Barta24

রোববার, ২১ জুলাই ২০১৯, ৬ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

হারিয়ে যাচ্ছে আভিজাত্যের প্রতীক গোলাঘর

হারিয়ে যাচ্ছে আভিজাত্যের প্রতীক গোলাঘর
হারিয়ে যাচ্ছে আভিজাত্যের প্রতীক গোলাঘর। ছবি: বার্তা২৪.কম
এসএম শহীদুল ইসলাম
ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
সাতক্ষীরা
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

সাতক্ষীরার গ্রাম থেকে ধানের গোলাঘর হারিয়ে যাচ্ছে। গ্রামীণ ঐতিহ্য আর সমৃদ্ধির প্রতীক গোলাঘর এখন আর চোখে পড়ে না। ধন ধান্যে পুষ্পে ভরা, সাগর পাড়ের জেলা সাতক্ষীরা বলে একটি সুনাম রয়েছে। ইতিহাস ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ এ জেলার ৭৮টি ইউনিয়নের ১৪২১টি গ্রামের প্রত্যেকটি বাড়িতে দেখা যেত ধানের গোলা। তবে কালের বিবর্তনে এখন আর আগের মতো চোখে পড়ে না ধানের গোলাঘর।

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার মেল্লেকপাড়া গ্রামের নজরউদ্দিন সরদার (৭০) বলেন, ‘আশির দশকের মাঝামাঝি সময়ে সাতক্ষীরায় ইরি-বোরো চাষ শুরু হয়। এর আগে জেলার বিলগুলো ছিল এক ফসলি। আমন ছাড়া আর কোনো ধান হতো না। তবে উঁচু জমিতে আউশ ধান হতো। তখন মানুষের পুকুরভরা মাছ, গোলাভরা ধান আর গোয়ালভরা গরু ছিল। এখন সেই বিলগুলোতে তিন ফসল ফলে। আমনের পর ইরি-বোরো। বোরো ধান কাটার পর আমন রোপণের আগে আরও একবার ফসল ফলায় অনেকে। কিন্তু সেই গোলাঘর আর নেই।

ব্রহ্মরাজপুর ইউনিয়নের বড়খামার গ্রামের ৯৩ বছর বয়সী গিয়াস উদ্দিন সানাও বলেন একই কথা। তিনি জানান, আগে গোলাঘরের সংখ্যা দেখে মানুষ ছেলে-মেয়ে বিয়ে দিতেন। যার বাড়িতে যত বেশি গোলাঘর ছিল তিনি ততবেশি অভিজাত ছিলেন। গোলাঘর ছিল আভিজাত্য আর সমৃদ্ধির প্রতীক। একেকটি গোলায় ৬০ থেকে ১৫০ বস্তা (১ বস্তায় ৬০ কেজি) ধান রাখা যেত।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Apr/17/1555502477484.jpg

তিনি আরও জানান, গোলাঘরে শুধু ধান নয়, ডাল, গম, সুপারিসহ বিভিন্ন ফসল রাখা হতো। জমিদার বাড়িতে সারি সারি ভাবে সাজানো ছিল গোলাঘর। সেই জমিদারি আর নেই। তবে কালের সাক্ষী হয়ে আজও আভিজাত্যের প্রতীক গোলাঘর দেখা যায় দু'একজনের বাড়িতে। বাঁশের চটা, বেত আর কাতা (নারিকেলের ছোবড়া থেকে তৈরি সুতা) দিয়ে তৈরি গোলাকৃতির এ ঘর গোলপাতা, নাড়া (ধানগাছ) ও টিন দিয়ে ছাওয়া হতো।

অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আশরাফুজ্জামান জানান, এখন মধ্যসত্ত্বভোগী ফড়িয়াদের কারণে মানুষ ধানের গোলায় ধান রাখে না। ইট পাথরের তৈরি গুদামে রাখে ধান-চালসহ অন্যান্য পণ্য। যে কারণে বিলুপ্তির পথে গ্রাম বাংলার সমৃদ্ধির প্রতীক গোলাঘর। এগুলো সংরক্ষণ করা না গেলে আগামী প্রজন্ম গোলাঘর দেখতে জাদুঘরে ছুটবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আপনার মতামত লিখুন :

প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা

প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা
ট্রাম্পের কাছে অভিযোগ জানান প্রিয়া সাহা, ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের বিষয়ে মিথ্যা তথ্য দেয়ার অভিযোগে প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগ এনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

রোববার (২১ জুলাই) দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাসুদ পারভেজের আদালতে মো. আসাদ উল্লাহ নামে এক ব্যক্তি বাদী হয়ে আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। আদালতের বিচারক মামলাটি আমলে নিয়ে পরে আদেশ দেবেন বলে জানিয়েছেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়, বাংলাদেশ একটি মুসলিম রাষ্ট্র হওয়ার পরেও ধর্মীয় শান্তি ও সম্প্রীতির রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বে পরিচিত লাভ করেছে। অন্যান্য রাষ্ট্রে মুসলমানরা যে সকল সুযোগ সুবিধা পাচ্ছে তার চেয়ে অনেক গুণ বেশি সুযোগ সুবিধা বাংলাদেশে হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ও অন্যান্য ধর্মের লোকজন ভোগ করছে। প্রিয়া সাহা একজন বাংলাদেশি নাগরিক হয়ে দেশের ভাবমূর্তির কথা চিন্তা না করে বাংলাদেশকে বিশ্বের কাছে হেয় করার জন্য ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে তিন কোটি ৭০ লাখ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান গুম হয়ে গেছে, মুসলিম মৌলবাদীরা ঘর-বাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে এবং তার জায়গা দখল করেছে বলে বিচার চান। এটি বাংলাদেশের রাষ্ট্র ও সরকারের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার ছাড়া কিছুই না। এটি রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়।

মামলার বাদী মো. আসাদ উল্লাহ জানান, বিশ্বের কাছে বাংলাদেশকে হেয় করার জন্য প্রিয়া সাহা মিথ্যাচার করেছেন। এটি আমাকে আহত করেছে। তাই আমি স্বপ্রণোদিত হয়ে মামলাটি দায়ের করেছি।

মামলার বাদী পক্ষের আইনজীবী ও জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি সারোয়ার-ই-আলম বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে জানান, আদালত মামলাটি গ্রহণ করেছেন। মামলাটি দেখে পরে আদেশ দেবেন বলে জানিয়েছেন।

পদ্মায় গোসল করতে নেমে স্বামী-স্ত্রী নিখোঁজ

পদ্মায় গোসল করতে নেমে স্বামী-স্ত্রী নিখোঁজ
পদ্মা নদী/ ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া ৪নং ফেরি ঘাটে গোসল করতে গিয়ে স্বামী-স্ত্রী নিখোঁজ হয়েছেন। রোববার (২১ জুলাই) দুপুর ১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

গোয়ালন্দ ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মোঃ আব্দুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। নিখোঁজ হওয়া ব্যক্তিরা হলেন ইমন শেখ (২৫) ও তার স্ত্রী আঞ্জু আরা (২২)। তাদের বাড়ি খুলনায়।

স্টেশন অফিসার মোঃ আব্দুর রহমান জানান, গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়ায় আত্মীয় বাড়ি বেড়াতে এসে পদ্মা নদীর ৪ ও ৫ নং ফেরিঘাটের মাঝে গোসল করতে গিয়ে তারা নিঁখোজ হন।

স্টেশনে ডুবুরি দল না থাকায় ঢাকার ডুবুরি দলকে জানানো হয়েছে এবং তারা রওনা হয়েছে বলে জানান স্টেশন অফিসার। ঢাকার ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছালে উদ্ধার কাজ শুরু হবে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র