Barta24

রোববার, ২৫ আগস্ট ২০১৯, ১০ ভাদ্র ১৪২৬

English

টাকা না দেয়ায় নৌকা পুড়িয়ে দিয়েছেন মৎস্য কর্মকর্তা

টাকা না দেয়ায় নৌকা পুড়িয়ে দিয়েছেন মৎস্য কর্মকর্তা
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবদুল কুদ্দুছ। ছবি: বার্তা২৪.কম
ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
লক্ষ্মীপুর
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা না দেওয়ায় উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবদুল কুদ্দুছের বিরুদ্ধে এক মাঝির নৌকা আগুন দিয়ে পোড়ানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে প্রায় ৪ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে মাঝি মো. মাকছুদ দাবি করেছেন।

এদিকে সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে সোমবার (১৫ এপ্রিল) বিকেলে ভুক্তভোগী ওই ব্যক্তি জেলা প্রশাসক, কমলনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা মৎস্য কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেন।

মাকছুদ কমলনগর উপজেলার পাটওয়ারীর হাট ইউনিয়নের চরফলকন গ্রামের আতিক উল্যাহ মাঝির ছেলে।

অভিযোগে বলা হয়, মাকছুদ তরমুজের মৌসুমে চরফলকন গ্রামের আক্তার মাঝির কাছ থেকে ভাড়ায় নৌকা নিয়ে চালায়। মূল পেশা জেলে হলেও বছরের এ মৌসুমটিতে মাছ ধরেন না তিনি। গত ১২ এপ্রিল তিনি নৌকাতে উপজেলার পাতাবুনিয়া থেকে মাঝের চর এলাকায় তরমুজ পরিবহনের জন্য শ্রমিক নিয়ে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে কমলনগর মৎস্য কর্মকর্তা তার নৌকার গতিরোধ করে তল্লাশি চালায়। ওই নৌকায় মাছ ও জেলের সরঞ্জামাদিও পাননি তারা। কিন্তু মৎস্য কর্মকর্তা আবদুল কুদ্দুছ নৌকা ছেড়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে মাকছুদের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। টাকা না দেওয়ায় মৎস্য কর্মকর্তা তার সহযোগীদের নিয়ে ওই নৌকাটি আগুনে পুড়িয়ে দেয়। এতে প্রায় ৪ লাখ টাকার ক্ষতি হয়।

মো. মাকছুদ বলেন, ‘জেলে হলেও তরমুজের মৌসুমে আমি মাছ শিকারে যাই না। নৌকা ভাড়া নিয়ে এ সময়ে চর থেকে তরমুজ আনা-নেওয়া করি। কিন্তু ৫০ হাজার টাকা না দেওয়ায় মৎস্য কর্মকর্তা আমার নৌকাটি পুড়িয়ে ফেলেছে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।’

এ ব্যাপারে জানতে সোমবার সন্ধ্যা সোয়া ৬টায় কমলনগর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবদুল কুদ্দুছের মোবাইলে একাধিকবার কল করেও সাড়া মেলেনি।

তবে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার বরাত দিয়ে লক্ষ্মীপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা এসএম মহিব উল্যাহ বার্তা২৪.কমকে জানান, ওই নৌকাটিতে অবৈধ কারেন্ট জাল ছিল। জালগুলোতে আগুন দিলে নৌকার কিছু অংশ পুড়ে যায়। তবে নৌকার মাঝির থেকে কোনো টাকা দাবি করা হয়নি।

আপনার মতামত লিখুন :

আস্থাহীনতায় প্রত্যাবাসনে রোহিঙ্গাদের অনীহা

আস্থাহীনতায় প্রত্যাবাসনে রোহিঙ্গাদের অনীহা
কয়েকজন রোহিঙ্গা, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

মিয়ানমার সরকারের পক্ষ থেকে দুই দফা চেষ্টার পরও রোহিঙ্গারা তাদের ওপর আস্থা রাখতে রাজি নয়। তাই বার বার রোহিঙ্গাদের পক্ষ থেকে দেওয়া শর্ত না মানলে তারা স্বদেশে ফিরবেন না বলে জানান নেতারা।

ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশন বলছে, সম্প্রতি ৩ হাজার ৫৪০ রোহিঙ্গার তালিকা পাঠায় মিয়ানমার। এ তালিকা ধরে দ্বিতীয়বারের মত প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার চালু করতে সব প্রস্তিুত নেয় বাংলাদেশ সরকার। গত ২২ আগস্ট ছিল সেই দিন। কিন্তু রোহিঙ্গাদের শর্তের মুখে তা হয়ে ওঠেনি।

