Barta24

মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই ২০১৯, ৮ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

স্কুল বন্ধ রেখে ১৫ দিনের ভ্রমণে শিক্ষকরা!

স্কুল বন্ধ রেখে ১৫ দিনের ভ্রমণে শিক্ষকরা!
কুষ্টিয়ার মিশন মাধ্যমিক বিদ্যালয় / ছবি: বার্তা২৪
এসএম জামাল
ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেট
কুষ্টিয়া
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ করে প্রমোদ ভ্রমণে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে কুষ্টিয়ার মিশন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বিরুদ্ধে। ১৬ মার্চ থেকে টানা ১৫ দিনের ছুটি শেষে আগামী ২৮ মার্চ শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হবে বলে জানিয়েছে স্কুল কর্তৃপক্ষ।

শুধু তাই নয়, ১৭ মার্চ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবসের অনুষ্ঠান উদযাপন না করেই শিক্ষকদের ভ্রমণ কতটুকু যুক্তিসঙ্গত সেটাই ভাবিয়ে তুলেছে গোটা মহলকে। এছাড়া আর কিছু দিন পরে আবার রমজানের জন্য দীর্ঘ ছুটি থাকবে।

এদিকে এসএসসি পরীক্ষার দীর্ঘ ছুটির পর আবারও টানা ছুটি দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।

বুধবার (২০ মার্চ) সকালে শহরের এনএস রোডস্থ মিশন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, স্কুল প্রাঙ্গণ জনশূন্য, মূল ফটক খোলা থাকলেও প্রতিটি ক্লাসরুমে তালা ঝুলছে।

মূল ফটকের ভেতরেই দারোয়ান বসে মুঠোফোনে কথা বলায় ব্যস্ত। বিদ্যালয় ছুটি কিনা জানতে চাইলে তিনি কোনো কথা বলতে রাজি হননি। তিনি বলেন, ‘গেটে নোটিশ টানানো আছে গিয়ে দেখেন।’

পরে নোটিশে লেখা রয়েছে, কুষ্টিয়া মিশন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নার্সারি থেকে দশম শ্রেণির সম্মানীত সকল অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের অবগত করা যাচ্ছে যে, আগামী ১৬ মার্চ শনিবার থেকে ২৮ মার্চ বৃহস্পতিবার পর্যন্ত শিক্ষকবৃন্দের শিক্ষা সফর উপলক্ষে বিদ্যালয় ছুটি থাকবে। আগামী ৩০ মার্চ শনিবার থেকে বিদ্যালয় যথারীতি ক্লাস চলবে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Mar/21/1553129462094.jpg

এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থানীয় এলাকাবাসী ও অভিভাবকরা জানান,  স্কুল ছুটি দিয়ে পরিবার নিয়ে ভারত ঘুরতে গেছেন শিক্ষক সদস্যরা। প্রধান শিক্ষক মনিতা মানকিন তার ক্ষমতা বলে সংরক্ষিত ছুটি দিয়ে এ ভ্রমণে গিয়েছেন। সামনেই প্রথম সাময়িক পরীক্ষা। এসএসসি পরীক্ষার কেন্দ্র হওয়ার কারণে প্রায় একমাস স্কুল বন্ধ ছিল। এরপর শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ করে সফরে যাওয়ায় শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। শিক্ষকদের কাছ থেকে এমন দায়িত্ব জ্ঞানহীন আচরণ প্রত্যাশিত নয়।

তবে শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ করে প্রমোদ ভ্রমণে যাবার বিষয়ে অবহিত নন জানিয়ে কুষ্টিয়ার জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জায়েদুর রহমান বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘জেলার বাইরে কোনো বনভোজন কিংবা সফরে গেলে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে লিখিত অনুমতি নিতে হয়। মিশন মাধ্যমিক বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আমাকে সফরে যাবার বিষয়ে অবহিত করেননি। কর্মদিবসে টানা ছুটি না দিয়ে, তারা যে কোনো ছুটির দিনের সাথে সমন্বয় করে সফরে যেতে পারতেন। এ ক্ষেত্রে তারা মোটেই দ্বায়িত্বশীলতার পরিচয় দেননি।’

বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক ও শিক্ষা আইসিটি) আজাদ জাহান বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘মিশন মাধ্যমিক বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাদের সফরের বিষয়ে প্রশাসনের কাছ থেকে লিখিত বা মৌখিক কোনো অনুমতি নেননি। শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ করে প্রমোদ ভ্রমণ সমর্থনযোগ্য নয়।’

বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

আপনার মতামত লিখুন :

ঠাকুরগাঁওয়ে বজ্রপাতে ৪ জনের মৃত্যু

ঠাকুরগাঁওয়ে বজ্রপাতে ৪ জনের মৃত্যু
বজ্রপাতের আঘাতে আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম।

ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী ও রানীশংকৈল উপজেলায় বজ্রপাতে ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় আহত হয়েছে আরও ১০ জন।

