Barta24

মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০১৯, ১১ আষাঢ় ১৪২৬

English Version

আবারো উত্তপ্ত পদ্মাকর ইউনিয়ন

আবারো উত্তপ্ত পদ্মাকর ইউনিয়ন
আবারো উত্তপ্ত পদ্মাকর ইউনিয়ন। ছবি: বার্তা২৪.কম
ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
ঝিনাইদহ
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, বাজার দখল নিয়ে আবারো উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার পদ্মাকর ইউনিয়ন। গত এক সপ্তাহ যাবৎ চলছে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া, মারধর, বাড়িঘর ভাঙচুর, লুটপাট ও আগুন দেয়ার মতো ঘটনা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হিমশিম খাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

এলাকার সচেতন মহল মনে করছে এখনি নেতৃত্বদানকারীদের লাগাম টেনে না ধরলে ঘটবে ৩ বছর আগের মতো নিহতের ঘটনা।

জানা যায়, এলাকায় আধিপত্য, নিজেদের ক্ষমতা জাহির ও সদর উপজেলার অন্যতম বাণিজ্যিক এলাকা হাটগোপালপুর বাজারের নিয়ন্ত্রণ নিতে বছরের পর বছর পদ্মাকর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা সৈয়দ নিজামুল গনি লিটু ও সাবেক চেয়ারম্যান ওই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি বিকাশ বিশ্বাসের সমর্থকদের বিরোধ চলে আসছিল। ২০১৬ সালের ৮ এপ্রিল আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ছয়াইল গ্রামে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে বিকাশ বিশ্বাসের সমর্থক আওয়ামী লীগ কর্মী আকামত হোসেন মীর নিহত হয়। এ ঘটনায় ১৩৩ জনের নামে মামলা করা হয়। মামলায় জেলা পরিষদের বর্তমান সদস্য আওয়ামী লীগ নেতা ইমাজুল হকসহ আসামিরা কয়েকমাস কারাগারে থাকেন। এ ঘটনার পর গত সংসদ নির্বাচনের আগে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আহতও হয় বেশ কয়েকজন।

সম্প্রতি উপজেলা চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন উপলক্ষে আবারো উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ওই ইউনিয়ন। গত ১ সপ্তাহে উভয় পক্ষের কমপক্ষে ২০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছে। প্রতিদিন ঘটছে মারধর ও ভাঙচুরের ঘটনা। গত ১২ মার্চ উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। ভাঙচুর করা হয় দোকানপাট। সর্বশেষ শনিবার (১৬ মার্চ) রাতে বিকাশ বিশ্বাসের সমর্থকরা লিটুর সমর্থকদের বাড়িঘর, দোকান পাটে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর, লুটপাট করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। প্রতিশোধ নিতে রোববার সকালে লিটু চেয়ারম্যানের সমর্থকরা সাবেক চেয়ারম্যান বিকাশ বিশ্বাসের সমর্থকদের বেশ কয়েকটি বাড়িঘর ভাঙচুর করে।

স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন, দ্রুত এ সমস্যার সমাধান না করলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে আওয়ামী লীগের ভাবমূর্তি। নিজেদের মধ্যে এ বিরোধ আওয়ামী লীগের দলকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে আর মজা লুটছে অন্যরা।

বর্তমান চেয়ারম্যান সৈয়দ নিজামুল গনি লিটু বলেন, ‘আমি চেয়ারম্যান মানুষ। আমি শান্তি চাই। কিন্তু বিকাশ বিশ্বাসের সমর্থকরা আমার সমর্থকদের বাজারে যেতে দেয় না। আমার সমর্থকদের মারধর করা হচ্ছে। আমি চাই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বিষয়টি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করুক আর এ সমস্যার সুষ্ঠু সমাধান করুক।’

সাবেক চেয়ারম্যান বিকাশ বিশ্বাস বলেন, ‘চেয়ারম্যান লিটু ও জেলা পরিষদের সদস্য ইমাজুল বিএনপি নেতাকর্মীদের নিয়ে আমার সমর্থক আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মারধর করছে। ২০১৬ সালের ৮ এপ্রিল নিহত আকামত হোসেন মীর হত্যা মামলা তুলে নিতে চেয়ারম্যান লিটু ও জেলা পরিষদের সদস্য ইমাজুল এ ধরনের ঘটনা ঘটাচ্ছে। আমি চাই হত্যাকারীদের সুষ্ঠু বিচার হোক। আমি কোনো অশান্তি চাই না।’

