Barta24

সোমবার, ২৬ আগস্ট ২০১৯, ১১ ভাদ্র ১৪২৬

English

ভাগাড়ে চামড়া ফেলছে রাজশাহীর মাদরাসাগুলো

ভাগাড়ে চামড়া ফেলছে রাজশাহীর মাদরাসাগুলো
পচন ধরা চামড়া নিয়ে বসে আছেন রাজশাহীর এক হাফিজিয়া মাদরাসার অধ্যক্ষ/ ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
স্টাফ করেসপন্ডেট
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
রাজশাহী


  • Font increase
  • Font Decrease

ক্রেতা না পেয়ে কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়া ফেলে দিতে শুরু করেছে রাজশাহীর মাদরাসাগুলো। অথচ প্রতিবছর মাদরাসাগুলো কোরবানির পশুর চামড়া বিক্রির অর্থে তাদের এতিম ও দরিদ্র শিক্ষার্থীদের ভরণপোষণের ব্যবস্থা করে আসছিল। ফলে এবার এতিম ও দুস্থ শিক্ষার্থীদের ওপর নেমে আসতে পারে পড়াশোনা বন্ধের খড়গ। রাজশাহী নগরীর বেশ কয়েকটি মাদরাসা ঘুরে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

মাদরাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা জানান, ঈদের দিন কোরবানির পর থেকে মাদরাসার শিক্ষকদের নেতৃত্বে ছাত্ররা চামড়া সংগ্রহ করতে শুরু করেন। এছাড়া স্থানীয়দের অনেকেই সোয়াবের আশায় ও মাদরাসার শিক্ষার্থীদের কথা চিন্তা করে পশুর চামড়া দান করেন।

প্রতিবছরের মতো এবারও প্রত্যাশা মতোই চামড়া সংগ্রহ করেছিলেন তারা। তবে অন্যান্য বছরের মতো এবার ক্রেতারা মাদরাসায় আসেননি। শ্রমিক সংকটে তারা সংরক্ষণও করতে পারেননি। ফলে বাধ্য হয়ে ঈদের তৃতীয় দিনে সিটি করপোরেশনের সহায়তায় বর্জ্য হিসেবে চামড়া ফেলে দিয়েছেন।

জেলা শিক্ষা অধিদফতরের তথ্যানুযায়ী, রাজশাহীতে মাদরাসা রয়েছে এক হাজার ৭০২টি। শুধু নগরীতে মাদরাসার সংখ্যা ২২১টি। যার মধ্যে অধিকাংশই হাফেজিয়া মাদরাসা। জেলার গ্রামাঞ্চলের আর্থিক অনটনে থাকা পরিবারগুলো তাদের সন্তানদের ছোটবেলায় মাদরাসায় পাঠিয়ে দেয়। রাজশাহীর পার্শ্ববর্তী চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, পাবনা, নাটোর ও জয়পুরহাটের অসংখ্য শিক্ষার্থী এসব মাদরাসায় অধ্যয়নরত।

স্থানীয় মাদরাসা কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, বিশেষ করে হাফেজিয়া মাদরাসাগুলোতে এতিম ও দরিদ্র ঘরের শিক্ষার্থীরা অধ্যয়নরত। যাদের ভরণ-পোষণ ও শিক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের একটা বড় অংশই আসে কোরবানি দেওয়া পশুর চামড়ার বিক্রির অর্থ থেকে।

রাজশাহীর মাদরাসাগুলোর মধ্যে দরগাপাড়ার জামিয়া ইসলামীয়া মাদরাসা অন্যতম। বর্তমানে মাদরাসাটিতে তালিকাভুক্ত ১৫০ জন দরিদ্র ও এতিম শিক্ষার্থী রয়েছে। কোরবানির সময় প্রতিবছর গড়ে প্রায় এক থেকে দেড় লাখ টাকা আয় হয় মাদরাসার।

মাদরাসাটির অধ্যক্ষ শাহাদত আলী বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে বলেন, ‘আমরা এবার প্রায় ৬০০ গরু ও খাসির চামড়া সংগ্রহ করেছিলাম। যার মধ্যে ৫৯৭টি চামড়া মঙ্গলবার (১৩ আগস্ট) দিবাগত রাতে ফেলে দিয়েছি। চামড়াগুলোতে পচন ধরেছিল। বাধ্য হয়ে সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ডেকে নির্দিষ্ট ভাগাড়ে ফেলে দেওয়া হয়।’

