Barta24

বুধবার, ২৬ জুন ২০১৯, ১২ আষাঢ় ১৪২৬

English Version

মিষ্টিতে তেলাপোকা, জরিমানা মাত্র ৫ হাজার টাকা

মিষ্টিতে তেলাপোকা, জরিমানা মাত্র ৫ হাজার টাকা
মিষ্টিতে মরে আছে তেলাপোকা / ছবি: বার্তা২৪
ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
বাগেরহাট


  • Font increase
  • Font Decrease

বাগেরহাটের মংলায় খাবারের মধ্যে তেলাপোকা থাকায় এক ঘোষ ডেয়ারিকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

বুধবার (১৫ মে) সন্ধ্যায় বাগেরহাটের মংলা পোর্ট পৌরসভার শেখ আ. হাই সড়কের সাতক্ষীরা ঘোষ ডেয়ারিতে অভিযান পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট খন্দকার রবিউল ইসলাম। এ সময় অভিযানকারীরা ঘোষ ডেয়ারির মিষ্টির পাত্রে একটি তেলাপোকা দেখতে পেয়ে মালিক উত্তম ঘোষকে নগদ ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন।

এছাড়া একই সময় নোংরা পরিবেশে খাদ্য তৈরি ও বেচাকেনার অভিযোগে তালুকদার আব্দুল খালেক সড়কের আল মদিনা হোটেলকে ৩ হাজার ও বাংলাদেশ হোটেলকে ২ হাজার টাকা জরিমানা করেন।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রবিউল ইসলাম বলেন, ‘রমজান মাস জুড়ে শহরের দোকানপাটে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

অভিযানকালে জড়ো হওয়া স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, মিষ্টির কড়াইয়ের মধ্যে তেলাপোকা পেয়ে মাত্র ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এটা খুবই কম জরিমানা, কমপক্ষে ৫০ হাজার কিংবা তার বেশি
জরিমানা করা উচিৎ, তাহলেই তারা সতর্ক হবে এ সকল অসাধু ব্যবসায়ীরা।

এদিকে, রমজান শুরুর পর দেরিতে হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভেজাল বিরোধী অভিযান চালানোতে প্রশাসনকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয়রা। স্থানীয়দের দাবি, শুধু হোটেল, ঘোষ ডেয়ারি নয় অভিযানের আওতায় আনা প্রয়োজন মুদি, সবজি, মাছ ও মাংসের দোকানগুলোকেও।

আপনার মতামত লিখুন :

১৪ দিন ধরে অচল বেনাপোল কাস্টমসের স্ক্যানার

১৪ দিন ধরে অচল বেনাপোল কাস্টমসের স্ক্যানার
বেনাপোল স্থলবন্দরের স্ক্যানার, ছবি: বার্তা২৪

বেনাপোল স্থলবন্দরের কাস্টমস চেকপোস্টে চোরাচালান প্রতিরোধে ব্যবহৃত একমাত্র স্ক্যানারটি প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে অচল হয়ে আছে। এটি মেরামতে কর্তৃপক্ষের কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। ফলে স্বর্ণ ও বৈদেশিক মুদ্রাসহ মূল্যবান সামগ্রী পাচারের আশঙ্কা থেকে যাচ্ছে।

স্থানীয়রা বলছেন, চোরাচালান প্রতিরোধে ব্যবহৃত এই স্ক্যানারটি প্রতিমাসে একবার করে অচল হয়। এতে চেরাকারবারীরা এ পথ দিয়ে নির্ভয়ে পাচার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

কাস্টমস কর্তৃপক্ষ বলছে, মেশিনটির যন্ত্রাংশ নষ্ট হলে দেশে পাওয়া যায় না। ফলে মেরামতে দীর্ঘ সময় লেগে যায়। বিষয়টি ঊধ্বর্তন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

জানা গেছে, যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হওয়াতে বেনাপোল দিয়ে চিকিৎসা,ব্যবসা ও ভ্রমণসহ বিভিন্ন কাজে যাত্রীদের যাতায়াত বেশি। প্রতিদিন প্রায় ৫ থেকে ৭ হাজার যাত্রী যাতায়াত করছে। তেমনি অনুন্নত অবকাঠামোর কারণে, চোরাচালানীরাও এ পথকে নিরাপদ ভেবে স্বর্ণ, বৈদেশিক মুদ্রাসহ বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী যাত্রীর ছদ্দবেশে পাচার করছে। বেনাপোল কাস্টমসের নিরাপত্তা ব্যবস্থা দুর্বল হওয়ায় এ সমস্ত চালানের অধিকাংশ আটক হচ্ছে ভারতের পেট্রাপোল চেকপোস্ট কাস্টমসে।

বুধবার (২৬ জুন) দুপুরে বেনাপোল চেকপোস্ট কাস্টমসে গিয়ে জানা যায়, প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে যাত্রীর ব্যাগেজ পরীক্ষার কাজে ব্যবহৃত স্ক্যানারটি সম্পূর্ণ অচল হয়ে পড়ে আছে। ব্যাগ পরীক্ষা না করেই কাস্টমস সদস্যরা সব ধরনের যাত্রীদেরকে ভারত প্রবেশে অনুমতি দিচ্ছেন।