মিয়ানমারের পাঠানো তালিকার রোহিঙ্গা রয়েছেন টেকনাফের শালবন রোহিঙ্গা শিবিরের ২৬ নম্বর ক্যাম্পে। এখনো রোহিঙ্গাদের মতামত নিচ্ছেন ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশন ও ইউএনএইচসিআরের প্রতিনিধিরা। এসব প্রতিনিধিকে ‘শর্ত না মানলে যাবেন না’ বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন রোহিঙ্গারা।

রোহিঙ্গা নেতা মোহাম্মদ ইলিয়াছ বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, গত বৈঠকে আমাদের সঙ্গে আরও আলোচনা করার কথা দেন মিয়ানমার প্রতিনিধিরা। কিন্তু তারা সে কথা না রেখে হঠাৎ প্রত্যাবাসনের ঘোষণা দেন। এটি তাদের নতুন চক্রান্ত। তাই আমরা মিয়ানমারের ওপর আস্থা রাখতে পারছি না।

তিনি আরও বলেন, নাগরিক অধিকার, আমরা নিরাপত্তাসহ যেসব শর্ত দিয়েছি, সেগুলো না মানলে কখনো মিয়ানমারে ফিরব না। মিয়ানমার আমাদের চিহ্নিত করেছে, ঠিক আছে। কিন্তু শর্তগুলো না মানলে ফেরা অসম্ভব বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছি।

শালবন ক্যাম্পের ডি-২’র বাসিন্দা আবু ছিদ্দিক বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, আমরা সেই পুরনো দাবিগুলো তুলে ধরেছি। নাগরিত্ব ও মিয়ানমারের যে ১৩০ জাতি রয়েছে, তাদের মধ্যেও আমরা নেই। আমাদের দাবিগুলো পুরণ হলে ফিরব।

আরেক রোহিঙ্গা মো. সলিম বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, দাবি না মানলে ফিরে যাওয়া কঠিন হবে। কারণ নিরাপত্তা ও নাগরিত্ব ছাড়া সেখানে গেলে আবার সহিংস হতে পারে মিয়ানমার। তারা আমাদের সঙ্গে আলোচনা না করে প্রত্যাবাসনের ঘোষণা দিয়েছে। এটা তাদের একটা চক্রান্ত।

s
কয়েকজন রোহিঙ্গা, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

 

শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. আবুল কালাম বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, রোহিঙ্গারা যদি স্বেচ্ছায় যেতে রাজি হয়, তাহলে আমরা চূড়ান্ত প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করব। তাদের ইচ্ছের বিরুদ্ধে গিয়ে কিছুই করব না আমরা। তাই তাদের মতামত নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে, ২০১৮ সালের ১৫ নভেম্বর প্রথমবার রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়। কিন্তু রোহিঙ্গাদের শর্তের মুখে তা আর হয়ে ওঠেনি। পরে গত ২২ আগস্ট প্রত্যাবাসনের সব প্রস্তুতি শেষ করে বাংলাদেশ সরকার। কিন্তু এবারও রোহিঙ্গাদের শর্তের মুখে আটকে যায় প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া।

জাতিগত নিধন ও গণহত্যার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ-মিয়ানমার প্রত্যাবাসন চুক্তি সম্পন্ন হয়।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট রাখাইনের ৩০টি নিরাপত্তা চৌকিতে একযোগে হামলার ঘটনা ঘটে। প্রতিক্রিয়ায় মিয়ানমার সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের ওপর হত্যা, নির্যাতন ও যৌন নিপীড়ন শুরু করে। ফলে প্রাণ বাঁচাতে প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নেয়। পুরনোসহ উখিয়া-টেকনাফের ৩০টি শিবিরে এখন ১১ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা অবস্থান করছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, এ সংখ্যা ১১ লাখ ৮৫ হাজার ৫৫৭। তাদের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যাই বেশি।

ডেঙ্গু: প্রাইভেট ক্লিনিকে একই রোগীর ভিন্ন রিপোর্ট

ডেঙ্গু: প্রাইভেট ক্লিনিকে একই রোগীর ভিন্ন রিপোর্ট
বরগুনার দুটি প্রাইভেট ক্লিনিকে শিশু মারিয়ার ডেঙ্গু ভাইরাস পরীক্ষার ফলাফল/ ছবি: সংগৃহীত

