Barta24

বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০১৯, ৩ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

ব্লাস্ট গবেষণায় যুগান্তকারী উদ্ভাবনীর অপেক্ষায়

ব্লাস্ট গবেষণায় যুগান্তকারী উদ্ভাবনীর অপেক্ষায়
মেহেরপুর সদর উপজেলার নতুন মদনাডাঙ্গা গ্রামের এই জমিতে চলছে ব্লাস্ট প্রতিরোধী গবেষণা/ ছবি: বার্তা২৪.কম
মাজেদুল হক মানিক
ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
মেহেরপুর
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

গমের ব্লাস্ট নামক ছত্রাক প্রতিরোধে মেহেরপুর জেলায় চলছে সরেজমিন গবেষণা। বিশেষজ্ঞ পর্যায়ে ব্লাস্টের কারণ উদ্ভাবন, প্রতিরোধ পদ্ধতি ও প্রতিরোধী একাধিক জাত উদ্ভাবনের গবেষণা শুরু হয়েছে। গবেষণা সফল হলে এক যুগান্তকারী উদ্ভাবনী দুয়ার খুলে যাবে, প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে ব্লাস্ট ছত্রাককে।

জানা গেছে, কৃষি গবেষণা ফাউন্ডেশনের (কেজিএফ) অর্থায়নে গমের ব্লাস্ট রোগ দমনে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি), ময়মনসিংহস্থ বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউট (বিনা) ও মেহেরপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই) যৌথভাবে মেহেরপুরে গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব (প্ল্যান্ট প্যাথলজি) বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. বাহাদুর মিয়ার তত্ত্বাবধানে ১২ জন এমএস শিক্ষার্থী এ বিষয়ে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন। সদর উপজেলার নতুন মদনাডাঙ্গা গ্রামে রেজাউল হকের দুই বিঘা জমি লিজ নিয়ে গবেষণা কার্যক্রম চালাচ্ছেন তারা।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Feb/06/1549463607874.jpg

মেহেরপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আখতারুজ্জামান জানান, গমের ব্লাস্ট একটি ক্ষতিকর ছত্রাকজনিত রোগ। ছত্রাকটির বৈজ্ঞানিক নাম ম্যাগনাপরথি অরাইজি (পাইরিকুলারিয়া অরাইজি) প্যাথোটাইপ ট্রিটিকাম। গমের শীষ বের হওয়া থেকে ফুল ফোটার সময়ে তুলনামূলক উষ্ণ ও আর্দ্র আবহাওয়া থাকলে এ রোগের সংক্রমণ ঘটতে পারে। রোগটি ১৯৮৫ সালে সর্ব প্রথম  ব্রাজিলে দেখা যায়।

২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের মাঝামাঝি সময়ে মেহেরপুর জেলায় সর্বপ্রথম গমে ব্লাস্ট দেখা দেয়। এ রোগের কারণে আক্রান্ত গমের ফলন শতকরা ২৫ থেকে ৩০ ভাগ কমে যায় এবং ক্ষেত্র বিশেষে ক্ষেতের ফসল প্রায় সম্পূর্ণ বিনষ্ট হয়ে যায়। বিএডিসি খামারসহ চাষী পর্যায়ে আবাদকৃত অনেক গম পুড়িয়ে দেওয়া হয়।

মেহেরপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও গবেষণা টিমের সদস্যদের কাছে থেকে জানা গেছে, গমে ব্লাস্ট আক্রমণের পর থেকে এটা নিয়ে দেশি-বিদেশি বিজ্ঞানীরা ব্লাস্ট আক্রান্ত এলাকাসমূহ পরিদর্শন করে এটাকে নির্মূলের চেষ্টা চালাচ্ছেন। ইতোমধ্যে ব্লাস্ট প্রতিরোধী জাত হিসেবে গত বছর বারি গম-৩৩ নামের একটি জাত অবমুক্ত হয়েছে। যা এ বছরও পরীক্ষামূলকভাবে আবাদ হচ্ছে দেশের বিভিন্ন জেলায়। বারি গম-৩৩ জাতের সফলতার পাশাপাশি ব্লাস্ট প্রতিরোধী আরো জাত উদ্ভাবনের চেষ্টা করছেন বিজ্ঞানীরা।

এদিকে বাংলাদেশে গমের ব্লাস্ট রোগ দমনের জন্য মেক্সিকোতে অবস্থিত আন্তর্জাতিক গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনষ্টিটিউট  বাংলাদেশের গম বিজ্ঞানীদের সাথে কাজ করে যাচ্ছেন। গবেষণা প্লটে ছোট বড় মিলিয়ে প্রায় ১১টি পরীক্ষা পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে গবেষণায় ৭টি কার্যকরী পদ্ধতি প্রয়োগ করা হচ্ছে। এর মধ্যে যে পদ্ধতিটি ব্লাস্ট প্রতিরোধে ভূমিকা রাখবে সেটি গবেষণার চূড়ান্ত ফলাফল হিসেবে ধরা হবে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Feb/06/1549463640161.jpg

