Barta24

শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০১৯, ৪ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

সাতক্ষীরায় ইঞ্জিনচালিত ভ্যান উল্টে চালক নিহত

সাতক্ষীরায় ইঞ্জিনচালিত ভ্যান উল্টে চালক নিহত
প্রতীকী ছবি
ডিস্ট্রিক করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

সাতক্ষীরা: সাতক্ষীরার শ্যামনগরে ইঞ্জিনচালিত ভ্যান উল্টে চালক জিয়ারুল হোসেন (৩০) নিহত হয়েছেন। বুধবার (১৭ এপ্রিল) সকালে উপজেলার জাহাজঘাটা গ্রাম সংলগ্ন সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত জিয়া সাতক্ষীরা সদর থানার তুজলপুর গ্রামের ওহাব সরদারের ছেলে।

প্রত্যক্ষদর্শী নিহতের চাচাতো ভাই রাজু হোসেন জানান, তুজলপুর থেকে কাঠ বোঝাই ইঞ্জিনচালিত একটি ভ্যান নিয়ে শ্যামনগর আসার সময় পথিমধ্যে অসাবধানতাবশত উল্টে যায়। এতে চাপা পড়েন জিয়ারুল। গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে মেডিকেল অফিসার ডা. রুহুল আমিন তাকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে নিতে বলেন। কিন্তু পথিমধ্যেই মারা যান জিয়া।

আপনার মতামত লিখুন :

জীবন যুদ্ধে হার না মানা এক রাজিবের গল্প

জীবন যুদ্ধে হার না মানা এক রাজিবের গল্প
ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

একটি টাকা দাওনা, একটি টাকা দাওনা, একশো টাকা, পাঁচশো টাকা, হাজার টাকা চাইনা-এই গান গেয়ে মানুষের মন জয় করে পরিবারের জন্য রোজকার করেন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী রাজিব। পুরো নাম রাজিবুল ইসলাম। দুই মেয়ে রাজিয়া, কাফিয়া ও স্ত্রীকে নিয়ে তার বর্তমান পরিবার।

তানোর উপজেলার সিন্দুকায় গাইনপাড়া গ্রামে রাজিবের জন্ম। অত্যন্ত গরীব পরিবারে চার ভাইবোনের মধ্যে রাজিব ছিলেন তৃতীয়। জন্মের পরপরই টাইফয়েডজনিত কারণে সে অন্ধ হয়ে যায়। শুরু হয় তার জীবনযুদ্ধ। পড়াশোনায় অমনোযোগী স্বভাবের রাজীব ছোটবেলা থেকেই গানভক্ত ছিলো। সঙ্গে থাকত একটা ভাঙ্গাচোরা রেডিও। আর পথে প্রান্তরে তাল মিলিয়ে গুনগুন করে গান গাইতেন।

সম্প্রতি তার দেখা মেলে চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলা বাজারে। রাজিব বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে জানান, পরিবারের ছয়জন সদস্যদের পেট চালানো বাবা মায়ের পক্ষে কষ্টকর হওয়ায় ৮-১০ বছর বয়সেই আমাকে সংসারের হাল ধরতে হয়। জীবিকার শুরুর দিকে রেডিও নিয়ে বাসে মানুষকে গান শুনিয়ে অর্থ উপার্জন করতাম। কিন্তু বাসের টিকিট মাস্টাররা তা বেশিদিন চলতে দেননি।  

এক ব্যক্তির সহযোগিতায় তানোর সদরের একটি স্কুলে ভর্তি করলেও বেশিদূর পড়াশোনা করতে পারেনি রাজিব। স্কুলে গান শিখতে গিয়ে তিনি স্কুলের তবলা ভেঙে ফেলার দায়ে স্কুল থেকে বের করে দেওয়া হয় তাকে। সেদিনের পর আর কখনও স্কুলে যাওয়া কিংবা হারমোনিয়াম-তবলা বাজানো শেখা হয়ে উঠেনি। কিন্তু শেখার আগ্রহ থেমে ছিলোনা। তাই হাঁড়ি-পাতিল দিয়েই শুরু হয় রাজিবের বাদ্যযন্ত্র বাজানো। মাটির হাড়ি, কলসি ও বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙার পর রাজিব আবিষ্কার করেন টিনের কলসি। সেটাতেই সুর তুলে এখন গান ফেরি করে বেড়ান। রাস্তার অলিগলিতে বসেই  শুরু করেন নিজের কথা ও সুরে বানানো গান। মুখ ও টিনের কলসির সাহায্যে ভিন্ন রকম শব্দ করে এলাকায় বেশ পরিচিত হয়ে ওঠেন তিনি। বিভিন্ন বয়সী শিক্ষার্থী তাদের আড্ডা জমাতে কিংবা বিভিন্ন দোকান ও ভিড় ঠেলেই খুঁজে পাওয়া যায় রাজিবকে। ইউটিউবসহ বিভিন্ন ফেসবুক পেইজে রাজিব এক পরিচিত নাম। ভ্যানে চড়ে বিভিন্ন এলাকায় এভাবেই রাজিব ফেরি করে গান শুনাতেন।

