Barta24

শনিবার, ২০ জুলাই ২০১৯, ৫ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

‘মশা মারতে না পারলে ঢাকা ছেড়ে চলে যান’

‘মশা মারতে না পারলে ঢাকা ছেড়ে চলে যান’
ডেঙ্গু প্রতিরোধে জরুরি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
ঢাকা


  • Font increase
  • Font Decrease

ঢাকা মহানগরকে মশামুক্ত করা দুই সিটি করপোরেশনের মেয়রের নির্বাহী দায়িত্ব। অথচ গোটা মহানগরী মশার রাজত্বে পরিণত হয়েছে। তবুও মশা নিধনের দিকে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণের মেয়রের দৃষ্টি নেই বলে অভিযোগ করেছেন বিক্ষোভ সমাবেশের বক্তারা।

‘ডেঙ্গু হলে পেপে খান’ কিংবা ‘ওষুধের চেয়ে মশা শক্তিশালী হয়েছে’—এমন বালখিল্য কথাবার্তা মিডিয়ার সামনে হাসিমুখে বলে চলেছেন মেয়ররা। এসব কথা বন্ধ করে অবিলম্বে মশা মারার কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে দুই মেয়রকে জনগণ ঢাকা ছাড়া করবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।

শুক্রবার (১২ জুলাই) সকালে রাজধানীর শাহবাগে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা এসব কথা বলেন। গৌরব ৭১ এ সমাবেশের আয়োজন করে।

সমাবেশে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ বলেন, ডেঙ্গুকে কেন্দ্র করে রাজধানীর প্রতিটা পরিবারে আজকে আতঙ্ক বিরাজ করছে। কখন কে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে যায় অথচ নগর ভবনের কর্তাব্যক্তিরা এখনো অত্যন্ত উদাসীন। তারা বাসা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে বলেন। আমার প্রশ্ন, আপনি কি নর্দমাটি পরিষ্কার করেছেন? আমরা শুনেছিলাম আপনারা গাপটি মাছ নর্দমায় ছেড়ে দেবেন যেগুলা নাকি মশার ডিম খেয়ে ফেলবে। তো সেই গাপটি মাছ নিয়ে কোন বক্তব্য দিচ্ছেন না কেন? গাপটি মাছ কোথায়? সেটি কি ছেড়েছেন না কাগজেই আছে?
https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/12/1562914816518.jpg
তিনি বলেন, ডেঙ্গু যেন প্রতিরোধ করা হয় তার জন্য দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। কোন ধরনের ওষুধ ব্যবহার করছেন তা জনগণকে জানাতে হবে। আপনাদের দায়িত্বহীনতার জন্য মানুষ মারা যাবে সেটি নগরবাসী মেনে নেবে না।

ঢাকা শহর মশার রাজ্যে পরিণত হয়েছে দাবি করে সাংবাদিক সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা বলেন, গণমাধ্যমে যখন ডেঙ্গুর প্রকোপ নিয়ে রিপোর্ট হতে থাকলো তখন আমরা দেখলাম দক্ষিণের মেয়র অস্বীকার করলেন। এই অস্বীকারের সংস্কৃতি আরো বেশি খারাপ।

তিনি বলেন, আপনারা তো অনেক ধরনের কাজ করেন অথচ যেখানে সচেতনতা দরকার সেখানে আমরা উদাসীনতা দেখতে পাচ্ছি। আমরা জনগণ আজ আপনাদের একটিমাত্র কাজ বেঁধে দিচ্ছি। মশা মারেন, আর মশা যদি না পারতে পারেন তাহলে ঢাকা ছেড়ে চলে যান।

ডেঙ্গু জ্বরে সন্তান হারানো সরকারি কর্মকর্তা গুলশাহানা উর্মি বলেন, মেয়রদ্বয় বলেন—জ্বর হলে দ্রুত ডাক্তারের কাছে নেন। আমি জ্বর হওয়ার ৩০ ঘণ্টার মধ্যে মেয়েকে ডাক্তারের কাছে নিয়েছি। ৩৮ ঘণ্টার মধ্যে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। ৭৬ ঘণ্টা পর মেয়েকে আইসিইউতে নেই। চারদিন পর মেয়ে আমাকে ছেড়ে চিরতরে চলে যায়!