আগামী দুই মাসের মধ্যে এর চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাওয়া যাবে বলে আশা করছেন গবেষক দল। কার্যকরী পদ্ধতিগুলো হচ্ছে- ছত্রাক নাশকের কার্যকারিতার পরীক্ষা, মাটিতে সার প্রয়োগ, পাতায় সার প্রয়োগ, বীজবাহিতের পরীক্ষা, বিভিন্ন জাতের গমে ব্লাস্ট প্রতিরোধী পরীক্ষা, মিউটেশন পরীক্ষা, মসুরের সাথে শস্য পর্যায় অবলম্বন। এছাড়া আরো চার ধরণের পদ্ধতি গবেষণা পরীক্ষণ হিসেবে চালানো হচ্ছে।

গবেষণা দলের সদস্যরা জানান, গমের ছত্রাকজনিত রোগ ব্লাস্ট রোগের কারণ উদঘাটনসহ প্রতিরোধ ব্যবস্থা উদ্ভাবন করা সম্ভব হবে। এর জন্য আরো দুই মাস সময় লাগবে। আশা করছেন তারা একটি যুগান্তকারী উদ্ভাবন করতে সক্ষম হবেন।

অধ্যাপক বাহাদুর মিয়া বলেন, ‘ব্লাস্ট গম চাষের জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এক বছর ধরে ব্লাস্ট প্রতিরোধী গমের জাত উদ্ভাবনের গবেষণা চালাচ্ছি। আরো দুই বছর সময় লাগতে পারে। এই গবেষণাটি বাংলাদেশেই প্রথম হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘তবে বালাই নাশক ব্লাস্ট আক্রান্ত হওয়ার আগে স্প্রে করলে প্রতিরোধ হতে পারে। এছাড়া প্রোভেক্স নামক এক ধরণের ওষুধ দিয়ে বীজ শোধন করে (প্রতিকেজি বীজে ৩ গ্রাম) বপন করলে প্রতিকার পাওয়া যেতে পারে। প্রতিরোধী আরো কয়েকটি জাত উদ্ভাবন না হওয়া পর্যন্ত স্থায়ী সমাধান হবে না।’

আপনার মতামত লিখুন :

২০০ যাত্রী নিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে বনলতা এক্সপ্রেসের প্রথম যাত্রা

২০০ যাত্রী নিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে বনলতা এক্সপ্রেসের প্রথম যাত্রা
চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে বনলতা এক্সপ্রেসের যাত্রার প্রথম দিনে যাত্রীদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসি ইসলাম জেসি/ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

 

২০০ জন যাত্রী নিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে প্রথম যাত্রা করেছে বিরতিহীন ট্রেন বনলতা এক্সপ্রেস। ভোর ৫ টা ৫০ মিনিটে চাঁপাইনবাবগঞ্জ রেল স্টেশন থেকে ছেড়ে যায় ট্রেনটি।

বনলতা এক্সপ্রেসের মাধ্যমে চালু হলো প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি চাঁপাইনবাবগঞ্জ-ঢাকা রুটে সরাসরি ট্রেন যোগাযোগ। বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) ট্রেনটি ছাড়ার আগে স্টেশনে গিয়ে যাত্রীদের ফুলের শুভেচ্ছা জানান সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসি ইসলাম জেসি।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/18/1563431043305.jpg

চাঁপাইনবাবগঞ্জের স্টেশন মাস্টার মনিরুজ্জামান মনির জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জের জন্য বনলতা এক্সপ্রেসে আসন বরাদ্দ ২৬৪ টি। প্রথম যাত্রায় এসি, নন এসি মিলিয়ে যাত্রী ছিলেন ২০০। ট্রেনটি রাজশাহীতে বিরতি নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবে।

তবে বেশ কয়েকজন যাত্রী অভিযোগ করে বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ স্টেশন হতে ৮০টি টিকিটি বরাদ্দ থাকলেও কাউকে এসি টিকিট দেয়া হয়নি।  বেলা ১ টা ৩০ মিনিটে আবারো ঢাকা থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসবে ট্রেনটি।

শুক্রবার বন্ধ দিয়ে সপ্তাহে ছয়দিন চাঁপাইনবাবগঞ্জ-ঢাকা রুটে চলবে বনলতা এক্সপ্রেস।

ম্যাসাজ পারলারের আড়ালে অবৈধ কর্মকাণ্ড

ম্যাসাজ পারলারের আড়ালে অবৈধ কর্মকাণ্ড
অ্যাঞ্জেল টাস ম্যাসাজ পারলার। ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম।

