Barta24

বুধবার, ১৭ জুলাই ২০১৯, ২ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

পরকীয়া ফাঁস হওয়ায় নারী পুলিশ কর্মকর্তার আত্মহত্যা

পরকীয়া ফাঁস হওয়ায় নারী পুলিশ কর্মকর্তার আত্মহত্যা
আত্মহত্যা করা পুলিশ কর্মকর্তা
ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
বগুড়া
বার্তা ২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

পরকীয়া ফাঁস হওয়ায় গ্যাস ট্যাবলেট সেবন করে এক নারী পুলিশ কর্মকর্তা আত্মহত্যা করেছেন। বগুড়ার ধুনট থানায় কর্মরত সহকারি উপ-পরিদর্শক(এএসআই) রোজিনা আকতার বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় মঙ্গলবার (০৫ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০ টার দিকে তিনি মারা যান।

চাপাইনবাবগঞ্জ জেলায় কর্মরত পুলিশ কনস্টেবল রফিকের সাথে পরকীয়া সর্ম্পক ফাঁস হওয়ায় আত্মহত্যার পথ বেছে নেন পুলিশ কর্মকর্তা রোজিনা আকতার। মঙ্গলবার রাতে শজিমেক হাসপাতালে বার্তা২৪ কে এতথ্য জানান, রোজিনার বাবা নান্নু মিয়া।

মঙ্গলবার দুপুরে ধুনটে ভাড়া বাসায় রোজিনা আকতার গ্যাস ট্যাবলেট সেবন করে অসুস্থ হয়ে পড়েন। থানা পুলিশ তাকে দ্রুত উদ্ধার করে বগুড়া শজিমেক হাসপাতালে ভর্তি করে দেন। মেয়ে অসুস্থ হওয়ার খবর পেয়ে হাসপাতালে আসেন নাটোর জেলার সিংড়া থানার বাহাদুরপুর গ্রামের নান্নু মিয়া। মেয়ের আত্মহত্যার জন্য তিনি নাটোরের গুরুদাসপুর থানার গোপিনাথপুর গ্রামের বাসিন্দা পুলিশ কনস্টেবল রফিককে দায়ী করে তার বিচার দাবি করেন।

নান্নু মিয়া জানান, একবছর আগে রোজিনা বগুড়ার ধুনট থানায় যোগদান করেন। এক ছেলে এবং এক মেয়ে নিয়ে তিনি বসবাস করতেন। স্বামী হাসান আলী স্কুল শিক্ষক বসবাস করেন নাটোরের সিংড়ায়। স্বামীর সাথে  সর্ম্পক ভাল না থাকায় রোজিনা তার মা ও দুই সন্তানকে নিয়ে আলাদা থাকতেন।

নান্নু মিয়া বলেন, কয়েকদিন আগে রোজিনা মোবাইল ফোনে কথা বলার পর বাসায় কান্নাকাটি করে। তার মা কৌশলে নাম্বারটি সংগ্রহ করে রোজিনার বাবাকে দেন। তিনি ওই নাম্বারে যোগাযোগ করে জানতে পারেন কনস্টেবল রফিকের সাথে কথা বলার পর থেকেই রোজিনা কান্না করেছেন।

রফিকের সাথে পরকীয়ার বিষয় নিয়ে মার সাথে রোজিনার ঝগড়াঝাটি হয়। গত দুই দিন ধরে রোজিনা ঠিকমত খাচ্ছিলেন না। মঙ্গলবার দুপুরে হঠাৎ করে বাসায় এসে গ্যাস ট্যাবলেট সেবন করে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি।

শেরপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গাজিউর রহমান বার্তা২৪.কমকে বলেন আত্মহত্যার কারন অনুসন্ধান করে জানতে হবে। তবে রোজিনার উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার এ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নেয়া হয়েছিল পুলিশের পক্ষ থেকে। এর আগেই তিনি মারা যান।

আপনার মতামত লিখুন :

ফেল করেনি নুসরাত!

ফেল করেনি নুসরাত!
নুসরাত জাহান রাফি ও তার আলিম পরীক্ষার ফলাফল, ছবি: সংগৃহীত

অন্যান্য পরীক্ষার্থীদের মতো আজকে উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের আলিম পরীক্ষার ফলাফল পাওয়ার কথা ছিল নুসরাত জাহান রাফির। কিন্তু মাত্র দুই বিষয় পরীক্ষা দেওয়ার পর গত ৬ এপ্রিল অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির মামলা করায় নুসরাতের গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয় অধ্যক্ষের অনুসারীরা।

এতে মাত্র দুই বিষয়ের পরীক্ষায় অংশ নিতে পারে নুসরাত। এরপর টানা পাঁচদিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে ওপারে পাড়ি জমান সোনাগাজী ইসলামিয়া মাদরাসার এই ছাত্রী। এরপর আর কোনো পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি সে।

বুধবার (১৭ জুলাই) নুসরাতের ফলাফলে দেখা যায়, যে দুই বিষয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে সে দুই বিষয়ে ফেল করেননি নুসরাত। কুরআন মাজিদ ও হাদিস (বিষয় কোড ২০১ ও ২০২) পরীক্ষায় জিপিএ-৪ পেয়েছেন। অন্য বিষয়গুলোতে পরীক্ষায় অংশ না নিতে পারায় রেজাল্ট কার্ডে সেগুলো ফেল দেখাচ্ছে।

