Barta24

রোববার, ২৫ আগস্ট ২০১৯, ১০ ভাদ্র ১৪২৬

English

ইউরোপ চামড়া না কিনলে ব্যবসা চাঙা হবে না

ইউরোপ চামড়া না কিনলে ব্যবসা চাঙা হবে না
পুরান ঢাকার আড়তে চামড়া, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
রেজা-উদ্-দৌলাহ প্রধান
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

সকাল থেকেই বৈরী আবহাওয়া। কখনো গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি আবার কখনো মাঝারি বৃষ্টি। তবে এ বৃষ্টি রাজধানীবাসীর মনে শীতল পরশ বুলিয়ে দিলেও চামড়া ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত। বৃষ্টিস্নাত দিনে নগরবাসী যখন কোরবানির গরুর মাংসের সঙ্গে খিচুরির স্বাদ নিতে ব্যস্ত, তখন বিনিয়োগের টাকা তুলে আনার ভাবনায় চামড়া ব্যবসায়ীরা।

৫০ বছর ধরে চামড়ার ব্যবসার সঙ্গে জড়িত মোহাম্মদ মোস্তাকিম। আইয়ুব খানে আমলে ৯ টাকা দামের গরুর চামড়া ৩ টাকায় বেচা-কেনা হতে দেখেছেন। তখনও কোনও চামড়াই নষ্ট হত না। অথচ বিগত কয়েক বছর ধরে চামড়ার দামের পতন ও এবার তাঁর চূড়ান্ত রূপ দেখে ভীষণ হতাশ তিনি। হতাশাগ্রস্ত কণ্ঠে মোস্তাকিম বলেন, ‘এতদিন ধরে ব্যবসার সঙ্গে আছি কিন্তু এত বাজে ব্যবসা আর কখনো দেখিনি।’

ইউরোপ চামড়া না কিনলে ব্যবসা চাঙা হবে না

বুধবার (১৪ আগস্ট) মোস্তাকিমের সঙ্গে কথা হয় দেশের সবচেয়ে বড় কাঁচা চামড়ার বাজার রাজধানীর পুরান ঢাকার পোস্তায়। ব্রিটিশ আমল থেকেই এই পোস্তায় কাঁচা চামড়া বেচা-কেনা হয়। বিশাল এলাকা জুড়ে ছিল আড়তদারদের আড়ত। সময়ের সঙ্গে চামড়ার ব্যবসায় যুক্ত অনেকেই দেউলিয়া হয়ে এই পেশা ছেড়ে চলে গেছেন।

মোস্তাকিম বলেন, বাংলাদেশের চামড়ার বড় বাজার ছিল ইউরোপ। অথচ গত কয়েকবছর ধরেই তারা চামড়া নিচ্ছে না। আমেরিকাও বিমুখ। ইউরোপ আমেরিকা যদি চামড়া না নেয় তাহলে কোন কিছু করেই ব্যবসায় চাঙাভাব ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, ইউরোপের ক্রেতারা যখন এদেশে চামড়া নিত তখন একটি মাঝারি গরুর কাঁচা চামড়া এই পোস্তায় ২/৩ হাজার টাকায় কেনা-বেচা হত। অথচ এখন ১০০ টাকাতেও গরুর চামড়া কেউ কিনছে না। ছাগলের চামড়া ৫ টাকা ১০ টাকা। ভেড়া মহিষের কোন কথাই নেই।

ইউরোপ চামড়া না কিনলে ব্যবসা চাঙা হবে না

ঈদের পর যে পোস্তায় কাঁচা চামড়া কেনা-বেচা, প্রক্রিয়াজতকরণে শ্রমিকরা থাকত ব্যস্ত, এবার তারা অতীতের দিনগুলোর স্মৃতিরোমন্থন করে দিন কাটাচ্ছেন। রাস্তায় গড়াগড়ি খাচ্ছে গরু, ছাগলের চামড়া। কোথাও কোথাও চামড়া এখনও স্তূপ করে রাখা হয়েছে। মৌসুমি ব্যবসায়ীদের থেকে কেনার লোক নাই।

বৃষ্টিতে পচা চামড়া থেকে কটু গন্ধ ছড়াচ্ছে। অনভ্যস্ত যে কারো জন্যে সেখানে নিশ্বাস নেওয়াটা দায়। চামড়া নেওয়ার ক্রেতা নেই দেখে অনেক মৌসুমি ব্যবসায়ী চামড়া সিটি করপোরেশনের গাড়িতে তুলে ডাম্পিংয়ে পাঠিয়ে দিচ্ছেন।

শ্রমিক আব্দুর রহিম বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, আগে যখন কাজের ব্যস্ততা ছিল তখন এখানকার পরিবেশ থাকতো একদম ভিন্ন। এই যে রাস্তায় চামড়া পড়ে থাকতে দেখছেন, দাম থাকলে রাস্তায় একটা চামড়াও থাকত না। ছেঁড়া ফাটা সবই তখন বিক্রি হয়ে যেত। চাহিদা নাই, দামও নাই।