পর্যটন নগরী কক্সবাজারে ক্রমেই বেড়ে চলেছে ম্যাসাজ পারলার। এসব পারলারের আড়ালে চলছে অনৈতিক ও অসামাজিক কর্মকাণ্ড। অভিযোগ আছে এই ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ দিয়ে মোটা অংকের অর্থ মাসোহারা তুলছে এক শ্রেণির প্রভাবশালী।

কক্সবাজার হোটেল-মোটেল জোনের হুয়াইট বিচ হোটেলের তৃতীয় তলায় গড়ে উঠেছে অ্যাঞ্জেল টাস ম্যাসাজ পারলার। এছাড়া ওশান প্যারাডাইজ হোটেলের বিপরীত দিকে গড়ে উঠেছে আরও একটি ম্যাসাজ পারলার। কিন্তু এসব পারলারের ভেতরে ম্যাসাজের বদলে চলছে অবৈধ কর্মকাণ্ড।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, এসব পারলারে অনুমোদনের জন্য আবেদন করলেও তাদের পরিবেশ ভালো না থাকায় অনুমতি দেয়া হয়নি। তারপরও তারা স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের হাত করে এসব পারলারে অবৈধ কর্মকাণ্ড চলমান রেখেছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাইরে থেকে ভেতরের পরিবেশ অনুমান করা খুবই কঠিন। ভেতরে প্রবেশ করলেই চোখে পড়বে ছিমছাম পরিপাটি সেলুন। অথচ এর মধ্যে চলছে ভয়ংকর অনৈতিক কর্মকাণ্ড। স্কুল-কলেজের উঠতি বয়সী ছেলেরাসহ যুব-সমাজের একটি বড় অংশ এদের কাস্টমার। সেখানে দেখা মিলে ম্যাসাজের দায়িত্বে থাকা সুন্দরী রমণীদের। যাদের দেখে বোঝার উপায় নেই তারা কী পতিতা নাকি অন্যকিছু।

একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র বলছে, শুধু স্কুল-কলেজ পড়ুয়ারাই নয়, আড়ালে এ ম্যাসাজ পারলারে আসে ইয়াবা গডফাদাররাও। তারা এখানে এসে আত্মগোপনে থাকে। আর এসব ম্যাসাজ পারলারের মালিকরা মোটা অংকের টাকার লাভে প্রশাসনকে ম্যানেজ করে এ কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে।

অ্যাঞ্জেল টাস ম্যাসাজ পারলারের কাস্টমার রাশেদ জানান, তিনি একজন ছাত্র। কক্সবাজারের একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েন। মাঝে মধ্যে এখানে আসেন শরীর ম্যাসাজ করাতে।

অ্যাঞ্জেল টাস ম্যাসাজ পারলারে কাজ করেন এমন একজনের নাম মিষ্টি (ছদ্মনাম)। তিনি জানান, মাসিক ১৫ হাজার টাকা বেতনে চাকরি করেন তিনি। তবে তিনি কী ধরনের ম্যাসাজ করেন সে ব্যাপারে প্রতিবেদকের প্রশ্নের উত্তরে চুপ হয়ে যান।

অ্যাঞ্জেল টাস ম্যাসাজ পারলারের পাশের ফ্ল্যাটের একজন জানান, এখানে অনৈতিক কাজ হয়, তা সবাই জানে। কিন্তু প্রশাসন তাদের কিছু বলে না। অসামাজিক এসব পারলার থেকে প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা মোটা অংকের মাসোহারা নিয়ে তাদের সুযোগ করে দেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কক্সবাজারের সাবেক এনডিসি লুৎফর রহমান সোহাগ বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, ‘আমি দায়িত্বে থাকতে অ্যাঞ্জেল টাস ম্যাসাজ কর্তৃপক্ষ অনুমোদনের জন্য আবেদন করে। কিন্তু তাদের পরিবেশ ভালো না থাকায় এবং অবৈধ কর্মকাণ্ডের অভিযোগে অনুমোদন দেয়া হয়নি।’

মোবাইলে এসব বিষয়ে অ্যাঞ্জেল টাস ম্যাসাজ পারলারের ম্যানেজার সাজু বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, ‘আমাদের জেলা প্রশাসনের সব অনুমোদন রয়েছে। আপনি এসে দেখে যান।’ পরে সেখানে গেলে কিছুই দেখাতে পারেননি তিনি। বরং আর্থিকভাবে এ প্রতিবেদককে ম্যানেজ করার চেষ্টা করেন।

এ বিষয়ে কক্সবাজারের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মো. আশরাফুল আবছার বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত নই। খোঁজ-খবর নিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র