Barta24

বৃহস্পতিবার, ২২ আগস্ট ২০১৯, ৭ ভাদ্র ১৪২৬

English

মাদক বিক্রেতার বাড়ি হবে গণশৌচাগার!

মাদক বিক্রেতার বাড়ি হবে গণশৌচাগার!
নাটোর শহরের ট্রাফিক মোড়ে টাঙানো সাইনবোর্ড, ছবি: বার্তা২৪
নাইমুর রহমান
ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
নাটোর


  • Font increase
  • Font Decrease

নাটোর শহরের ব্যস্ততম ট্রাফিক মোড়ে ছায়াবাণী হলের নিচে টাঙানো একটি সাইনবোর্ড দৃষ্টি কাড়ছে সবার। এ পথ দিয়ে যেইই যাচ্ছেন সেইই একবার হলেও তাকাচ্ছেন এই সাইনবোর্ডের দিকে। এতে লেখা- 'অপকর্ম রোধে অপকর্মের ব্যবহার, মাদক বিক্রেতার বাড়ি হবে গণশৌচাগার', প্রচারে- নাটোরবাসী।'

চার রাস্তার এই মোড় দিয়ে শহরে কেনাকাটার কেন্দ্রস্থল পিলখানা, কাপুড়িয়াপট্টি ও লালবাজারে যেতে হয়। শহরের গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে এমন সাইনবোর্ড জনমনে সচেতনতার সঞ্চার ঘটাচ্ছে। মাদকের প্রতি ঘৃণার উদ্রেগ তৈরি করছে।

নাটোরের পুলিশ সুপার সাইফুল্লাহ আল মামুন জানান, মাদক নির্মূলে সচেতনতার চেয়ে বড় অস্ত্র কিছু নেই। আর তাই সচেতনতায় সৃষ্টিতে জেলার সাত উপজেলায় ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে মাদকবিরোধী বার্তা। এছাড়া 'মাদক তাড়াও, নাটোর বাঁচাও' স্লোগানে ‘মাদক তাড়াই কমিটি’ গঠনের মাধ্যমে মাদকবিরোধী ক্যাম্পেইন চালানো হচ্ছে।

নাটোরের পুলিশ সুপার সাইফুল্লাহ আল মামুন
নাটোরের পুলিশ সুপার সাইফুল্লাহ আল মামুন

 

তিনি বলেন, মাদকবিরোধী অভিযানে এখন নাটোরের সাধারণ মানুষ সম্পৃক্ত হচ্ছে অভিনব প্রচারণায়। আমি চেয়েছিলাম মানুষ ঘৃণা করতে শিখুক এবং সেই ঘৃণা ছড়িয়ে দিক সর্বত্র। মাদক এখানে পুরোপুরি নির্মূল না হলেও দুষ্প্রাপ্য হয়েছে আগের চেয়ে। কোনো মাদক ব্যবসায়ী বা সেবনকারী যদি নিজের ভুল বুঝতে পারে, তবে পুলিশ তার জন্য সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবে।

স্থানীয় সমাজকর্মী আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, ঘৃণার উপর আর কোনো প্রতিবাদ নেই। নাটোরবাসী মাদকের প্রতি সেই ঘৃণা প্রদর্শন করতে শুরু করেছে। দায়িত্বশীলরা এগিয়ে এলে এবার মাদকের বিরুদ্ধে সত্যিকারের সামাজিক আন্দোলন হতে পারে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে মাদকের কুফল নিয়ে বরাবরই সোচ্চার থাকেন নাটোর পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর নুরুল ইসলাম নুরু। তিনি বলেন, প্রথমবার মাদকের বিরুদ্ধে নাটোরবাসীকে প্রকাশ্যে আওয়াজ তুলতে দেখলাম। এই বার্তা প্রতীকী হলেও ছড়িয়ে দিতে হবে নতুন প্রজন্মের স্বার্থে, যাতে তারা অন্তত মাদককে ঘৃণা করতে শেখে।

মাদক বিক্রেতার বাড়ি হবে গণশৌচাগার!

