Barta24

রোববার, ১৮ আগস্ট ২০১৯, ৩ ভাদ্র ১৪২৬

English

পঞ্চগড়ে করতোয়ার উল্টো স্রোতে পুণ্যস্নান

পঞ্চগড়ে করতোয়ার উল্টো স্রোতে পুণ্যস্নান
পঞ্চগড়ে করতোয়ার উল্টো স্রোতে পুণ্যস্নান, ছবি: বার্তা২৪
ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
পঞ্চগড় বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

মধুকৃষ্ণের ত্রয়োদশ তিথি উপলক্ষে পঞ্চগড়ের করতোয়া নদীতে শুরু হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পুণ্যস্নান উৎসব।

নিজেকে পাপমুক্ত এবং স্বর্গীয় পিতা-মাতা আত্মীয় স্বজনের মঙ্গল কামনায় এখানে স্নান করছেন সনাতন হিন্দুধর্মাবলম্বীরা।

পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার বোয়ালমারী এলাকায় করতোয়া নদীর উত্তর মুখী স্রোতে মঙ্গলবার সকাল থেকে এই পুণ্যস্নান শুরু হয়।

এ উপলক্ষে নদীর দুই পাড়ে বসেছে মেলা । ৪ দিন ব্যাপী এই স্নান উৎসবে আশে পাশের বিভিন্ন জেলা থেকে কয়েক লাখ মানুষের সমাগম ঘটে। স্নান উপলক্ষে সনাতন হাজারো সাধু সন্ন্যাসীদের মিলন মেলায় পরিণত হয়।

প্রতিবছরের মতো এবারো বোদা উপজেলা প্রশাসন স্থানীয় গঙ্গা মন্দির কমিটি ও বারুণী স্নান উৎসব উপলক্ষে ৪ দিন ব্যাপী এই মেলার আয়োজন করেছে ।

স্থানীয়দের মতে প্রায় তিনশত বছর ধরে বোদা উপজেলার কাজলদিঘি কালিয়াগঞ্জ ইউনিয়নের বোয়ালমারী এলাকায় করতোয়া নদীর উত্তর স্রোতে মধুকৃষ্ণ ত্রয়োদশী তিথি উপলক্ষে স্নান উৎসব পালন করে আসছে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা।

স্নান করতে এসে ভক্তরা দেহ-মনকে পরিশুদ্ধ করতে অনেকে মাথার চুল বিসর্জন দেন, পূজা অর্চনা করেন। তারপর তারা স্নানমন্ত্র পাঠ করে হাতে বেল পাতা, ফুল, ধান, দূর্বাঘাস, হরিতকী, কাঁচা আম, ডাব, কলা ইত্যাদি অর্পণের মাধ্যমে স্নান সম্পন্ন করেন।

হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মতে, যে স্থানে নদীর প্রবাহ সোজা উত্তরমুখী সেই স্থানে স্নান করা পুণ্যের কাজ। ধর্মীয় বিধান মতে জীবনে মরণে স্নান হলো হিন্দুদের এক অখণ্ড মহামন্ত্র। স্নানের পবিত্র ধারায় দেহ ও মনকে ধন্য করায় এক আত্মিক সাধনা।

করতোয়া নদীর এই স্থানটি প্রায় ১ কিলোমিটার পর্যন্ত উত্তরমুখী স্রোতে প্রবাহিত হয়। তারা এখানে এসে পবিত্র হওয়ার জন্য মাথার চুল বিসর্জন ও পূজা অর্চনা করেন।

নীলফামারী জেলার জলধাকা উপজেলা থেকে আগত হৈমন্তী রানী জানান, তার বাবা মা স্বর্গে গেছেন। তাদের মঙ্গল কামনায় এখানে স্নান করতে এসেছি ।

তেঁতুলিয়া উপজেলার গিতালগছ গ্রামের লক্ষণ চন্দ্র মালাকার বলেন, ‘অনেক পাপ করেছি। স্নান করে পাপমুক্ত হবো। পুণ্য অর্জন করবো। এই প্রার্থনা নিয়ে এখানে এসেছি।

স্নান উপলক্ষে এখানে ৭ দিন বারুণী মেলাও শুরু হয়েছে। সকল শ্রেণীর মানুষের বিনোদনের জন্য মেলায় যাত্রা, সার্কাস, মোটরসাইকেল খেলাসহ নিত্য প্রয়োজনীয় নানান জিনিসপত্র বেচাকেনা চলবে।

আপনার মতামত লিখুন :

মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে শিশু নাহিদ

মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে শিশু নাহিদ
নাহিদুজ্জামান নাহিদ, ছবি: সংগৃহীত

