Barta24

মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০১৯, ১১ আষাঢ় ১৪২৬

English Version

রুম না পেয়ে ফুটপাতে পর্যটক

রুম না পেয়ে ফুটপাতে পর্যটক
হোটেলে হোটেলে ঘুরে রুম পাচ্ছে না পর্যটকরা, ছবি: বার্তা২৪.কম
মুহিববুল্লাহ মুহিব
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
কক্সবাজার


  • Font increase
  • Font Decrease

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে টানা তিনদিনের ছুটির ফাঁদে পড়েছে দেশ। ছুটির দিনগুলো পরিবার বা প্রিয়জনের সঙ্গে কাটাতে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকতের নগরী কক্সবাজারে ছুটে এসেছে ভ্রমণপিপাসুরা। ভ্রমণ করছেন পাহাড়-সমূদ্রঘেরা মেরিনড্রাইভ সড়ক ও সৈকতের ১১টি পয়েন্টে। আর আগত পর্যটকদের নিরাপত্তায় নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। কিন্তু রাতে হোটেল-মোটেলে রুম না পেয়ে শহরের বিভিন্ন এলাকার ফুটপাতে অবস্থান নিয়েছে হাজারও পর্যটক।

জানা যায়, টানা ছুটিকে কেন্দ্র করে সাগরের নীল জলরাশি ও প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য কক্সবাজারে বেড়াতে এসেছেন প্রায় ৩ লাখ পর্যটক। শহরের ৪ শতাধিকের বেশি হোটেল-মোটেল ও রিসোর্টগুলোতে এখন ‘ঠাঁই নেই’ অবস্থা। পর্যটকরা সৈকতের লাবনী, সুগন্ধা, ইনানী, হিমছড়িসহ ৬টি পয়েন্ট ছাড়াও ভ্রমণ করেছেন, দরিয়ানগর, হিমছড়ি ঝর্না, রামুর বৌদ্ধ বিহার, রেডিয়েন্ট ফিশ ওর্য়াল্ড, মহেশখালীর আদিনাথ মন্দির, সোনাদিয়া ও সেন্টমার্টিনসহ বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান। পর্যটকদের সরব উপস্থিতিতে সমুদ্রের পাড় যেন উৎসবে পরিণত হয়েছে। কেউ রুম পেয়ে আনন্দে মেতে উঠলেও না পেয়ে হতাশ অর্ধ-লক্ষাধিক পর্যটক।

বৃহস্পতিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাত আনুমানিক পৌনে ১১টা। সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে আছে ঢাকা থেকে আগত দেড় শতাধিক পর্যটক। সকাল থেকে হোটেল-মোটেলে চেষ্টা করেও রুম পাননি। এখন শুধুই ভরসা ফুটপাত। এরকম বিভিন্ন পয়েন্টে অন্তত দেড় লক্ষাধিক পর্যটক সড়কের পাশে অবস্থান করছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Feb/21/1550770863039.jpg

ঢাকা থেকে আসা পর্যটক মুবিনুল হক জানান, ছুটি পেয়ে খুশি হয়েছিলাম বন্ধু-বান্ধব মিলে বেড়াতে আসলাম। কিন্তু রুম না পাওয়ায় পুরো ভ্রমণের আনন্দই মাটি।

রুম না পেয়ে ফুটপাতে বসে থাকা শামসুল আলম বলেন, ছুটি পেয়ে আমরা বন্ধুরা গ্রুপ করে কক্সবাজার বেড়াতে এসেছি। এখানে না এলে বোঝা যাবে না এই জায়গা কতো সুন্দর। সমুদ্রের পাড়ে দাঁড়ালেই মনে আনন্দ লাগে। কিন্তু রাতে সে আনন্দ মাটি করে দিলো হোটেল রুম। রুম না পেয়ে ১৭ বন্ধুসহ এখন রাস্তায় রাস্তায় ঘুরছি।

টাঙ্গাইল থেকে এসেছেন রায়সুল আবেদীন। তিনি বলেন, রুম এক ধরণের সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি। তারা পর্যটকদের জিম্মি করে বাড়তি ভাড়া দাবি করছে। যা নিয়মের চেয়ে যার গুণ বেশি। আমরা এর প্রতিকার চাই।

হোটেল-মোটেল মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম বার্তা ২৪.কমকে জানান, বেড়াতে আসা পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে তারা অঙ্গীকারাবদ্ধ। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে নৈশ্যপ্রহরীসহ পুরো হোটেল-মোটেল জোন সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে। পাশাপাশি প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। যাতে কেউ পর্যটকের ক্ষতি করতে না পারে।

রুমের বাড়তি ভাড়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অনেক আগে থেকে অনলাইনের মাধ্যমে রুম বুকিং চলছে। যেহেতু বেশিরভাগ অনলাইনে বুকিং এখানে বাড়তি টাকা আদায়ের কোনো সুযোগ নেই।

ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার জোনের এসপি মো. জিল্লুর রহমান বার্তা ২৪.কমকে বলেন, একুশে ফেব্রুয়ারি উপলক্ষ্যে বিপুল সংখ্যক পর্যটকের আগমন ঘটেছে কক্সবাজারে। বিশেষ দিবসে আগত পর্যটকরা যেন কোনো ধরনের হয়রানি কিংবা দুর্ঘটনায় কবলে না পড়েন সেজন্য সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পর্যটক জোনগুলোতে ট্যুরিস্ট পুলিশসহ অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন রয়েছে। এছাড়া পর্যটকদের তথ্য প্রদানের মাধ্যমে সেবা নিশ্চিত করা হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন :

সিলেট রুটে হঠাৎ যাত্রীশূন্য ট্রেন

সিলেট রুটে হঠাৎ যাত্রীশূন্য ট্রেন
সিলেট থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসা 'জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস'এর একটি বগি, শায়েস্তাগঞ্জ স্টেশন থেকে তোলা/ ছবি: বার্তা২৪.কম

মৌলভীবাজার জেলার কুলাউরায় ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনার পর হঠাৎ করেই যেন সিলেট রুটে কমে গেছে ট্রেনের যাত্রী। অন্য সময় যেখানে টিকিট নিয়ে কাড়াকাড়ি চলত, সেখানে এখন যাত্রীশূন্য বগি নিয়ে চলছে ঢাকা-সিলেট রুটের ট্রেনগুলো।

জানা যায়, ১৭৬ কিলোমিটারের ঢাকা-সিলেট রেলপথটি ব্রিটিশ আমলের তৈরি। সম্প্রতি ঢাকা থেকে ভৈরব পর্যন্ত ডবল লাইন স্থাপন করা হলেও ভৈরব থেকে সিলেট পর্যন্ত সিঙ্গেল লাইন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/25/1561461031553.jpg

অথচ, শত বছরের পুরনো রেলব্রিজ ও ত্রুটিপূর্ণ লাইন দিয়েই বছরের পর বছর ধরে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছেন সিলেট বিভাগের চার জেলার মানুষ। সামান্য ঝড় বৃষ্টি হলেই রেললাইনে নিচ থেকে মাটি সরে গিয়ে মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয় ট্রেনযাত্রা। বিভিন্ন সময় ঘটছে দুর্ঘটনাও।

মৌলভীবাজার জেলার কুলাউরায় গত রোববার (২৩ জুন) সিলেট থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসা উপবন এক্সপ্রেসের কয়েকটি বগি সেতু ভেঙে খালে পড়ে চারজন নিহত হন।

এ ঘটনায় আহত হন অন্তত দেড় শতাধিক মানুষ। ভয়াবহ এই দুর্ঘটনাটি ঢাকা-সিলেট রোডের যাত্রীদের মধ্যে অতঙ্ক বাড়িয়ে দেয়। ফলে হঠাৎ করেই কমে যায় এ রুটে রেলের যাত্রীর সংখ্যা।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/25/1561461101689.jpg

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দুর্ঘটনায় ঢাকা-সিলেট রেলপথ বন্ধ থাকার পর সোমবার (২৪ জুন) বিকাল থেকে রেল চলাচল ফের চালু হয়। কিন্তু হঠাৎ করেই যেন রেলপথে যাত্রীদের আগ্রহ কমে গেছে। সোমবার বিকাল থেকে যতগুলো ট্রেন এই রুট দিয়ে চলেছে, এর সবগুলো ট্রেনই প্রায় খালি বগি নিয়ে আসা যাওয়া করছে।

মঙ্গলবার (২৫ জুন) দুপুরে হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ রেল জংশনে গিয়ে দেখা যায়, পুর্বের তুলনায় সেখানে যাত্রী অনেক কম। এছাড়া সিলেট থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসা 'জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস' ট্রেন দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে অনেকগুলো খালি বগি নিয়ে শায়েস্তাগঞ্জ স্টেশনে প্রবেশ করে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/25/1561461179148.jpg

শায়েস্তাগঞ্জ রেল জংশন সূত্র জানায়, সোমবার থেকেই এই রুটে আসা-যাওয়া করা ট্রেনগুলো প্রায় খালি বগি নিয়ে চলছে। এ স্টেশনেও যাত্রীদের আনাগোনা কম।

শায়েস্তাগঞ্জ সহকারী স্টেশন মাস্টার প্রসাদ দাস  বলেন, 'আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। আর যাত্রীরা আতঙ্কিত হচ্ছেনও না। রেল চলাচল যে স্বাভাবিক হয়েছে, তা অনেকেই এখনো জানেন না। তাই যাত্রীর চাপ কম।’

চুয়াডাঙ্গায় ৫ পুলিশ ক্লোজড: তদন্ত কমিটি গঠন

চুয়াডাঙ্গায় ৫ পুলিশ ক্লোজড: তদন্ত কমিটি গঠন
ছবি: বার্তা২৪

চুয়াডাঙ্গায় পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগে অনৈতিক সুবিধার অভিযোগে এক ইন্সপেক্টরসহ পাঁচ পুলিশ সদস্যকে ক্লোজড করার ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। জেলায় কনস্টেবল নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের প্রাথমিক অভিযোগে রোববার (২৩ জুন) তাদের ক্লোজড করা হয়।

চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হেডকোয়ার্টাস) আবুল বাশারকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি করা হয়েছে।

Chuadanga Police

বার্তা২৪.কমকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানান, চলতি ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল পদে জেলায় ১৫ জন পুরুষ ও ৩ জন নারী নেওয়া হবে। গত শনিবার (২২ জুন) কনস্টেবল পদের চলমান নিয়োগে লিখিত পরীক্ষায় অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার তথ্য পান জেলা পুলিশ সুপার মাহবুবুর রহমান। ওই তথ্যের ভিত্তিতে একজন ইন্সপেক্টরসহ পাঁচ পুলিশ সদস্যকে পুলিশ লাইনে ক্লোজড করা হয়।

যারা ক্লোজড হয়েছেন তারা হলেন- ইন্সপেক্টর শহীদুজ্জামান, এএসআই জাহিদুল ইসলাম, কনস্টেবল সাজ্জাত গাজী, কনস্টেবল হারুনা রশীদ ও কনস্টেবল কামরুল ইসলাম।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র