Barta24

মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০১৯, ১ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

দুর্ঘটনা এড়াতে মেহেরপুর পুলিশ সুপারের বিশেষ উদ্যোগ

দুর্ঘটনা এড়াতে মেহেরপুর পুলিশ সুপারের বিশেষ উদ্যোগ
ছবি: বার্তা২৪
ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
মেহেরপুর


  • Font increase
  • Font Decrease

ব্যস্ততম তিন রাস্তার মোড়ে ডিভাইডার না থাকায় প্রায়ই ঘটতো দুর্ঘটনা। সম্প্রতি মেহেরপুর পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমানের (পিপিএম) উদ্যোগে ডিভাইডার স্থাপন করা হয়েছে। যা এলাকার মানুষের মাঝে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে। এতে মেহেরপুর শহরের কলেজ মোড় এলাকা এখন দুর্ঘটনা মুক্ত।  

জানা গেছে, মেহেরপুর শহরে প্রবেশদ্বার হিসেবে কলেজ মোড় অন্যতম। মেহেরপুর ও মুজিবনগরে চলাচলকারী যানবাহনগুলো কলেজ মোড় থেকে ভাগ হয়ে চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়া অভিমুখে যায়। সরকারি কলেজ মোড়ের পাশে রয়েছে ছোটছোট দোকানপাট ও পেট্রোল পাম্প। গোল চত্বর থেকে মাত্র দুশো গজ দুরে সরকারী কলেজের প্রধান ফটক। এই গোল চত্বরের তিনটি প্রধান সড়কের কারণে ভোর থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত যানবাহনের ভিড় থাকে। বিশেষ করে সকাল ৯টার দিকে ভিড় অনেক বেড়ে যায়।

স্থানীয়রা জানান, মেহেরপুর শহর থেকে ছেড়ে আসা যানবাহনগুলো চুয়াডাঙ্গা সড়কে প্রবেশ করার সময় এবং ওয়াপদা মোড়ের দিক চলাচলকারী যানবাহনগুলো ট্রাফিক আইন না মেনে চলাচল করেছে। ফলে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। এছাড়াও চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়া থেকে ছেড়ে আসা লোকাল বাসগুলো দ্রুত গতিতে শহরে প্রবেশের সময় ট্রাফিক আইন না মানায় বড় ধরনের দুর্ঘটনাও ঘটেছে একাধিকবার। গোল চত্ত্বরের অব্যবস্থাপনার কারণে ট্রাফিক পুলিশ যানবাহন চলাচলে শৃঙ্খলা আনতে পারেননি।

জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনা এড়াতে মেহেরপুর পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান (পিপিএম) বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তিনি রোড ডিভাইডার পিলার দিয়ে কলেজ মোড়টাকে ট্রাফিক আইন অনুযায়ী ঘিরে দিয়েছেন। পুলিশ সদস্যরা নিজেরাই এগুলো স্থাপন করেন। এখন সব ধরনের যানবাহন ট্রাফিক সিগন্যাল অনুযায়ী চলাচল করছে। যার ফলে এখন দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছেন পথচারীরা।

এ প্রসঙ্গে মেহেরপুর পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, কলেজ মোড়ের সমস্যা আপাতত জোড়াতালি দিয়ে সমাধান করা গেছে। সমস্যা হচ্ছে, আমাদের সড়কের গোল চত্বর একেবারে ক্রুটিপূর্ণভাবে নির্মাণ করেছে সড়ক বিভাগ। এগুলো ভেঙে সঠিক নিয়মে নির্মাণ করা গেলে জেলার অন্যান্য গোল চত্বর এলাকার সমস্যাগুলো সমাধান হবে।

 

আপনার মতামত লিখুন :

