Barta24

শনিবার, ২০ জুলাই ২০১৯, ৫ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

ব্রিজ নির্মাণে ব্যর্থ ঠিকাদার, দুর্ভোগে ১৫ গ্রামের মানুষ

ব্রিজ নির্মাণে ব্যর্থ ঠিকাদার, দুর্ভোগে ১৫ গ্রামের মানুষ
বৃষ্টির কারণে রাস্তা পানিতে তলিয়ে গেছে, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
ফরহাদুজ্জামান ফারুক
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
রংপুর


  • Font increase
  • Font Decrease

শুধু পানি আর পানি। কোনটি রাস্তা, কোনটি ব্রিজ সেটা বোঝা মুশকিল। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও ব্রিজের কাজ শেষ না হওয়াতে নিয়মিত চলাচলের বিকল্প রাস্তাটি ডুবে আছে পানির নিচে। এতে হাঁটু পানিতে নেমেই ছুটতে হচ্ছে গন্তব্যে। ভারী যানবাহন নিয়ে চলাচলে রয়েছে চরম ভোগান্তি। এতে প্রতিদিন ঘটছে ছোট ছোট দুর্ঘটনাও। এটি রংপুর সিটি করপোরেশনের কুকরুল এলাকায় নির্মাণাধীন কুকরুল ব্রিজকে ঘিরে সৃষ্ট ভোগান্তির চিত্র।

২০১৭ সালের ২৩ মে নির্মাণ শুরু হওয়া এ ব্রিজটির কাজের মেয়াদ শেষ হয়েছে গত বছরের জুনে। কিন্তু এখনো শেষ হয়নি ব্রিজ নির্মাণ। গেল দুই বছরে শুধু খুঁটি বসানো হয়েছে। কাজও করা হয়েছে ওপরের অংশে রডের। বাকি কাজের জন্য দুই দফা সময় বাড়িয়ে নিয়েও কাজ শেষ করেনি ঠিকাদার।

নির্মাণাধীন ওই ব্রিজের পাশে মাটি ও বাঁশ দিয়ে তৈরি করা বিকল্প রাস্তাটি এখন পানির নিচে ডুবে আছে। সেই ডুব রাস্তা দিয়েই কষ্ট করে চলাচল করছেন হাজার হাজার মানুষ। তবে ভারী যানবাহন নিয়ে চলাচলে প্রায়ই ঘটছে ছোটখাটো দুর্ঘটনা। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সিটি করপোরেশনের দুটি ওয়ার্ডসহ পার্শ্ববর্তী গঙ্গাচড়ার উপজেলার পাঁচটি গ্রামের সাধারণ মানুষ।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/10/1562768278133.jpg
এভাবেই ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পার হচ্ছে এলাকাবাসী, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

 

জানা গেছে, ২০১৬ সালে বন্যার সময় পুরনো কুকরুল ব্রিজটি ভেঙে যাওয়ায় পরের বছর ওই স্থানে নতুন ব্রিজের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। এরমধ্যে কাজের মেয়াদ শেষ হয়েও পার হয়েছে আরও দেড় বছর। কিন্তু এখনো শেষ হয়নি নির্মাণ কাজ।

বর্তমানে গেল কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে বিকল্প রাস্তাটি পানিতে ডুবে থাকায় ১৫টি গ্রামের হাজার হাজার মানুষ দুর্ভোগে পড়েছে। এই ব্রিজের রাস্তা দিয়ে সিটি করপোরেশনের ২৩ ও ৪ নং ওয়ার্ডের কুকরুল, আমাশু, বালাকোয়াঁ, কলোনী, জলছত্র, বুরালহাট, হারাটি, ময়নাকুটি, খটখটিয়া, চওরাহাটসহ পাঁচটি গ্রাম এবং গঙ্গাচড়া উপজেলার গজঘণ্টা ইউনিয়নের আরও পাঁচটি গ্রামের মানুষ প্রতিদিন চলাচল করেন।

