Alexa

লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে চা উৎপাদন

লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে চা উৎপাদন

ছবি: বার্তা২৪

দুটি পাতা একটি কুড়ির দেশ মৌলভীবাজার। দেশের অন্যান্য চা অঞ্চলে চেয়ে চা উৎপাদনে বরাবরই মৌলভীবাজার এগিয়ে। বাংলাদেশে মোট ১৬৪টি চা বাগান রয়েছে। তার মধ্যে সিলেট বিভাগেই রয়েছে ১৩৫ টি। তারমধ্যে দেশের সবচেয়ে বেশি চা বাগান মৌলভীবাজারেই রয়েছে ৯১ টি। এর মধ্যে শুধু শ্রীমঙ্গলই রয়েছে ৪০টিরও বেশি চা বাগান।

গত বছর চা উৎপাদনে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হলেও এবার লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এই সফলতা। তবে সেচ যন্ত্রসহ চা-সামগ্রী আমদানিতে সরকারি সহায়তা বাড়ালে উৎপাদন কয়েকগুণ বাড়বে বলে জানান মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গলের চা ব্যবসায়ীরা। চা-পাতা তোলার মৌসুম শেষ হয়েছে অক্টোবরে। বাগান এখন রুক্ষ, খুব একটা সবুজের দেখা নেই। চা-গাছের উপরের পাতাগুলো কেটে ফেলা হচ্ছে। সবুজ গাছগুলো এখন ধূসর। প্রসেসিং শেষে বৃষ্টি হলেই কুঁড়ি গজাবে, তারপর আবারো শুরু হবে পাতা তোলার মৌসুম। দেড়’শো বছরের চায়ের ইতিহাসে ২০১৬ সালে সর্বোচ্চ ৮ কোটি ৫০ লাখ কেজি চা-উৎপাদন হয়। কিন্তু তার পরের বছরেই উৎপাদন কমে দাঁড়ায় ৭ কোটি ৮০ লাখ কেজিতে নেমে আসে। তবে এবার ইতোমধ্যে ৮ কোটি কেজি চা-উৎপাদন হয়েছে।

সিলেটের বাংলাদেশ চা সংসদের চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ শিবলী বলেন, যেসব জায়গায় চা উৎপাদন হতো না। সেসব জায়গাতে মালিকরা চা লাগাচ্ছেন। এবার আগেভাগে বৃষ্টির মৌসুম শেষ হলেও ডিসেম্বরে কিছুটা বৃষ্টি হওয়ায় লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে।

মৌলভীবাজারে অবস্থিত হামিদিয়া টি এস্টেটের জেনারেল ম্যানেজার সিরাজুল ইসলাম বলেন, পরিমিত বৃষ্টি, পরিমিত রোদ, পরিমিত আবহাওয়া এগুলো সঠিকভাবে থাকলে উৎপাদন বাড়বে।

সিলেটের বাংলাদেশ চা সংসদের চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ শিবলী বলেন, পুরো বাগানে ইরিগেশন করলে চা উৎপাদন আরও বাড়বে। সরকার কিছু ক্ষেত্রে আমাদের সহায়তার পাশাপাশি কম মূল্যে সার, কীটনাশক সরবরাহ করলে আমরা উপকৃত হব। স্বাধীনতার সময় দেশে চা-বাগানের সংখ্যা ছিল ১৫০টি। তখন ৩ কোটি কেজির মতো উৎপাদন হতো। বর্তমানে চা-বাগানের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬৬টিতে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সেচযন্ত্র আমদানিতে সরকারি সহায়তার পাশাপাশি কম মূল্যে সার, কীটনাশক সরবরাহ ও ক্লোনিং চা গাছ রোপণ করলে দ্বিগুণ বেড়ে যাবে উৎপাদন।

 

আপনার মতামত লিখুন :