তিনি বলেন, ‘চামড়াগুলো সংরক্ষণ করতে মাদরাসার টাকায় ২০ বস্তা লবণ কেনা হয়েছিল। তবে নির্ধারিত সময়ে মধ্যে লবণ লাগাতে প্রয়োজনীয় শ্রমিকও পাওয়া যায়নি। ফলে চামড়াগুলো পচে যায়। চামড়ার টাকা তো পাওয়াই গেল না, বরং ফান্ডের টাকায় কেনা লবণও পড়ে আছে।’

নগরীর মোহাম্মদপুর (টিকাপাড়া) হাফেজিয়া মাদরাসার পরিচালনা কমিটির সভাপতি ইয়াকুব আলী বলেন, ‘কোরবানির কয়েকদিন আগে থেকে শিক্ষক ও ছাত্রদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করেছিলাম। পরিচালনা কমিটির সদস্যরাও বিভিন্ন স্থানে বলে রেখেছিলাম। সেই জন্য এক হাজারের বেশি চামড়া পেয়েছিলাম। কিন্তু বিক্রি করতে পেরেছি ১৫০ থেকে ১৬০টি চামড়া। পচন ধরায় বাকি চামড়া ফেলে দিয়েছে ছাত্র-শিক্ষকরা।’

তিনি বলেন, ‘এখানে ৭০ জন ছাত্রকে ফ্রি থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করেছি। বিভিন্ন জায়গা থেকে সহযোগিতা নিয়ে নতুন ভবন তোলা হয়েছে। চামড়া বিক্রির টাকা দিয়ে তাদের খাওয়ার ব্যবস্থাটা হবে বলে আশা করেছিলাম। কিন্তু তা তো হলো না।’

আরও পড়ুন: ট্রাকভর্তি চামড়া ফেলে পালালেন ব্যবসায়ী!

আপনার মতামত লিখুন :

রাজধানীতে শীর্ষ নারী মাদক ব্যবসায়ী আটক

রাজধানীতে শীর্ষ নারী মাদক ব্যবসায়ী আটক
মাদক ব্যবসায়ী আসমা বেগম।

রাজধানীর তুরাগ থানা এলাকা হতে ৪৩ হাজার পিস ইয়াবাসহ এক শীর্ষ নারী মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে র‍্যাব।

সোমবার (২৬ আগস্ট) বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বিষয়টি নিশ্চিত করে র‍্যাব ২ এর মেজর মোহাম্মাদ আলী বলেন, 'রোববার (২৫ আগস্ট) রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে র‍্যাব তাকে আটক করে।'

তিনি আরও বলেন, 'শীর্ষ ওই নারী মাদক ব্যবসায়ীর নাম আসমা বেগম। তিনি ২০/২৫ জন ইয়াবা ব্যবসায়ীকে নিয়ন্ত্রণ করেন। আমরা তাদের নেটওয়ার্কে প্রবেশ করেছি। একে একে এই সিন্ডিকেটের সবাইকে আটক করা হবে।' 

পদ্মার ভাঙনে ঘরহারা ২০০ পরিবার, আতঙ্কে ১৫ চরবাসী

পদ্মার ভাঙনে ঘরহারা ২০০ পরিবার, আতঙ্কে ১৫ চরবাসী
পানির স্রোতে ভাঙছে পদ্মার পাড়, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

রাজশাহীতে উজানের ঢলে নেমে আসা পানিতে ফেঁপে উঠছে পদ্মা। বিপদসীমার মাত্র ৭৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে পানি। তবে সেটা রাজশাহী শহররক্ষা বাঁধা এলাকায়। যেটিকে পদ্মার রাজশাহী পয়েন্ট হিসেবে ধরা হয়। পদ্মার মূল পয়েন্টে বিপদসীমা এখনো অতিক্রম না করলেও জেলার বাঘা উপজেলার চকরাজাপুর ইউনিয়নে পদ্মায় পানি বৃদ্ধিতে ব্যাপক ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে।

ভাঙনের কবলে পড়ে এরই মধ্যে বসত-ভিটা ছাড়া হয়েছেন দুই শতাধিক পরিবার। তারা প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে অন্যত্র চলে যাচ্ছেন। চরম আতঙ্কে দিন পার করছেন চকরাজাপুরের ১৫টি চরের মানুষ।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/26/1566796058911.jpg

