Barta24

শনিবার, ২০ জুলাই ২০১৯, ৫ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

সমুদ্রদূষণ উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য মারাত্মক হুমকি: পরিবেশমন্ত্রী

সমুদ্রদূষণ উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য মারাত্মক হুমকি: পরিবেশমন্ত্রী
"ন্যাশনাল ওয়ার্কশপ অন দ্যা প্রমোশন অব লন্ডন প্রটোকল" এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিবেশমন্ত্রী/ছবি: সুমন শেখ
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
ঢাকা


  • Font increase
  • Font Decrease

সমুদ্রদূষণ উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য মারাত্মক হুমকির কারণ বলে জানিয়েছেন বন, পরিবেশ এবং জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী শাহাব উদ্দিন।

তিনি বলেছেন, সামুদ্রিক দূষণ দক্ষিণ এশিয়ার উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য মারাত্মক হুমকির কারণ। বিশেষ করে উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে এর প্রভাব বেশি। বিশেষজ্ঞদের মতে সামুদ্রিক ও উপকূলীয় অঞ্চলগুলো ক্রমাগত ধ্বংসের দিকে যাচ্ছে।

শুক্রবার (১২ জুলাই) সকালে হোটেল সোনারগাঁ "ন্যাশনাল ওয়ার্কশপ অন দ্যা প্রমোশন অব লন্ডন প্রটোকল" এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, জনসংখ্যার দিক থেকে বাংলাদেশ, ভারত, মালদ্বীপ, পাকিস্তান এবং শ্রীলঙ্কা পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে। বেশি জনসংখ্যা, কম আয়, কম উন্নয়নসূচক এবং জীবিকার জন্য প্রকৃতির উপর নির্ভরতা এসব দেশের চিত্র। তাদের জীবনযাত্রা সমুদ্রের নির্ভরশীল। ফলে এই অঞ্চলের মানুষের মাধ্যমে পরিবেশ বেশিমাত্রায় দূষণ হচ্ছে, যা দীর্ঘদিন ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে।

মন্ত্রী বলেন, তেল-কেমিক্যাল দূষণ, আবর্জনা, কৃষি থেকে সৃষ্ট আবর্জনা, ড্রেনের ময়লা দক্ষিণ এশিয়ার সমুদ্র দূষণের প্রধান কারণ। বাংলাদেশের পরিবেশ আরো বেশি ঝুঁকির মু্খে, কারণে এখানে সামুদ্রিক দূষণের মাত্রাও বেশি। মাটি ও পানি দূষণের কারণে সমুদ্রের অবস্থা ঝুঁকির মুখে।

বন, পরিবেশ এবং জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহার বলেন, কিছু অদৃশ্য দূষণ রয়েছে, যা উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষ অনুধাবন করতে পারে না। অনেক সময় বিষ প্রয়োগ করে মাছ মারা হয়, যা ভয়াবহ দূষণের কারণ। এই বিষের পানি যখন সুন্দরবনে ছড়িয়ে পড়ে তখন মাছ, পশু অসুস্থ হয় পড়ে। এ সমস্যা মানুষ দ্বারাই সৃষ্টি হচ্ছে। সুন্দরবনের অনেক প্রাণিই মিষ্টি পানির জন্য বেঁচে আছে, কিছু কিছু এলাকায় চিংড়ি চাষের নামে মিষ্টি পানি ধরে রাখা হচ্ছে, যা ভয়াবহ দু:শ্চিন্তার কারণ।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সেকাপ'র মহাপরিচালক ড. আবাস বাশির। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুল্লাহ আল মহসিন চৌধুরী প্রমুখ।

 

আপনার মতামত লিখুন :

সরল বিশ্বাসে কিছু করলে অপরাধ নয় বলেছি : দুদক চেয়ারম্যান

সরল বিশ্বাসে কিছু করলে অপরাধ নয় বলেছি : দুদক চেয়ারম্যান
'দুর্নীতি দমনে আইনজীবী এবং বিচার বিভাগের ভূমিকা' শীর্ষক আলোচনা সভায় দুদক চেয়ারম্যান

সরল বিশ্বাসে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের করা কাজ কোনো অপরাধ নয় সম্প্রতি দেওয়া এমন বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়ে দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেছেন, 'এ ব্যাপারে আমার উত্তর একেবারে সহজ। একটি প্রশ্নের বিপরীতে আমি যে উত্তর দিয়েছিলাম সেখানে আমি দুর্নীতি শব্দটি উচ্চারণ করি নাই। আপনারা দেখেতে পারেন। দুর্নীতি কিভাবে আসলো আই হ্যাভ নো আইডিয়া। যারা এনেছেন সেটা তাদের দায়, মোটেও আমার দায় নয়।'

শনিবার (২০ জুলাই) জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে 'দুর্নীতি দমনে আইনজীবী এবং বিচার বিভাগের ভূমিকা' শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভার আয়োজন করে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ।

১৯ জুলাই সচিবালয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, এটা সবার জন্য যে সরল বিশ্বাসে সরকারি কর্মকর্তারা কিছু করলে সেটা কোনো অপরাধ নয়, সরল বিশ্বাসে যদি আপনি কোনো কাজ করেন, এবং সেটা যদি বড় কিছুও হয় তাও কোনো অপরাধ নয়। তিনি বলেন, পেনাল কোডেই বলা আছে যে, সরল বিশ্বাসে কৃতকর্ম কোনো অপরাধ নয়, জেনারেল একসেপশন বলে এটাকে। কিন্তু আপনাকে প্রমাণ করতে হবে যে সরল বিশ্বাসে আপনি এ কাজটা করেছেন।'

