Barta24

রোববার, ২৫ আগস্ট ২০১৯, ১০ ভাদ্র ১৪২৬

English

কৃষকের স্বপ্ন চিটায় পরিণত

কৃষকের স্বপ্ন চিটায় পরিণত
নেক ব্লাস্ট রোগে আক্রান্ত ধান ক্ষেত। ছবি: বার্তা২৪.কম
গনেশ দাস
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বগুড়া
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

বগুড়ায় মাঠের পর মাঠ সোনালি ধানের শীষ বাতাসে দোল খাচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় কৃষক এবার বাম্পার ফলনের আশা করেছিল। স্বপ্ন দেখেছিল ধান বিক্রির টাকায় রমজান মাস এবং ঈদের খরচ চালাবে। কিন্তু কৃষকের সেই স্বপ্ন চিটায় পরিণত হয়েছে।

শত শত বিঘা জমির ধান চিটায় পরিণত হওয়ায় কৃষকের সব স্বপ্ন মাটিতে মিশে গেছে। তবে অন্য জাতের ধান নয়, শুধু মাত্র বিআর-২৮ জাতের ধান যারা চাষ করেছে তাদেরই এই সর্বনাশ হয়েছে।

কৃষি বিভাগ বলছে, নেক ব্লাস্ট নামের ছত্রাকের কারণে ধান গাছ এই রোগে আক্রান্ত হয়েছে।

আর কৃষক বলছে, শত শত কৃষকের সর্বনাশ হলেও কৃষি বিভাগ তাদেরকে কোনো ধরনের সহযোগিতা করেননি। মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তাদের বোরো মৌসুমে দেখাই পাওয়া যায়নি।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, পূর্ব বগুড়ার গাবতলী, সোনাতলা ও বগুড়া সদর উপজেলার কিছু অংশে কৃষকের সর্বনাশ সবচেয়ে বেশি হয়েছে। বিআর-২৮ ধানের চাল ভালো হওয়ায় এবং চারা রোপণের ১০০ দিনের মধ্যে ধান পেকে যাওয়ায় এই অঞ্চলের কৃষক বিআর-২৮ ধানের চাষ বেশি করে থাকে। আর এ কারণেই এই অঞ্চলে ক্ষতির পরিমাণটাও বেশি।

গাবতলী উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নের নতুর পাড়া গ্রামের প্রবাল রায়, নারায়ণ চন্দ্র রায় বার্তা২৪.কমকে জানান, তাদের গ্রামে মাঠের পর মাঠ ধান গাছ চিটায় পরিণত হয়েছে।

সোনাতলা উপজেলার নওদাবগা গ্রামের প্রবাসী সোনা মিয়ার স্ত্রী রাজিয়া বেগম স্বামীর অনুপস্থিতিতে নিজেই পাঁচ বিঘা জমিতে বিআর-২৮ ধান চাষ করেছেন। পুরো জমির ধান চিটায় পরিণত হওয়ায় আগাম ধান কেটে ঘরে তুলছেন।

সোনাতলা উপজেলার উত্তর করমজা গ্রামের সেকেন্দার আলী জানান, তিনি নিজের ৪ বিঘাসহ বর্গা নিয়ে আরও ২২ বিঘা জমিতে ধান চাষ করেছেন।

তিনি জানান, তার যে সর্বনাশ হয়েছে, তাতে বিঘা প্রতি দুই মণ ধানও পাওয়া যাবে না। গো-খাদ্য হিসেবে খড় বিক্রি করার জন্য ধান কাটা-মাড়াই শুরু করেছেন।

মঙ্গলবার (২৩ এপ্রিল) সোনাতলা উপজেলার পদ্মপাড়া, মিলনের পাড়া, উত্তর করমজা, দড়িহাঁসরাজ, হুয়াকুয়া, মোনার পটল, সাতবেকী, হরিখালী, নামাজ খালী, গজারিয়া, শালিখা গ্রাম ঘুরে একই চিত্র দেখা গেছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কৃষি কর্মকর্তা বার্তা২৪.কমকে জানান, কৃষি বিভাগের অবহেলার কারণেই কৃষকদের এই সর্বনাশ হয়েছে।

তবে সোনাতলা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাসুদ আহম্মেদ বার্তা২৪.কমকে জানান, গত ২-৩ বছর ধরে বিআর-২৮ ধানে নেক ব্লাস্ট দেখা দেয়ায় এবার কৃষকদেরকে এই ধান চাষে নিরুৎসাহিত করা হয়েছিল। এছাড়াও ব্লাস্ট রোগ দেখা দেয়ায় কৃষকদের করণীয় সম্পর্কে মাঠ পর্যায়ে লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে।

তিনি জানান, সোনাতলা উপজেলায় তিন হেক্টর জমিতে নেক ব্লাস্ট দেখা দিয়েছে।

তবে কৃষকদের মতে, আরও অনেক বেশি জমির ধান ব্লাস্ট রোগে আক্রান্ত হয়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসের একটি সূত্র জানিয়েছে, জেলার ১৭ হেক্টর জমিতে ব্লাস্ট রোগ দেখা দিয়েছে মর্মে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন :

