Barta24

রোববার, ২১ জুলাই ২০১৯, ৬ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

নবাবগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অ্যাম্বুলেন্স আছে, চালক নেই

নবাবগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অ্যাম্বুলেন্স আছে, চালক নেই
চালকের অভাবে পড়ে রয়েছে নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অ্যাম্বুলেন্সটি/ ছবি: বার্তা২৪.কম
মো. সাদের হোসেন বুলু
ডিস্ট্রিক্ট্র করেসপন্ডেন্ট
ঢাকা
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সরকারি একমাত্র অ্যাম্বুলেন্স চালকের পদটি প্রায় ছয় মাস ধরে শূন্য। চালক না থাকায় উন্নত চিকিৎসার জন্য গুরুতর অসুস্থ রোগীদের ঢাকায় আনতে নানা বিড়ম্বনায় পড়তে হয় দরিদ্র ও অসহায় রোগীদের।

জানা গেছে, দীর্ঘ সময় ধরে এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আগের অ্যাম্বুলেন্সটি অকেজো হয়ে পড়ে ছিল। পরে ২০১৬ সালে নতুন একটি অ্যাম্বুলেন্স দেওয়া হয়। কিন্তু গত ছয় মাস আগে এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অ্যাম্বুলেন্স চালকের পদটি শুন্য হয়ে যায়। ফলে দরিদ্র রোগীরা পরিবহন ও জরুরি স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

সিংগাইর উপজেলার চান্দহর থেকে চিকিৎসা নিতে আসা শিশু ইয়াসিনের (৩) বাবা আব্দুল আলিম বার্তা২৪.কম-কে বলেন, ‘চিকিৎসক ছেলেকে ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। কিন্তু হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স চালক না থাকায় বাইরে থেকে অতিরিক্ত টাকায় অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করতে হয়েছে। যা আমার জন্য খুবই কষ্টকর ও ব্যবহুল।’

নবাবগঞ্জের শোল্লা খতিয়া এলাকার তানিয়া আক্তার বার্তা২৪.কম’কে বলেন, ‘আমার স্বামীকে ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। কিন্তু এখানে অ্যাম্বুলেন্স চালক নেই। আবার এই মুহূর্তে আমার হাতে টাকাও নেই। ফলে এখন কী করবো- সেটা বুঝতে পারছি না।’

উপজেলা কৃষক লীগ সভাপতি অ্যাডভোকেট জাহিদ হায়দার উজ্জল বার্তা২৪.কম-কে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গণমুখী স্বাস্থ্য নীতির কল্যাণে ২০১৬ নবাবগঞ্জবাসী একটি নতুন সরকারি অ্যাম্বুলেন্স উপহার পায়। কিন্তু সংশ্লিষ্ট দপ্তরের উদাসীনতায় চালক পদটি শুন্য হয়ে গেছে, যা খুবই দুঃখজনক। কারণ সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।’

এ সময় তিনি যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত শূন্য পদটি পূরণের আহ্বান জানান।

নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. শহীদুল ইসলাম বার্তা২৪.কম’কে বলেন, ‘এখানে সবসময় রোগীর চাপ থাকে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আশা করছি শীঘ্রই শূন্য পদে নিয়োগ দেওয়া হবে।’

আপনার মতামত লিখুন :

বিশুদ্ধ পানির জন্য হাহাকার

বিশুদ্ধ পানির জন্য হাহাকার
লাইনে দাঁড়িয়ে বিশুদ্ধ পানি সংগ্রহ করছেন বন্যা কবলিত জনগণ, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর

বন্যায় গাইবান্ধা জেলার প্রায় চার লাখ মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের টিউবয়েলগুলো পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে। ফলে বন্যা কবলিত এলাকায় দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির সঙ্কট। বিশুদ্ধ পানির জন্য তাদের মধ্যে শুরু হয়েছে হাহাকার।

ডেভিট কোম্পানিপাড়ার বাসিন্দা স্বপন মিয়া বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, ‘এমনিতে আমাদের অন্নের সঙ্কট, সেই সঙ্গে যোগ হয়েছে বিশুদ্ধ পানির অভাব।’

এদিকে দূষিত পানির কারণে কারো যাতে ডায়রিয়া বা অন্য কোনো পানিবাহিত রোগ না হয়, সে জন্য কাজ করে যাচ্ছে ‘এভারগ্রিন জুম বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন’ নামের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ ও ভলান্টিয়াররা প্লাবিত এলাকার মানুষদের মধ্যে বিশুদ্ধ পানি পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন। শুধু পানিই নয়, তারা দিচ্ছেন পানি বিশুদ্ধ করণ ট্যাবলেট, খাবার স্যালাইন, কার্বলিক এসিড, অ্যামোডিস ও প্যারাসিটামলসহ বিভিন্ন ধরনের ত্রাণ সামগ্রী।

