Barta24

রোববার, ২৫ আগস্ট ২০১৯, ১০ ভাদ্র ১৪২৬

English

রমজানে মৌলভীবাজারে বাড়ছে ডাবের কদর

রমজানে মৌলভীবাজারে বাড়ছে ডাবের কদর
দোকানে ঝুলছে ডাব / ছবি: বার্তা২৪
ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
মৌলভী বাজার


  • Font increase
  • Font Decrease

ঘূর্ণিঝড় ফণী আঘাত হানার পরবর্তী সময় তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় রোজায় গরম একটু বেশিই জানান দিচ্ছে। এ গরমে অফিস ও কাজকর্ম সেরে অনেক রোজাদার ক্লান্ত হয়ে পড়ে। তৃষ্ণা মেটাতে ইফতারে নানা ধরনের শরবত ও কোমল পানীয় পান করে। আবার অনেকে ইফতারে ডাবের পানি পান করে।

এ রমজানে মৌলভীবাজারে প্রচণ্ড তাপদাহে বিভিন্ন শরবত ও কোমল পানীয়র পাশাপাশি চাহিদা বেড়েছে ডাবের। কারণ, অন্যান্য পানীয়র তুলনায় ডাবের পানি শতভাগ নিরাপদ। তাই দুপুর থেকে ইফতারের আগ পর্যন্ত সহজলভ্য এই পানীয় কিনে নিচ্ছে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ।

চিকিৎসকের মতে, ডাবের পানি খুবই নিরাপদ। শরীরের জন্য অনেক উপকারী। এ পানি পান করলে আমাশয় ও জন্ডিসসহ বিভিন্ন রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/09/1557386188219.jpg

সরেজমিন দেখা যায়, শহরের ফুটপাতে, বিভিন্ন পয়েন্টে ও জনবহুল স্থানে ডাব এবং শরবত ও কোমল পানীয়র পসরা সাজিয়ে বসে আছেন বিক্রেতারা। রমজানের আগে এসব দোকানে মানুষ সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ডাবসহ লেবুর শরবত ও আখের রস খাওয়ার জন্য ভীড় করতো। কেউ কেউ বোতলে করে ডাবের পানি নিয়ে বাড়ি যাচ্ছেন।

ডাব বিক্রেতা আনোয়ার বার্তা২৪.কমকে জানান, গরমে ডাবের চাহিদা বেড়েছে তবে ডাবের উৎপাদন কম হওয়ায় গত বছরের তুলনায় এবারের দাম একটু বেশি। বড় ও মাঝারি আকারের একটি ডাব বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৬০ টাকা। তবে নিম্ন মধ্যবিত্তের চাইতে বৃত্তবান ক্রেতাদের সংখ্যাই বেশি।’

ডাব ক্রেতা মো. প্রিন্স বার্তা২৪.কমকে জানান, দাম বেশি হলেও অনেকটা নিরাপদ জেনে ডাব কিনছেন। সারাদিন রোজা রাখার পর ইফতারের সময় ডাবের পানি পান করলে শরীরের অসস্তি দূর হবে আর শরীরের জন্যও উপকারী হবে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/09/1557386224044.jpg

সিলেটের বিভাগীয় সাবেক স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. হরিপদ রায় বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘অতিরিক্ত গরমে আমাদের শরীরে অনেক ঘাম বের হয়। তাতে পানি শূন্যতার অভাব দূর করতে পানীয় খাবার খুব জরুরি। বিশেষ করে সারাদিন যারা রোজা রাখে তাদের ক্লান্তি ও অবসাদ দূর করতে, পানিশূন্যতা প্রতিরোধ করতে ডাবের পানিসহ শরবত জাতীয় পানীয় খাবার খুব কার্যকর। ডাবের পানি শরীরের জন্য যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ।’

আপনার মতামত লিখুন :

ডেঙ্গু: প্রাইভেট ক্লিনিকে একই রোগীর ভিন্ন রিপোর্ট

ডেঙ্গু: প্রাইভেট ক্লিনিকে একই রোগীর ভিন্ন রিপোর্ট
বরগুনার দুটি প্রাইভেট ক্লিনিকে শিশু মারিয়ার ডেঙ্গু ভাইরাস পরীক্ষার ফলাফল/ ছবি: সংগৃহীত

