Barta24

রোববার, ২৫ আগস্ট ২০১৯, ১০ ভাদ্র ১৪২৬

English

মাশরাফির শহর সিসিটিভির আওতায়

মাশরাফির শহর সিসিটিভির আওতায়
নড়াইল শহর ও লৌহগড়া পৌর এলাকায় সিটি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে/ ছবি: বার্তা২৪.কম
শরিফুল ইসলাম
ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
নড়াইল
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

সিসিটিভির আওতায় এনে নিরাপত্তার বেষ্টনী তৈরি করা হয়েছে নড়াইল শহরে। নড়াইল শহর ও লোহাগড়া পৌর এলাকার জনগণের সার্বিক নিরাপত্তায় শহরে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ৬২টি সিসি ক্যামেরা বসানোর কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়ছে।

নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজার নিজ হাতে গড়া নড়াইল এক্সপ্রেস ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

জানা যায়, গত ১৬ ডিসেম্বর নড়াইল এক্সপ্রেস ফাউন্ডেশন ও সিডনিশান ইন্টারন্যাশনাল নামে একটি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সিসি ক্যামেরা ও মনিটর স্থাপন সংক্রান্ত এক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jan/10/1547111027839.gif

ঢাকার গুলশানে দাহুয়া-সিডনিশান সেন্টারে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে এ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন নড়াইল এক্সপ্রেস ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মাশরাফি বিন মর্তুজা ও সিডনিশান ইন্টারন্যাশনালের প্রধান নির্বাহী সাগর টিটো।

এ চুক্তি স্বাক্ষরের পর নড়াইল শহরের ১৫টি পয়েন্টে ৩৮টি ক্যামেরা ও লোহাগড়া পৌর এলাকার পাঁচটি পয়েন্টে ২৪টি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।

নড়াইলের ব্যবসায়ী ইনামুল হোসেন বলেন, ‘শহর সিসি ক্যামেরায় আনার কারণে এখন থেকে কেউ অপরাধ করতে গেলে  ভয় পাবে। কেউ অপরাধমূলক করলেও পুলিশ সহজেই তাকে আইনের আওতায় আনতে পারবে। নিরাপদে ব্যবসা বাণিজ্য করতে পারব।’

শহরের ভওয়াখালী এলাকার জিমি আক্তার বলেন, ‘আগে বখাটে ছেলেরা শহরের বালিকা বিদ্যালয়সহ বিভিন্নস্থানে আড্ডা দিয়ে শিক্ষার্থীদের কটূক্তি করত। তবে এখন আর কেউ সেই সাহস পাবে না।’

লোহাগড়া তানভীর আহম্মেদ কাজল বলেন, ‘জনগণের জান-মালের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে মাশরাফি এমন উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jan/10/1547111048964.gif

এ ব্যবস্থার ডিজাইনার ও সমম্বয়কারী এম সাব্বির হোসেন বলেন, ‘সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনে খরচ ধরা হয়েছে প্রায় ২৫ লাখ টাকা। প্রথম দুই বছর সিডনিশান ইন্টারন্যাশনাল এবং পরবর্তীতে নড়াইল জেলা পুলিশ এবং নড়াইল এক্সপ্রেস ফাউন্ডেশন এটি দেখাশোনা করবে।’

নড়াইল এক্সপ্রেস ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক তরিকুল ইসলাম অনিক বলেন, ‘নড়াইলের সার্বিক নিরাপত্তার জন্য প্রাথমিক অবস্থায় ৬২টি সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এর পর জেলার অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থান সিসিটিভির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।’

এ উদ্যোগে নড়াইল শহরে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড কমে আসবে বলে মনে করেন জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘স্থাপিত ক্যামেরাগুলো পুলিশের কার্যালয় থেকে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। এর ফলে শহরে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড কমে যাবে। জেলার আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

আপনার মতামত লিখুন :

ডেঙ্গু: প্রাইভেট ক্লিনিকে একই রোগীর ভিন্ন রিপোর্ট

ডেঙ্গু: প্রাইভেট ক্লিনিকে একই রোগীর ভিন্ন রিপোর্ট
বরগুনার দুটি প্রাইভেট ক্লিনিকে শিশু মারিয়ার ডেঙ্গু ভাইরাস পরীক্ষার ফলাফল/ ছবি: সংগৃহীত