নবীগঞ্জে ট্রাক চাপায় রিকশা চালক নিহত

নবীগঞ্জে ট্রাক চাপায় রিকশা চালক নিহত
ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে ট্রাক চাপায় জাহাঙ্গীর মিয়া (১৫) নামে এক কিশোর রিকশা চালক নিহত হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) মহাসড়কের আউশকান্দি হীরাগঞ্জ বাজারের কাছে রাত ৮টার দিকে দুর্ঘটনাটি ঘটে।

নিহত রিকশা চালক আউশকান্দি ইউনিয়নের জালালপুর গ্রামের নুর উদ্দিনের ছেলে।

প্রতক্ষ্যদর্শী সূত্রে জানা যায়, রাত ৮টার দিকে বাড়ি থেকে রিকশা চালিয়ে আউশকান্দি বাজারে আসছিল জাহাঙ্গীর। এ সময় মুনিম ফিলিং স্টেশনের সামনে পৌঁছা মাত্রই সিলেট থেকে ঢাকাগামী দ্রুতগতির একটি ট্রাক জাহাঙ্গীরের রিকশাকে চাপা দেয়। এতে রিকশাটি দুমড়ে মুছড়ে গেলে ঘটনাস্থলেই সে নিহত হয়।

মহাসড়কের প্রায় এক ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ ছিল। খবর পেয়ে শেরপুর হাইওয়ে থানা ও নবীগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করলে যানচলাচল স্বাভাবিক হয়।

শেরপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, ‘খবর পেয়ে হাইওয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। বর্তমানে মরদেহ হাইওয়ে থানায় রয়েছে।’

‘নাব্যতা সংকট আর দুর্বল বাঁধের কারণেই বন্যা’

‘নাব্যতা সংকট আর দুর্বল বাঁধের কারণেই বন্যা’
ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর

পানি খুব বেশি আসছে না, তারপরও বন্যা ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। এর কারণ মূলত নদীগুলোর নাব্যতা সংকট ও দুর্বল বাঁধ। এমনটাই মনে করছেন পরিবেশবাদীরা।

তাদের মতে, ১০ বছর আগের তুলনায় বর্তমানে নদী ও হাওরে পানি অনেক কম হয়। কিন্তু এরপরও বিভিন্ন স্থানে ভয়াবহ বন্যা দেখা দেয়। সহজেই ভেঙে যায় নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ। এর একমাত্র কারণ নদীগুলোর নাব্যতা সংকট ও দুর্বল প্রতিরক্ষা বাঁধ। এর থেকে মুক্তি পেতে নদীগুলো খনন ও প্রতিরক্ষা বাঁধ সংস্কারের পরামর্শ দিয়েছেন তারা। একই সাথে পরিকল্পিতভাবে হাওর উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার তাগিদ তাদের।

সিনিয়র সাংবাদিক ও কলামিস্ট শিব্বির আহমেদ আরজু বলেন, ‘আজ থেকে ১৫/২০ বছর আগে যে পরিমাণ পানি হতো এখন তার অর্ধেক পানিও হয় না। কিন্তু এরপরও বন্যা দেখা দেয়। এর একমাত্র কারণ হলো নদীর নাব্যতা কমে গেছে। আগে নদীগুলোর যে পরিমাণ পানি ধারণ ক্ষমতা ছিল, এখন এর অর্ধেকও নেই। যার ফলে অল্প পানিতেই নদী তীরবর্তী এলাকায় বন্যা দেখা দেয়।’

Flood

তিনি বলেন, ‘শুধু নদীর নাব্যতা সংকটই নয়, প্রতিটি নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের করুণ অবস্থা। অল্প বৃষ্টিতেই নদীর বাঁধে ভাঙন দেখা দেয়। এই দুর্বল বাঁধগুলোকে সংস্কার করার কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। ফলে সাধারণ মানুষকে ক্ষতিগ্রস্থ হতে হচ্ছে।’