সোনাগাজী ইসলামিয়া মাদরাসা থেকে এবার আলিম পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন নুসরাত জাহান (রাফি)। পরীক্ষায় তার রোল নম্বর ছিল ১৪৯৬১৪।

উল্লেখ্য, অধ্যক্ষ সিরাজের নামে থানায় যৌন হয়রানির মামলা দিলে গত ৬ এপ্রিল তৃতীয়দিনের মতো আলিম পরীক্ষা দিতে আসলে অধ্যক্ষের অনুসারীরা মাদরাসার সাইক্লোন সেন্টারের ছাদে নিয়ে নুসরাতের গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে নুসরাতে ৮০ ভাগ শরীর পুড়ে গেলে ঢামেকের বার্ন ইউনিটে টানা পাঁচদিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে ১০ এপ্রিল মৃত্যুবরণ করেন।

নুসরাত হত্যা মামলায় ১৬ জনকে আসামি করে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। ফেনীর নারী ও শিশু ট্রাইব্যুনালে এই মামলার শুনানি চলছে। নুসরাতের পরিবারের সদস্যরাসহ মাদরাসার কয়েকজন শিক্ষকের সাক্ষ্য গ্রহণ করেছেন আদালত।

পদ্মায় তীব্র স্রোতে ফেরি চলাচলে ধীর গতি

পদ্মায় তীব্র স্রোতে ফেরি চলাচলে ধীর গতি
পদ্মার পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় তীব্র স্রোতে ফেরি চলাচলে ধীর গতি/ ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া পয়েন্টে পদ্মা নদীর পানি বিপদসীমার শূন্য দশমিক  ১০ সেন্টিমিটার ওপরে প্রবাহিত হওয়ায় স্রোতের তীব্রতার কারণে মারাত্মক বিপর্যয় ঘটছে দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষের অন্যতম প্রবেশদ্বার দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটের ফেরি চলাচলে।

নদী পারের অপেক্ষায় রয়েছে এখন দেড় সহস্রাধিকেরও বেশি যাত্রীবাহী বাস ও পণ্যবাহী ট্রাক। ঘাট এলাকায় এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে যানবাহনগুলোকে। এতে যাত্রীরা পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে। নষ্ট হচ্ছে পণ্যবাহী ট্রাকের মালামাল।

নদীর স্রোতের বেগ না কমলে বেশ কিছুদিন যানজট থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট ঘাট কর্তৃপক্ষ। তারা বলছেন, স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে ফেরিগুলোর নদী পার হতে দ্বিগুণ সময় লাগার কারণে ঘাটে এই যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/17/1563352784998.gif

বুধবার (১৭ জুলাই) দুপুরে দেখা যায়, দৌলতদিয়া জিরো পয়েন্ট থেকে গোয়ালন্দ বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত পাঁচ কিলোমিটার ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে নদী পারের জন্য তিন সারিতে অপেক্ষা করছে দেড় সহস্রাধিক যানবাহন। এছাড়াও দৌলতদিয়া টার্মিনালেও ফেরির জন্য অপেক্ষারত আছে প্রায় শতাধিক ট্রাক। দুই থেকে তিনদিন পর্যন্ত টার্মিনালে ও মহাসড়কে অপেক্ষা করতে হচ্ছে এ যানবাহনগুলোকে।

বাগেরহাট থেকে আসা ট্রাক চালক মনোরঞ্জন কর্মকার বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে বলেন, ‘মঙ্গলবার বিকালে এখানে এসেছি। সারা রাত সড়কেই কেটেছে। আমার আগে আরও হাজারের উপরে ট্রাক অপেক্ষা করছে নদী পারের জন্য। আমি ঘাট থেকে এখনো চার কিলোমিটার দূরে রয়েছি। আজতো পার হতে পারবই না, কবে নাগাদ পার হতে পারব তাও বুঝতে পারছি না।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/17/1563352800836.gif

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহনের (বিআইডব্লিউটিসি) দৌলতদিয়া ঘাট ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) আবু আব্দুল্লাহ রনি বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে বলেন, ‘পদ্মার পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। যার কারণে নদীতে স্রোতের বেগ অনেক বেশি। আর তীব্র স্রোতের কারণে ফেরি চলতে পারছে না। স্বাভাবিক সময়ে ফেরিগুলোর নদী পার হতে যে সময় লাগত, এখন তার দ্বিগুণ লাগছে। ফলে ফেরিগুলোর ট্রিপ কমে গেছে। আর ফেরির টিপ কমে যাওয়ায় ঘাটে যানবাহনের চাপ বেড়ে গেছে।’

দৌলতদিয়া ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের ট্রাফিক ইন্সেপেক্টর আবুল হোসেন বার্তাটোয়েন্টি.কম-কে বলেন, ‘স্রোতের কারণে ফেরিগুলোর নদী পার হতে বেশি সময় লাগায় ঘাটে যানবাহনের চাপ বাড়ছে। তবে যাত্রীদের যাতে কোনো ভোগান্তিতে পড়তে না হয়, সে বিষয়টি বিবেচনা করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে যাত্রীবাহী বাসগুলোকে আগে নদী পার করতে চেষ্টা করছি। আর ঘাটে যে ট্রাকগুলো অপেক্ষা করছে সেগুলো সিরিয়াল অনুযায়ী পার করছি।’

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র