Barta24

শনিবার, ২০ জুলাই ২০১৯, ৫ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

সংস্কার কাজে গরমিলে রাজশাহীতে ট্রেন দুর্ঘটনা

সংস্কার কাজে গরমিলে রাজশাহীতে ট্রেন দুর্ঘটনা
বুধবার রাজশাহীর চারঘাটে তেলবাহী ট্রেনের ৯টি বগি লাইনচ্যুত হয়/ ছবি: বার্তা২৪.কম
স্টাফ করেসপন্ডেট
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
রাজশাহী


  • Font increase
  • Font Decrease

ক্রুটি রেখে সংস্কার কাজ শেষ করায় রাজশাহীর চারঘাটে তেলবাহী ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের প্রকৌশলীরা। দুর্ঘটনার পর বুধবার (১০ জুলাই) রাতে গঠিত তদন্ত কমটি বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) সকাল থেকে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে। ঐ তদন্ত কমিটির প্রধান পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের প্রধান পরিবহন কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বিকাল ৩টার দিকে বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের গুরুত্বপূর্ণ রুট ঈশ্বরদী থেকে রাজশাহীর হরিয়ান পর্যন্ত লাইন সংস্কার কাজ করা হচ্ছে। তবে বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে কিছুদিনের জন্য সংস্কার কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/11/1562839670338.jpg

তদন্ত কমিটির প্রধান বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে আমাদের নজরে পড়েছে, কয়েকটি অকেজো স্লিপার পরিবর্তনের সময় সেখানে ডগস্পাইক (স্লিপারের সঙ্গে লাইন আটকে রাখে) খুলে ফেলা হয়েছিল। স্লিপার লাগিয়ে পরে আর ঐ স্থানে সেগুলো লাগানো হয়নি। পাথর ফেলার সময় যেকোনোভাবে সেটা ঢেকে গিয়েছিল।’

তিনি বলেন, ‘যাত্রীবাহী ট্রেন ক্রুটিপূর্ণ লাইনের ওপর দিয়ে চলাচল করেছে বেশ কিছুদিন। তাতে কোনো সমস্যা হয়নি। ফলে লাইন ক্লিয়ার আছে বলে ধরা হয়েছিল। তবে গত দুই/তিন দিনের বৃষ্টিতে ঐ স্থান কিছুটা নরম হয়ে নিচের মাটি দেবে যায়। আর বৃষ্টির মধ্যেই বুধবার বিকালে তেলবাহী ভারী ট্রেনটি ঐ স্থানে পৌঁছালে দুর্ঘটনা ঘটে।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/11/1562839683776.jpg

এদিকে, বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টা পর্যন্ত দুর্ঘটনা কবলিত নয়টি বগির মধ্যে নাজুক অবস্থায় থাকা চারটি বগি উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। বাকি বগিগুলো দ্রুত সরানো যাবে বলে জানিয়েছেন ঘটনাস্থলে থাকা রাজশাহী রেলওয়ের একাধিক কর্মকর্তা। তাদের ধারণা- লাইন মেরামত করে রাতের ধূমকেতু ট্রেনটির যাত্রার মধ্য দিয়ে চলাচল স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে।

রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, খুলনা থেকে বুধবার সকালে তেলবাহী একটি ট্রেন ছেড়ে আসে। বিকালে ঈশ্বরদী স্টেশন থেকে রাজশাহী অভিমুখে যাত্রা করে ট্রেনটি। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে চারঘাটের হলিদাগাছী স্টেশনের কাছে দীঘলকান্দি এলাকায় ট্রেনের ৯টি বগি লাইনচ্যুত হয়। খবর পেয়ে সাড়ে ৭টার দিকে ঈশ্বরদী স্টেশন থেকে একটি রিলিফ ট্রেন ঘটনাস্থলে যায়। রাত সাড়ে ৯টা থেকে শুরু হয় উদ্ধারকারজ। ঐ সময় দুর্ঘটনার শিকার ট্রেনটি সামনের বগিগুলো নিয়ে রাজশাহীর হরিয়ান স্টেশনে চলে যায়।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/11/1562839700881.jpg