ইউরোপ চামড়া না কিনলে ব্যবসা চাঙা হবে না

এদিকে চামড়ার দাম না থাকায় উপযুক্ত মূল্য নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাঁচা চামড়া রফতানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। কিন্তু হঠাৎ করে সরকারের নেওয়া এই সিদ্ধান্তে এ শিল্প খাতের কোনও উপকার হবে না বলে মনে করেন আড়তদাররা।

আড়তদার হাজী সমীরউদ্দিন বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, কোরবানির কমপক্ষে ৩৬ ঘণ্টা পর সরকার কাঁচা চামড়া রফতানির সিদ্ধান্তের কথা জানালো। অথচ ততক্ষণে যা ক্ষতি হওয়ার সেটা হয়েই গেছে। কমপক্ষে ৪/৫ মাস আগে থেকে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রচারণা চালাত তাহলে সমূহ লোকসানের হাত থেকে ব্যবসায়ীরা বেচে যেত।

কাঁচা চামড়ার ক্রেতা ব্যবসায়ীদের মতে, চামড়া দেশের সম্ভাবনাময় একটা শিল্প। গুণগতমানের দিক থেকেও বাংলাদেশের গবাদি পশুর চামড়া উন্নতমানের। আর সে কারণে এক সময় বিদেশি বায়াররা এদেশ থেকে চামড়া কিনত। অথচ এখন তারা বাংলাদেশ বিমুখ। এর কারণ সরকারকে অনুধাবন করতে হবে। চামড়াশিল্পকে টিকিয়ে রাখা শুধু নয় বিকশিত করতে হলে এ শিল্পের সঙ্গে জড়িতদের সঙ্গে বসে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তা না হলে পাটশিল্প যেমন ধ্বংস হয়ে গেছে, চামড়া শিল্পও ধ্বংস হয়ে যাবে।

আপনার মতামত লিখুন :

‘বঙ্গবন্ধু হত্যার পেছনে জাসদ-গণবাহিনীর সৃষ্টি’

‘বঙ্গবন্ধু হত্যার পেছনে জাসদ-গণবাহিনীর সৃষ্টি’
জাতীয় শোক দিবসের আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচটি ইমাম/ ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচটি ইমাম বলেছেন, ‘বঙ্গবন্ধু হত্যার পেছনে দেশের শত্রুরা দুটি কাজ সুপরিকল্পিতভাবে করেছে। এর একটি পাকিস্তান থেকে ফিরে আসা সেনা কর্মকর্তাদের সৃষ্টি আর অন্যটি জাসদ ও গণবাহিনীর সৃষ্টি। এদের সম্পর্কে অনেক ভালো জেনেছি যখন জেলে ছিলাম।’

শনিবার (২৪ আগস্ট) বিকালে রাজধানীর অফিসার্স ক্লাবে ‘বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন এ আলোচনা সভার আয়োজন করে।

এইচ টি ইমাম বলেন, ‘৩ নভেম্বর যে অভ্যুত্থান হল তখন কর্নেল তাহের ও তার সঙ্গে যারা ছিল তাদের সবাইকে অ্যারেস্ট করে তারা আবার জেলখানায় চলে এল। জেলে শাফায়াত জামিল আমার সাথে। জেলখানায় তখন প্রথম জানতে পারলাম ৬৬ সালে পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগের মধ্যে একটি বিপ্লবী সেল তৈরি করা হয়েছিল এবং সেটি সিরাজুল আলম খানের নেতৃত্বে। তখন শুনেছি বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে কী জঘণ্য উক্তি তারা করত।’

পাকিস্তান ফেরত সেনা অফিসারদের ভূমিকার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘পাকিস্তান থেকে প্রত্যাগত সেনা অফিসাররা এসেই এমন একটা বিভেদ সৃষ্টি করে ফেলল। পরবর্তীতে দেখেন, বেছে বেছে মুক্তিবাহিনীর অফিসারদের এরা হত্যা করেছে। মুক্তিবাহিনীর সেনা যারা, তারাই প্রাণ দিয়েছে, এরা কিন্তু কেউ প্রাণ দেয়নি। জেনারেল জিয়াউর রহমান তার কোর্সমেট জেনারেল মোজাম্মেল, জেনারেল আব্দুর রহমান, জেনারেল ওয়াজিমুল্লাহকে ভালো ভালো জায়গায় বসিয়েছে। এমনভাবে পুরো জিনিসটা কুক্ষিগত করে ফেলল আমাদের সেনাবাহিনীকে যে জেনারেল শফিউল্লাহ কিছুই না।’

‘জেনারেল জিয়া তো ওদেরই লোক। এরা সকলে কোর্সমেট। এদেরই পৃষ্ঠপোষকতায় বেড়ে উঠেছে কর্নেল রশিদ, কর্নেল ফারুক। কর্নেল রশিদের তো ঢাকায় পোস্টিং ছিল না, তার তো আর্টিলারি ব্যাটালিয়ন নিয়ে কুমিল্লায় থাকার কথা, ফারুকের ট্যাঙ্ক বাহিনী নিয়ে থাকার কথা বগুড়া অথবা সাভারে। এরা যে ঢাকায় এল তাহলে আমাদের সেনাপতিরা, যারা তখন ছিলেন, তারা জানতেন না, এ সমস্ত মুভমেন্ট কী কখনো আর্মি হেডকোয়ার্টাসের অনুমতি কিংবা অনুমোদন ছাড়া হয়? এগুলো তো হয় না। তাহলে আমাদের মধ্যে কীভাবে ঢুকে পড়েছিল এই ষড়যন্ত্রকারীরা। আর মূল ষড়যন্ত্রটি যারা করেছে তারা হল পাকিস্তানিরা।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/25/1566671529801.jpg