বরগুনা শহরের ফায়ার সার্ভিস সড়কের মহিউদ্দিন জ্বরে আক্রান্ত আড়াই বছরের মেয়ে মারিয়াকে নিয়ে গত সোমবার বরগুনা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. সোহরাফ হোসেনের ব্যক্তিগত চেম্বারে যান। সেখানে চিকিৎস্যক ডেঙ্গু পরীক্ষা করাতে বলেন। পৌর শহরের রংধনু ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ডেঙ্গু পরীক্ষা করালে ডেঙ্গু ভাইরাস ধরা পড়েনি। তবে মনের সন্দেহ দূর করতে একই এলাকার শরীফ এক্সরে ও প্যাথলজিতে পরীক্ষা করালে ডেঙ্গু ধরা পড়ে। পরে এই নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে মারিয়াকে ঢাকায় নিয়ে যায় তার পরিবার।

শহরের থানাপাড়া এলাকার বাসিন্দা আব্দুর রাজ্জাক গত ৫ আগস্ট জ্বর নিয়ে রংধনু ডায়াগনস্টিকে পরীক্ষায় ডেঙ্গু ধরা পড়লে রক্তের প্লাটিলেট দেখায় দুই লাখ ৫৬ হাজার। পরে সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়ে পরীক্ষা করালে ডেঙ্গু ভাইরাস ধরা পড়েনি তার। সন্দেহের বশে শরীফ এক্সরে ও প্যাথলজিতে পরিক্ষা করালে ডেঙ্গু ভাইরাস ধরা পড়েনি।

পরে হলি কেয়ার ডায়াগনস্টিক ও উপকূল ডায়গনস্টিকের পরীক্ষায় ডেঙ্গু ধরা পড়ে আব্দুর রাজ্জাকের। এরপরে বরিশাল শেরে-ই-বাংলায় ভর্তি হয়ে ৯ আগস্ট মেডি এইড ডিজিটাল ডায়গনিস্টিকে পরীক্ষা করালে ডেঙ্গু নেগেটিভ আসলেও ঢাকার কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ডেঙ্গু ধরা পড়ে তার।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/25/1566694640978.jpg
বরগুনা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন ডেঙ্গু ভাইরাস টেস্টে পজিটিভ রোগীরা/ ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

 

সদর হাসপাতালে সরেজমিনে রোগীদের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে নার্সরা বলছেন, চিকিৎসকরা পাঠাচ্ছেন। আর চিকিৎসরাক দুষছেন নার্সদের।

ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের মেডিকেল পরীক্ষা হাসপাতালে বিনা খরচে করার নিয়ম থাকলেও বরগুনায় কৌশলে রোগীদের প্রাইভেট ক্লিনিকে পাঠানো হচ্ছে। ডাক্তারের নির্দেশানুযায়ী নার্সরা তাদের পছন্দের ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পাঠিয়ে দিচ্ছেন।

এছাড়া ডেঙ্গু পরীক্ষায় ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো একই রোগীর আলাদা আলাদা রিপোর্ট দিচ্ছে। এতে নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে রোগীদের। তাদের অভিযোগ, সরকারি হাসপাতালে কিট থাকা সত্ত্বেও পরীক্ষার জন্য চিকিৎসক ও নার্সরা রোগীদের পাঠাচ্ছেন ঐসব ডায়াগনস্টিক সেন্টারে।

একাধিক ভুক্তভোগী বলেন, বরগুনা সদর হাসপাতালে ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট থাকলেও কমিশনের জন্য ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ডেঙ্গু পরীক্ষার জন্য পাঠানো হচ্ছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/25/1566694758980.jpg

বরগুনা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. সোহরাফ হোসেন এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘হাসপাতালে ডেঙ্গু শনাক্ত করার কিট শেষ হয়ে গেছে। তাই ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পাঠানো হয়েছিল।’

বরগুনার সিভিল সার্জন ডা. হুমায়ূন হাসান শাহীন বলেন, ‘ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে নিম্নমানের কিট ব্যবহার করা হচ্ছে, তাই রিপোর্ট আলাদা আলাদা আসছে।’