এ ব্যাপারে ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার মো. হাসানুজ্জামান জানান, মারামারি যারা করবে তার দায়ভার তারাই বহন করবে। সম্প্রতি মারামারির ঘটনায় ২টি মামলা হয়েছে। গ্রেফতারও হয়েছে কয়েকজন। কতিপয় ব্যক্তি বিশেষের স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য বিষয়টি সামাজিক গোলযোগে রূপ দিচ্ছে। যারা এ ধরনের কাজ করছেন তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।

পুলিশ সুপার আরও জানান, জেলা প্রশাসক মহোদয়ের সঙ্গে পরামর্শ করে ওই এলাকায় শান্তি ফিরিয়ে আনতে কিছু দিনের মধ্যে উভয় পক্ষ ও স্থানীয় নেতাদের নিয়ে একটি আইনশৃঙ্খলা মিটিং করা হবে। তিনি আশা করছেন দ্রুতই এ সমস্যা নিরসন হবে।

জেলা প্রশাসক সরোজ কুমার নাথ জানান, প্রতিদিন ওই এলাকায় ম্যাজিস্ট্রেট পাঠানো হচ্ছে। ওসি সাহেব সতর্ক রয়েছে। দ্রুত এ সমস্যার সমাধান করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন :

পুলিশ নিয়োগ বাণিজ্যে সাবেক আনসার সদস্য গ্রেফতার

পুলিশ নিয়োগ বাণিজ্যে সাবেক আনসার সদস্য গ্রেফতার
আটক হওয়া সাবেক আনসার সদস্য, ছবি: সংগৃহীত

পুলিশ কনস্টেবল পদে চাকরি পাইয়ে দেয়ার নামে টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে সাবেক এক আনসার সদস্যকে গ্রেফতার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গ্রেফতারকৃত জুলহাস উদ্দিন (৪৮) গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ি থানার কালুগাড়ি গ্রামের মৃত আব্দুল আজিজের ছেলে।

মঙ্গলবার (২৫ জুন) দুপুরে ডিবি পুলিশ বগুড়া শহরতলীর কৈচড় এলাকা থেকে কৌশলে গ্রেফতার করে তাকে।

জানা গেছে, কৈচড় মধ্যপড়ার আজিজুর বারী জিন্নাহের মেয়ে জিনিয়া আক্তার বর্ষা পুলিশ কনস্টেবল পদে ভর্তি হতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। এ খবর জানতে পেরে জিন্নাহের পূর্ব পরিচিত আনসার সদস্য জুলহাস তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

জুলহাস জানায় সাত লক্ষ টাকা হলে তার মেয়ে নারী কনস্টেবল পদে চাকরি নিয়ে দেয়া যাবে। গত এক সপ্তাহ ধরে জুলহাস তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এক পর্যায়ে গত সোমবার দুপুরে আজিজুর বারী জিন্নাহের বাড়িতে গিয়ে জুলহাস জানায়, নিয়োগের ব্যাপারে আলোচনা চূড়ান্ত হয়েছে। ৫০ হাজার টাকা এবং মেয়ের কাগজপত্রের ফটোকপি দিতে হবে। তার কথায় বিশ্বাস করে নগদ ৫০ হাজার টাকা ও মেয়ের শিক্ষাগত যোগ্যতার কাগজপত্রের ফটোকপি দিয়ে দেয়।

এরপর তারা জানতে পারেন বগুড়ার পুলিশ সুপার ঘোষণা দিয়েছেন পুলিশের চাকরি নিতে সরকারি ফি ১০০ টাকা ছাড়া কোনো প্রকার ঘুষ এবং তদবির লাগবে না। পুলিশ সুপারের এ ধরনের ঘোষণার পোস্টারিং দেখতে পেয়ে বিষয়টি পুলিশকে জানায় তারা। পরে গোয়েন্দা পুলিশ কৌশলে জুলহাসকে গ্রেফতার করে।

গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসলাম আলী বার্তা২৪.কমকে বলেন, গ্রেফতারকৃত জুলহাসের নামে আজিজুর বারীর স্ত্রী জুলেখা বেগম বাদী হয়ে বগুড়া সদর থানায় মামলা করেছেন।