আহতদের মধ্যে ২ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে। বাকি ৮ জনকে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৩ জুলাই) বিকেলে জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার বড়পলাশবাড়ী ইউনিয়নে ও রাণীশংকৈল উপজেলায় এ বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার বড়পলাশবাড়ী ইউনিয়নের দালালবস্তী গ্রামের আব্দুল জব্বার (৪৫), রাণীশংকৈল উপজেলার আলসেয়া গ্রামের মনছুর আলীর ছেলে আবু সাঈদ (১৩), একই গ্রামের রবিউল ইসলাম (২৮), জগদল গ্রামের মৃত বাচা মোহাম্মদের ছেলে নুরুল ইসলাম (৪৩) ।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/23/1563886918443.jpg

বালিয়াডাঙ্গী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোসাব্বেরুল হক জানান, বিকেলে বড়পলাশবাড়ী ইউনিয়নের সরকারবস্তী গ্রামের ভাঙ্গারু নামে এক ব্যক্তির আম বাগানে পাহারার কাজে নিয়োজিত ছিলেন রবিউল ইসলাম ও নুরুল ইসলাম। এ সময় বজ্রপাতে রবিউল ঘটনাস্থলে মারা যায়। পরে নুরুল ইসলামকে হাসপাতালে নেওয়ার সময় মারা যায়।

একই সময় বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার দালালবস্তী গ্রামে মাঠে কাজ করার সময় আব্দুল জব্বার বজ্রপাতে ঝলসে গিয়ে মারা গেছেন।

অপরদিকে রাণীশংকৈল থানার ওসি আব্দুল মান্নান জানান, বিকেলে প্রতিবেশী আব্দুল খালেকের সঙ্গে মাঠে হাঁস আনতে গিয়েছিলেন আবু সাঈদ। বজ্রপাতে সেখাইনেই তার মৃত্যু হয়। তবে প্রতিবেশীর কোনো ক্ষতি হয়নি ।

বন্যা দুর্গত প্রত্যেক ঘরে ত্রাণ পৌঁছানো হবে: কৃষিমন্ত্রী

বন্যা দুর্গত প্রত্যেক ঘরে ত্রাণ পৌঁছানো হবে: কৃষিমন্ত্রী
কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর

কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক জানিয়েছেন, বন্যা দুর্গত প্রত্যেক মানুষের বাড়িতে পর্যাপ্ত পরিমাণ ত্রানসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হবে। বন্যার সময় যেমন খাদ্যসামগ্রী দেওয়া হবে, তেমনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে ঘর নির্মাণে সহযোগিতা করা হবে।

মঙ্গলবার (২৩ জুলাই) দুপুরে মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার চরাঞ্চল বাঁচামারা, শিবালয় উপজেলার অন্বয়পুর এবং হরিরামপুর উপজেলার বাহাদুরপুরে বন্যাকবলিতদের ত্রাণ প্রদানকালে তিনি এসব কথা বলেন।

আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আমাদের দেশ নদীমাতৃক দেশ, ভাঙন ও বন্যা স্বাভাবিক ব্যাপার। তবে সরকার বন্যা ও ভাঙন মোকাবিলায় স্থায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। চাঁদপুর থেকে পদ্মা ও যমুনা নদীতে ড্রেজিং করা হবে। ড্রেজিংয়ের মাটি নদীর পাড়ে ফেলে বাঁধ নির্মাণ করা হবে। এতে নদীর গভীরতা বৃদ্ধি পাবে এবং ভাঙন রোধ হবে।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, বন্যায় সবচেয়ে ক্ষতি হয় কৃষিতে। বন্যা পরবর্তী কৃষি পুনর্বাসনের জন্য কৃষকদের বিনামূল্যে সার ও বীজ প্রদান করা হবে। এজন্য ১২০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। আশা করা যায়, কৃষি পুনর্বাসনে কোনো সমস্যা হবে না।

বিএনপি নেতাদের বন্যা নিয়ে কোনো মাথাব্যথ্যা নেই মন্তব্য  করে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর এই সদস্য বলেন, বিএনপি নেতা রিজভী শুধু দলীয় কার্যালয়ে বসে প্রেসরিলিজ দেন আর সাংবাদিকরা তা মিডিয়াতে তুলে ধরেন। এছাড়া বিএনপি নেতাদের কোনো কাজ নেই।

Manikganj

তিনি বলেন, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ বিরোধী দলে ছিল। ওই সময় উত্তরাঞ্চলে মঙ্গা ও বন্যা হলে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা দুর্গতদের ত্রাণ দেন। কিন্তু গত ১১ বছরে বিএনপির কোনো নেতাকর্মী দুর্গতদের পাশে দাঁড়ায়নি।

আওয়ামী লীগের ত্রাণ বিষয়ক উপ-কমিটির পক্ষ থেকে মানিকগঞ্জের এই তিন উপজেলায় নদীভাঙন ও বন্যাকবলিত তিন হাজার পরিবারকে ৩০ কেজি করে চাল, ডাল, তেল, চিড়া, আলু ও লবণ দেওয়া হয়।

ত্রাণ বিতরণকালে উপস্থিত ছিলেন সাবেক মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য মির্জা আজম, আওয়ামী লীগের সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক ও সংসদ সদস্য অসীম কুমার উকিল, স্থানীয় সংসদ সদস্য নাঈমুর রহমান দুর্জয়, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট গোলাম মহীউদ্দীন, শিবালয় উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রেজাউর রহমান জানু, দৌলতপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নূরুল ইসলাম রাজা, হরিরামপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দেওয়ান সাইদুর রহমান।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র