Barta24

মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০১৯, ১ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

বগুড়ার ৮টি উপজেলায় আ’লীগের নুতন মুখ

বগুড়ার ৮টি উপজেলায় আ’লীগের নুতন মুখ
আওয়ামী লীগের মনোনীত উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী / ছবি: বার্তা২৪
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বগুড়া
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বগুড়া জেলার ১২টি উপজেলায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী নির্বাচনে ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়েছে। চেয়ারম্যান পদে ঘোষিত প্রার্থীর তালিকায় আটটিতে নুতন মুখ এবং চারটিতে পুরনোরাই রয়েছেন।

রোববার (১০ ফেব্রুয়ারি) দ্বিতীয় ধাপে প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পর দলীয়কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে আনন্দ উল্লাসের পাশাপাশি হতাশা ও চাপা ক্ষোভ দেখা গেছে। তবে বঞ্চিতরা এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে মুখ খুলছেন না।

আগামী ১৮ মার্চ দ্বিতীয় ধাপে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বগুড়া জেলার ১২টি উপজেলায় ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। চেয়ারম্যান হতে আগ্রহী অনেকেই বেশ কিছুদিন প্রচার প্রচারাণা চালিয়ে আসছিলেন। অনেকেই আবার দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার আগেই জেলা পরিষদ সদস্য এবং ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন।

বগুড়ার ১২টি উপজেলায় মনোনয়নপ্রাপ্তরা হলেন- সদর উপজেলায় শাঁখারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু সুফিয়ান শফিক, সারিয়াকান্দিতে সাবেক সভাপতি অধ্যক্ষ মুনজিল আলী সরকার, সোনাতলায় জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক এবং বগুড়া জেলা পরিষদের সদস্য মিনহাদুজ্জামান লিটন, শেরপুরে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মজিবর রহমান মজনু, আদমদীঘিতে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম খান রাজু, শিবগঞ্জে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আজিজুল হক, ধুনটে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাই খোকন, গাবতলীতে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এ এইচ আযম খান, দুপচাঁচিয়ায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মিজানুর রহমান খান, কাহালুতে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মান্নান, নন্দীগ্রামে যুবলীগের সাবেক সভাপতি রেজাউল আশরাফ জিন্নাহ, শাজাহানপুরে উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক সোহরাব হোসেন ছান্নু।

বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মজিবর রহমান মজনু বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘কেন্দ্রের নির্দেশে একক প্রার্থীর তালিকা পাঠানো হয়েছিল। তারপরেও কেন্দ্র থেকে কিছু পরিবর্তন এনে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। সে ক্ষেত্রে জেলা থেকে পাঠানো তালিকায় মাত্র তিনজন বাদ পড়েছেন।’

আপনার মতামত লিখুন :

কুড়িগ্রামে বন্যা পরিস্থিতি: ৭ শিশুসহ ১০ জনের মৃত্যু

কুড়িগ্রামে বন্যা পরিস্থিতি: ৭ শিশুসহ ১০ জনের মৃত্যু
কুড়িগ্রামে বন্যায় বিপর্যস্ত জনজীবন/ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

কুড়িগ্রামে ব্রহ্মপুত্র ও ধরলার পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি আরো অবনতি হয়েছে। এরইমধ্যে বন্যার পানিতে নৌকা ডুবির ঘটনায় ৪ শিশুসহ ৫ জন এবং পানিতে ডুবে ৩ শিশুসহ ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। 

জেলার উলিপুর উপজেলার হাতিয়া ইউনিয়নের নতুন অনন্তপুর এলাকায় মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) বিকেলে নৌকা ডুবির ঘটনায় ৪ শিশুসহ ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে আরো ২ জন।

নৌকা ডুবিতে নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুড়িগ্রামের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মো: হাফিজুর রহমান।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/16/1563281707536.jpg

স্থানীয়রা জানায়, নতুন অনন্তপুর গ্রামের কয়েকজন মহিলা ১৪ থেকে ১৫ জন শিশুকে নিয়ে একটি ডিঙ্গি নৌকায় করে বন্যার পানিতে ঘুরতে পার্শ্ববর্তী একটি বিলে যান। এ সময় অতিরিক্ত ভারের কারণে বিলের পানিতে নৌকাটি ডুবে যায়।

স্থানীয়রা বিষয়টি দেখতে পেয়ে ফায়ার সার্ভিসকে অবগত করে নৌকা নিয়ে তাদের উদ্ধার করতে যায়। তারা শিশুসহ কয়েকজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে উলিপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়। হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই দুইজনের মৃত্যু হয়। আর এক শিশুর মা নিহত রুনা বেগম (৩৫) তার সন্তানকে বাঁচাতে নিজে পানিতে ডুবে দুই হাতে সন্তানকে পানির উপর ভাসিয়ে রাখেন। স্থানীয়রা তার শিশুটিকে জীবিত উদ্ধার করতে পারলেও দীর্ঘক্ষণ পানিতে ডুবে থাকায় মা রুনাকে বাঁচাতে পারেননি।

নিহত অপর ৪ শিশুরা হলেন, অনন্তপুর গ্রামের ব্যাপারীপাড়ার আয়নাল হকের পুত্র হাসিবুল (৭) একই গ্রামের মহসিন আলীর কন্যা রুপা মনি (৮), মনছুর আলীর পুত্র মোরসালিন সুমন (১০)এবং রাশেদের কন্যা শিশু রুকু মনি (৭)।

