Barta24

মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০১৯, ১১ আষাঢ় ১৪২৬

English Version

বগুড়ায় বন্ধের পথে হিজড়াদের একমাত্র স্কুল

বগুড়ায় বন্ধের পথে হিজড়াদের একমাত্র স্কুল
বগুড়ায় বন্ধের পথে হিজড়াদের একমাত্র স্কুল। ছবি: বার্তা২৪.কম
গনেশ দাস
ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
বগুড়া
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

বগুড়ায় তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ হিজড়া সম্প্রদায়ের একমাত্র স্কুলটি অর্থের অভাবে বন্ধের পথে। সপ্তাহে দুইদিন করে হিজড়াদের উপ-আনুষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয় স্কুলটিতে। কিন্তু শিক্ষা কার্যক্রম চালানোর জন্য নেই বইখাতা, কোনো শিক্ষা উপকরণ। এমনকি ওই স্কুলের কোনো নামও দেয়া হয়নি।

শিক্ষক হিসেবে যিনি আছেন তিনি তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ হলেও সম্মানী ভাতা পান না মাসের পর মাস। এ কারণে শিক্ষকের আগ্রহ কমে যাওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থী উপস্থিতিও কমে যাচ্ছে দিন দিন।

জানা গেছে, ২০১৫ সালে তৃতীয় লিঙ্গের নেত্রী সুমি হিজড়া তার ব্যক্তিগত উদ্যোগে বগুড়া শহরের কামারগাড়ি (হাড্ডি পট্টি) এলাকায় রেলওয়ের জায়গায় হিজড়াদের লেখাপড়ার জন্য স্কুল গড়ে তোলেন। সেখানেই হিজড়াদের অক্ষর জ্ঞান দেয়ার কাজ শুরু করেন সুমি হিজড়া নিজেই। কিন্তু অর্থের অভাবে সেই স্কুল বেশি দূর এগিয়ে নিয়ে যেতে পারেননি। বন্ধ হয়ে যায় একসময়।

তবে সমাজসেবা অধিদপ্তর হিজড়াদের নিয়ে কাজ শুরু করলে ২০১৮ সালে ওই স্কুলটি ফের চালু হয়। তখন শিক্ষার্থী উপস্থিতি এবং শিক্ষার আগ্রহ বাড়াতে তাদের উপবৃত্তির আওতায় নিয়ে আসা হয়। এছাড়াও হিজড়াদের সংগঠন বলাকা মানব উন্নয়ন সংস্থাকে নিবন্ধনের আওতায় নিয়ে আসা হয়। এরপর থেকেই এই সংগঠনের মাধ্যমে সুদ মুক্ত ঋণ সহযোগিতা দিয়ে হিজড়াদের আর্থসামাজিক উন্নয়নে সহযোগিতা করে আসছে সমাজসেবা অধিদপ্তর।

শহরের কামারগাড়ি এলাকায় একটি টিনের ছাপরা ঘরে চলে আসছে হিজড়াদের ওই স্কুলের কার্যক্রম। সপ্তাহের শুক্রবার ও শনিবার সন্ধ্যার পর চলে স্কুলের কার্যক্রম।

শনিবার (১৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যার পর সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, স্কুলের শিক্ষার্থীদের বসার বেঞ্চগুলো ফাঁকা পড়ে আছে। স্কুলে আসা মালা, শেফালী ও রত্না হিজড়া জানান, তারা এক বছর যাবৎ স্কুলে লেখাপড়া করলেও তাদের কোনো বই খাতা দেয়া হয়নি। হিজড়াদের মধ্যেই শিক্ষিত একজন তাদেরকে নাম-ঠিকানা লেখা শিখিয়েছে। এছাড়াও তাদেরকে অক্ষর জ্ঞান দেয়া হয়। বই খাতা পেলে বাসায় অবসর সময়ে আরও লেখাপড়া করতে পারবেন।

তারা বলেন, ‘এমনিতেই আমরা সমাজে অবহেলিত। আমাদেরকে কেউ কাজে নিতে চায় না, বাসা ভাড়া দিতে চায় না। পরিবারও আমাদেরকে বোঝা হিসেবে মনে করে।’

