Barta24

সোমবার, ২৬ আগস্ট ২০১৯, ১১ ভাদ্র ১৪২৬

English

পোস্তায় পচা চামড়ার তীব্র গন্ধ

পোস্তায় পচা চামড়ার তীব্র গন্ধ
রাস্তার দুই পাশে রাখা চামড়ায় পচন ধরেছে/ ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
রেজা-উদ্-দৌলাহ প্রধান
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
ঢাকা


  • Font increase
  • Font Decrease

দাম নেই, তাই চামড়ার কদরও নেই। পিচ ঢালা রাস্তায় পড়ে রয়েছে চামড়া। গত তিনদিনে রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে পচন ধরেছে চামড়ায়। যানবাহন ও মানুষের পায়ে পায়ে পড়ে থাকা চামড়া ছড়িয়ে ছিটিয়ে গেছে এদিক সেদিক। বাতাসে পচা চমড়ার তীব্র গন্ধ।

বুধবার (১৪ আগস্ট) সকালে সরেজমিনে গিয়ে এই চিত্র দেখা যায় দেশের কাঁচা চামড়া কেনা-বেচার আড়ত পুরান ঢাকার পোস্তায়। এবার যেন পচা চামড়ায় পচছে পোস্তা। যার মূল কারণ চামড়া বাজারে নজিরবিহীন দরপতন।

প্রতিবছর কোরবানি ঈদের পর সারা দেশ থেকে কাঁচা চামড়া আসে এই পোস্তায়। ট্রাকে ট্রাকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে চামড়া নিয়ে পোস্তার রাস্তার দুই পাশে সারি সারি স্তূপ করে রাখেন মৌসুমি ব্যবসয়ী ও ফড়িয়ারা। স্তুপ থেকে কিনে আড়তে চামড়ায় লবণ দিয়ে মজুদ শুরু করা হয়।

ঐ সময় শ্রমিকদের ব্যস্ততা বাড়ে আড়তগুলোতে। চামড়া সংগ্রহ ও লবণ ছিটিয়ে প্রক্রিয়াজাতকরণে তখন দম ফেলার সময় থাকে না আড়তদার এবং কর্মচারীদের। ঈদের পর আরেক উৎসব লেগে থাকত পোস্তা এলাকায়।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/14/1565778169248.jpg

কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে সেই উৎসবে ভাটার স্রোত ছিল, এবার ভাটাও নেই; নিস্তরঙ্গ। ঈদের দিন রাতে ট্রাকের সারি পোস্তা অভিমুখে দেখা গেলেও মৌসুমি ব্যবসায়ী ও ফড়িয়াদের মুখ ছিল মলিন। যে কাঁচা চামড়া তারা কিনেছেন ৩০০ থেকে ৪০০ টাকায়, সেই চামড়ার দাম আড়তদারের বলেন ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা। কিছুক্ষণ পর কেনা দামও দিতে রাজি হয়নি। যে কারণে স্তুপকৃত চামড়া কেউ কেউ ফিরিয়ে নিয়ে যান, কেউবা বিক্রির আশায় ফেলে রাখেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পোস্তা এলাকায় ২০০ থেকে ২৫০ আড়ত থাকলেও এই ঈদে অর্ধেকের মতো চালু ছিল। তার মধ্যে বেশিরভাগ আড়তদার গড়ে দুই থেকে তিন হাজার চামড়া ক্রয় করেছেন। অধিকাংশ চামড়াই অবিক্রীত থেকে গেছে।

সমীর এন্ড হানিফ কোং আড়তের স্বত্বাধিকারী সমীরউদ্দীন বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে বলেন, ‘এ বছর গরুর চামড়া নষ্ট হয়েছে ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ। ছাগলের চামড়া নষ্ট হয়েছে গড়ে ৬০ শতাংশ। ভেড়া আর মহিষের চামড়ার হিসাব নেই। যে পরিমাণ চামড়া নষ্ট হয়েছে তার আর্থিক মূল্য কয়েকশ কোটি টাকা।’

চামড়া কিনতে না পারার কারণ হিসেবে অর্থ সংকটকে তুলে ধরেন পোস্তার আড়ৎদারেরা। তারা বলেন, ‘বেশির ভাগ আড়তদারের টাকা পাওনা আছে ট্যানারি মালিকদের কাছে। এক বছর হলেও ট্যানারি মালিকরা সেই টাকা পরিশোধ করেননি। একটি চামড়া লবণ লাগিয়ে প্রস্তুত করতে সবমিলিয়ে গড়ে দুই হাজার টাকা খরচ হয়। এখন দুই হাজার চামড়া ক্রয় করতে ৪০ লাখ টাকার প্রয়োজন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/14/1565778184600.jpg

