Barta24

রোববার, ২৫ আগস্ট ২০১৯, ১০ ভাদ্র ১৪২৬

English

রাজশাহী-রংপুরের ওপর দিয়ে বয়ে যেতে পারে ‘ফণী’

রাজশাহী-রংপুরের ওপর দিয়ে বয়ে যেতে পারে ‘ফণী’
ফোনি’র গতিপথ/ ছবি: সংগৃহীত
হাসান আদিব
স্টাফ করেসপন্ডেট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

রাজশাহী: সুপার সাইক্লোন ফণী’র বর্তমান গতিপথ অপরিবর্তিত থাকলে সেটি বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের ওপর দিয়ে বয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

শনিবার (৪ মে) ভারতের পশ্চিমবঙ্গ হয়ে রাজশাহী বিভাগ দিয়েএই ঘূর্ণিঝড়টি বাংলাদেশে প্রবেশ করবে এবং রংপুর বিভাগ হয়ে পরদিন সকাল নাগাদ ভারতের আসামে প্রশমিত হবে।

ঘূর্ণিঝড় পূর্বাভাস সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক ওয়েবসাইট ‘উইন্ডি ডটকম’ (windy.com) থেকে পাওয়া স্যাটেলাইট চিত্রের বিশ্লেষণ থেকে এমন তথ্যই মিলছে। উইন্ডি’র তথ্য অনুযায়ী, শনিবার (৪ মে) বিকেল ৫টা নাগাদ ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্র রাজশাহী দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারে। রাত ৮টা নাগাদ ফোনি’র বগুড়ায় থাকার শঙ্কা রয়েছে। রাত ১১টায় রংপুর ও রাত ৩টায় নীলফামারী হয়ে এটি বাংলাদেশ অতিক্রম করে যাবে ভারতের আসামের দিকে।

এ ধরনের সুপার সাইক্লোনের কেন্দ্রে থাকার অভিজ্ঞতা দেশের উত্তরাঞ্চলের এই জেলাগুলোর এর আগে খুব বেশি একটা হয়নি। ফলে এনিয়ে সরকার উচ্চপর্যায় থেকে রাজশাহী ও রংপুরের বেশ কয়েকটি জেলার প্রশাসককে সতর্ক করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে এরই মধ্যে কাজও করছে কয়েকটি জেলার প্রশাসন।

নীলফামারীর জেলা প্রশাসক নাজিয়া শিরিন তার ফেসবুক পেজে সবাইকে সতর্ক করে জানিয়েছেন, ‘ফণী রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলার ওপর দিয়ে অতিক্রম করবে। সকলকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও সতর্কতা অবলম্বন করার জন্য জোর আহ্বান করছি।’

একই বার্তা দিয়ে সতর্ক করেছেন রাজশাহী, পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসকও।

রাজশাহী জেলা প্রশাসক এসএম আব্দুল কাদের বুধবার (০১) রাতে বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ আমাদের বলেছে যে ঘূর্ণিঝড় ফণী’র গতিপথ বারবার পরিবর্তন হচ্ছে। ফলে বাংলাদেশের খুলনা, সাতক্ষীরা, যশোর হয়ে রাজশাহীর ওপর দিয়ে দিনাজপুর পর্যন্ত প্রবাহিত হতে পারে। এজন্য সম্ভাব্য ঝড়ের ক্ষয়ক্ষতি রোধে মানুষক সতর্ক করা ও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আমরা সেটি করছি।’

রাজশাহী আবহাওয়া অধিদফতরের উচ্চ পর্যবেক্ষক শহিদুল ইসলাম বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘ঢাকা থেকে আমাদের বিষয়টি জানানো হয়েছে। আমরাও ফোনি’র গতিপথের দিকে নজর রাখছি। তবে ১ থেকে ২৫ নম্বর বুলেটিন পর্যন্ত ঘূর্ণিঝড়টির গতিবিধি পরিবর্তিত হওয়ার রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশের ঠিক কোন পথে ‘ফণী’ যাবে, এটা নিশ্চিত করতে আরও একদিন অপেক্ষা করতে হবে।

আবহাওয়া অধিদফতরের সহকারী আবহাওয়াবিদ আব্দুর রহমান বুধবার (০১ মে) রাতে জানান, ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৭৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১৬০ কিলোমিটার। যা দমকা অথবা ঝড়ো হওয়া আকারে ১৮০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। স্থলভাগে প্রবেশের পর এর তীব্রতা বাড়তেও পারে।