স্থানীয় ব্যবসায়ী পারভেজ বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘প্রতি বছর এপথ দিয়ে যে পরিমাণ যাত্রী যাতায়াত করে তা থেকে সরকার প্রায় শত কোটি টাকা রাজস্ব আয় করে থাকে। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত যাত্রী সেবা নেই কাস্টমসে। প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর উন্নয়নও নেই। এ প্রকার দুর্ভোগ ও হয়রানির মধ্য দিয়ে যাত্রীদের যাতায়াত করতে হয়। এছাড়া কাস্টমসের সহযোগিতায় অবাধে পাচার হচ্ছে অনেক পণ্য। এতে কাস্টমসের কারও পকেট ভারী হলেও সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব।’

বেনাপোল চেকপোস্ট কাস্টমসের রাজস্ব কর্মকর্তা আজিজুল ইসলাম বার্তা২৪.কমকে জানান, স্ক্যানার অচল থাকায় পাচারের সম্ভাবনা থেকে যাচ্ছে। পাঁচ হাজার যাত্রীর ব্যাগ তো আর হাতে তল্লাশি করা যায় না। বিষয়টি কাস্টমসের ঊধ্বর্তন কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে। এছাড়া যে যন্ত্রটি নষ্ট হয়েছে তার মূল্য ১২ লাখ টাকা। দেশেও এটি কিনতে পাওয়া যায় না। তাই অপেক্ষা করতে হচ্ছে।’

বিতর্কের মুখে মোছা হলো শহীদ স্মৃতিফলকের নাম

বিতর্কের মুখে মোছা হলো শহীদ স্মৃতিফলকের নাম
ছবি: বার্তা২৪

বিতর্ক থাকায় নির্মাণের প্রায় ১৫ বছর পর মুছে ফেলা হয়েছে সাতক্ষীরা কালেক্টরেট চত্বরে স্থাপিত শহীদ স্মৃতিফলকের সব নাম। যাদের নাম ছিল তাদের মধ্যে অনেকেই ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী মানুষ, এমন অভিযোগ থাকায় স্মৃতিফলক নির্মাণের পর থেকেই বিতর্ক শুরু হয়েছিল।

২০০৫ সালের মে মাসে ১২ লাখ ৪৬ হাজার ৭০০ টাকা ব্যয়ে ওই ফলক নির্মাণ কাজ শুরু করে গণপূর্ত বিভাগ। ওই বছরের ৯ জুন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ৩১ জন শহীদ মুক্তিযোদ্ধার তালিকা সাতক্ষীরার গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে পাঠায়। সেই তালিকা অনুযায়ী মার্বেল পাথরে নাম খোদাই করে বসানো হয়। একই বছরের ডিসেম্বরে কাজ শেষ হয়।

এ বিষয়ে জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড ইউনিটের সাবেক কমান্ডার মোশারাফ হোসেন মশু বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘ফলকে যাদের নাম বসানো হয় তাদের মধ্যে কলারোয়ার বাগডাঙ্গা গ্রামের গোলাম রহমান মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী ও রাজাকার ছিলেন। এছাড়াও আশাশুনির রফিকুল ইসলাম ও মোজাম্মেল হক এবং তালার সৈয়দ আবুল হোসেন বেদার বখত মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেননি। আরও একাধিক নাম নিয়ে বিতর্ক থাকায় প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা এখানে শ্রদ্ধা জানাতে আসতেন না।’

উপজেলা কমান্ডার হাসানুল ইসলাম ও গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা কামরুজ্জামান বাবু বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘২০১২ সালে স্মৃতিফলক থেকে বিতর্কিতদের নাম মুছতে মুক্তিযোদ্ধারা সেখানে যান এবং কালি দিয়ে বেশ কিছু নাম মুছে ফেলার চেষ্টা করেন।’

মৃক্তিযোদ্ধাদের দাবি, স্মৃতিফলকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী রাজাকার ও অমুক্তিযোদ্ধার নাম থাকলেও ১৭ জন শহীদ মুক্তিযোদ্ধার নাম স্থান পায়নি। তাদের মধ্যে ছিলেন- এ বি এম নাজমুল আবেদীন খোকন, মুনসুর আলী, আব্দুস সামাদ, আব্দুর রহমান, শাহাদাৎ হোসেন, আব্দুল ওহাব, গোলজার আলী, জাকারিয়া, নূর মোহাম্মদ, সোহরাব হোসেন, আবু দাউদ বিশ্বাস, নূল ইসলাম কারিগর, সুবেদার ইলিয়াস খান, আবুল কালাম আজাদ, ইঞ্জিনিয়ার আবুল কালাম আজাদ, মো. মোজাম্মেল হক ও মো. ইউনুস আলী।

এ ব্যাপারে সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামাল বার্তা২৪.কমকে বলেন, বিতর্ক থাকায় ওই নাম ফলকটি তুলে ফেলতে গণপূর্ত বিভাগকে নির্দেশনা দিয়েছিলাম। বিষয়টি খুবই স্পর্শকাতর। এখন মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে আলোচনা করে ও গেজেট দেখে প্রকৃত শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের নাম বসানো হবে। আর যদি ঐক্যমতে পৌঁছানো না যায়, তাহলে নাম ছাড়াই ‘শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিস্তম্ভ’ হিসেবে সেটি থাকবে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র