Barta24

বুধবার, ১৭ জুলাই ২০১৯, ২ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

হত্যার পর ফ্যানে ঝুলিয়ে দেয় গৃহবধূর লাশ

হত্যার পর ফ্যানে ঝুলিয়ে দেয় গৃহবধূর লাশ
হত্যার পর ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দেয় গৃহবধূর লাশ, ছবি: সংগৃহীত
ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
সাতক্ষীরা
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

সাতক্ষীরায় গৃহবধূকে হত্যার পর মুখে বিষ ঢেলে ঘরের সিলিং ফ্যানে ঝুলিয়ে বাইর থেকে তালা লাগিয়ে পালানোর সময় জনতার সহযোগিতায় পুলিশ তিনজনকে আটক করেছে।

মঙ্গলবার (১২ফেব্রুয়ারি) দুপুরের দিকে পুলিশ লাশ উদ্ধারের পর সুরতহাল রিপোর্ট শেষে ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে তিন জনকে আটক করেছে। নিহত গৃহবধূর নাম আঁখি বসু (২০)। তিনি যশোরের কেশবপুর থানার গড়ভাঙা গ্রামের গোবিন্দ বসু ও জোসনা বসুর মেয়ে।

গোবিন্দ বসু জানান, তার মেয়ে আঁখি বসুকে হত্যা করেছে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ব্রহ্মরাজপুর গ্রামের এস কে বোস তার স্ত্রী অশোকা বোস এবং ছেলে অরূপ বোস (২৫)।

তিনি আরও জানান, বছর দেড়েক আছে অরূপ বোসের সাথে তার মেয়ে আঁখির বিয়ে হয়। বিয়ের পর শ্বশুর আঁখির ওপর যৌন নির্যাতন করত। বাবা ও ছেলে দুজনই যৌন নির্যাতন করতো আঁখির ওপর। তাদের এ অনৈতিক কাজে সহযোগিতা করতো শাশুড়ি অশোকা বোস।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Feb/12/1549966478168.jpg

অভিযুক্ত এস কে বোস সাবেক মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দের শ্যালক।

মঙ্গলবার সকালে আঁখিকে নির্যাতনের পর পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে লাশের মুখে বিষ ঢেলে দেয় এসকে বোস ও তার ছেলে অরূপ বোস। এরপর মৃতদেহ ঘরের সিলিং ফ্যানে ঝুলিয়ে রেখে বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে পালিয়ে যাবার চেষ্টা করে। প্রতিবেশীরা বিষয়টি বুঝতে পেরে পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে। এরপর জনতার সহায়তায় আঁখির ঘাতক তার স্বামী অরূপ বোস, শ্বশুর এসকে বোস ও শাশুড়ি অশোকা বোসকে আটক করে।

সাতক্ষীরা সদর থানার এসআই হাসানুজ্জামান, এএসআই শিল্লুর রহমান, এএসআই কুতুবউদ্দিন ঘটনাস্থল থেকে জানান, গৃহবধূ আঁখি বোসকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার পর মুখে বিষ ঢেলে মরদেহ ঘরের সিলিং ফ্যানে ঝুলিয়ে রাখে। এরপর বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে পালিয়ে যাবার সময় জনতার সহযোগিতায় পিতা পুত্র ও মাতাকে আটক করা হয়েছে।

সাতক্ষীরা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আপনার মতামত লিখুন :

কুড়িগ্রামে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, শুকনো খাবার-বিশুদ্ধ পানির সংকট

কুড়িগ্রামে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, শুকনো খাবার-বিশুদ্ধ পানির সংকট
রৌমারীতে সড়কে নৌকায় চালিয়ে জিনিসপত্র নিয়ে আশ্রয়কেন্দ্রের দিকে যাচ্ছেন বাসিন্দারা/ ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

ঘরে শুকনো খাবার নেই। নেই রান্নার খড়িও। নলকূপ তলিয়ে থাকায় মিলছে না বিশুদ্ধ খাবার পানি। টয়লেট ব্যবস্থা না থাকায় বাড়ছে বিড়ম্বনা। এ চিত্র এখন কুড়িগ্রামের কুড়িগ্রামের চরাঞ্চলের ৫৬টি ইউনিয়নের দেড় লক্ষাধিক পরিবারের।

এসব পরিবারের প্রায় সোয়া ছয় লাখ মানুষ অবর্ণনীয় কষ্টে দিন পার করছেন। এদের বেশির ভাগই পানির ওপরে নৌকায় ও ঘরের ভেতর মাচান উঁচু করে অতি কষ্টে দিন-রাত যাপন করছেন। খাবারের তীব্র সংকটে পড়েছে এ পরিবারগুলো।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/17/1563361590191.gif