অন্যদিকে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমান গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ফণী’র এখনকার গতিবেগ এবং পথ যদি ঠিক থাকে, তবে ভারতের উড়িষ্যা, পশ্চিমবঙ্গ হয়ে শনিবার সকালে আমাদের দেশের খুলনা, সাতক্ষীরা ও মোংলায় আঘাত করবে। এটি যশোর হয়ে রাজশাহী ও দিনাজপুর পর্যন্ত প্রবাহিত হতে পারে।

 

আপনার মতামত লিখুন :

ডেঙ্গু: প্রাইভেট ক্লিনিকে একই রোগীর ভিন্ন রিপোর্ট

ডেঙ্গু: প্রাইভেট ক্লিনিকে একই রোগীর ভিন্ন রিপোর্ট
বরগুনার দুটি প্রাইভেট ক্লিনিকে শিশু মারিয়ার ডেঙ্গু ভাইরাস পরীক্ষার ফলাফল/ ছবি: সংগৃহীত

বরগুনা শহরের ফায়ার সার্ভিস সড়কের মহিউদ্দিন জ্বরে আক্রান্ত আড়াই বছরের মেয়ে মারিয়াকে নিয়ে গত সোমবার বরগুনা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. সোহরাফ হোসেনের ব্যক্তিগত চেম্বারে যান। সেখানে চিকিৎস্যক ডেঙ্গু পরীক্ষা করাতে বলেন। পৌর শহরের রংধনু ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ডেঙ্গু পরীক্ষা করালে ডেঙ্গু ভাইরাস ধরা পড়েনি। তবে মনের সন্দেহ দূর করতে একই এলাকার শরীফ এক্সরে ও প্যাথলজিতে পরীক্ষা করালে ডেঙ্গু ধরা পড়ে। পরে এই নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে মারিয়াকে ঢাকায় নিয়ে যায় তার পরিবার।

শহরের থানাপাড়া এলাকার বাসিন্দা আব্দুর রাজ্জাক গত ৫ আগস্ট জ্বর নিয়ে রংধনু ডায়াগনস্টিকে পরীক্ষায় ডেঙ্গু ধরা পড়লে রক্তের প্লাটিলেট দেখায় দুই লাখ ৫৬ হাজার। পরে সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়ে পরীক্ষা করালে ডেঙ্গু ভাইরাস ধরা পড়েনি তার। সন্দেহের বশে শরীফ এক্সরে ও প্যাথলজিতে পরিক্ষা করালে ডেঙ্গু ভাইরাস ধরা পড়েনি।

পরে হলি কেয়ার ডায়াগনস্টিক ও উপকূল ডায়গনস্টিকের পরীক্ষায় ডেঙ্গু ধরা পড়ে আব্দুর রাজ্জাকের। এরপরে বরিশাল শেরে-ই-বাংলায় ভর্তি হয়ে ৯ আগস্ট মেডি এইড ডিজিটাল ডায়গনিস্টিকে পরীক্ষা করালে ডেঙ্গু নেগেটিভ আসলেও ঢাকার কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ডেঙ্গু ধরা পড়ে তার।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/25/1566694640978.jpg
বরগুনা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন ডেঙ্গু ভাইরাস টেস্টে পজিটিভ রোগীরা/ ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

 

সদর হাসপাতালে সরেজমিনে রোগীদের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে নার্সরা বলছেন, চিকিৎসকরা পাঠাচ্ছেন। আর চিকিৎসরাক দুষছেন নার্সদের।

ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের মেডিকেল পরীক্ষা হাসপাতালে বিনা খরচে করার নিয়ম থাকলেও বরগুনায় কৌশলে রোগীদের প্রাইভেট ক্লিনিকে পাঠানো হচ্ছে। ডাক্তারের নির্দেশানুযায়ী নার্সরা তাদের পছন্দের ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পাঠিয়ে দিচ্ছেন।

এছাড়া ডেঙ্গু পরীক্ষায় ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো একই রোগীর আলাদা আলাদা রিপোর্ট দিচ্ছে। এতে নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে রোগীদের। তাদের অভিযোগ, সরকারি হাসপাতালে কিট থাকা সত্ত্বেও পরীক্ষার জন্য চিকিৎসক ও নার্সরা রোগীদের পাঠাচ্ছেন ঐসব ডায়াগনস্টিক সেন্টারে।

একাধিক ভুক্তভোগী বলেন, বরগুনা সদর হাসপাতালে ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট থাকলেও কমিশনের জন্য ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ডেঙ্গু পরীক্ষার জন্য পাঠানো হচ্ছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/25/1566694758980.jpg