এ প্রসঙ্গে আলোচনা সভায় তিনি আরও বলেন, 'আমি কোনো ব্যাখ্যা দিতে প্রস্তুত নই। কারণ আপনারা আমাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন পরিষ্কার করতে। আমি পরিষ্কার করেছি ওখানে।'

দুর্নীতির ব্যাপারে তিনি বলেন, 'অনেকেই বলেন সরকারদলীয় মন্ত্রী-এমপিদের কিছু করা হয় না। আমার জানামতে আন্ডার প্রসিকিউশন, আন্ডার ইনভেস্টিগেশন এর নামে ইনকোয়ারিতে ১০ থেকে ১৫ জন রয়েছেন সরকার দলীয়। এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের এক দলে রয়েছে ১৫ জন, আরেক দলে রয়েছে ১২ জন, আরেক দলের ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত ইন কোয়ারিতে আছে প্রায় ২৫ জন। এছাড়াও ঊর্ধ্বতন আমলা রয়েছে সচিব থেকে শুরু করে জয়েন সেক্রেটারি পর্যন্ত প্রায় ১৫ জন আছে। ইনভেস্টিগেশনের সময় তথ্য প্রকাশ হলে সেটি বিব্রতকর হয়ে পড়ে। সেজন্য সব তথ্য জানিয়ে দেওয়া একটু অসুবিধার বিষয়। এরপরও কিভাবে যেন সেই তথ্য পাচার হয়ে যায়। সেটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ, সেই দায় আমার।'

ইকবাল মাহমুদ বলেন, দুদক আকাশ থেকে উড়ে আসে নাই। এখানে যারা কাজ করেন তারা কিন্তু বিদেশ থেকে আসে নাই। আমরা সবাই এই সমাজের মানুষ। আমরা সবাই এই মাটির সন্তান, এই পরিবেশের প্রোডাক্ট। এই সমাজেরই অংশ। সমাজের অন্যান্য জায়গায় যা হয়, আমার এখানে তা হয় না কথাটা সঠিক নয়। ছোট গাছ উপড়ে ফেলার যতটা সহজ, বট গাছ উপড়ে ফেলা অনেক কঠিন। তাই বলে যে আমরা বট গাছ ধরছি না তা নয়।

এ সময় সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, 'আপনারা সংবাদ পরিবেশন করবেন যাতে প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি না হয়। ব্যক্তি ক্ষতি হোক অসুবিধা নাই। কারণ, প্রতিষ্ঠান রাষ্ট্রের, সরকারের নয়। আমাদের ব্যর্থতা আছে। সে ব্যর্থতা কাটানোর জন্য কি করা যায় সেটা আপনারা বলুন। সবার সম্মিলিত প্রয়াস ছাড়া দুর্নীতি দমন সম্ভব না।'

আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. নিজামুল হক, হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ এর প্রেসিডেন্ট অ্যাড. মনজিল মোরসেদ প্রমুখ।

প্রিয়া সাহার কাছে প্রমাণ চাইবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

প্রিয়া সাহার কাছে প্রমাণ চাইবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, পুরনো ছবি

প্রিয়া সাহাকে দেশে এনে তার অভিযোগের প্রমাণ চাইবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। প্রমাণ দিতে না পারলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

শনিবার (২০ জুলাই) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ছাত্রলীগের অনুষ্ঠিত সম্মেলন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।

উল্লেখ্য, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত সপ্তাহে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সহিঞ্ঝুতার জন্য বিশ্বের বিভিন্ন ধর্মীয় নেতা ও প্রতিনিধিদের সঙ্গে তার অফিসে কথা বলেন। ওই অনুষ্ঠানে প্রিয়া সাহা ট্রাম্পের কাছে অভিযোগ করেন, বাংলাদেশে প্রায় ৩ কোটি ৭০ লাখ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান নিখোঁজ হয়েছেন। বর্তমানে এখানে ১ কোটি ৮০ লাখ সংখ্যালঘু রয়েছে উল্লেখ করে তিনি ট্রাম্পের সহায়তা চান।

এদিকে, শুক্রবার (১৯ জুলাই) ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে প্রিয়া সাহা বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের বিষয়ে যে তথ্য দিয়েছেন তা সঠিক নয় বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত রবার্ট মিলার। তিনি বলেছিলেন, বাংলাদেশের বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায় একে অপরকে শ্রদ্ধা করে।

অন্যদিকে, এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। শুক্রবার সন্ধ্যায় ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে মন্ত্রী বলেন, ‘আমি জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থায় একাধিকবার ভরা হাউসে পৃথিবীর সব দেশের এবং বাংলাদেশ ও বাইরের দেশের মানবাধিকার সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিয়েছি। যেখানে শ্রদ্ধেয় রানা দাশ গুপ্তার মতো মানুষেরাও উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু ট্রাম্পকে দেওয়া প্রিয়া সাহার অভিযোগের মতো কোনো অভিযোগ বা প্রশ্ন কাউকে করতে দেখিনি।’

এছাড়া শুক্রবার ফেসবুক লাইভে ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে মিথ্যা অভিযোগ করে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপরাধে প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহীতার মামলা করবেন বলে জানিয়েছেন ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন।

 

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র