জ্বর হলেই কেন ডাক্তারের কাছে নিতে হবে। জ্বর যেন না হয় সে ব্যবস্থা আপনারা নেবেন না কেন? প্রশ্ন রাখেন গুলশাহানা উর্মি।

তিনি বলেন, ব্যক্তিগত সচেতনতার দায় দিয়ে নিজেদের দায় এড়ানোর সুযোগ নেই। মেয়র মহোদয় আপনাদের ঘরে বাচ্চা আছে, আপনাদের স্ত্রীকে জিজ্ঞেস করুন তারা সহ্য করতে পারবেন কি না?

গৌরব ৭১ এর সাধারণ সম্পাদক এফ এম শাহীনের সঞ্চালনায় সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন মানবাধিকার কর্মী পদ্মাবতী দেবী, ডা. শাহাদাৎ হোসেন নিপু, ইঞ্জিনিয়ার শাকিল আহমেদ, সাবেক ছাত্রনেতা বাপ্পাদিত্য বসু প্রমুখ।

আপনার মতামত লিখুন :

মানুষকে অসত্য তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করবেন না: অধ্যাপক ফারুক

মানুষকে অসত্য তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করবেন না: অধ্যাপক ফারুক
সংবাদ সম্মেলনে কথা বলছেন অধ্যাপক আ ব ম ফারুক হোসেন

মানুষকে অসত্য তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত না করে সত্য দিয়েই তর্ক-বিতর্কের মাধ্যমে সমাধানের পথ খোঁজার আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োমেডিকেল রিসার্চ সেন্টার ও ফার্মেসি অনুষদের  অধ্যাপক  আ ব ম ফারুক হোসেন।

শনিবার (২০ জুলাই) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক সমিতির কার্যালয়ে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় তিনি মৎস ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, সত্যে আসেন, বিজ্ঞান হলো সত্য। আমরা এমন কিছু বলব না যেকারণে বিভ্রান্তি ছড়ায়। সত্য কখনো আমাদের বঞ্চনা করে না। এই সত্যকে অবলম্বন করেই আমাদের মুক্তির দিকে যেতে হবে। সমস্যা দূর করতে হবে।

তরল পদার্থ নিয়ে যে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে তা অত্যন্ত সহজভাবে সমাধান করা যায় উল্লেখ করে অধ্যাপক ফারুক বলেন, পাস্তুরাইজেশন ইউনিটে যারা কাজ করে তাদের আরেকটু মোটিভেট করা। গরু রোগে আক্রান্ত হবেই। তারা জীবন্ত প্রাণি। তাই তাদের চিকিৎসাও করাতে হবে। নিয়ম হচ্ছে অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়ার পর একটা উইথড্রো পিরিয়ড আছে। ততদিন পর্যন্ত গরুর দুধ পান করা যাবে না। এটা খুবই জরুরি। কম পক্ষে ২১ দিন গরুর দুধ নেওয়া যাবে না।

গরুকে চিকিৎসার সময় হিউমান অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া যাবে না। গরুর খাবারে অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া থাকে সেগুলো বিবেচনা করলেই এসব সমস্যার সমাধান হওয়া কঠিন কিছু না।

উকিল নোটিশের ব্যাপারে তিনি বলেন, আমার কাছে একটি উকিল নোটিশ পাঠানো হয়েছে যাকে লিগ্যাল নোটিশও বলা যায়। আমি এতো বড় লোক নই বলে কোনো আইনজীবী দিয়ে নোটিশ পাঠায়নি। আমি সময়মত সেটার উত্তর দিয়েছি। আমি আমার বিবেকমত যতটুকু বলার আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য ততটুকুই বলেছি।

গবেষণার ব্যাপারে সবাই ইতিবাচক দাবি করে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত আমাদের গবেষণার ব্যাপারে সবার ইতিবাচক সাড়া দেখতে পাচ্ছি। যারা  দু’ একটা কথা বলে তারা আমাদের সামনে বলেন না।

