Barta24

বৃহস্পতিবার, ২২ আগস্ট ২০১৯, ৭ ভাদ্র ১৪২৬

English

সিরাজগঞ্জে একই দিনে ছয় বাল্যবিয়ে বন্ধ

সিরাজগঞ্জে একই দিনে ছয় বাল্যবিয়ে বন্ধ
সিরাজগঞ্জে একই দিনে ছয়টি বাল্যবিয়ে বন্ধ করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত, ছবি: বার্তা২৪.কম
ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট সিরাজগঞ্জ বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

সিরাজগঞ্জে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে একই দিনে ছয়টি বাল্যবিয়ে বন্ধ করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এসময় বাল্যবিয়ের আয়োজন করার দায়ে ছয় জনকে অর্থদণ্ড ও প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত ছেলে বা মেয়ের বিয়ে দেবে না মর্মে বাবা-মায়ের কাছে মুচলেকা নেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার বিকেলে থেকে গভীর রাত পর্যন্ত সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আনিসুর রহমানের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে এ বিয়ে বন্ধ করা হয়। এ অভিযানে সয়দাবাদ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নবীদুল ইসলাম, কালিয়া হরিপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সবুর শেখ, পৌর ভূমি সহকারী কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম, পৌরসভার প্যানেল মেয়র গোলাম মোস্তফা ও আনসার ব্যাটালিয়নের পিসি নুরুল ইসলামসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

শনিবার (১৭ এপ্রিল) নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আনিসুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, শুক্রবার সন্ধ্যায় কালিয়া হরিপুর ইউনিয়নের কাশিয়াহাটা গ্রামের আব্দুল আলীমের মেয়ে তেতুলিয়া চুনিয়াহাটা উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী খাদিজা খাতুনের (১৫) সঙ্গে কাদাই গ্রামের মৃত হাবিবুর রহমানের ছেলে রাসেলের (২১) বিয়ের আয়োজন চলছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালিয়ে বাল্যবিয়ে বন্ধ করা হয়।

রাত সাড়ে ৯টার দিকে একই ইউনিয়নের কান্দাপাড়া গ্রামের মানিক শেখের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তার মেয়ে কান্দাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী মিষ্টি খাতুন (১১) ও ছাইফুল ইসলামের ছেলে সিরাজ উদ্দিনের (২২) বাল্যবিয়ে বন্ধ করা হয়।

শহরের চক কোবদাসপাড়া মহল্লার তাইজুল ইসলামের মেয়ে হৈমাবালা উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী তানিয়া খাতুনের (১৩) সঙ্গে হরিনা গোপাল আদর্শ গ্রামের আব্দুর রহমানের ছেলে লাদেনের (২৪) বিয়ের আয়োজন চলাকালে সেখানে অভিযান চালানো হয়।

এসময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে কাজী পালিয়ে যায়। এরপর ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে বিয়ে বন্ধ করা হয়। এসময় বর লাদেন শেখ ও কনের মা রুমা খাতুনের প্রত্যেককে পাঁচ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া রাত সাড়ে ১০টার দিকে শহরের মালশাপাড়ায় মহল্লার আব্দুল হান্নানের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তার মেয়ে এসবি রেলওয়ে কলোনি উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী বৃষ্টি খাতুন (১৩) ও রানীগ্রামের আব্দুস সালামের ছেলে শামীম আহমেদের (২৭) বাল্যবিয়ে বন্ধ করা হয়। এসময় ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে বর ও কনের বাবা প্রত্যেককে পাঁচ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়।

রাত ৮টার দিকে কাওয়াখোলা ইউনিয়নের বেড়াবাড়ী গ্রামে অভিযান চালিয়ে শুকুর আলীর মেয়ে ও গোরী আরবান উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী শিউলি খাতুন (১২) এবং ঘুড়কা এলাকার উজ্জ্বল হোসেন ছেলে ছেলে মুরলীর (১৫) বিয়ে বন্ধ করা হয়। এসময় বর ও কনের বাবা প্রত্যেককে পাঁচ হাজার করে জরিমানা করা হয়।

