Barta24

রোববার, ২১ জুলাই ২০১৯, ৬ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

দুর্নীতি মুক্ত নড়াইল গড়ার আশা পূরণ হয়নি: দুদক কমিশনার

দুর্নীতি মুক্ত নড়াইল গড়ার আশা পূরণ হয়নি: দুদক কমিশনার
ছবি: বার্তা২৪.কম
ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
নড়াইল
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কমিশনার (তদন্ত) এ.এফ.এম আমিনুল ইসলাম বলেছেন, ‘আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর নড়াইলে মতবিনিময় সভা করেছিলাম। আজ সেদিনের মতবিনিময় সভার অনেকে নেই, আবার নতুন অনেকেই আছেন। আমার খুব ইচ্ছা ছিল এই জেলাকে দুর্নীতি মুক্ত দেখব। আমি বলছি না যে ব্যর্থ হয়েছি, তবে আমি যে আশা করেছিলাম তা পূরণ হয়নি।’

বুধবার (৩ এপ্রিল) দুর্নীতি প্রতিরোধ বিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। নড়াইল জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক আনজুমান আরা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছেন জানিয়ে আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘প্রাতিষ্ঠানিক বা ব্যক্তি দুর্নীতি শুধু আইন করেই বন্ধ করা সম্ভব নয়। আমরা যে যেখানে আছি, সেখান থেকে নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করছি না। আমরা নিজেদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করলে দুর্নীতি কমে যাবে। সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানাচ্ছি।’

এ সময় নড়াইলের সাব-রেজিস্ট্রি অফিস, পাসপোর্ট অফিস, এলজিইডি, স্বাস্থ্য বিভাগের বিভিন্ন কাজের অনিয়ম ও দুর্নীতি সম্পর্কে কর্মকর্তাদের সতর্ক করেন কমিশনার।

মতবিনিময় সভায় এ সময় আরও বক্তব্য দেন- পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন, সিভিল সার্জন ডা. আসাদ-উজ-জামান মুন্সী, সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফরিদ উদ্দিন, দুর্নীতি দমন কমিশনের খুলনা বিভাগীয় পরিচালক নাসিম আনোয়ার, দুদক কমিশনারের (তদন্ত) একান্ত সচিব মো. রবিউল ইসলাম, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক মো. মনিরুজ্জামান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) কাজী মাহাবুবুর রশীদ, জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি মো. মনিরুজ্জামান মল্লিক, সাধারণ সম্পাদক কাজী হাফিজুর রহমান প্রমুখ।

আপনার মতামত লিখুন :

শ্যামগঞ্জে ধান বিক্রিতে সিন্ডিকেটের থাবা

শ্যামগঞ্জে ধান বিক্রিতে সিন্ডিকেটের থাবা
কর্মকর্তাদের সঙ্গে কৃষকের বাকবিতণ্ডা হলে কর্তৃপক্ষ গুদামের গেটে তালা ঝুলিয়ে দেয়, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

ময়মনসিংহের গৌরীপুরের শ্যামগঞ্জে খাদ্যগুদামে কৃষকের কাছে থেকে ধান ক্রয় না করে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে প্রভাবশালীদের ধান ক্রয় করছে গুদাম কর্তৃপক্ষ। এতে কৃষকরা বঞ্চিত হচ্ছেন।

রোববার (২১ জুলাই) দুপুরে ধান ক্রয় না করায় খাদ্যগুদাম কর্মকর্তাদের সঙ্গে কৃষকের বাকবিতণ্ডা হয়। পরে গুদাম কর্তৃপক্ষ গুদামের গেটে তালা ঝুলিয়ে দেয়।

কৃষকরা জানান, গুদামের অফিস সহকারী মাহমুদুল হাসানের নেতৃত্বে গড়ে উঠা সিন্ডিকেটকে টাকা দিয়ে প্রভাবশালীরা রাতের বেলা ট্রাক বোঝাই ধান এনে গুদামে বিক্রি করছে। কিন্তু আমাদের ধান গুদামে পড়ে থাকলেও ক্রয় হচ্ছেনা।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/21/1563721132339.jpg
গুদাম সিন্ডিকেটকে টাকা না দেয়ায় ধান নেওয়া হচ্ছে না বলে জানান কৃষকরা 

