Alexa

কৃষকের স্বপ্ন চিটায় পরিণত

কৃষকের স্বপ্ন চিটায় পরিণত

নেক ব্লাস্ট রোগে আক্রান্ত ধান ক্ষেত। ছবি: বার্তা২৪.কম

বগুড়ায় মাঠের পর মাঠ সোনালি ধানের শীষ বাতাসে দোল খাচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় কৃষক এবার বাম্পার ফলনের আশা করেছিল। স্বপ্ন দেখেছিল ধান বিক্রির টাকায় রমজান মাস এবং ঈদের খরচ চালাবে। কিন্তু কৃষকের সেই স্বপ্ন চিটায় পরিণত হয়েছে।

শত শত বিঘা জমির ধান চিটায় পরিণত হওয়ায় কৃষকের সব স্বপ্ন মাটিতে মিশে গেছে। তবে অন্য জাতের ধান নয়, শুধু মাত্র বিআর-২৮ জাতের ধান যারা চাষ করেছে তাদেরই এই সর্বনাশ হয়েছে।

কৃষি বিভাগ বলছে, নেক ব্লাস্ট নামের ছত্রাকের কারণে ধান গাছ এই রোগে আক্রান্ত হয়েছে।

আর কৃষক বলছে, শত শত কৃষকের সর্বনাশ হলেও কৃষি বিভাগ তাদেরকে কোনো ধরনের সহযোগিতা করেননি। মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তাদের বোরো মৌসুমে দেখাই পাওয়া যায়নি।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, পূর্ব বগুড়ার গাবতলী, সোনাতলা ও বগুড়া সদর উপজেলার কিছু অংশে কৃষকের সর্বনাশ সবচেয়ে বেশি হয়েছে। বিআর-২৮ ধানের চাল ভালো হওয়ায় এবং চারা রোপণের ১০০ দিনের মধ্যে ধান পেকে যাওয়ায় এই অঞ্চলের কৃষক বিআর-২৮ ধানের চাষ বেশি করে থাকে। আর এ কারণেই এই অঞ্চলে ক্ষতির পরিমাণটাও বেশি।

গাবতলী উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নের নতুর পাড়া গ্রামের প্রবাল রায়, নারায়ণ চন্দ্র রায় বার্তা২৪.কমকে জানান, তাদের গ্রামে মাঠের পর মাঠ ধান গাছ চিটায় পরিণত হয়েছে।

সোনাতলা উপজেলার নওদাবগা গ্রামের প্রবাসী সোনা মিয়ার স্ত্রী রাজিয়া বেগম স্বামীর অনুপস্থিতিতে নিজেই পাঁচ বিঘা জমিতে বিআর-২৮ ধান চাষ করেছেন। পুরো জমির ধান চিটায় পরিণত হওয়ায় আগাম ধান কেটে ঘরে তুলছেন।

সোনাতলা উপজেলার উত্তর করমজা গ্রামের সেকেন্দার আলী জানান, তিনি নিজের ৪ বিঘাসহ বর্গা নিয়ে আরও ২২ বিঘা জমিতে ধান চাষ করেছেন।

তিনি জানান, তার যে সর্বনাশ হয়েছে, তাতে বিঘা প্রতি দুই মণ ধানও পাওয়া যাবে না। গো-খাদ্য হিসেবে খড় বিক্রি করার জন্য ধান কাটা-মাড়াই শুরু করেছেন।

মঙ্গলবার (২৩ এপ্রিল) সোনাতলা উপজেলার পদ্মপাড়া, মিলনের পাড়া, উত্তর করমজা, দড়িহাঁসরাজ, হুয়াকুয়া, মোনার পটল, সাতবেকী, হরিখালী, নামাজ খালী, গজারিয়া, শালিখা গ্রাম ঘুরে একই চিত্র দেখা গেছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কৃষি কর্মকর্তা বার্তা২৪.কমকে জানান, কৃষি বিভাগের অবহেলার কারণেই কৃষকদের এই সর্বনাশ হয়েছে।

তবে সোনাতলা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাসুদ আহম্মেদ বার্তা২৪.কমকে জানান, গত ২-৩ বছর ধরে বিআর-২৮ ধানে নেক ব্লাস্ট দেখা দেয়ায় এবার কৃষকদেরকে এই ধান চাষে নিরুৎসাহিত করা হয়েছিল। এছাড়াও ব্লাস্ট রোগ দেখা দেয়ায় কৃষকদের করণীয় সম্পর্কে মাঠ পর্যায়ে লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে।

তিনি জানান, সোনাতলা উপজেলায় তিন হেক্টর জমিতে নেক ব্লাস্ট দেখা দিয়েছে।

তবে কৃষকদের মতে, আরও অনেক বেশি জমির ধান ব্লাস্ট রোগে আক্রান্ত হয়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসের একটি সূত্র জানিয়েছে, জেলার ১৭ হেক্টর জমিতে ব্লাস্ট রোগ দেখা দিয়েছে মর্মে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন :

জেলা এর আরও খবর