এ ব্যাপারে কুকরুল এলাকার বাসিন্দা আরশাদ আলী বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে বলেন, ‘ঠিকাদার ঠিক মতো কাজ করেনি। সময় শেষ হয়েছে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফলতি আর সিটি মেয়রের অবহেলার কারণে আমরা এখন চরম ভোগান্তিতে আছি।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/10/1562768308011.jpg
হাঁটু পানিতে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে এলাকাবাসী, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

 

পরীক্ষা দিয়ে বাড়ি ফেরার পথে স্কুলছাত্র ইফতেখারুল ইসলাম বলেন, ‘এই বর্ষাকালে আমাদের বেশি সমস্যা হচ্ছে। প্রতিদিন হাঁটু পানিতে ভিজে যেতে হয়। শুষ্ক মৌসুমে ভেঙে ফেলা ব্রিজের পাশে জমির মধ্যে তৈরি বিকল্প রাস্তা দিয়ে কষ্ট হলেও স্বাভাবিকভাবে চলাচল করা গেছে। কিন্তু এখন বর্ষা মৌসুমে তো পুরো রাস্তা পানিতে ডুবে আছে। এভাবে তো চলাচল করা ঝুঁকির।’

স্থানীয় সংবাদকর্মী আমাশু এলাকার আল-আমিন সুমন বলেন, ‘এখন বর্ষাকাল। প্রতিদিনই বৃষ্টি হচ্ছে। ব্রিজের পাশের রাস্তাটি এখন চলাচলে উপযোগী নয়। তারপরও সবাই ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। এই পথ ধরে যারা যাতায়াত করতে যে কি কষ্ট হচ্ছে তা বোঝানো যাবে না। রাত হলে রাস্তা খুঁজে পাওয়া যায় না।’

এদিকে রংপুর সিটি করপোরেশন সূত্র জানায়, সাবেক মেয়র সরফুদ্দিন আহম্মেদ ঝন্টুর আমলে ২০১৭ সালের ২৩ মে দরপত্র আহ্বান করা হয়। দরপত্র অনুযায়ী কুকরুল ব্রিজসহ খটখটিয়া এলাকায় আরও একটি ব্রিজের নির্মাণ কাজ একসঙ্গে শুরু হয়। এ দুটি ব্রিজের নির্মাণ ব্যয় ধরা হয় ১ কোটি ৮৭ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান শহীদ ব্রাদার্স এই ব্রিজ দুটির নির্মাণ কাজ পায়। গত বছর ২ জুন ব্রিজ দুটির নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এখনো নির্মাণ কাজ শেষ হয়নি। কাজের ধীরগতি ও কিছু সময় কাজ বন্ধ থাকায় এই বিলম্ব তৈরি হয়। পরবর্তীতে এ বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কাজের মেয়াদ বাড়ানো হয়। কিন্তু তাতেও পূর্ণতা পায়নি ব্রিজটি।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/10/1562768382831.jpg
পানির কারণে রাতের অন্ধকারে রাস্তা খুঁজে পায় না পথচারীরা, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

 

এ ব্যাপারে রংপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে বলেন, ‘এটি আগের মেয়রের আমলে দরপত্র হওয়া কাজ। তবে তা শেষ না হওয়ায় লোকজনের দুর্ভোগ হচ্ছে। ঠিকাদারকে তাগাদা দিয়ে কাজ করা হচ্ছে। আশা করছি আগামী ৩-৪ মাসের মধ্যে এই ব্রিজ ও রাস্তার কাজ শেষ হবে।

আপনার মতামত লিখুন :

কুড়িগ্রাম-ভুরুঙ্গামারী রোডে এক সপ্তাহ পর যান চলাচল শুরু

কুড়িগ্রাম-ভুরুঙ্গামারী রোডে এক সপ্তাহ পর যান চলাচল শুরু
এক সপ্তাহ পর কুড়িগ্রাম-ভুরুঙ্গামারী রোডে যান চলাচল শুরু