এদিকে, দুর্ঘটনার পর পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রশিদকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। আর ঘটনা তদন্তে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের প্রধান পরিবহন কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুনকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে কমিটির সদস্যদের প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়। প্রতিবেদন পাওয়ার আগে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের কোনো কর্মকর্তাই দুর্ঘটনার কারণ জানাতে রাজি হননি।

আপনার মতামত লিখুন :

মানুষকে অসত্য তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করবেন না: অধ্যাপক ফারুক

মানুষকে অসত্য তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করবেন না: অধ্যাপক ফারুক
সংবাদ সম্মেলনে কথা বলছেন অধ্যাপক আ ব ম ফারুক হোসেন

মানুষকে অসত্য তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত না করে সত্য দিয়েই তর্ক-বিতর্কের মাধ্যমে সমাধানের পথ খোঁজার আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োমেডিকেল রিসার্চ সেন্টার ও ফার্মেসি অনুষদের  অধ্যাপক  আ ব ম ফারুক হোসেন।

শনিবার (২০ জুলাই) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক সমিতির কার্যালয়ে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় তিনি মৎস ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, সত্যে আসেন, বিজ্ঞান হলো সত্য। আমরা এমন কিছু বলব না যেকারণে বিভ্রান্তি ছড়ায়। সত্য কখনো আমাদের বঞ্চনা করে না। এই সত্যকে অবলম্বন করেই আমাদের মুক্তির দিকে যেতে হবে। সমস্যা দূর করতে হবে।

তরল পদার্থ নিয়ে যে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে তা অত্যন্ত সহজভাবে সমাধান করা যায় উল্লেখ করে অধ্যাপক ফারুক বলেন, পাস্তুরাইজেশন ইউনিটে যারা কাজ করে তাদের আরেকটু মোটিভেট করা। গরু রোগে আক্রান্ত হবেই। তারা জীবন্ত প্রাণি। তাই তাদের চিকিৎসাও করাতে হবে। নিয়ম হচ্ছে অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়ার পর একটা উইথড্রো পিরিয়ড আছে। ততদিন পর্যন্ত গরুর দুধ পান করা যাবে না। এটা খুবই জরুরি। কম পক্ষে ২১ দিন গরুর দুধ নেওয়া যাবে না।

গরুকে চিকিৎসার সময় হিউমান অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া যাবে না। গরুর খাবারে অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া থাকে সেগুলো বিবেচনা করলেই এসব সমস্যার সমাধান হওয়া কঠিন কিছু না।

উকিল নোটিশের ব্যাপারে তিনি বলেন, আমার কাছে একটি উকিল নোটিশ পাঠানো হয়েছে যাকে লিগ্যাল নোটিশও বলা যায়। আমি এতো বড় লোক নই বলে কোনো আইনজীবী দিয়ে নোটিশ পাঠায়নি। আমি সময়মত সেটার উত্তর দিয়েছি। আমি আমার বিবেকমত যতটুকু বলার আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য ততটুকুই বলেছি।

গবেষণার ব্যাপারে সবাই ইতিবাচক দাবি করে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত আমাদের গবেষণার ব্যাপারে সবার ইতিবাচক সাড়া দেখতে পাচ্ছি। যারা  দু’ একটা কথা বলে তারা আমাদের সামনে বলেন না।

গবেষণার উদ্দেশ্য সম্পর্কে তিনি বলেন, আমাদের গবেষণা কোনো কোম্পানির বিরুদ্ধে না। বরং আমরা দুধ সেক্টরটাকে উন্নত হিসাবে দেখতে চাই এবং  উন্নতমানের দুধ সরবরাহ করা হোক। আমরা যেন মানসম্মত, নিরাপদ দুধ খেতে পারি এটিই আমাদের লক্ষ্য।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের আহবায়ক আ ক ম জামাল উদ্দীন, ঢাবি শাখার সভাপতি আল মামুন, সেক্রেটারি আমিনুল ইসলাম বুলবুল প্রমুখ।