বরগুনা শহরের ফায়ার সার্ভিস সড়কের মহিউদ্দিন জ্বরে আক্রান্ত আড়াই বছরের মেয়ে মারিয়াকে নিয়ে গত সোমবার বরগুনা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. সোহরাফ হোসেনের ব্যক্তিগত চেম্বারে যান। সেখানে চিকিৎস্যক ডেঙ্গু পরীক্ষা করাতে বলেন। পৌর শহরের রংধনু ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ডেঙ্গু পরীক্ষা করালে ডেঙ্গু ভাইরাস ধরা পড়েনি। তবে মনের সন্দেহ দূর করতে একই এলাকার শরীফ এক্সরে ও প্যাথলজিতে পরীক্ষা করালে ডেঙ্গু ধরা পড়ে। পরে এই নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে মারিয়াকে ঢাকায় নিয়ে যায় তার পরিবার।

শহরের থানাপাড়া এলাকার বাসিন্দা আব্দুর রাজ্জাক গত ৫ আগস্ট জ্বর নিয়ে রংধনু ডায়াগনস্টিকে পরীক্ষায় ডেঙ্গু ধরা পড়লে রক্তের প্লাটিলেট দেখায় দুই লাখ ৫৬ হাজার। পরে সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়ে পরীক্ষা করালে ডেঙ্গু ভাইরাস ধরা পড়েনি তার। সন্দেহের বশে শরীফ এক্সরে ও প্যাথলজিতে পরিক্ষা করালে ডেঙ্গু ভাইরাস ধরা পড়েনি।

পরে হলি কেয়ার ডায়াগনস্টিক ও উপকূল ডায়গনস্টিকের পরীক্ষায় ডেঙ্গু ধরা পড়ে আব্দুর রাজ্জাকের। এরপরে বরিশাল শেরে-ই-বাংলায় ভর্তি হয়ে ৯ আগস্ট মেডি এইড ডিজিটাল ডায়গনিস্টিকে পরীক্ষা করালে ডেঙ্গু নেগেটিভ আসলেও ঢাকার কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ডেঙ্গু ধরা পড়ে তার।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/25/1566694640978.jpg
বরগুনা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন ডেঙ্গু ভাইরাস টেস্টে পজিটিভ রোগীরা/ ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

 

সদর হাসপাতালে সরেজমিনে রোগীদের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে নার্সরা বলছেন, চিকিৎসকরা পাঠাচ্ছেন। আর চিকিৎসরাক দুষছেন নার্সদের।

ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের মেডিকেল পরীক্ষা হাসপাতালে বিনা খরচে করার নিয়ম থাকলেও বরগুনায় কৌশলে রোগীদের প্রাইভেট ক্লিনিকে পাঠানো হচ্ছে। ডাক্তারের নির্দেশানুযায়ী নার্সরা তাদের পছন্দের ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পাঠিয়ে দিচ্ছেন।

এছাড়া ডেঙ্গু পরীক্ষায় ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো একই রোগীর আলাদা আলাদা রিপোর্ট দিচ্ছে। এতে নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে রোগীদের। তাদের অভিযোগ, সরকারি হাসপাতালে কিট থাকা সত্ত্বেও পরীক্ষার জন্য চিকিৎসক ও নার্সরা রোগীদের পাঠাচ্ছেন ঐসব ডায়াগনস্টিক সেন্টারে।

একাধিক ভুক্তভোগী বলেন, বরগুনা সদর হাসপাতালে ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট থাকলেও কমিশনের জন্য ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ডেঙ্গু পরীক্ষার জন্য পাঠানো হচ্ছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/25/1566694758980.jpg

বরগুনা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. সোহরাফ হোসেন এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘হাসপাতালে ডেঙ্গু শনাক্ত করার কিট শেষ হয়ে গেছে। তাই ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পাঠানো হয়েছিল।’

বরগুনার সিভিল সার্জন ডা. হুমায়ূন হাসান শাহীন বলেন, ‘ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে নিম্নমানের কিট ব্যবহার করা হচ্ছে, তাই রিপোর্ট আলাদা আলাদা আসছে।’