 

গুদামের অফিস সহকারী মাহমুদুল হাসান বলেন, কৃষকদের ধান রাতে বাইরে থাকলে বৃষ্টিতে ভিজে নষ্ট হতে পারে। এজন্য রাতের বেলা ধান গুদামে ঢোকানো হয়েছে। আর আমাদের কোনো সিন্ডিকেট নেই।

খাদ্যগুদাম সূত্রে জানা যায়, চলতি বোরো মৌসুমে উপজেলার সিধলা ও মইলাকান্দা ইউনিয়নের কৃষকের জন্য শ্যামগঞ্জ খাদ্যগুদামে ধান ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ২৯২ মেট্রিক টন। প্রতি মণ ধানের সরকারি মূল্য ১ হাজার ৪০টাকা।

সরেজমিনে দেখা যায়, শ্যামগঞ্জ খাদ্যগুদামের গেটে তালা দেওয়া হয়েছে। কৃষকদের ধান নিয়ে ভেতরে ঢুকতে দেয়া হচ্ছেনা। সাংবাদিকের উপস্থিতিতে গেট খোলা হলে বিক্ষুব্ধ কৃষকরা ভেতরে ঢুকে  উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা সাইদুর রহমান ও শ্যামগঞ্জ খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা প্রদীপ রিছিলের  সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন।

গুদাম ও গুদামের বাইরে ঘুরে দেখা যায়, কৃষকের সারি সারি ধানের বস্তা পড়ে থাকলেও ক্রয় হচ্ছে না। পাওয়া যায়নি কার্ডধারী প্রকৃত কৃষকের তালিকা। ময়েশ্চার মেশিন না থাকায় ধানের গুণগত মান পরীক্ষা না করেই তড়িঘড়ি করে ক্রয় হচ্ছে প্রভাবশালীদের ধান।

গুদামের লেবার সর্দার আব্দুল গফুর বলেন, 'স্থানীয় নেতারা গুদামে ধান বিক্রি করায় কৃষকরা ধান বিক্রি করতে পারছে না। তাই কৃষকরা গুদামের লোকজনের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ছেন।'

মইলাকান্দা ইউনিয়নের কৃষক আজিজুল হক বলেন, 'গুদাম সিন্ডিকেটকে টাকা না দেয়ায় আমার ধান নেয়া হয়নি। দুই তিন ধরে ধান বিক্রি করতে পারিনি।'

শ্যামগঞ্জ খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা প্রদীপ রিছিল বলেন, 'গুদামের ময়েশ্চার মেশিন নষ্ট। যে সকল কৃষকের ধান গুদামে ঢুকানো হয়েছে তাদের ধান অন্য উপজেলা থেকে বরাদ্দ এনে ক্রয় করা হবে। যদি গুদামের কেউ টাকা চায়, আমাকে জানালে আমি ব্যবস্থা নিবো।'

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা খাদ্যনিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা বলেন, 'কৃষকদের সঙ্গে কথা হয়েছে। কোনো অনিয়ম পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। কার্ডধারী কৃষকদের তালিকা আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন তালিকা সাথে নেই। তবে দুই ইউনিয়নে চার হাজারের মতো হতে পারে।'

কুড়িগ্রামে ছড়িয়ে পড়ছে পানিবাহিত রোগ

কুড়িগ্রামে ছড়িয়ে পড়ছে পানিবাহিত রোগ
ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম।

কুড়িগ্রামে নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করায় জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে দুর্ভোগ কমেনি বানভাসি মানুষদের।