দেশের সিভিল সার্ভিসের অবমূল্যায়নের প্রেক্ষাপটের ইতিহাস তুলে ধরে সাবেক এই আমলা বলেন, ‘১৯৬৫ সালের পরে তৎকালীন সিএসপি নিয়ে মানুষের মধ্যে একটা বিরূপ ভাব তৈরি হয়েছিল। তার পেছনে কারণ ছিল আইয়ুব খান। মার্শাল ল চালুর পরে উনি দেখলেন সবকিছু চালায় সিএসপিরা। তিনি তখন ক্ষমতা ভাগাভাগির জন্য কমিটি করলেন। সিভিল সার্ভিসের ক্ষমতা কীভাবে খর্ব করা যায় সে ব্যবস্থা কমিটি পাকাপোক্ত করল। সেই থেকে সিভিল সার্ভিসের অবমূল্যায়ন কিংবা তাদের ক্ষমতা নিয়ে নেওয়া হলো।’

‘আইয়ুব খানের আরেকজন প্রতীকী ইয়াহিয়া খান। আর আমাদের দেশে এসে হলেন জিয়াউর রহমান খান। আমি জিয়াউর রহমান খানই বলব। কারণ তিনি কিন্তু ওই লাইনেরই এবং তারপরে এরশাদ খান।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই খানেরা আমাদের ক্রমান্বয়ে যে কী পরিমাণে ক্ষতি করে গেছেন, অথচ সে জিনিসটি থেকে বঙ্গবন্ধু এসে সেই রাষ্ট্রটিতে তিনি আবার খুঁজে খুঁজে সিভিল সার্ভিসের লোকদের নিয়ে এসেছেন। শুধু সিভিল সার্ভিস নয়, উনি প্রথম সরকারে ল্যাটারাল এন্ট্রি অর্থাৎ সরকারের বাইরে কোথায় কোনো প্রতিভা আছে, যিনি সরকারকে সহযোগিতা করতে পারবেন, সেটা চালু করেন।’

বাকশালের সমালোচনাকারীদের উদ্দেশে বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহকর্মী এইচ টি ইমাম বলেন, ‘বাকশালের গঠনতন্ত্র কেউ দেখেনি। বাকশালের উদ্দেশ্য কী ছিল এটি সম্পর্কে কেউ জানে না। বঙ্গবন্ধু এভাবে জনগণের কাছে ক্ষমতা নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন ভিত্তিমূলে, তৃণমূলে। যে জন্য ৬৪টি মহকুমাকে তিনি জেলায় পরিণত করলেন। প্রতিটা জেলায় গভর্নর নিয়োগ করলেন এবং তাদেরকে ক্ষমতায়ন করে গেছেন।’

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সাজ্জাদুল হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন, মন্ত্রিপরিষদ সচিব শফিউল আলম, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক মূখ্য সচিব ড.কামাল আব্দুল নাসের চৌধুরী, বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সাদিক। স্বাগত সংগঠনের মহাসচিব শেখ ইউসুফ হারুন প্রমুখ।

ব্লেন্ডার মেশিন থেকে সাড়ে তিন হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার

ব্লেন্ডার মেশিন থেকে সাড়ে তিন হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার
আটক হওয়া মাদক ব্যবসায়ী, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

রাজধানীর কাফরুল এলাকার একটি বাসার ব্লেন্ডার মেশিনে রক্ষিত অবস্থায় ৩ হাজার ৬৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করেছে র‍্যাব-৪। এ ঘটনায় মো. ইউনুস নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে র‍্যাব।

রোববার (২৪ আগস্ট) রাতে র‍্যাব-৪ এর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম সজল এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/24/1566664805904.jpg

সাজেদুল ইসলাম সজল বলেন, 'আজ বিকেল ৫টায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৪ এর একটি দল কাফরুল থানাধীন সেনপাড়া পর্বতা এলাকার একটি আবাসিক ভবনের ৬ তলার ফ্ল্যাটে অভিযান পরিচালনা করে। ফ্ল্যাটটিতে অভিযানের এক পর্যায়ে একটি ব্লেন্ডার মেশিনে রক্ষিত অবস্থায় ৩ হাজার ৬৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এছাড়া এ ঘটনায় মাদক ব্যবসায়ী ইউসুফকে আটক করা হয়।'

তিনি বলেন, 'প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, ইউসুফ কক্সবাজার জেলার টেকনাফ থেকে ইয়াবা ট্যাবলেট সংগ্রহ করে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় পাইকারি ও খুচরা বিক্রয় করে থাকে।'

আটকের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলেও তিনি জানান।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র