Barta24

মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই ২০১৯, ৮ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

সব অপরাধে এক শাস্তি ‘সাময়িক বরখাস্ত’

সব অপরাধে এক শাস্তি ‘সাময়িক বরখাস্ত’
বাংলাদেশ পুলিশ
শাহরিয়ার হাসান
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
ঢাকা


  • Font increase
  • Font Decrease

হাজারো অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ পাওয়া যায় পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে। মাদক বাণিজ্য, চাঁদাবাজি, অপহরণ, খুন, ছিনতাই, নির্যাতন, ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়, মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়া, যৌন হয়রানি এমনকি ধর্ষণ ও ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগও রয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ সদর দফতরের বার বার কঠোর সর্তকতা, নির্দেশনার পরেও থেমে নেই পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের অপরাধ কর্ম। তবে অপরাধ করে পার পায়নি তারা। এসেছে শাস্তির আওতায়। কিন্ত সেই শাস্তি অপরাধের তুলনায় খুবই নগণ্য।

পুলিশ সদস্যদের অপরাধ আর শাস্তি বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, বড় অভিযোগ প্রমাণিত হলে পুলিশ সদস্যদের যে বিভাগীয় শাস্তি দেওয়া হয় সেটা শুধুই ‘সাময়িক বরখাস্ত’।

তথ্য বলছে, ২০১৮ সালে ১২ হাজার ৭৩৩ জনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে শাস্তি নামমাত্র। অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের এক শতাংশেরও চাকরি যায়নি। সাময়িক বরখাস্ত বা দূরে কোথাও পোস্টিংয়ে আটকে আছে পুলিশের যত অপরাধ।

অথচ পুলিশ প্রবিধান বলছে উল্টো কথা, পিআরবি-১৮৬১ (পুলিশ প্রবিধান) অনুযায়ী কোন পুলিশ সদস্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়ালে তার বিরুদ্ধে দুই ধরনের বিভাগীয় শাস্তির (লঘু ও গুরু) বিধান আছে। গুরুদণ্ডের আওতায় চাকরি থেকে বরখাস্ত, পদাবনতি, পদোন্নতি স্থগিত, বেতন বৃদ্ধি স্থগিত ও বিভাগীয় মামলা হয়। যেটা এই হাজারো অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে দেখা যায় নাই বললেই চলে।

তবে ছোট অনিয়ম বা অপরাধের জন্য দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার, অপারেশনাল ইউনিট থেকে পুলিশ লাইন্স বা রেঞ্জে সংযুক্ত করে লঘুদণ্ড দেওয়ার যে বিধান রয়েছে সেই সংখ্যাটিই সিংহভাগ।

পুলিশ সদর দফতর সূত্র বলছে, গত ৯ বছরে ১ লাখ ৫০ হাজারের কিছু বেশি পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে নানা অপরাধে জড়ানোর অভিযোগ ওঠে। সত্যতা প্রমাণ শেষে, তাদের মধ্যে ১ লাখ ২০ হাজার ১৯১টি ঘটনায় পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নিয়েছে পুলিশ সদর দফতর। কিন্ত সেই শাস্তির হাতেগোণা কয়েকজন ছাড়া বাকি সবারই বড় অপরাধের জন্য শাস্তি হয়েছে সাময়িক বরখাস্ত।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে, পুলিশ সদর দফতরের এআইজি (মিডিয়া) সোহেল রানা বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, অপরাধের ওপর ভিত্তি করে পুলিশের সদস্যদের শাস্তি হয়। বিভাগীয় শাস্তির ক্ষেত্রে সাধারণত দায়িত্বে অবহেলা, ক্ষমতার অপব্যবহার, অপেশাদার আচরণ, উৎকোচ গ্রহণ ইত্যাদি গুরুত্ব পায়। তাছাড়া গুরু অপরাধে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়ারও বিধান আছে।

তবে এসব ঘটনায় পুলিশ নিয়ে কাজ করা ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, পুলিশ ছোট অপরাধ করলে কোন কোন ক্ষেত্রে কিছু সময়ের জন্য তাদের কোথাও সংযুক্ত করা হয়। বড় অপরাধ করেও খুব কমসংখ্যক ঘটনায় পদাবনতি হয়, ইনক্রিমেন্ট কাটা পড়ে। কিন্তু পুলিশ বাহিনী থেকে বের করে দেওয়ার ঘটনা নেই বললেই চলে। সাধারণত সাময়িক বরখাস্ততেই আটকে থাকে তাদের ফাইল।