এ বিষয়ে বরগুনার জেলা প্রশাসক মো. মোস্তাইন বিল্লাহ্ বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে বলেন, ‘বিষয়টি তদন্ত করে আইগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।’

কাঁঠালবাড়ি-শিমুলিয়া: রাতেও চলছে স্পিড বোট

কাঁঠালবাড়ি-শিমুলিয়া: রাতেও চলছে স্পিড বোট
রাতের অন্ধকারে কাঁঠালবাড়ি-শিমুলিয়া ঘাটে চলছে স্পিড বোট/ ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

দুর্ঘটনার শঙ্কা নিয়ে রাতের অন্ধকারেও কাঁঠালবাড়ি-শিমুলিয়া নৌরুটের পদ্মা নদীতে অবৈধভাবে চালানো হচ্ছে স্পিড বোট। ফলে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। এসব বোট চালকদের নেই কোনো প্রশিক্ষণ, নেই কোনো লাইসেন্স।

সংশ্লিষ্ট বিভাগের অনুমতি ছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ এ নৌযান চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ নৌরুটে প্রায়ই স্পিড বোটের সাথে স্পিড বোট ও স্পিড বোটের সাথে অন্যান্য নৌযানের মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে।

রাজধানী ঢাকার সাথে দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষ কাঠালবাড়ি-শিমুলিয়া ঘাট দিয়ে যাতায়াত করে। নদী পার হওয়ার জন্য ফেরি ও লঞ্চের পাশাপাশি দেড় শতাধিক স্পিড বোট চলাচল করে। পাঁচ কিলোমিটারের পথ দ্রুত পার হওয়ার জন্য যাত্রীরা স্পিড বোট ব্যবহার করেন।

প্রতিদিন ভোর ৬টা হতে রাত ৯/১০টা পর্যন্ত পদ্মা নদীতে বোটগুলো চলাচল করে। দিনে যাত্রীদের কাছ থেকে ১৩০ টাকার ভাড়া নেওয়া হয় ১৫০ টাকা। রাতে ২০০ টাকা ৩০০ টাকা ভাড়া আদায় করা হয় বলে জানা গেছে।

শনিবার (২৪ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে কাঁঠালবাড়ি ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, স্পিড বোটে যাত্রী পার করা হচ্ছে। প্রতিটি বোট সিরিয়াল করে রাখা হয়েছে। একটির পর একটি ছাড়া হচ্ছে। প্রতিজন যাত্রীর কাছ থেকে ভাড়া বাবদ দুইশত টাকা আদায় করা হচ্ছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/25/1566690803164.jpg

শিমুলিয়া ঘাট থেকে স্পিড বোটে আসা যাত্রী রাহাত খান বলেন, ‘দ্রুত খুলনা যেতে হবে, তাই ঝুঁকি নিয়ে স্পিড বোটে এলাম। ভাড়া দুইশত টাকা রাখছে।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক বোট চালক জানান, স্পিড বোট চলাচলের জন্য প্রশাসনের কোনো অনুমতি নেই। যারা বোটগুলো চালায় তাদের এ বিষয়ে কোনো প্রশিক্ষণও নেই। রাতে নদীতে ঝুঁকিপূর্ণভাবে স্পিড বোট চলাচলের কারণে অনেক দুর্ঘটনাও ঘটে।

বিআইডব্লিউটিএ'র কাঁঠালবাড়ি ঘাট সূত্রে জানা যায়, নদীতে ইঞ্জিনচালিত যেকোনো নৌযান চালাতে হলে সমুদ্র পরিবহন অধিদফতর থেকে রেজিস্ট্রেশন ও চালকদের লাইসেন্স নিতে হয়। বিআইডব্লিউটিএ শুধু নৌপথ ব্যবহারের অনুমতি দেয়। কিন্তু এ নৌপথে স্পিড বোট চলচলাচলের কোনো অনুমতি নেই।

এ বিষয়ে শিবচর থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘আমি এখানে নতুন এসেছি। পদ্মায় অবৈধভাবে স্পিড বোট চলাচল করছে ব্যাপারটা আমি জানতাম না। খুব শীঘ্রই এটি বন্ধ করব।’

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র