আড়তগুলোতে এবার শ্রমিকদের ভিড় নেই। বৃষ্টির দিনে অনেক আড়ত খোলাও হয়নি। যেগুলো খুলেছে তাতে মহাজন নেই। দুয়েকটি আড়তে লবণ লাগানো চামড়াগুলোকে ঠিকঠাক করতে দেখা যায় শ্রমিকদের। রাস্তায় চামড়ার ছেড়া অংশ পড়ে আছে। কোথাও স্তুপ আকারে পড়ে আছে। অবসর সময় পার করছেন কর্মচারীরা। কয়েকজন মৌসুমি ব্যবসায়ী চামড়া নিয়ে আসলেও তা বিক্রি করতে পারছেন না। এমনকি ১০০ টাকা দামেও গরুর চামড়া কিনছেন না আড়তদাররা।

আড়তের কয়েকজন শ্রমিক জানান, যদি চামড়ার দাম থাকত, তাহলে চামড়ার সব অংশের কদর থাকত। এই যে রাস্তায় গরু, ছাগলের ফাটা চামড়া, মাথার চামড়া পড়ে আছে, সেগুলোর কিছুই থাকত না, সব বিক্রি হয়ে যেত। এমন পরিবেশ এর আগে কখনো দেখেননি বলে জানান তারা।

এদিকে পোস্তার পচা চামড়া পরিষ্কার করতে মাঠে নেমেছেন সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা। বৃষ্টির মধ্যেই সিটি করপোরেশনের গাড়িতে করে পচা চামড়া ডাম্পিং গ্রাউন্ডে নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।

পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম তদারকির দায়িত্বে থাকা একজন কর্মকর্তা বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে জানান, পোস্তায় এত নোংরা পরিবেশ তারা আগে কখনো দেখেননি। বৃষ্টির কারণে পরিস্থিতি আরও দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।

আপনার মতামত লিখুন :

রাজধানীতে শীর্ষ নারী মাদক ব্যবসায়ী আটক

রাজধানীতে শীর্ষ নারী মাদক ব্যবসায়ী আটক
মাদক ব্যবসায়ী আসমা বেগম।

রাজধানীর তুরাগ থানা এলাকা হতে ৪৩ হাজার পিস ইয়াবাসহ এক শীর্ষ নারী মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে র‍্যাব।

সোমবার (২৬ আগস্ট) বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বিষয়টি নিশ্চিত করে র‍্যাব ২ এর মেজর মোহাম্মাদ আলী বলেন, 'রোববার (২৫ আগস্ট) রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে র‍্যাব তাকে আটক করে।'

তিনি আরও বলেন, 'শীর্ষ ওই নারী মাদক ব্যবসায়ীর নাম আসমা বেগম। তিনি ২০/২৫ জন ইয়াবা ব্যবসায়ীকে নিয়ন্ত্রণ করেন। আমরা তাদের নেটওয়ার্কে প্রবেশ করেছি। একে একে এই সিন্ডিকেটের সবাইকে আটক করা হবে।' 

পদ্মার ভাঙনে ঘরহারা ২০০ পরিবার, আতঙ্কে ১৫ চরবাসী

পদ্মার ভাঙনে ঘরহারা ২০০ পরিবার, আতঙ্কে ১৫ চরবাসী
পানির স্রোতে ভাঙছে পদ্মার পাড়, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

রাজশাহীতে উজানের ঢলে নেমে আসা পানিতে ফেঁপে উঠছে পদ্মা। বিপদসীমার মাত্র ৭৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে পানি। তবে সেটা রাজশাহী শহররক্ষা বাঁধা এলাকায়। যেটিকে পদ্মার রাজশাহী পয়েন্ট হিসেবে ধরা হয়। পদ্মার মূল পয়েন্টে বিপদসীমা এখনো অতিক্রম না করলেও জেলার বাঘা উপজেলার চকরাজাপুর ইউনিয়নে পদ্মায় পানি বৃদ্ধিতে ব্যাপক ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে।

ভাঙনের কবলে পড়ে এরই মধ্যে বসত-ভিটা ছাড়া হয়েছেন দুই শতাধিক পরিবার। তারা প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে অন্যত্র চলে যাচ্ছেন। চরম আতঙ্কে দিন পার করছেন চকরাজাপুরের ১৫টি চরের মানুষ।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/26/1566796058911.jpg