ঝিনাইদহে পাটের দরপতনে লোকসানে চাষি

ঝিনাইদহে পাটের দরপতনে লোকসানে চাষি
পাট শুকাতে দিচ্ছেন এক গৃহিণী

চলতি মৌসুমে এবার ঝিনাইদহের ৬ উপজেলায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। ফলন ভালো হলেও পাটের দরপতনে লোকসানে চাষিরা। জেলার বিভিন্ন বাজারগুলোতে গিয়ে দেখা যায়, এক হাজার ৪০০ থেকে এক হাজার ৬০০ টাকা মণ দরে পাট বিক্রি হচ্ছে।২ সপ্তাহের ব্যবধানে এমন দরপতন বলে জানিয়েছে ব্যবসায়ীরা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের দেওয়া তথ্য মতে, এ বছর জেলার ৬ উপজেলায় ২০ হাজার ৪২৫ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। যা গত বছরের চেয়ে প্রায় ২ হাজার হেক্টর বেশি। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ৪ হাজার ৯০০, কালীগঞ্জে ১ হাজার ৩৪০, কোটচাঁদপুরে ৬৫০, মহেশপুরে ৩ হাজার ১৫০, শৈলকুপায় ৭ হাজার ১৩৫ ও হরিণাকুন্ডুতে ৩ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ করা হয়েছে।

ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার মির্জাপুর গ্রামের কৃষক রুহুল আমিন বলেন, নতুন পাট উঠার পর প্রতি মণ এক হাজার ৮০০ টাকা থেকে সাড়ে ২ হাজার টাকা দরে বিক্রি হয়েছিল। এখন দাম প্রতি মণে প্রায় ৪০০ থেকে সাড়ে ৪০০  টাকা কমে গেছে। বর্তমানে পাট মণ প্রতি বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ৪০০ টাকা থেকে এক হাজার ৬০০ টাকা দরে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/25/1566713731620.jpg

সদর উপজেলার গোপালপুর গ্রামের কৃষক মফিদুল ইসলাম বলেন, গত ২ সপ্তাহের ব্যবধানে পাটের দাম কমে গেছে। শুরুতে পাটের দাম ভালো ছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই দাম কমে যাওয়ায় লোকসানের সম্মুখীন হতে হচ্ছে।

একই উপজেলার নারিকেলবাড়িয়া গ্রামের কৃষক লিল্টন বলেন, এ বছর তিনি ৪ বিঘা জমিতে পাটের আবাদ করেছিলেন। বৃষ্টিপাত কম হওয়া আর নদী বা জলাশয়ে পানি না থাকার কারণে জমি থেকে দূরবর্তী স্থানে গিয়ে পাট জাগ দিতে হয়েছে। এতে খরচ বেড়ে গেছে। কিন্তু এখন পাটের যা দাম তাতে লোকসান গুনতে হচ্ছে।

এ ব্যাপারে ঝিনাইদহ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক কৃষিবিদ জি এম আব্দুর রউফ বলেন, যাদের পাট আগে উঠেছিল তারা দাম ভালো হয়েছে। পাটের আমদানি বাড়ার পর দাম কমে গেছে। কৃষি বিভাগ শুধু উৎপাদন নিয়ে কাজ করে। বাজারতাজ করণের তাদের কিছু করণীয় নেই। এ ব্যাপারে কৃষকদের কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহার করে উৎপাদন খরচ কম করানোর পরামর্শ দেন।

৫ দফা দাবিতে রোহিঙ্গাদের সমাবেশ

৫ দফা দাবিতে রোহিঙ্গাদের সমাবেশ
৫ দফা দাবিতে রোহিঙ্গাদের সমাবেশ, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

সঙ্কটের দুই বছর পূর্তি ও পাঁচ দফা দাবিতে সমাবেশ করেছেন রোহিঙ্গারা। নিজেদের অধিকার আদায়ে ঐক্যবদ্ধ থাকার ঘোষণাও দিয়েছেন রোহিঙ্গা নেতারা।

উখিয়া উপজেলার কুতুপালংয়ের ক্যাম্প এক্স-৪ এ রোববার (২৫ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টায় এ সমাবেশ শুরু হয়।

আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটির চেয়ারম্যান মাস্টার মুহিব উল্লাহ, আব্দুর রহিম, মোহাম্মদ ইলিয়াছসহ অন্যান্য নেতারা সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন।

বিভিন্ন ক্যাম্প থেকে আসা রোহিঙ্গাদের পদচারণায় কানা কানায় পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে সমাবেশস্থল।

উল্লেখ্য, ২৫ আগস্ট রোহিঙ্গা সঙ্কটের দুই বছর পূর্তি। ২০১৭ সালের এ দিনে ভয়াবহ হত্যাযজ্ঞের ঘটনা ঘটে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে। এরপর পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেন রোহিঙ্গারা। বর্তমানে বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গার সংখ্যা ১১ লক্ষাধিক।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র