এরই মধ্যে জেলার গোদারহাট, পুলবন্দি, ফারাজিপাড়া ও কোটিপাড়া এলাকাসহ বিভিন্ন এলাকার প্রায় এক হাজার ৩০০ পরিবারের মধ্যে এসব বিতরণ করেছে সংগঠনটি।

গাইবান্ধা শাখার এ সংগঠনের সমন্বয়ক মো. মেহেদী হাসান বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন দাতদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ এবং সংগঠনের অর্থ সমন্বয় করে বন্যা কবলিত মানুষের মধ্যে নিরাপদ পানিসহ বিভিন্ন সামগ্রী বিতরণ করে আসছি। দানশীল মানুষরা সহযোগিতা করলে এ কার্যক্রম চলমান থাকবে।’

বন্যা: মশালের চরে তিন শতাধিক পরিবারের নৌকায় বসবাস

বন্যা: মশালের চরে তিন শতাধিক পরিবারের নৌকায় বসবাস
বন্যায় নৌকায় আশ্রয়, , ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

দুই শিশু সন্তানসহ পরিবারের ছয় সদস্য নিয়ে নৌকায় সংসার পেতেছেন কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার বেগমগঞ্জ ইউনিয়নের মশালের চরের মরিয়ম বেগম (৪০)। ১২ দিন আগে বন্যার পানি বিছানা পর্যন্ত ওঠায় পরিবারের সদস্যরা মিলে নিজেদের মাছ ধরার ছোট ডিঙ্গি নৌকায় উঠেছেন। সেই থেকে নৌকাতেই কাটছে দিন-রাত। রান্না, খাওয়া এমনকি টয়লেটের কাজও সারতে হচ্ছে নৌকাতেই।

শুধু মরিয়মের পরিবারই নয়, তার মতো প্রায় তিন শতাধিক পরিবার ১২ দিন ধরে নৌকায় বাস করছেন।

সরেজমিন দেখা গেছে, নিকটবর্তী সব উঁচু বাঁধ ও উঁচু জায়গা বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। ফলে ডুবে যাওয়া ঘর-বাড়ির পাশেই নৌকাতে বসবাস করছে এসব পরিবার। আর বন্যা দীর্ঘমেয়াদী হওয়ায় নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে তাদের। ঘরে সঞ্চিত শুকনা খড়ি বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় রান্নাও হচ্ছে না ঠিক মতো। ফলে কোনও রকম একবার রান্না করে দিন পার করতে হচ্ছে সবাইকে।

জমিয়ে রাখা শুকনা খাবারও শেষ হয়ে গেছে। তবে কিছু পরিবার স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যের মাধ্যমে সরকারি ত্রাণের আট-১০ কেজি চাল পেয়েছেন, যা অনেক পরিবারের ভাগ্যে জোটেনি। অন্যদিকে নৌকায় বসবাস করায় বন্ধ রয়েছে মাছ ধরা। ফলে বন্ধ আছে আয় রোজগারও। আর বিকল্প নৌকা না থাকায় বাজার থেকে শুকনো খড়ি বা শুকনা খাবার কিনতে যাওয়ার কোনও উপায় নেই।

আরও জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে নৌকায় বসবাস করতে হওয়ায় শিশুরা ডায়রিয়া, জ্বরসহ নানা পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। দ্রুত বন্যার পানি নেমে না গেলে খাওয়ার সমস্যাসহ রোগব্যাধিতে দুর্ভোগ আরও বাড়বে।

https
বন্যায় নৌকায় আশ্রয়, , ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

 

মশালের চরের ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য আবু বকর সিদ্দিক বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, ‘নিকটবর্তী কোনও শুকনা জায়গা না থাকায় এই চরের লোকজন নৌকায় আশ্রয় নিয়েছেন। ডিঙ্গি নৌকায় সব সময় সাবধান না থাকলে যে কোনও সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। নৌকায় বসবাসকারী বেশির ভাগ পরিবারকে ১০ কেজি করে চাল দেওয়া হয়েছে। যারা পাননি তারা পরবর্তী ত্রাণ সহায়তা এলে পাবেন।’

উলিপুর উপজেলার বেগমগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. বেলাল হোসেন বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, ‘এ ইউনিয়নে কমপক্ষে ছয়শ’ পরিবার ছোট নৌকায় উঠেছে। এর মধ্যে মশালের চরেরই রয়েছে তিন শতাধিক পরিবার। নৌকায় বসবাসকারী বেশির ভাগ পরিবার তাদের মাছ ধরার নৌকায় সংসার পেতেছেন। রান্না-বান্না, খাওয়া-দাওয়া, ঘুম সব নৌকাতেই। আর যাদের নৌকা নেই, তারা দূরবর্তী উঁচু জায়গা বা আত্মীয় স্বজনদের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। পর্যাপ্ত সহায়তা না আসায় প্রয়োজন অনুযায়ী তাদের ত্রাণ দেওয়া সম্ভব হয়নি।’

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র