বরগুনা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. সোহরাফ হোসেন এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘হাসপাতালে ডেঙ্গু শনাক্ত করার কিট শেষ হয়ে গেছে। তাই ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পাঠানো হয়েছিল।’

বরগুনার সিভিল সার্জন ডা. হুমায়ূন হাসান শাহীন বলেন, ‘ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে নিম্নমানের কিট ব্যবহার করা হচ্ছে, তাই রিপোর্ট আলাদা আলাদা আসছে।’

এ বিষয়ে বরগুনার জেলা প্রশাসক মো. মোস্তাইন বিল্লাহ্ বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে বলেন, ‘বিষয়টি তদন্ত করে আইগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।’

কাঁঠালবাড়ি-শিমুলিয়া: রাতেও চলছে স্পিড বোট

কাঁঠালবাড়ি-শিমুলিয়া: রাতেও চলছে স্পিড বোট
রাতের অন্ধকারে কাঁঠালবাড়ি-শিমুলিয়া ঘাটে চলছে স্পিড বোট/ ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

দুর্ঘটনার শঙ্কা নিয়ে রাতের অন্ধকারেও কাঁঠালবাড়ি-শিমুলিয়া নৌরুটের পদ্মা নদীতে অবৈধভাবে চালানো হচ্ছে স্পিড বোট। ফলে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। এসব বোট চালকদের নেই কোনো প্রশিক্ষণ, নেই কোনো লাইসেন্স।

সংশ্লিষ্ট বিভাগের অনুমতি ছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ এ নৌযান চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ নৌরুটে প্রায়ই স্পিড বোটের সাথে স্পিড বোট ও স্পিড বোটের সাথে অন্যান্য নৌযানের মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে।

রাজধানী ঢাকার সাথে দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষ কাঠালবাড়ি-শিমুলিয়া ঘাট দিয়ে যাতায়াত করে। নদী পার হওয়ার জন্য ফেরি ও লঞ্চের পাশাপাশি দেড় শতাধিক স্পিড বোট চলাচল করে। পাঁচ কিলোমিটারের পথ দ্রুত পার হওয়ার জন্য যাত্রীরা স্পিড বোট ব্যবহার করেন।

প্রতিদিন ভোর ৬টা হতে রাত ৯/১০টা পর্যন্ত পদ্মা নদীতে বোটগুলো চলাচল করে। দিনে যাত্রীদের কাছ থেকে ১৩০ টাকার ভাড়া নেওয়া হয় ১৫০ টাকা। রাতে ২০০ টাকা ৩০০ টাকা ভাড়া আদায় করা হয় বলে জানা গেছে।

শনিবার (২৪ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে কাঁঠালবাড়ি ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, স্পিড বোটে যাত্রী পার করা হচ্ছে। প্রতিটি বোট সিরিয়াল করে রাখা হয়েছে। একটির পর একটি ছাড়া হচ্ছে। প্রতিজন যাত্রীর কাছ থেকে ভাড়া বাবদ দুইশত টাকা আদায় করা হচ্ছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/25/1566690803164.jpg

শিমুলিয়া ঘাট থেকে স্পিড বোটে আসা যাত্রী রাহাত খান বলেন, ‘দ্রুত খুলনা যেতে হবে, তাই ঝুঁকি নিয়ে স্পিড বোটে এলাম। ভাড়া দুইশত টাকা রাখছে।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক বোট চালক জানান, স্পিড বোট চলাচলের জন্য প্রশাসনের কোনো অনুমতি নেই। যারা বোটগুলো চালায় তাদের এ বিষয়ে কোনো প্রশিক্ষণও নেই। রাতে নদীতে ঝুঁকিপূর্ণভাবে স্পিড বোট চলাচলের কারণে অনেক দুর্ঘটনাও ঘটে।

বিআইডব্লিউটিএ'র কাঁঠালবাড়ি ঘাট সূত্রে জানা যায়, নদীতে ইঞ্জিনচালিত যেকোনো নৌযান চালাতে হলে সমুদ্র পরিবহন অধিদফতর থেকে রেজিস্ট্রেশন ও চালকদের লাইসেন্স নিতে হয়। বিআইডব্লিউটিএ শুধু নৌপথ ব্যবহারের অনুমতি দেয়। কিন্তু এ নৌপথে স্পিড বোট চলচলাচলের কোনো অনুমতি নেই।

এ বিষয়ে শিবচর থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘আমি এখানে নতুন এসেছি। পদ্মায় অবৈধভাবে স্পিড বোট চলাচল করছে ব্যাপারটা আমি জানতাম না। খুব শীঘ্রই এটি বন্ধ করব।’

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র