্ন খেলা খেলি। তবে সড়ক পার হয়ে মাঠে যেতে হয়। আমাদের সহপাঠীরা মাঝে মাঝে সিএনজির সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে আহত হয়।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/25/1566742354104.jpg

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু সাঈদ ও সিনিয়র শিক্ষক মোহাম্মদ কামাল হোসাইন জানান, ৮৪ বছর পর বিদ্যালয়ে মাঠ হয়েছে। আর মাঠ ভরাট হয়েছে একমাস হলো। এরই মধ্যে তিনজন শিক্ষার্থী সিএনজির সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে আহত হয়েছে। এখন মাঠের পশ্চিম পাশ দিয়ে সড়কটি নেয়া প্রয়োজন। আর বিদ্যালয়ে সীমানা প্রাচীর থাকলে তারা ঝুঁকিমুক্ত থাকবেন।

হাজীগঞ্জ উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা নাছরিন সুলতানা জানান, বিদ্যালয়ে মাঠ হয়েছে। এখন একটি ভবনও প্রয়োজন। সড়কটি পরিবর্তন হলে নতুন ভবন করতে সুবিধা হবে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি তুলে ধরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তাড়াশে বাঁশের বেড়ায় অবরুদ্ধ ইউপি সদস্যসহ ৩ পরিবার

তাড়াশে বাঁশের বেড়ায় অবরুদ্ধ ইউপি সদস্যসহ ৩ পরিবার
ঘরের সামনে বাঁশ দিয়ে রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

সিরাজগঞ্জের তাড়াশে বসতবাড়ির প্রবেশ পথে বাঁশের বেড়া দিয়ে তিন পরিবারকে অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ উঠেছে।

গত ২ দিন ধরে অবরুদ্ধ অবস্থায় জীবন যাপন করছেন উপজেলার নওগাঁ ইউনিয়নের দেবীপুর গ্রামের চরপাড়ার সদের আলীর ছেলে ইউপি সদস্য আব্দুল খালেকসহ তার দুই ভাই ইদ্রিস আলী ও আবু বক্করের ৩ পরিবারের ১৭ জন সদস্য।

ইউপি সদস্য আব্দুল খালেক বলেন, ‘একই গ্রামের আফজাল হোসেনের স্ত্রী ময়না ও তার সন্তানরা প্রভাব খাটিয়ে ঘরের প্রবেশ পথে বাঁশেরবেড়া দিয়ে রাখায় পরিবারের সদস্যদের কেউ ঘর থেকে বের হতে পারছে না। বাচ্চারা স্কুলেও যেতে পারছে না। বিষয়টি সমাধান চেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছি।’

সরেজমিনে রোববার (২৫ আগস্ট) উপজেলার দেবীপুর গ্রামের চরপাড়া গিয়ে দেখা যায়, বসতবাড়ির পথে বাঁশের বেড়া ও কাটা দিয়ে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে ইউপি সদস্য আব্দুল খালেকসহ তিনটি পরিবারকে। খোঁজখবর নিয়ে ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, উভয়পক্ষের মাঝে বাড়ির জায়গা নিয়ে দ্বন্দ্ব চলছে। এমন কী জায়গাটি নিয়ে আদালতে মামলাও রয়েছে। তবে প্রভাব দেখিয়ে গ্রামের প্রধান বা কাউকে কিছু না জানিয়ে ঘরের সামনে বাঁশের বেড়া দিয়ে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে পরিবারগুলোকে।

বাঁশের বেড়া দিয়ে অবরুদ্ধের কারণ জানতে চাইলে আফজাল হোসেনের স্ত্রী ময়না ও তার সন্তান মকুল হোসেন বলেন, ‘আমার জায়গায় আমি বেড়া দিয়েছি। যা লেখার লেখেন। আমাদের অনেক বড় নেতা আছে। কিছুই করতে পারবেন না।’

তবে নওগাঁ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মজনু বলেন, ‘তিনটি পরিবারকে অবরুদ্ধ করে রাখা অমানবিক ও বেআইনি। ইউএনও স্যারকে বিষয়টি জানিয়েছি।’

তাড়াশ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ ওবায়দুল্লাহ বলেন, ‘অভিযোগটি পেয়েছি। বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র