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, পদ্মায় ফুলে ফেঁপে ওঠা পানির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ভাঙছে নদীর পাড়। পদ্মার উত্তাল ঢেউয়ে পাড় ভেঙে চকরাজাপুর ও পাকুড়িয়া ইউনিয়নের আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভেসে গেছে গাছপালা। আর ৫০ গজ ভাঙলেই পাকুড়িয়া ইউনিয়নের আলাইপুর নাপিতের মোড় ও কিশোরপুর এলাকার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে গিয়ে ঠেকবে ভাঙন। ভাঙন আতঙ্কে রয়েছে পদ্মা পাড়ের মানুষ। তবে ভাঙন রোধে কোনো তৎপরতা দেখা যায়নি।

আরও পড়ুন: বিপদসীমার ৭৮ সেন্টিমিটার নিচে পদ্মার পানি

চকরাজাপুর ইউনিয়নের লক্ষ্মীনগর চরের মান্নান মন্ডল, মিজানুর রহমান, সামাদ মালিথা, হানে ফকির, হাফিজুর রহমান, জাহিদুল ইসলাম, হানু কাজী, সাইদুল ইসলাম, মজনু মোল্লা ও চকরাজাপুর চরের হাসান শেখ, জব্বার মন্ডল, হিরো মন্ডল, শাহিনা বেগম, ফজলু শিকদার, আকতার মন্ডল, রহমান মোল্লা হাফিজুর রহমানসহ শতাধিক পরিবার ভিটে-মাটি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/26/1566796157103.jpg

তাদের মতো ভাঙন আতঙ্কে ঠিকানা খুঁজছেন চকরাজাপুর চরের আরো শতাধিক পরিবার। ঠিকানা হারিয়ে কোথায় যাবেন তা নিয়েও দুঃশ্চিন্তা তাদের। পানিবন্দি হয়ে গবাদিপশু নিয়ে অবর্ণনীয় জীবন যাপন করছেন কালিদাখালি, চকরাজাপুর, চৌমাদিয়া, আতারপাড়া, চকরাজাপুর, পলাশি ফতেপুর, ফতেপুর পলাশি, লক্ষীনগর, চকরাজাপুর, পশ্চিম চরকালিদাস খালী, পূর্ব চকরাজাপুর, জোতাশি, মানিকের চর, লক্ষিনগর, টিকটিকিপাড়া, দিয়াড়কাদিরপুর, নওশারা-মহদীপুর চরের মানুষ।

স্থানীয় সবুর মল্লিক ও লিটন আলী বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে জানান, নদী তীরবর্তী বাঁধের পশ্চিমপাড় থেকে এ ভাঙন শুরু হয়েছে। নদী ভাঙন রোধে জরুরি পদক্ষেপ না নিলে অরক্ষিত এলাকার আরও অনেক জমি ও ঘরবাড়ি নদী গর্ভে হারিয়ে যাবে।

চকরাজাপুর চরের মোস্তাক আহম্মেদ শিকদার বলেন, ‘গত কয়েক দিনে পদ্মায় বিঘার পর বিঘা জমির ধান, পাট, আবাদি জমি, গাছপালা হারিয়ে গেছে। মানুষদের সহযোগিতা তো দূরের কথা সান্ত্বনা দেওয়ার মতোও কেউ নেই। বারবার সরকার ও জনপ্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে ভাঙন ঠেকানোর আশ্বাস দিলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি।’

আরও পড়ুন: বর্ষায় শান্ত পদ্মা ফুঁসে উঠছে শরতে

পূর্ব চকরাজাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দেওয়ার শওকত জামান বলেন, ‘কয়েক দিনের পানি বৃদ্ধির কারণে ফসলি জমিসহ গাছ-পালা, বাড়ি-ঘর নদীতে বিলীন হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নিয়ে কোনো রকম বেঁচে আছে দুই শতাধিক পরিবার। তারা এখন ঘরবাড়ি সরাতে ব্যস্ত।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/26/1566796113226.JPG

চকরাজাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আজিজুল আযম বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, ‘আমরা এরমধ্যেই ৩০টি পারিবারের তালিকা তৈরি করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে প্রেরণ করেছি। অন্যদের ব্যাপারেও খোঁজ-খবর নেওয়া হচ্ছে। যাদের ঘর-বাড়ি ভেঙেছে তাদের সরকারি সহযোগিতার ব্যবস্থা করা হবে।’

জানতে চাইলে বাঘা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শাহিন রেজা বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, ‘আমরা স্থানীয় জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে ৩০টি পরিবারের তালিকা পেয়েছি। সেটি উপরমহলে জানানো হয়েছে। ত্রাণ সামগ্রী বরাদ্দ পেলে তাদের পৌঁছে দেওয়া হবে। এছাড়া ভাঙনের বিষয়ে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবগত করা হয়েছে।’

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র