রাত সাড়ে ১১টার দিকে সয়দাবাদ ইউনিয়নের হাট সারুটিয়া গ্রামের ইদ্রিস প্রামাণিকের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। এসময় রত্না খাতুন (১৩) ও রতনকান্দি ইউনিয়নের দত্তবাড়ী গ্রামের আব্দুল খালেকের ছেলে চান মিয়ার (২৭) বাল্যবিয়ে বন্ধ করা হয়।

 

আপনার মতামত লিখুন :

গুড়ায় গভীর রাতে বাল্য বিয়ে বন্ধ করলেন ইউএনও-ওসি

গুড়ায় গভীর রাতে বাল্য বিয়ে বন্ধ করলেন ইউএনও-ওসি
ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

গভীর রাতে বিয়ে বাড়িতে হাজির হয়ে বাল্য বিয়ে বন্ধ করলেন বগুড়ার শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)।

বুধবার (২১ আগস্ট) রাত সাড়ে ১১টায় এই দুই কর্মকর্তা হাজির হন মির্জাপুর ইউনিয়নের মাড়র খোলা গ্রামের আকিমুদ্দিনের বাড়িতে। কেননা সেখানে গভীর রাতে আয়োজন করা হয়েছিল নবম শ্রেনীর ছাত্রী আদরী খাতুনের (১৩)। বর পার্শ্ববর্তী ভাদরা গ্রামের মহসিনের ছেলে ইকবাল হোসেন (১৬)।

বিয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন কাজী সাহেব এমন সময় সেখানে হাজির হন ইউএনও লিয়াকত আলী শেখ ও শেরপুর থানার ওসি হুমায়ুন কবীর।

তাদেরকে দেখে বাল্য বিয়ের প্রস্তুতি ভন্ডুল হয়ে যায় মুহুর্তের মধ্যে। এসময় মেয়ের বাবা আকিমুদ্দিন তার মেয়েকে প্রাপ্ত বয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত বিয়ে দিবে না মর্মে অঙ্গীকার নামা দেন।

এছাড়া বরকে ১০ দিনের কারাদণ্ড এবং মেয়েকে আটকের পর বয়স বিবেচনা করে তার বাবার জিম্মায় ছেড়ে দেয়া হয়। ছেলের বাবা ও কাজী সাহেবের অর্থ দণ্ড করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ইউএনও লিয়াকত আলী শেখ।

শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বেড়াতে এসে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

বেড়াতে এসে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু
ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে নিকটাত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে এসে পুকুরের পানিতে ডুবে ইশরাত (৪) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার (২১ আগস্ট) রাত ৯টার দিকে উপজেলার আকরতমা গ্রামের একটি মসজিদের পুকুর থেকে ডুবরিরা তার মরদেহ উদ্ধার করে।

ইশরাত উপজেলার পানিয়ালা গ্রামের জলার বাড়ির ইমরান হোসেনের মেয়ে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, বুধবার দুপুরে ইশরাতের বাবা-মা স্বপরিবারে আকরতমা গ্রামে ভুলুয়া বাড়ির নিকটাত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে আসে। বিকেলে সবার অগোচরে শিশুটি ঘর থেকে বের হয়ে যায়। পরে আত্মীয়-স্বজনরা বাড়ির পুুকুর ও আশপাশের এলাকায় খুঁজেও তাকে পায়নি। কোথাও না পেয়ে থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করতে যায় পরিবারের লোকজন। খবর পেয়ে এর আগেই রামগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও চাঁদপুরের ডুবরির দল প্রায় এক ঘণ্টা চেষ্টা করে পুকুর থেকে ইশরাতের ডুবন্ত মরদেহ উদ্ধার করে।

রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বলেন, শিশুটির পরিবারের সদস্যরা থানায় জিডি করার জন্য এসেছিল। জিডি নথিভূক্ত করার আগেই ডুবরিরা পুকুর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করেছে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র