উল্লেখ্য, পুলিশের স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নিয়োগের ব্যাপারে পুলিশ সুপারের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রচার প্রচারণার পরে দালাল চক্রের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। পুলিশও এসব দালালদের ধরতে নানা কৌশল অবলম্বন করছে। এর আগে আরও দুই প্রতারককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

সিলেট রুটে হঠাৎ যাত্রীশূন্য ট্রেন

সিলেট রুটে হঠাৎ যাত্রীশূন্য ট্রেন
সিলেট থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসা 'জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস'এর একটি বগি, শায়েস্তাগঞ্জ স্টেশন থেকে তোলা/ ছবি: বার্তা২৪.কম

মৌলভীবাজার জেলার কুলাউরায় ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনার পর হঠাৎ করেই যেন সিলেট রুটে কমে গেছে ট্রেনের যাত্রী। অন্য সময় যেখানে টিকিট নিয়ে কাড়াকাড়ি চলত, সেখানে এখন যাত্রীশূন্য বগি নিয়ে চলছে ঢাকা-সিলেট রুটের ট্রেনগুলো।

জানা যায়, ১৭৬ কিলোমিটারের ঢাকা-সিলেট রেলপথটি ব্রিটিশ আমলের তৈরি। সম্প্রতি ঢাকা থেকে ভৈরব পর্যন্ত ডবল লাইন স্থাপন করা হলেও ভৈরব থেকে সিলেট পর্যন্ত সিঙ্গেল লাইন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/25/1561461031553.jpg

অথচ, শত বছরের পুরনো রেলব্রিজ ও ত্রুটিপূর্ণ লাইন দিয়েই বছরের পর বছর ধরে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছেন সিলেট বিভাগের চার জেলার মানুষ। সামান্য ঝড় বৃষ্টি হলেই রেললাইনে নিচ থেকে মাটি সরে গিয়ে মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয় ট্রেনযাত্রা। বিভিন্ন সময় ঘটছে দুর্ঘটনাও।

মৌলভীবাজার জেলার কুলাউরায় গত রোববার (২৩ জুন) সিলেট থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসা উপবন এক্সপ্রেসের কয়েকটি বগি সেতু ভেঙে খালে পড়ে চারজন নিহত হন।

এ ঘটনায় আহত হন অন্তত দেড় শতাধিক মানুষ। ভয়াবহ এই দুর্ঘটনাটি ঢাকা-সিলেট রোডের যাত্রীদের মধ্যে অতঙ্ক বাড়িয়ে দেয়। ফলে হঠাৎ করেই কমে যায় এ রুটে রেলের যাত্রীর সংখ্যা।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/25/1561461101689.jpg

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দুর্ঘটনায় ঢাকা-সিলেট রেলপথ বন্ধ থাকার পর সোমবার (২৪ জুন) বিকাল থেকে রেল চলাচল ফের চালু হয়। কিন্তু হঠাৎ করেই যেন রেলপথে যাত্রীদের আগ্রহ কমে গেছে। সোমবার বিকাল থেকে যতগুলো ট্রেন এই রুট দিয়ে চলেছে, এর সবগুলো ট্রেনই প্রায় খালি বগি নিয়ে আসা যাওয়া করছে।

মঙ্গলবার (২৫ জুন) দুপুরে হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ রেল জংশনে গিয়ে দেখা যায়, পুর্বের তুলনায় সেখানে যাত্রী অনেক কম। এছাড়া সিলেট থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসা 'জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস' ট্রেন দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে অনেকগুলো খালি বগি নিয়ে শায়েস্তাগঞ্জ স্টেশনে প্রবেশ করে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/25/1561461179148.jpg

শায়েস্তাগঞ্জ রেল জংশন সূত্র জানায়, সোমবার থেকেই এই রুটে আসা-যাওয়া করা ট্রেনগুলো প্রায় খালি বগি নিয়ে চলছে। এ স্টেশনেও যাত্রীদের আনাগোনা কম।

শায়েস্তাগঞ্জ সহকারী স্টেশন মাস্টার প্রসাদ দাস  বলেন, 'আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। আর যাত্রীরা আতঙ্কিত হচ্ছেনও না। রেল চলাচল যে স্বাভাবিক হয়েছে, তা অনেকেই এখনো জানেন না। তাই যাত্রীর চাপ কম।’

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র