হিজড়াদের নেত্রী ও বলাকা মানব উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি সুমি বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘নিজের টাকায় রেলওয়ে থেকে জায়গা লিজ নিয়ে স্কুল ঘর তৈরি করেছি। সমাজসেবা থেকে বছরে একেক জনকে ৩ হাজার ৬০০ টাকা করে উপবৃত্তি দেয়া হয়। এই টাকায় হিজড়ারা চলতে পারে না।’

তিনি জানান, সমাজে অবহেলিত হিজড়ারা কাজ চায়। কাজের পাশাপাশি শিক্ষা প্রয়োজন। আর এ কারণেই নিজ উদ্যোগে স্কুল গড়ে তোলা হয়েছে। শুরুতে স্কুলের শিক্ষার্থী ছিল ১৪৭ জন। এখন রয়েছে ৯১ জন। তাও আবার উপবৃত্তি দেয়ার কারণে তাদেরকে ধরে রাখা সম্ভব হয়েছে। কিন্তু সরকারি বেসরকারি ভাবে কেউ স্কুলের উন্নয়নে কোনো সহযোগিতা করে না। ফলে স্কুলের কার্যক্রম চালানো যাচ্ছে না। এখন এটি অর্থের অভাবে বন্ধের পথে।

হিজড়াদের স্কুলের শিক্ষক নাসিরুজ্জামান খান তপু নিজেও তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ। লাইট হাউজ নামের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থায় তিনি হিজড়াদের নিয়ে কাজ করেন। বার্তা২৪.কমকে খান তপু জানান, লাইট হাউজের হিসেব অনুযায়ী বগুড়া জেলায় তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ রয়েছে ৭২৫ জন।

তিনি জানান, হিজড়াদের স্কুলে বই-খাতা, কলম এমনকি কোনো শিক্ষা উপকরণ দিয়ে কেউ সহযোগিতা করে না। তারপরেও নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে স্কুলের শিক্ষার্থীরা এখন নিজের নাম ঠিকানা লিখতে পারে। বাংলার প্রত্যেকটি অক্ষর চিনতে পারে। এছাড়াও যোগ, বিয়োগ, গুণ, ভাগ দিয়ে ছোটখাট অংক করতে পারে।

বগুড়া শহরের সমাজসেবা অধিদপ্তরের কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম লিটন বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘নীতিমালার মধ্যে থেকে আমরা হিজড়াদের সাধ্যমতো সহযোগিতা করে থাকি। তাদের স্কুলের শিক্ষার্থীদেরকে উপবৃত্তির আওতায় আনা হয়েছে। তাদের সংগঠনকে নিবন্ধন ভুক্ত করে সুদ মুক্ত ঋণ দেয়া হচ্ছে। তাদের আর্থসামাজিক উন্নয়নে পর্যায়ক্রমে আরও উদ্যোগ নেয়া হবে।’

আপনার মতামত লিখুন :

সিলেট রুটে হঠাৎ যাত্রীশূন্য ট্রেন

সিলেট রুটে হঠাৎ যাত্রীশূন্য ট্রেন
সিলেট থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসা 'জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস'এর একটি বগি, শায়েস্তাগঞ্জ স্টেশন থেকে তোলা/ ছবি: বার্তা২৪.কম

মৌলভীবাজার জেলার কুলাউরায় ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনার পর হঠাৎ করেই যেন সিলেট রুটে কমে গেছে ট্রেনের যাত্রী। অন্য সময় যেখানে টিকিট নিয়ে কাড়াকাড়ি চলত, সেখানে এখন যাত্রীশূন্য বগি নিয়ে চলছে ঢাকা-সিলেট রুটের ট্রেনগুলো।

জানা যায়, ১৭৬ কিলোমিটারের ঢাকা-সিলেট রেলপথটি ব্রিটিশ আমলের তৈরি। সম্প্রতি ঢাকা থেকে ভৈরব পর্যন্ত ডবল লাইন স্থাপন করা হলেও ভৈরব থেকে সিলেট পর্যন্ত সিঙ্গেল লাইন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/25/1561461031553.jpg

অথচ, শত বছরের পুরনো রেলব্রিজ ও ত্রুটিপূর্ণ লাইন দিয়েই বছরের পর বছর ধরে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছেন সিলেট বিভাগের চার জেলার মানুষ। সামান্য ঝড় বৃষ্টি হলেই রেললাইনে নিচ থেকে মাটি সরে গিয়ে মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয় ট্রেনযাত্রা। বিভিন্ন সময় ঘটছে দুর্ঘটনাও।