গবেষণার উদ্দেশ্য সম্পর্কে তিনি বলেন, আমাদের গবেষণা কোনো কোম্পানির বিরুদ্ধে না। বরং আমরা দুধ সেক্টরটাকে উন্নত হিসাবে দেখতে চাই এবং  উন্নতমানের দুধ সরবরাহ করা হোক। আমরা যেন মানসম্মত, নিরাপদ দুধ খেতে পারি এটিই আমাদের লক্ষ্য।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের আহবায়ক আ ক ম জামাল উদ্দীন, ঢাবি শাখার সভাপতি আল মামুন, সেক্রেটারি আমিনুল ইসলাম বুলবুল প্রমুখ।

নজরুল প্রশিক্ষণ কোর্সে উত্তীর্ণের হার বাড়ানোর তাগিদ

নজরুল প্রশিক্ষণ কোর্সে উত্তীর্ণের হার বাড়ানোর তাগিদ
উত্তীর্ণ প্রশিক্ষণার্থীদের মাঝে সনদপত্র দেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

নজরুল প্রশিক্ষণ কোর্সে উত্তীর্ণের হার বাড়নোর তাগিদ দিয়েছেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ।

তিনি বলেছেন, ‘কবি নজরুল ইনস্টিটিউটে গত ২০১৬-২০১৮, ২০১৭-২০১৮ শিক্ষাবর্ষে মোট ৩৩৯ জন প্রশিক্ষণার্থী বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কোর্সে ভর্তি হয়। চূড়ান্ত পরীক্ষায় মাত্র ১১১ জন উত্তীর্ণ হয়। গত ২০১৭-২০১৮, ২০১৮-২০১৯ শিক্ষাবর্ষে বিভিন্ন কোর্সে ৩৩০ জন প্রশিক্ষণার্থী ভর্তি হয় যার মধ্যে চূড়ান্ত পরীক্ষায় মাত্র ১৫৫ জন উত্তীর্ণ হয়, যা তুলনামূলকভাবে অনেক কম। তাই কবি নজরুল ইনস্টিটিউটকে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কোর্সে উত্তীর্ণের হার বাড়াতে সচেষ্ট হতে হবে। একইসঙ্গে প্রশিক্ষণে উপযুক্ত মানও বজায় রাখতে হবে।’

শনিবার (৭ জুলাই) সকালে ধানমন্ডিতে কবি নজরুল ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে ২০১৯-২০২০ শিক্ষাবর্ষের নবীন প্রশিক্ষণার্থীদের ওরিয়েন্টেশন ক্লাস অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় ২০১৬-২০১৯ সালের বিভিন্ন শিক্ষাবর্ষের নজরুল-সংগীত, আবৃত্তি ও নৃত্য প্রশিক্ষণ কোর্সের উত্তীর্ণ প্রশিক্ষণার্থীদের মাঝে সনদপত্র বিতরণ করা হয়।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘কবি নজরুল ইনস্টিটিউট নজরুলের অপ্রকাশিত গানের রেকর্ড ও সুর সংগ্রহের কাজ করছে। তাছাড়া প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে নজরুল ইনস্টিটিউট নজরুল-সংগীত, আবৃত্তি ও নৃত্য বিষয়ক বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কোর্স আয়োজন করে আসছে। প্রতিষ্ঠানটি প্রথম থেকেই নজরুল-সংগীতের বিকৃতি বিষয়ে সচেতন এবং বিকৃতি রোধে তথা নজরুল অনুমোদিত সুর (আদি গ্রামোফোন রেকর্ডের বাণী ও সুরসহ) সংরক্ষণ ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রচারের জন্য নানা কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে নিয়োজিত।’

তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমানে নজরুল ইনস্টিটিউট শিশু, কিশোর, তরুণ, উচ্চতর ডিপ্লোমা, উচ্চাঙ্গ সংগীতসহ ১১টি প্রশিক্ষণ কোর্স এবং নজরুল আবৃত্তি দুটি ও নৃত্য তিনটিসহ মোট ১৬টি প্রশিক্ষণ কোর্সের মাধ্যমে নজরুল সংগীতের বাণী ও সুর প্রচার করে যাচ্ছে।’

কবি নজরুল ইনস্টিটিউটের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারপারসন জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন নজরুল-সংগীত স্বরলিপি প্রমাণীকরণ পরিষদের সভাপতি সেলিনা হোসেন। স্বাগত বক্তব্য দেন- কবি নজরুল ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক মো. আব্দুর রাজ্জাক ভূঞা।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র