একই বিষয়ে পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক নূর মোহাম্মাদ বলেন, একটা সংখ্যক পুলিশ সদস্য অপরাধে জড়িয়েছে, আবার তাদের শাস্তি হচ্ছে। এর মানে পুলিশ জবাবদিহিতার আওতায় আছে। সবসময় যে বড় শাস্তি হয় বিষয়টা এমন না। তবে বিভাগীয় শাস্তি হয় না এমন ঘটনাও নেই।

সাবেক আইজিপি আরো বলেন, পুলিশের ভাবমূর্তি উদ্ধারে পুলিশ বাহিনীকেই এগিয়ে আসতে হবে। তাদের শাস্তি নিশ্চিত করতে পারলেই অপরাধ প্রবণতা কমবে৷

আপনার মতামত লিখুন :

ডেঙ্গু মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ নেই, অভিযোগ নগরবাসীর

ডেঙ্গু মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ নেই, অভিযোগ নগরবাসীর
রাজধানীর সেন্ট্রাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কয়েকজন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগী, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

কলাবাগানের বাসিন্দা কণিকা গাঙ্গুলী। গত ১০ দিন ধরে ছেলের জ্বর। কোনোভাবেই কমছিলো না। বেশ চিন্তিত হয়ে পড়েন। শেষে নানা টেস্ট করিয়ে ডেঙ্গু ধরা না পড়ায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেও আতঙ্কমুক্ত হতে পারছেন না কণিকা।

তার প্রতিবেশী জাহানারা বেগম, পাশের বিল্ডিংয়ের তিন তলার ফ্ল্যাটের বাসিন্দা। তার ফ্ল্যাটের জানালা আর জাহানারা বেগমের ফ্ল্যাটের জানালা লাগায়ো। জাহানারা বেগমের সঙ্গে দুই দিন আগে কথা হয়েছে। তার ছোট মেয়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে এখন হাসপাতালে।

কণিকা গাঙ্গুলীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তার ফ্ল্যাটে এডিস মশার উৎপত্তি রুখতে আগেই সেই ব্যবস্থা করে রেখেছেন। কিন্তু মিসেস জাহানারা বেগমের ফ্ল্যাটের  জানালা দিয়ে এডিস মশা চলে আসে কিনা সেই চিন্তায় আতঙ্কিত তিনি।

কণিকা গাঙ্গুলী ক্ষোভ প্রকাশ করে বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, প্রতিদিন বিভিন্ন গণমাধ্যমে দেখছি; সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে কতগুলো টিম গঠন করা হয়েছে। যে টিম নাকি বাড়ি বাড়ি গিয়ে এডিস মশা নিধন ও ডেঙ্গু জ্বর নিয়ে সচেতনতা করবে।

প্রতিদিন আশায় থাকি তারা বুঝি আজ আসবে। এসে আমার ফ্ল্যাটসহ আশপাশের সকল বিল্ডিংয়ে গিয়ে এডিস মশা নিধন ও ডেঙ্গু নিয়ে সচেতনতা কথা বলবে। কিন্তু এই টিমের এখনও দেখা পাইনি।

এমন অভিযোগ শুধু কণিকা গাঙ্গুলীর একার না। রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশনের অধিকাংশ নাগরিকের এ অভিযোগ।

সোমবার (২২ জুলাই) রাজধানীর নাখালপাড়া, মগবাজার, কাঁঠালবাগান,  কলাবাগান ও পূর্ব এবং পশ্চিম রাজাবাজার ঘুরে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে এমন অভিযোগ পাওয়া যায়।

ডিএনসিস ও ডিএসসিসি সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের তুলনায় এ বছর একটু আগেই ডেঙ্গু জ্বরের প্রভাব দেখা গেছে রাজধানীতে। সিটি করপোরেশনও এডিস মশা নিধন ও ডেঙ্গু জ্বর নিয়ন্ত্রণে কোমর বেঁধে নেমেছ। মশক নিধনসহ নগরবাসীকে সচেতন করতে তৈরি করা হয়েছে বিশেষ টিম। যারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে কাজ করছেন।