নজরুল প্রশিক্ষণ কোর্সে উত্তীর্ণের হার বাড়ানোর তাগিদ

নজরুল প্রশিক্ষণ কোর্সে উত্তীর্ণের হার বাড়ানোর তাগিদ
উত্তীর্ণ প্রশিক্ষণার্থীদের মাঝে সনদপত্র দেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

নজরুল প্রশিক্ষণ কোর্সে উত্তীর্ণের হার বাড়নোর তাগিদ দিয়েছেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ।

তিনি বলেছেন, ‘কবি নজরুল ইনস্টিটিউটে গত ২০১৬-২০১৮, ২০১৭-২০১৮ শিক্ষাবর্ষে মোট ৩৩৯ জন প্রশিক্ষণার্থী বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কোর্সে ভর্তি হয়। চূড়ান্ত পরীক্ষায় মাত্র ১১১ জন উত্তীর্ণ হয়। গত ২০১৭-২০১৮, ২০১৮-২০১৯ শিক্ষাবর্ষে বিভিন্ন কোর্সে ৩৩০ জন প্রশিক্ষণার্থী ভর্তি হয় যার মধ্যে চূড়ান্ত পরীক্ষায় মাত্র ১৫৫ জন উত্তীর্ণ হয়, যা তুলনামূলকভাবে অনেক কম। তাই কবি নজরুল ইনস্টিটিউটকে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কোর্সে উত্তীর্ণের হার বাড়াতে সচেষ্ট হতে হবে। একইসঙ্গে প্রশিক্ষণে উপযুক্ত মানও বজায় রাখতে হবে।’

শনিবার (৭ জুলাই) সকালে ধানমন্ডিতে কবি নজরুল ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে ২০১৯-২০২০ শিক্ষাবর্ষের নবীন প্রশিক্ষণার্থীদের ওরিয়েন্টেশন ক্লাস অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় ২০১৬-২০১৯ সালের বিভিন্ন শিক্ষাবর্ষের নজরুল-সংগীত, আবৃত্তি ও নৃত্য প্রশিক্ষণ কোর্সের উত্তীর্ণ প্রশিক্ষণার্থীদের মাঝে সনদপত্র বিতরণ করা হয়।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘কবি নজরুল ইনস্টিটিউট নজরুলের অপ্রকাশিত গানের রেকর্ড ও সুর সংগ্রহের কাজ করছে। তাছাড়া প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে নজরুল ইনস্টিটিউট নজরুল-সংগীত, আবৃত্তি ও নৃত্য বিষয়ক বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কোর্স আয়োজন করে আসছে। প্রতিষ্ঠানটি প্রথম থেকেই নজরুল-সংগীতের বিকৃতি বিষয়ে সচেতন এবং বিকৃতি রোধে তথা নজরুল অনুমোদিত সুর (আদি গ্রামোফোন রেকর্ডের বাণী ও সুরসহ) সংরক্ষণ ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রচারের জন্য নানা কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে নিয়োজিত।’

তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমানে নজরুল ইনস্টিটিউট শিশু, কিশোর, তরুণ, উচ্চতর ডিপ্লোমা, উচ্চাঙ্গ সংগীতসহ ১১টি প্রশিক্ষণ কোর্স এবং নজরুল আবৃত্তি দুটি ও নৃত্য তিনটিসহ মোট ১৬টি প্রশিক্ষণ কোর্সের মাধ্যমে নজরুল সংগীতের বাণী ও সুর প্রচার করে যাচ্ছে।’

কবি নজরুল ইনস্টিটিউটের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারপারসন জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন নজরুল-সংগীত স্বরলিপি প্রমাণীকরণ পরিষদের সভাপতি সেলিনা হোসেন। স্বাগত বক্তব্য দেন- কবি নজরুল ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক মো. আব্দুর রাজ্জাক ভূঞা।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র