বরগুনা শহরের ফায়ার সার্ভিস সড়কের মহিউদ্দিন জ্বরে আক্রান্ত আড়াই বছরের মেয়ে মারিয়াকে নিয়ে গত সোমবার বরগুনা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. সোহরাফ হোসেনের ব্যক্তিগত চেম্বারে যান। সেখানে চিকিৎস্যক ডেঙ্গু পরীক্ষা করাতে বলেন। পৌর শহরের রংধনু ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ডেঙ্গু পরীক্ষা করালে ডেঙ্গু ভাইরাস ধরা পড়েনি। তবে মনের সন্দেহ দূর করতে একই এলাকার শরীফ এক্সরে ও প্যাথলজিতে পরীক্ষা করালে ডেঙ্গু ধরা পড়ে। পরে এই নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে মারিয়াকে ঢাকায় নিয়ে যায় তার পরিবার।

শহরের থানাপাড়া এলাকার বাসিন্দা আব্দুর রাজ্জাক গত ৫ আগস্ট জ্বর নিয়ে রংধনু ডায়াগনস্টিকে পরীক্ষায় ডেঙ্গু ধরা পড়লে রক্তের প্লাটিলেট দেখায় দুই লাখ ৫৬ হাজার। পরে সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়ে পরীক্ষা করালে ডেঙ্গু ভাইরাস ধরা পড়েনি তার। সন্দেহের বশে শরীফ এক্সরে ও প্যাথলজিতে পরিক্ষা করালে ডেঙ্গু ভাইরাস ধরা পড়েনি।

পরে হলি কেয়ার ডায়াগনস্টিক ও উপকূল ডায়গনস্টিকের পরীক্ষায় ডেঙ্গু ধরা পড়ে আব্দুর রাজ্জাকের। এরপরে বরিশাল শেরে-ই-বাংলায় ভর্তি হয়ে ৯ আগস্ট মেডি এইড ডিজিটাল ডায়গনিস্টিকে পরীক্ষা করালে ডেঙ্গু নেগেটিভ আসলেও ঢাকার কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ডেঙ্গু ধরা পড়ে তার।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/25/1566694640978.jpg
বরগুনা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন ডেঙ্গু ভাইরাস টেস্টে পজিটিভ রোগীরা/ ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

 

সদর হাসপাতালে সরেজমিনে রোগীদের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে নার্সরা বলছেন, চিকিৎসকরা পাঠাচ্ছেন। আর চিকিৎসরাক দুষছেন নার্সদের।

ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের মেডিকেল পরীক্ষা হাসপাতালে বিনা খরচে করার নিয়ম থাকলেও বরগুনায় কৌশলে রোগীদের প্রাইভেট ক্লিনিকে পাঠানো হচ্ছে। ডাক্তারের নির্দেশানুযায়ী নার্সরা তাদের পছন্দের ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পাঠিয়ে দিচ্ছেন।

এছাড়া ডেঙ্গু পরীক্ষায় ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো একই রোগীর আলাদা আলাদা রিপোর্ট দিচ্ছে। এতে নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে রোগীদের। তাদের অভিযোগ, সরকারি হাসপাতালে কিট থাকা সত্ত্বেও পরীক্ষার জন্য চিকিৎসক ও নার্সরা রোগীদের পাঠাচ্ছেন ঐসব ডায়াগনস্টিক সেন্টারে।

একাধিক ভুক্তভোগী বলেন, বরগুনা সদর হাসপাতালে ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট থাকলেও কমিশনের জন্য ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ডেঙ্গু পরীক্ষার জন্য পাঠানো হচ্ছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/25/1566694758980.jpg

বরগুনা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. সোহরাফ হোসেন এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘হাসপাতালে ডেঙ্গু শনাক্ত করার কিট শেষ হয়ে গেছে। তাই ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পাঠানো হয়েছিল।’

বরগুনার সিভিল সার্জন ডা. হুমায়ূন হাসান শাহীন বলেন, ‘ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে নিম্নমানের কিট ব্যবহার করা হচ্ছে, তাই রিপোর্ট আলাদা আলাদা আসছে।’

এ বিষয়ে বরগুনার জেলা প্রশাসক মো. মোস্তাইন বিল্লাহ্ বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে বলেন, ‘বিষয়টি তদন্ত করে আইগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।’

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র