কিন্তু একদিন সেই ভ্যান দুর্ঘটনায় বাম পা-টাও ভেঙে যায়। সেই থেকে রাজিবের ভ্যানে করে বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে গান শোনানোটা আর হয়না। তবে থামেনি গানপাগল রাজিবের পথচলা। খুঁড়িয়ে পথচলেই তিনি এখন গান গেয়ে বেড়ান। আগে বিভিন্নস্থানে যেতে পারলেও বর্তমানে আর দূরে যেতে পারেন না।

রাজিবের স্বপ্ন সন্তান দুটিকে তিনি মানুষের মত মানুষ করবেন। বড় মেয়ে রাজিয়া ৩য় শ্রেণিতে ও ছোট মেয়ে কাফিয়া একটি স্থানীয় এতিমখানায় হাফিজিয়া পড়ছে।

রাজিব আরও বলেন, সংসারে একটু সচ্ছলতা ফেরাতে প্রতিবন্ধী ভাতার জন্য ছুটে গিয়েছিলাম স্থানীয় জনপ্রতিনিধির কাছে। কিন্তু স্থানীয় জনপ্রতিনিধি তাকে ভাতার কার্ড পাইয়ে দিতে ৬ হাজার টাকা দাবি করে, সে টাকা দিতে না পারায় আর প্রতিবন্ধী ভাতা পাওয়া হয়নি।

ভূঞাপুর-তারাকান্দি সড়ক মেরামতে সেনাবাহিনী

ভূঞাপুর-তারাকান্দি সড়ক মেরামতে সেনাবাহিনী
ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর

বন্যার পানিতে ভে‌ঙে যাওয়া ভূঞাপুর-তারাকান্দি সড়ক মেরামতের জন্য সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। ‌সেনাবা‌হিনী ও পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউ‌বো) যৌথভা‌গে জিও ব্যাগ ফেলা‌র কাজ ক‌র‌ছে।

শুক্রবার (১৯ জুলাই) সকাল থে‌কে কাজ হয়। এর আগে বৃহস্প‌তিবার (১৮ জুলাই) রা‌তে ভুঞাপুর-তারাকা‌ন্দি সড়ক হিসেবে ব্যবহৃত নলীন-পিংনা-যোকারচর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধটি ভে‌ঙে যায়।

স্থানীয়রা জানান, তীব্র স্রো‌তে সড়ক‌টির ভূঞাপুর পৌর এলাকার টেপিবাড়ি নামক স্থানে রাত ৮টার দিকে ভেঙে যায়। ফলে ভূঞাপুর পৌরসভা ও ফলদা ইউনিয়নের আটটি গ্রাম প্লাবিত হয়। ভূঞাপুরের সাথে তারাকান্দির সড়ক যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। এছাড়া উত্তরব‌ঙ্গসহ বি‌ভিন্ন এলাকায় তারাকা‌ন্দির যাতায়াত বন্ধ র‌য়ে‌ছে।

আগে থেকে ব্যবস্থা নিলে সড়কটি ভেঙে যেত না বলে দাবি করেন এলাকাবাসী।

শুক্রবার দুপুরে ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেছেন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রনালয়ের সচিব কবির বিন আনোয়ার। তিনি জানান, ভূঞাপুর-তারাকান্দি রাস্তা তারাকান্দি যমুনা সার কারখানার জন্য এই রাস্তার গুরুত্ব অপরিসীম। তাই জরুরি ভিত্তিতে ভাঙন অংশে জিও ব্যাগ ফেলে গাড়ি চলাচলের উপযোগী করা হচ্ছে। যমুনার পশ্চিমাংশে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ প্রায় শেষের দিকে, পূর্বাংশে প্রাথমিকভাবে কাজ চলছে। বকশিগঞ্জ থেকে গোয়ালন্দ পর্যন্ত ভাঙন রোধে সার্ভে করে স্থায়ীভাবে বাঁধ নির্মাণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Tangail flood

‘বন্যায় জলাবদ্ধদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হবে। বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় সেনাবাহিনী, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস একযোগে কাজ করছে। এলাকাবাসীকেও এব্যাপারে সচেতন থাকতে হবে।’

টাঙ্গাইল পাউবো’র নির্বাহী প্রকৌশরী সিরাজুল ইসলাম জানান, গত কয়েকদিন ধরেই সড়ক‌টি হুমকির মুখে ছিল। এজন্য সেটি মেরামত করার তৎপরতা চালানো হয়। তবুও হঠাৎ করেই রাতে টেপিবাড়ি অংশে ভেঙে যায়।

জেলা প্রশাসক মো. শহীদুল ইসলাম জানান, জেলা প্রশাসনের আহবানে সেনাবাহিনী বাঁধ মেরামতের কাজ শুরু করেছে। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব কবির বিন আনোয়ার, ১৯ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল মিজানুর রহমান শামীম ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধটি পরিদর্শন করেছেন।

যমুনার নদীর পানি আট সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত বিপদসীমার ১১১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। এতে টাঙ্গাইল সদর, ভূঞাপুর, গোপালপুর, কালিহাতী, নাগরপুর, দেলদুয়ার উপজেলার প্রায় ১১১টি গ্রামের তিন লক্ষাধিক মানুষ বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছেন। বন্যার পানি প্রবেশ করায় এসব এলাকার ৬৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে।

আরও পড়ুন: তীব্র স্রোতে ভেঙে গেল ভূঞাপুর-তারাকান্দি সড়ক

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র