আর যারা ঘর-বাড়ি ছেড়ে উঁচু বাঁধ ও পাকা সড়কসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিবার পরিজন নিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন, তারাও পড়েছেন নানা দুর্ভোগে। কোথাও কোথাও বন্যা দুর্গতদের আশ্রিত স্থানেও হানা দিয়েছে বন্যার পানি। অনেক পরিবার নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে দোকান থেকে কেনা শুকনো খাবারের উপর। কিন্তু নগদ টাকার অভাবে অনেক পরিবারের ভাগ্যে জুটছে না সেই খাবার টুকুও।

বাঁধ ও পাকা সড়কের দুই ধারে খুপড়ি ঘর ও পলিথিনের তাবু টানিয়ে স্ত্রী, ছেলে-মেয়ে ও গবাদি পশু নিয়ে বসবাস করলেও অনেক পরিবার পলিথিন বা ত্রিপলের অভাবে রয়েছেন খোলা আকাশের নিচে। টয়লেটের ব্যবস্থা না থাকায় বেশি বিড়ম্বনায় পড়েছেন নারীরা।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/17/1563361608569.gif

এদিকে সরকারি হিসাবেই জেলায় প্রায় সোয়া ছয় লাখ মানুষ বন্যাদুর্গত হয়ে শুকনো খাবারের সংকট নিয়ে বসবাস করলেও জেলা প্রশাসন থেকে তাদের জন্য দুই হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে।

রৌমারী উপজেলার চর বন্দবের ইউনিয়নের সাধু শেখের স্ত্রী ফিরোজা বেগম বলেন, ‘বন্যায় খুব দুর্ভোগে আছি। রান্না করার উপায় নাই। ঘরে শুকনো খাবারও নাই। এ অবস্থা চলতে থাকলে বাঁচার উপায় থাকবে না।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/17/1563361626587.gif

বন্দবের ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কবির হোসেন জানান, ‘ইউনিয়নের ৪৭ হাজার মানুষ বন্যা কবলিত, এদের বেশির ভাগ ইউনিয়ন পরিষদসহ উঁচু জায়গায় আশ্রয় নিয়েছে। এসব বন্যাদুর্গত মানুষের জন্য সরকারিভাবে এ পর্যন্ত ১১০ প্যাকেট শুকনো খাবার ও ৯ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ পেয়েছি।’

রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দিপঙ্কর রায় জানান, ‘উপজেলার প্রায় ৯০ ভাগ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। পানিবন্দিদের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ অব্যাহত রেখেছি।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/17/1563361643993.gif

জানা গেছে, জেলার ৯টি উপজেলার বন্যা পরিস্থিতি ক্রমান্বয়ে অবনতির দিকে যাচ্ছে। ব্রহ্মপুত্র নদের পানি চিলমারী পয়েন্টে বিপদসীমার ১৩১ সেন্টিমিটার, নুনখাওয়া পয়েন্টে ১০০ সেন্টিমিটার ও ধরলার পানি সেতু পয়েন্টে ১১৬ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে করে বন্যার পানির চাপে জেলার রৌমারী, রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম সদর, নাগেশ্বরী, ভুরুঙ্গামারী, ফুলবাড়ী, চিলমারী ও উলিপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় শহর রক্ষা বাঁধ ছিড়ে ও সড়ক-মহাসড়কের উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়ে তা ঢুকে পড়ছে উঁচু এলাকার গ্রাম ও হাটবাজারগুলোতে।

কুড়িগ্রামের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মো: হাফিজুর রহমান বলেন, ‘৯ লাখ টাকা জিআর ক্যাশ দিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের মাধ্যমে বন্যা কবলিতদের মধ্যে শুকনো খাবার কিনে দেওয়া হচ্ছে। নতুন করে চার লাখ ৮৮ হাজার পরিবারকে দেওয়ার জন্য ভিজিএফ বরাদ্দ পাওয়া গেছে, যা দ্রুত বিতরণ করা হবে।’

ভুঞাপু‌রে ৪০ গ্রা‌মের মানুষ পা‌নিব‌ন্দি

ভুঞাপু‌রে ৪০ গ্রা‌মের মানুষ পা‌নিব‌ন্দি
ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর

টাঙ্গাই‌লের ভুঞাপু‌রে পাঁচ‌টি ইউ‌নিয়‌নের ৪০ গ্রা‌মের মানুষ পা‌নিব‌ন্দি হ‌য়ে প‌ড়ে‌ছেন। যমুনা নদী‌র পা‌নি বাড়ায় বন্যার্ত এসব গ্রামে খাদ্য ও সুপেয় পা‌নির ত‌ীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।