এ বিষয়ে বরগুনার জেলা প্রশাসক মো. মোস্তাইন বিল্লাহ্ বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে বলেন, ‘বিষয়টি তদন্ত করে আইগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।’

কাঁঠালবাড়ি-শিমুলিয়া: রাতেও চলছে স্পিড বোট

কাঁঠালবাড়ি-শিমুলিয়া: রাতেও চলছে স্পিড বোট
রাতের অন্ধকারে কাঁঠালবাড়ি-শিমুলিয়া ঘাটে চলছে স্পিড বোট/ ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

দুর্ঘটনার শঙ্কা নিয়ে রাতের অন্ধকারেও কাঁঠালবাড়ি-শিমুলিয়া নৌরুটের পদ্মা নদীতে অবৈধভাবে চালানো হচ্ছে স্পিড বোট। ফলে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। এসব বোট চালকদের নেই কোনো প্রশিক্ষণ, নেই কোনো লাইসেন্স।

সংশ্লিষ্ট বিভাগের অনুমতি ছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ এ নৌযান চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ নৌরুটে প্রায়ই স্পিড বোটের সাথে স্পিড বোট ও স্পিড বোটের সাথে অন্যান্য নৌযানের মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে।

রাজধানী ঢাকার সাথে দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষ কাঠালবাড়ি-শিমুলিয়া ঘাট দিয়ে যাতায়াত করে। নদী পার হওয়ার জন্য ফেরি ও লঞ্চের পাশাপাশি দেড় শতাধিক স্পিড বোট চলাচল করে। পাঁচ কিলোমিটারের পথ দ্রুত পার হওয়ার জন্য যাত্রীরা স্পিড বোট ব্যবহার করেন।

প্রতিদিন ভোর ৬টা হতে রাত ৯/১০টা পর্যন্ত পদ্মা নদীতে বোটগুলো চলাচল করে। দিনে যাত্রীদের কাছ থেকে ১৩০ টাকার ভাড়া নেওয়া হয় ১৫০ টাকা। রাতে ২০০ টাকা ৩০০ টাকা ভাড়া আদায় করা হয় বলে জানা গেছে।

শনিবার (২৪ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে কাঁঠালবাড়ি ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, স্পিড বোটে যাত্রী পার করা হচ্ছে। প্রতিটি বোট সিরিয়াল করে রাখা হয়েছে। একটির পর একটি ছাড়া হচ্ছে। প্রতিজন যাত্রীর কাছ থেকে ভাড়া বাবদ দুইশত টাকা আদায় করা হচ্ছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/25/1566690803164.jpg

শিমুলিয়া ঘাট থেকে স্পিড বোটে আসা যাত্রী রাহাত খান বলেন, ‘দ্রুত খুলনা যেতে হবে, তাই ঝুঁকি নিয়ে স্পিড বোটে এলাম। ভাড়া দুইশত টাকা রাখছে।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক বোট চালক জানান, স্পিড বোট চলাচলের জন্য প্রশাসনের কোনো অনুমতি নেই। যারা বোটগুলো চালায় তাদের এ বিষয়ে কোনো প্রশিক্ষণও নেই। রাতে নদীতে ঝুঁকিপূর্ণভাবে স্পিড বোট চলাচলের কারণে অনেক দুর্ঘটনাও ঘটে।

বিআইডব্লিউটিএ'র কাঁঠালবাড়ি ঘাট সূত্রে জানা যায়, নদীতে ইঞ্জিনচালিত যেকোনো নৌযান চালাতে হলে সমুদ্র পরিবহন অধিদফতর থেকে রেজিস্ট্রেশন ও চালকদের লাইসেন্স নিতে হয়। বিআইডব্লিউটিএ শুধু নৌপথ ব্যবহারের অনুমতি দেয়। কিন্তু এ নৌপথে স্পিড বোট চলচলাচলের কোনো অনুমতি নেই।

এ বিষয়ে শিবচর থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘আমি এখানে নতুন এসেছি। পদ্মায় অবৈধভাবে স্পিড বোট চলাচল করছে ব্যাপারটা আমি জানতাম না। খুব শীঘ্রই এটি বন্ধ করব।’

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র