ব্রহ্মপুত্র ও ধরলার পানি এখনো বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে ব্রহ্মপুত্রের অববাহিকার চরাঞ্চলসহ নিম্নাঞ্চলের ঘর-বাড়ি এখনো বন্যার পানিতে ডুবে আছে। বন্যা দুর্গত এলাকাগুলোতে দেখা দিয়েছে ডায়রিয়া, আমাশয়, জ্বরসহ নানা পানিবাহিত রোগ। দুর্গম চরাঞ্চলগুলোতে এ পরিস্থিতি আরও করুণ।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের ৮৫টি মেডিকেল টিম বন্যা কবলিত এলাকাগুলোতে কাজ করার কথা বললেও দুর্গম এলাকার অনেক চরেই গত ১০-১২ দিনেও তাদের দেখা মেলেনি বলে বানভাসিরা অভিযোগ করেছে।

এ অবস্থায় ঘর-বাড়ি থেকে পানি নেমে না যাওয়ায় চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলের প্রায় ৫ থেকে ৬ হাজার পরিবার ১০ থেকে ১২ দিন ধরে নৌকায় বসবাস করছে। ঘরে ফিরতে পারছে না উঁচু এলাকায় আশ্রয় নেয়া বানভাসি মানুষরাও। খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকটে দুর্ভোগে পড়েছে তারা।

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার মোগলবাসা ইউনিয়নের নামাচরের কাশেমের স্ত্রী সাহিদা বেগম বলেন, ‘আমার ৪ বছরের মেয়ে মনোয়ারার দুদিন থেকে ডায়রিয়া। পাশের বাড়ির একজনের কাছ থেকে ৪টি স্যালাইন নিয়ে এসে খাইয়েছি। এখনো ডায়রিয়া ভালো হয়নি।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/21/1563721341094.jpg

উলিপুর উপজেলার সাহেবের আলগা ইউনিয়নের চেরাগীর আলগা চরের মানিক মিয়া বলেন, ‘আমার সাড়ে ৩ বছরের বাচ্চার দুই দিন থেকে ডায়রিয়া। সেখানে কোনো মেডিকেল টিম নাই। ওষুধও পাওয়ার উপায় নাই। দুইদিন থেকে কাঁচা কলা সিদ্ধ করে খাওয়াচ্ছি।’

একই এলাকার সিরাজুলের স্ত্রী কাজলী বেগম বলেন, ‘আমার বাচ্চার ৩ দিন ধরে জ্বর আর কাশি। বাড়ির চারদিকে পানি। নৌকার অভাবে বাজারে গিয়ে ওষুধ আনতে পারছি না। এখানে কমিউনিটি ক্লিনিক আছে, কিন্তু কমিউনিটি ক্লিনিকে পানি ওঠায় সেখানে কোনো ডাক্তার আসে না। আমাদের বাড়িতেও কোনো স্বাস্থ্যকর্মী আসে নাই।

বানভাসিরা জানায়, বন্যা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ায় এবং হাতে কাজ না থাকায় চরম খাদ্য সংকটে পড়েছে দিনমজুর শ্রেণির মানুষরা।

অন্যদিকে চিলমারী উপজেলা শহরের রাস্তা-ঘাট, ঘর-বাড়ি, অফিসসহ বিভিন্ন স্থাপনা এখনো তলিয়ে আছে।

সরকারি-বেসরকারিভাবে ত্রাণ তৎপরতা শুরু হলেও তা জেলার ৯ উপজেলার ৮ লক্ষাধিক বানভাসি মানুষের জন্য অপ্রতুল। জেলা প্রশাসন থেকে এ পর্যন্ত ৮শ মেট্রিক টন চাল, ৬ হাজার প্যাকেট শুকনা খাবার ও ১৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। বেসরকারি উদ্যোগেও স্বল্প পরিসরে ত্রাণ দেয়া হচ্ছে। কিন্তু বেশির ভাগ বানভাসি মানুষের ভাগ্যে জুটছে না তা।

স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, ব্রহ্মপুত্রের পানি এখনো চিলমারী পয়েন্টে বিপৎসীমার ৫৪ সেন্টিমিটার ও নুনখাওয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ১১ সেন্টিমিটার এবং ধরলা নদীর পানি সেতু পয়েন্টে বিপৎসীমার ১৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র