সংশ্লিষ্ট দফতরের কর্মকর্তাদের পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, ‘অল্প পানিতে বন্যার কবল থেকে বাঁচতে নদীগুলো খনন করতে হবে। একই সাথে শক্তিশালী বাঁধ নির্মাণ করতে হবে, যা কমপক্ষে ১০০ বছর টেকে। সেইসাথে বাঁধগুলোকে যেন স্বার্থান্বেষী মহল ক্ষতি না করতে পারে সেদিকে তদারকি থাকতে হবে।’

বাংলাদেশ পরিবশে আন্দোলন (বাপা) হবিগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল সোহেল বলেন, ‘হাওর ও হাওরের মানুষ আমাদের অমূল্য সম্পদ। কিন্তু হাওর উন্নয়ন হচ্ছে অপরিকল্পিতভাবে। যার ফলে প্রাকৃতিক বিভিন্ন দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হতে হচ্ছে হাওরের মানুষদের। একই সাথে কমে যাচ্ছে হাওরের প্রাকৃতিক সম্পদ ও জলজ প্রাণী।’

তিনি বলেন, ‘হাওরের বুক দিয়ে যত্রতত্র রাস্তা করা হয়েছে। ফলে হাওর সম্পূর্ণভাবে বিভক্ত হয়ে যাওয়ায় পানি আন্দোলিত হতে পারছে না। অথচ এখানে রাস্তাগুলো পরিকল্পতিভাবে করা হলে একদিকে যেমন হাওরের সম্পদ রক্ষা পেত, অন্যদিকে দর্শনীয় স্থান হিসেবেও পরিচিত পেত আমাদের হবিগঞ্জ।’

তোফাজ্জল সোহেল বলেন, ‘হাওর অঞ্চলে পরিকল্পিতভাবে উন্নয়ন করতে হবে, যেন আমাদের প্রাণী ও সম্পদের ক্ষতি না হয়। একই সাথে নদীগুলো খনন করতে হবে। তাহলেই বিভিন্ন প্রাকৃতি দুর্যোগ থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে।’

Flood

দীর্ঘদিন ধরে নদী রক্ষার আন্দোলনের সাথে জড়িত কবি ও সাহিত্যিক তাহমিনা বেগম গিনি। তাঁর মতে- বন্যাসহ সব ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের জন্য দায়ী সাধারণ মানুষ ও সংশ্লিষ্ট দফতরের কর্মকর্তারা। নদীগুলো প্রতিনিয়ত ভরাট হচ্ছে, কিন্তু খনন করা হচ্ছে না। এছাড়া দখল ও দুষণ করে বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে নদীর স্বাভাবিক গতিপথ। বিভিন্ন স্থানে দখল করা হয়েছে নদী ও প্রতিরক্ষা বাঁধ। এর ফলে অল্প বৃষ্টিতেই বন্যার দেখা দেয়।

তিনি বলেন, ‘এর থেকে বাঁচতে সাধারণ জনগণকে সচেতন হতে হবে। এছাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ (পাউবো) সংশ্লিষ্ট দফতরের কর্মকর্তাদের নদী বাঁচাতে আরও সচেষ্ট হতে হবে। নদীগুলো খননের পাশাপশি বাঁধগুলো শক্তিশালী করতে হবে।’

জেলা পাউবো’র নির্বাহী প্রকৌশলী মো. তাওহীদুল ইসলাম জানান, ‘ইতোমধ্যে হবিগঞ্জের অনেকগুলো নদী খনন করা হয়েছে। আমাগী বছর আরও নদী খননের পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া নদীর বাঁধগুলো সংস্কারের পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের।’

তিনি বলেন, ‘এক হাজার ৮৭২ কোটি টাকা ব্যয়ে খোয়াই নদীর বাঁধ সংস্কারের প্রস্তাবনা রয়েছে মন্ত্রণালয়ে। আশা করা যাচ্ছে, চলতি বছরের ডিসেম্বর নাগাদ প্রকল্পটি পাস হবে। আর এই কাজটি হলে আগামী একশ’ বছরের জন্য খোয়াই নদীর বাঁধ নিয়ে কোনো দুশ্চিন্তা করতে হবে না।’

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র