এক সপ্তাহের বেশি সময় বন্ধ থাকার পর আজ শনিবার (২০ জুলাই) থেকে চালু হয়েছে কুড়িগ্রাম-ভুরুঙ্গামারী সড়কটি।

সড়কের কয়েকটি জায়গা পানিতে তলিয়ে থাকায় ভারি যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয় সড়ক ও জনপথ বিভাগ। ফলে নাগেশ্বরী-ভুরুঙ্গামারী ও ফুলবাড়ি উপজেলার সঙ্গে জেলা সদরের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। এছাড়া সোনাহাট স্থল বন্দরের সঙ্গেও সারা দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যায়।

এ দিকে ধরলা তিস্তা ও দুধকুমারসহ অন্যান্য নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করায় সড়ক থেকে পানি নামতে শুরু করেছে।

গত প্রায় এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে এ সড়কটি বন্ধ থাকায় ধরলা ব্রিজের পশ্চিম প্রান্তে আটকা পড়ে শতাধিক পণ্যবাহী ট্রাক ও বাস। এর ফলে সাময়িক বিড়ম্বনায় পড়ে ব্যবসায়ীরা। অন্যদিকে বন্দরের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ থাকায় আমদানি করা পণ্য নিয়ে বিপাকে পড়েন ব্যবসায়ীরা।

সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আমির হোসেন জানান, সড়ক থেকে পানি নেমে গেলেও রাস্তার মাটি নরম থাকায় চালকদের সাবধানে চলাচল করতে পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

প্রিয়া সাহার বক্তব্য অসত্য: কাদের

প্রিয়া সাহার বক্তব্য অসত্য: কাদের
সংবাদ সম্মেলনে সড়ক পরিবহন, সেতুমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

সড়ক পরিবহন, সেতুমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, প্রিয়া সাহা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে যে বক্তব্য দিয়েছেন সেটি অসত্য, কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

শনিবার (২০ জুলাই) দুপুরে ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের সম্পাদকমন্ডলীর সঙ্গে সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দের এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

সেতুমন্ত্রী বলেন, তার এ ধরনের বক্তব্য শুধু নিন্দনীয় না দেশের অভ্যন্তরে লুকায়িত সাম্প্রদায়িক শক্তিকে আরো উৎসাহিত করবে। এই বক্তব্যের সঙ্গে দেশে হিন্দু-বৌদ্ধ-খৃষ্টান ঐক্য পরিষদের কেউ একমত না।

ওবায়দুল কাদের বলেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে নিজেই রানা দাশ গুপ্তের সঙ্গে কথা বলেছি। তারাও এ বক্তব্যের তীব্র নিন্দা করেছেন।

এমনকি মার্কিন রাষ্ট্রদূত মিস্টার মিলারও এ ধরনের বক্তব্যের কোনো ভিত্তি নেই বলে জানিয়েছেন।

পিয়ার সাহার দেশদ্রোহী বক্তব্যের জন্য তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সেতুমন্ত্রী।

উপজেলা নির্বচানে যারা বিদ্রোহ করেছে, বিদ্রোহে মদদ দিয়েছে তাদের ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত হয়েছে। ২০০ অভিযোগ পেয়েছি। সেসব অভিযোগ খতিয়ে দেখার জন্য স্ব স্ব বিভগের দায়িত্প্রাপ্ত নেতাদের ২৭ তারিখ থেকে সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। ২৮ জুলাই থেকে আমার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে যাব।

এ সময় বন্যাদুর্গত এলাকায় দল ও সরকারের পক্ষ থেকে নেওয়া বিভিন্ন কর্মসূচী তুলে ধরেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আফম বাহাউদ্দিন নাসিম, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, আহমদ হোসেন, মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সবুর, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, উপ দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া প্রমুখ।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র