বুধবার (১৭ জুলাই) উপ‌জেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, ঘরবা‌ড়ি‌তে পা‌নিতে নিমজ্জিত থাকায় গরু-ছাগল ও প‌রিবার নি‌য়ে অনেকেই উচু প্রাথ‌মিক বিদ্যালয়গু‌লোতে আশ্রয় নি‌য়ে‌ছেন। উপ‌জেলার সাতটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ৩০টি স‌রকা‌রি প্রাথ‌মিক বিদ্যালয় বন্ধ রাখা হ‌য়ে‌ছে।

টাঙ্গাই‌লের পা‌নি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানায়, ভুঞাপুর উপ‌জেলায় যমুনা নদীর পা‌নি বিপদসীমার ৭২ সে‌ন্টি‌মিটার ওপর দি‌য়ে প্রবাহিত হ‌চ্ছে। আরও দুইদিন যমুনার পা‌নি বাড়ার সম্ভাবনা আছে।

Tangail-Flood

উপজেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয় সূ‌ত্রে জানা গে‌ছে, উপ‌জেলার গো‌বিন্দাসী ইউ‌নি‌য়‌নের চারটি গ্রাম, নিকরাইল ইউ‌নিয়‌নে আটটি, গাবসারা ইউ‌নিয়‌নে ছয়টি, অর্জুনা ইউনিয়‌নে ১৮টি ও ফলদা ইউ‌নিয়‌নের তিন‌টি গ্রা‌মের মানুষ পা‌নিব‌ন্দি হ‌য়ে প‌ড়ে‌ছেন। এর আগে গত ক‌য়েক‌দি‌নের নদীভাঙ‌নে উপ‌জেলার গো‌বিন্দাসী ইউনিয়‌নের তিন‌টি গ্রা‌মে শতা‌ধিক পরিবার গৃহহারা হ‌য়ে প‌ড়ে‌ছে। ক‌য়েক‌ গ্রা‌মের ভাঙ‌নে ফসলি জ‌মি নদীগ‌র্ভে চ‌লে গে‌ছে।

ভাঙন ও বন্যার কার‌ণে দি‌শেহারা মানুষ মানব‌বেতর জীবন যাপন কর‌ছেন। জায়গাসহ ঘরবা‌ড়ি হা‌রি‌য়ে বহু মানুষ নিঃস্ব হ‌য়ে গেছেন। তাদের অনেকেই খোলা আকা‌শের নি‌চে বসবাস করছেন। অনেকেই আত্মীয়স্বজনের বা‌ড়ি‌তে আশ্রয় নি‌য়ে‌ছেন।

ভাঙনকব‌লিত মানু‌ষের অভিযোগ, ভাঙন‌রো‌ধে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়‌নি পাউবো। সরকার কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করলে কাউকে বা‌ড়িছাড়া হতে হতো না। আঘাত হান‌তে পার‌তো না প্রমত্তা যমুনা।

স্থানীয় গাবসারা ইউনিয়ন প‌রিষ‌দের চেয়ারম্যান মু‌নিরুজ্জামান ম‌নির জানান, এই ইউনিয়ন পু‌রোটাই চরাঞ্চল। বন্যার কার‌ণে পু‌রো ইউনিয়‌নের ৫০টি গ্রা‌মে পা‌নি ঢুকেছে। এতে বেশ ক‌য়েক‌টি গ্রাম পু‌রোপু‌রি ত‌লিয়ে গে‌ছে। এখন পর্যন্ত কোনো ধর‌নের ত্রাণ সহায়তা পাওয়া যায়‌নি।

Tangail-Flood

উপ‌জেলা মাধ্যা‌মিক শিক্ষা কর্মকর্তা শা‌হিনুর ইসলাম জানান, বন্যাকব‌লিত এলাকার বিদ্যালয়গু‌লো বন্ধ রাখা হ‌য়ে‌ছে।

উপ‌জেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঝোটন চন্দ জানান, বন্যাকব‌লিত মানুষ‌দের সহ‌যো‌গিতার জন্য সব ধর‌নের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হ‌য়ে‌ছে। চি‌কিৎসা‌সেবার জন্য মোবাইল টিম গঠন করা হ‌য়ে‌ছে।

টাঙ্গাইল পাউবো’র বিজ্ঞান শাখার উপ-সহকারী প্রকৌশলী রেজাউল করিম বলেন, ভারী বর্ষণ এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে টাঙ্গাইলের যমুনা, পুংলী, ঝিনাই, বংশাই ও ধলেশ্বরীর পানিতে পানি আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মধ্যে যমুনা নদীর পানি বিপদসীমার ৭২ সে.মি., ধলেশ্বরী নদীর দেলদুয়ার উপজেলার এলাসিন ব্রিজের এখানে বিপদসীমার ৮৯ সে.মি. এবং ঝিনাই নদীর কালিহাতী উপজেলার যোকারচর এলাকায় বিপদসীমার ৪৫ সে.মি. ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া বাকি দু’টি নদী পুংলী ও বংশাই নদী বিপদসীমার নিচে রয়েছে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র