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, পদ্মায় ফুলে ফেঁপে ওঠা পানির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ভাঙছে নদীর পাড়। পদ্মার উত্তাল ঢেউয়ে পাড় ভেঙে চকরাজাপুর ও পাকুড়িয়া ইউনিয়নের আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভেসে গেছে গাছপালা। আর ৫০ গজ ভাঙলেই পাকুড়িয়া ইউনিয়নের আলাইপুর নাপিতের মোড় ও কিশোরপুর এলাকার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে গিয়ে ঠেকবে ভাঙন। ভাঙন আতঙ্কে রয়েছে পদ্মা পাড়ের মানুষ। তবে ভাঙন রোধে কোনো তৎপরতা দেখা যায়নি।

আরও পড়ুন: বিপদসীমার ৭৮ সেন্টিমিটার নিচে পদ্মার পানি

চকরাজাপুর ইউনিয়নের লক্ষ্মীনগর চরের মান্নান মন্ডল, মিজানুর রহমান, সামাদ মালিথা, হানে ফকির, হাফিজুর রহমান, জাহিদুল ইসলাম, হানু কাজী, সাইদুল ইসলাম, মজনু মোল্লা ও চকরাজাপুর চরের হাসান শেখ, জব্বার মন্ডল, হিরো মন্ডল, শাহিনা বেগম, ফজলু শিকদার, আকতার মন্ডল, রহমান মোল্লা হাফিজুর রহমানসহ শতাধিক পরিবার ভিটে-মাটি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/26/1566796157103.jpg

তাদের মতো ভাঙন আতঙ্কে ঠিকানা খুঁজছেন চকরাজাপুর চরের আরো শতাধিক পরিবার। ঠিকানা হারিয়ে কোথায় যাবেন তা নিয়েও দুঃশ্চিন্তা তাদের। পানিবন্দি হয়ে গবাদিপশু নিয়ে অবর্ণনীয় জীবন যাপন করছেন কালিদাখালি, চকরাজাপুর, চৌমাদিয়া, আতারপাড়া, চকরাজাপুর, পলাশি ফতেপুর, ফতেপুর পলাশি, লক্ষীনগর, চকরাজাপুর, পশ্চিম চরকালিদাস খালী, পূর্ব চকরাজাপুর, জোতাশি, মানিকের চর, লক্ষিনগর, টিকটিকিপাড়া, দিয়াড়কাদিরপুর, নওশারা-মহদীপুর চরের মানুষ।

স্থানীয় সবুর মল্লিক ও লিটন আলী বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে জানান, নদী তীরবর্তী বাঁধের পশ্চিমপাড় থেকে এ ভাঙন শুরু হয়েছে। নদী ভাঙন রোধে জরুরি পদক্ষেপ না নিলে অরক্ষিত এলাকার আরও অনেক জমি ও ঘরবাড়ি নদী গর্ভে হারিয়ে যাবে।

চকরাজাপুর চরের মোস্তাক আহম্মেদ শিকদার বলেন, ‘গত কয়েক দিনে পদ্মায় বিঘার পর বিঘা জমির ধান, পাট, আবাদি জমি, গাছপালা হারিয়ে গেছে। মানুষদের সহযোগিতা তো দূরের কথা সান্ত্বনা দেওয়ার মতোও কেউ নেই। বারবার সরকার ও জনপ্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে ভাঙন ঠেকানোর আশ্বাস দিলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি।’

আরও পড়ুন: বর্ষায় শান্ত পদ্মা ফুঁসে উঠছে শরতে

পূর্ব চকরাজাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দেওয়ার শওকত জামান বলেন, ‘কয়েক দিনের পানি বৃদ্ধির কারণে ফসলি জমিসহ গাছ-পালা, বাড়ি-ঘর নদীতে বিলীন হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নিয়ে কোনো রকম বেঁচে আছে দুই শতাধিক পরিবার। তারা এখন ঘরবাড়ি সরাতে ব্যস্ত।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/26/1566796113226.JPG

চকরাজাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আজিজুল আযম বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, ‘আমরা এরমধ্যেই ৩০টি পারিবারের তালিকা তৈরি করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে প্রেরণ করেছি। অন্যদের ব্যাপারেও খোঁজ-খবর নেওয়া হচ্ছে। যাদের ঘর-বাড়ি ভেঙেছে তাদের সরকারি সহযোগিতার ব্যবস্থা করা হবে।’

জানতে চাইলে বাঘা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শাহিন রেজা বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, ‘আমরা স্থানীয় জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে ৩০টি পরিবারের তালিকা পেয়েছি। সেটি উপরমহলে জানানো হয়েছে। ত্রাণ সামগ্রী বরাদ্দ পেলে তাদের পৌঁছে দেওয়া হবে। এছাড়া ভাঙনের বিষয়ে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবগত করা হয়েছে।’

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র