নাটোর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও কলামিস্ট রেজাউল করিম খান মাদকের প্রতি জনগণের ঘৃণা প্রদর্শনকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, মাদক উদ্ধার বা আসামি গ্রেপ্তার যে মাদক নির্মূলে যথেষ্ট নয়, তা পরিষ্কার। দরকার জনসচেতনতা, যা তৈরি করতে শুরু করেছে জেলা পুলিশ এবং ধারাবাহিকতা রক্ষায় কাজ শুরু করেছেন সাধারণ মানুষ।

উল্লেখ্য, গত চার মাসে জেলায় ৫৬০টি মাদক মামলা দায়ের করে পুলিশ। এসব মামলায় ৯১ লাখ ৬৯ হাজার ৪১০ টাকা মূল্যের ২২ হাজার পিস ইয়াবা, ৪৩২ বোতল ফেনসিডিল, ২৫৪ লিটার চোলাই মদ, ৩১ কেজি গাঁজা, ৩০৮.৫১ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করা হয়। মাদকবিরোধী অভিযান চলমান থাকা অবস্থায় ৮৮৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়।

আপনার মতামত লিখুন :

ওভারটেক করতে গিয়ে দুই বাসের সংঘর্ষ, নিহত ৩

ওভারটেক করতে গিয়ে দুই বাসের সংঘর্ষ, নিহত ৩
দুর্ঘটনা কবলিত বাস দুটি। ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম।

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার সালন্দর ইউনিয়নে দুটি বাসের সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ২০ জন।

বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টায় ওই ইউনিয়নের ঠাকুরগাঁও-পঞ্চগড় মহাসড়কের পুরাতন ডেনিস হাসপাতালের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- রাজু এন্টারপ্রাইজের ড্রাইভার বাবুল (৪২), গাড়ির যাত্রী পঞ্চগড় জেলার চকলাই হাট এলাকার কামরুজ্জামান বাবু (৪২) ও ঠাকুরগাঁও নারগুন এলাকার আবুল কালাম আজাদ (৩৫)।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/22/1566456458291.jpg

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, সকালের দিকে রাজু এন্টারপ্রাইজসহ আরও একটি বাস ঠাকুরগাঁও থেকে পঞ্চগড়ের উদ্দেশে ছেড়ে আসে। পথে ওই এলাকায় পৌঁছালে সোনার বাংলা পরিবহনের একটি বাসকে ওভারটেক করতে গিয়ে ওই দুই বাসের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যায় রাজু এন্টারপ্রাইজের ড্রাইভার ও একজন যাত্রী। এ ঘটনায় আহত হয়েছে আরও ২০ যাত্রী। তাদের উদ্ধার করে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে নেয়ার পথে আরেকজন মারা যায়। সংঘর্ষ হওয়া ওই দুই বাসের মধ্যে একটির নাম জানা যায়নি।

এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ঠাকুরগাঁও ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন মাস্টার মফিদার রহমান।

প্রত্যাবাসনের প্রস্তুতি নিয়ে শালবাগান ক্যাম্পে কর্মকর্তারা

প্রত্যাবাসনের প্রস্তুতি নিয়ে শালবাগান ক্যাম্পে কর্মকর্তারা
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে বাস, ট্রাক ও মাইক্রো | ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

প্রত্যাবাসনে সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে কক্সবাজারের টেকনাফের শালবাগান রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অবস্থান করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের শালবাগান ২৬ নম্বর রোহিঙ্গা শিবিরের সামনে প্রধান সড়কের পাশে ৫টি মাইক্রো, ৩টি বাস ও ২ ট্রাক প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়া লেদা ক্যাম্পের পাশে আরও দুটি বাস অপেক্ষা করছে।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ভেতরে সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, ইউএনএইচসিআর প্রতিনিধি, সেনাবাহিনী ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য উপস্থিতি রয়েছেন।

আরও পড়ুন: শালবাগান ক্যাম্পে ২১৪ রোহিঙ্গা পরিবারের সাক্ষাৎকার

এ প্রসঙ্গে টেকনাফের জাদিমোরা শালবাগান রোহিঙ্গা শিবিরের ইনচার্জ মোহাম্মদ খালিদ হোসেন বলেন, প্রত্যাসনের তালিকায় থাকা রোহিঙ্গাদের আজও সাক্ষাৎকারের কার্যক্রম চলছে। তবে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য ক্যাম্পে সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে। রোহিঙ্গারা স্বেচ্ছায় স্বদেশে ফিরে যেতে চাইলে গাড়িতে করে তাদের পাঠিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ আবুল কালাম বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে যেকোন সময়ে শুরু হতে পারে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া। এ জন্য কঠোর নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ইতিমধ্যে কক্সবাজারে অবস্থান করছেন মিয়ানমার ও চীনের দুই প্রতিনিধি। আমরা আশা করছি খুব শিগগিরই প্রত্যাবাসন কার্যক্রম শুরু করতে পারব।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র