তবে দুই সিটি করপোরেশনের এমন দাবি মানতে নারাজ নগরবাসী। তাদের  অভিযোগ, ডিএনসিসি ও ডিএসসিসির মেয়রদের এসব কথা গণমাধ্যম এবং র‍্যালী পর্যন্তই সীমাবদ্ধ। কার্যত এসব আশ্বাসের বা বিশেষ টিমের কোনো সুবিধাই পাচ্ছেন না তারা। পুরো রাজধানী ময়লা-আবর্জনায় সয়লাব, আগে নগরী পরিষ্কারের যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিলো সেগুলোও মুখ থুবড়ে পড়েছে। সিটি করপোরেশন যা করে সব লোক দেখানো। কোনো উদ্যোগ নিলে  কিছু দিন পর  থেমে যায়, স্থায়ী কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয় না।   

এ বিষয়ে রাজধানীর ইন্দিরা রোডের বাসিন্দা মো. হাফিজ বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, বিভিন্ন গণমাধ্যমে সিটি করপোরেশনের নানা টিমের কথা শুনেছি। কিন্তু এলাকায় আজ পর্যন্ত দেখিনি তাদের বাসা বাড়িতে গিয়ে স্প্রে করে মশা মারতে। সাধারণ মশক নিধন কর্মীদেরও দেখা মিলছে না। তাহলে তারা কিভাবে এ কথা বলছেন।

রাজধানীর মনিপুরী পাড়ার বাসিন্দা বিল্পব গোমেজ বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, ডিএনসিসিকে চিঠি দিয়েও তাদের কোনো টিম আমাদের এলাকায় আনতে পারেনি। মশক নিধন ও সচেতনতার অভাবে এলাকায় অনেকে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে। কিন্তু সিটি করপোরেশনের কোনো সাহায্যই এ বিষয়ে পাওয়া যাচ্ছে না।

তিনি আরও বলেন, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া মোকাবিলায় কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয় না। একবার ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বাড়ে তো আরেকবার চিকুনগুনিয়ার। এ রোগের মৌসুম আসার আগে যদি কার্যকর পদক্ষেপ নিত, তাহলে এভাবে মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হত না।  

এদিকে রাজধানীতে এডিস মশা নিধনে দুই সিটি করপোরেশনের গৃহীত পদক্ষেপে অসন্তুষ্টি জানিয়েছেন হাইকোর্ট। এতে দুই সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের তলব করেছেন হাইকোর্ট। আগামী বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) তাদের হাইকোর্টে হাজির হয়ে এই বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।

কিন্তু এ বিষয়ে ডিএনসিসির মেয়র আতিকুল ইসলাম ও ডিএসসিসির মেয়র সাঈদ খোকন জোর গলায় বলছেন, তারা শতভাগ চেষ্টা করছেন ডেঙ্গু ও এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে। তাছাড়া ডিএনসিসির বর্জ্য ও মশক নিধন বিভাগের কর্মকর্তাদের ঈদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে এবং ২৫ হাজার বাসায় গিয়ে এডিস মশা মারার সিদ্ধান্তও নিয়েছে ডিএসসিসি।

চমেকে অগ্নিকাণ্ডে ৫০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি

চমেকে অগ্নিকাণ্ডে ৫০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি
ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে বৈদ্যুতিক সংযোগ থেকে অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ৫০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে ১০ লাখ টাকার মালামাল।

মঙ্গলবার (২৩ জুলাই) ভোর সাড়ে ৫টায় হাসপাতালের নিচতলায় মানসিক ওয়ার্ডে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিটের নয়টি গাড়ি ৪০ মিনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

চট্টগ্রাম ফায়ার ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক জসিম উদ্দীন বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘বৈদ্যুতিক লাইন থেকে আগুন লাগার খবর পেয়ে আমরা উদ্ধার অভিযান চালাই। এতে হাসপাতালের ক্ষয়ক্ষতি হলেও ওয়ার্ডে থাকা রোগীরা আহত হয়নি।’

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র