মৌলভীবাজার জেলার কুলাউরায় গত রোববার (২৩ জুন) সিলেট থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসা উপবন এক্সপ্রেসের কয়েকটি বগি সেতু ভেঙে খালে পড়ে চারজন নিহত হন।

এ ঘটনায় আহত হন অন্তত দেড় শতাধিক মানুষ। ভয়াবহ এই দুর্ঘটনাটি ঢাকা-সিলেট রোডের যাত্রীদের মধ্যে অতঙ্ক বাড়িয়ে দেয়। ফলে হঠাৎ করেই কমে যায় এ রুটে রেলের যাত্রীর সংখ্যা।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/25/1561461101689.jpg

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দুর্ঘটনায় ঢাকা-সিলেট রেলপথ বন্ধ থাকার পর সোমবার (২৪ জুন) বিকাল থেকে রেল চলাচল ফের চালু হয়। কিন্তু হঠাৎ করেই যেন রেলপথে যাত্রীদের আগ্রহ কমে গেছে। সোমবার বিকাল থেকে যতগুলো ট্রেন এই রুট দিয়ে চলেছে, এর সবগুলো ট্রেনই প্রায় খালি বগি নিয়ে আসা যাওয়া করছে।

মঙ্গলবার (২৫ জুন) দুপুরে হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ রেল জংশনে গিয়ে দেখা যায়, পুর্বের তুলনায় সেখানে যাত্রী অনেক কম। এছাড়া সিলেট থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসা 'জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস' ট্রেন দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে অনেকগুলো খালি বগি নিয়ে শায়েস্তাগঞ্জ স্টেশনে প্রবেশ করে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/25/1561461179148.jpg

শায়েস্তাগঞ্জ রেল জংশন সূত্র জানায়, সোমবার থেকেই এই রুটে আসা-যাওয়া করা ট্রেনগুলো প্রায় খালি বগি নিয়ে চলছে। এ স্টেশনেও যাত্রীদের আনাগোনা কম।

শায়েস্তাগঞ্জ সহকারী স্টেশন মাস্টার প্রসাদ দাস  বলেন, 'আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। আর যাত্রীরা আতঙ্কিত হচ্ছেনও না। রেল চলাচল যে স্বাভাবিক হয়েছে, তা অনেকেই এখনো জানেন না। তাই যাত্রীর চাপ কম।’

চুয়াডাঙ্গায় ৫ পুলিশ ক্লোজড: তদন্ত কমিটি গঠন

চুয়াডাঙ্গায় ৫ পুলিশ ক্লোজড: তদন্ত কমিটি গঠন
ছবি: বার্তা২৪

চুয়াডাঙ্গায় পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগে অনৈতিক সুবিধার অভিযোগে এক ইন্সপেক্টরসহ পাঁচ পুলিশ সদস্যকে ক্লোজড করার ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। জেলায় কনস্টেবল নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের প্রাথমিক অভিযোগে রোববার (২৩ জুন) তাদের ক্লোজড করা হয়।

চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হেডকোয়ার্টাস) আবুল বাশারকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি করা হয়েছে।

Chuadanga Police

বার্তা২৪.কমকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানান, চলতি ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল পদে জেলায় ১৫ জন পুরুষ ও ৩ জন নারী নেওয়া হবে। গত শনিবার (২২ জুন) কনস্টেবল পদের চলমান নিয়োগে লিখিত পরীক্ষায় অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার তথ্য পান জেলা পুলিশ সুপার মাহবুবুর রহমান। ওই তথ্যের ভিত্তিতে একজন ইন্সপেক্টরসহ পাঁচ পুলিশ সদস্যকে পুলিশ লাইনে ক্লোজড করা হয়।

যারা ক্লোজড হয়েছেন তারা হলেন- ইন্সপেক্টর শহীদুজ্জামান, এএসআই জাহিদুল ইসলাম, কনস্টেবল সাজ্জাত গাজী, কনস্টেবল হারুনা রশীদ ও কনস্টেবল কামরুল ইসলাম।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র