অন্যদিকে কুড়িগ্রামের রৌমারী ও নাগেশ্বরী উপজেলায় বন্যার পানিতে ডুবে দুই যুবক নিখোঁজ হয়েছে। এদের মধ্যে এক যুবকের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। আরেকজনের লাশ ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরাসহ স্থানীয় লোকজন পানির নিচে সম্ভাব্য স্থানগুলোতে খুঁজে বেড়াচ্ছে।

নিখোঁজ যুবকেরা হলেন, রৌমারী উপজেলার চাক্তাবাড়ী গ্রামের আব্দুস ছালামের পুত্র সাইফুল ইসলাম (২৩) এবং নাগেশ্বরী উপজেলার কালিগঞ্জ ইউনিয়নের মাদাইখাল গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা আ.ন.ম মুসার পুত্র আল মামুন (৪০)।

নাগেশ্বরী থানার অফিসার ইনচার্জ রওশন কবির জানান, মাদাইখাল গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা আ.ন.ম মুসা সোমবার নিজে বাড়িতে অসুস্থ হয়ে পড়লে তার বড় ছেলে আল মামুন নাগেশ্বরী উপজেলা শহর থেকে তার বাবাকে নিতে বাড়ির দিকে রওনা দেন। পথে বন্যার পানি ভেঙে পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় বাড়ির পাশে মাদাইখাল এলাকায় খাদে পড়ে নিখোঁজ হয়। পরে অনেক খোঁজাখুজির পর মঙ্গলবার দুপুর নাগেশ্বরী ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা পার্শ্ববর্তী জায়গা থেকে তার লাশ উদ্ধার করে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/16/1563281725035.jpg

রৌমারী থানার অফিসার ইনচার্জ আবু মো: দিলওয়ার হাসান ইনাম জানান, রৌমারী উপজেলার চাক্তাবাড়ী এলাকায় বেরিবাঁধ ভেঙে প্রায় ৩০টি গ্রাম প্লাবিত হয়ে পড়ে। বাঁধ ভাঙ্গা বন্যার পানিতে ঘর-বাড়ি তলিয়ে যাওয়ায় মঙ্গলবার সকালে সাইফুর ইসলাম বাড়ির প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কলা গাছের ভেলায় উঠিয়ে উঁচু স্থানের দিকে যাওয়ার সময় বিদ্যুতের তারের সাথে ধাক্কা লেগে পানিতে পড়ে যায়। এরপর স্থানীয়রা ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের নিয়ে অনেক খোঁজাখুঁজির পরও তার কোন সন্ধান পাননি।

এছাড়াও গত রোববার ও সোমবার দুইদিনে বন্যার পানিতে ডুবে চিলমারীতে ২ এবং উলিপুরে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুড়িগ্রামের সিভিল সার্জন ডা: এসএম আমিনুল ইসলাম।

স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, সেতু পয়েন্টে ধরলার পানি বিপদসীমার ১১৭ সেন্টিমিটার, চিলমারী পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপদসীমার ১২৪ সেন্টিমিটার ও নুনখাওয়া পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্রের পানি ৯৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে তিস্তার পানি কিছুটা হ্রাস পেয়েছে।

এতে করে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে জেলার ৯ উপজেলার ৫৬ ইউনিয়নের ৪০৭ টি গ্রাম। বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে প্রায় ৪ লাখের বেশি মানুষ। বন্যা দুর্গত এলাকাগুলোতে শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। গো-খাদ্যের সংকট দেখা দেওয়ায় গবাদি পশু নিয়ে বিপাকে পড়েছে বানভাসি মানুষ 

শেরপুরে বন্যার পানিতে মিলল বৃদ্ধার মর‌দেহ

শেরপুরে বন্যার পানিতে মিলল বৃদ্ধার মর‌দেহ
প্রতীকী ছবি

শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে বন্যার পানিতে ডুবে আসিমা বেওয়া (১০৫) নামে এক বৃদ্ধা মারা গেছেন। মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) দুপুরে উপজেলার সারিকালিনগর এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

আসিমা বেওয়া ওই গ্রামের মৃত ফয়েজ উদ্দিন মন্ডলের স্ত্রী।

নিহতের পরিবার জানায়, গত রোববার (১৪ জুলাই) রাত ১২টার দিকে তার মেয়ে তাকে ঘুমিয়ে রেখে নিজের ঘরে ঘুমিয়ে পড়েন। সকালে ঘুম থেকে উঠে মাকে না পেয়ে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও আর পাননি। বাড়ির আঙ্গিনাসহ চারপাশে বন্যার পানি ছিল। পরিবারের ধারণা- আসিয়া রাতে প্রাকৃতিক ডাকে সাড়া দিতে ঘরের বাইরে গিয়ে বন্যার পানিতে পড়ে ভেসে গেছেন। মঙ্গলবার দুপুরে বা‌ড়ির পা‌শে আসিয়ার মর‌দেহ ভাসতে দেখেন এলাকাবাসী। পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থে‌কে মর‌দেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

ঝিনাইগাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু বক্কর সিদ্দিক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র