সড়ক দুর্ঘটনায় বাবা-মাসহ পরিবারের পাঁচ সদস্যকে হারিয়ে ভাগ্যগুণে বেঁচে যাওয়া তিন বছরের শিশু নাহিদুজ্জামান নাহিদ মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে। রাজধানী ঢাকার অ্যাপেলো হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন আছে শিশুটি। দুর্ঘটনায় আহত নাহিদের চোয়ালের হাড় ভেঙে গেছে। আগামী সোমবার (১৯ আগস্ট) তার সার্জারি অস্ত্রোপচার করবেন চিকিৎসকরা।

রোববার (১৮ আগস্ট) রাতে বার্তা২৪.কমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নাহিদের চাচা নুরুজ্জামান।

নাহিদের বাড়ি নেত্রকোনার জেলার দূর্গাপুরে। তার বাবা রফিকুজ্জামান নরসিংদী জেলার একটি টেক্সটাইল মিলের মালিক।

গত ১৬ আগস্ট শুক্রবার নাহিদের পরিবার প্রাইভেটকারযোগে এক আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে ময়মনসিংহ কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের গাও রামগোপালপুর এলাকায় যাত্রীবাহী এমকে সুপার নামের একটি বাস ওভারটেক করতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রাইভেটকারটিকে চাপা দেয়। এ সময় প্রাইভেটকারটি দুমড়েমুচড়ে যায়।

আরও পড়ুন: গৌরীপুরে বাস-প্রাইভেটকার সংঘর্ষ: নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫

দুর্ঘটনায় নাহিদের মা শাহীনা আক্তার বাবা রফিকুজ্জামান, বড় ভাই নাদিম মাহমুদ, বোন রওনক জাহান ও মামা জিসান কবীর আশরাফ প্রাণ হারান। ভাগ্যগুণে বেঁচে যায় শিশু নাহিদ ও চালক স্বপন মিয়া।

নাহিদ রাজধানীর অ্যাপোলো হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন। চালক স্বপন মিয়া ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

অপরদিকে দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো নাহিদের বাবা-মা, ভাই-বোন ও মামাকে শনিবার নেত্রকোনার দূর্গাপুরে দাফন করা হয়েছে। সব হারানো নাহিদ এখন তার দাদা-দাদির তত্ত্বাবধানেই থাকবে।

নাহিদের চাচা নুরুজ্জামান বলেন, ‘নাহিদ এখনো আইসিইউতে আছে। তার শরীরে বিভিন্ন স্থানে ক্ষত হয়েছে। এখনো জ্ঞান ফেরেনি। চিকিৎসকরা বলেছেন আমাদের ধৈর্য ধরতে। সবাই আমাদের নাহিদের জন্য দোয়া করবেন।’


এদিকে, মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় শুক্রবার রাতে বাসের চালককে (অজ্ঞাতনামা) আসামি করে গৌরীপুর থানায় মামলা করেছেন রফিকুজ্জামানের ছোট ভাই নুরুজ্জামান। কিন্তু পুলিশ রোববার রাত সোয়া ১০টা পর্যন্ত আসামিকে গ্রেফতার করতে পারেননি।

গৌরীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কামরুল ইসলাম মিয়া বলেন, ‘মামলা দায়ের হয়েছে। পুলিশ আসামিকে গ্রেফতারের চেষ্টা চালাচ্ছে।’

মতলবে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় পথচারী নিহত

মতলবে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় পথচারী নিহত
ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

চাঁদপুরের মতলবে চলন্ত মোটরসাইকেলের ধাক্কায় সুধীর চন্দ্র দাস (৭০) নামে এক পথচারী নিহত হয়েছেন।

রোববার (১৮ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার সটাকী-ষাটনল বেড়িবাঁধ সড়কের উপর এ ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল আরোহী ফতুয়াকান্দি গ্রামের আমিন উদ্দিনের ছেলে আরমান (১৫) ও একই গ্রামের আবু সুফিয়ানের ছেলে নাজমুল (২৩) গুরুতর আহত হয়েছেন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।

স্থানীয়রা জানান, বিকালে সটাকী মালোপাড়া গ্রামের মৃত সুরিন্দ্র চন্দ্র দাসের ছেলে সুধীর চন্দ্র দাস বাড়ি থেকে বের হয়ে রাস্তা পারাপারের সময় বিপরীতমুখী মোটরসাইকেল এসে তাকে ধাক্কা দেয়। এতে তার মুখমণ্ডলে মারাত্মক জখম হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আকলিমা জাহান তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত দুই জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

মতলব উত্তর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) হানিফ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, 'ঘটনার সংবাদ পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। মোটর সাইকেলটি থানার হেফাজতে রাখা হয়েছে।'

অপরদিকে থানার এসআই মিজানুর রহমান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে সুধীর চন্দ্রের মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুর মর্গে পাঠানো হবে বলে থানায় নিয়ে যান।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র