Barta24

শনিবার, ২০ জুলাই ২০১৯, ৫ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

ঘুষ নেয়ার সময় দুদকের ফাঁদে মৎস কর্মকর্তা আটক

ঘুষ নেয়ার সময় দুদকের ফাঁদে মৎস কর্মকর্তা আটক
সাদা শার্ট পরিহিত ব্যক্তি হলেন মৎস কর্মকর্তা রেজাউল করিম সরকার। ছবি: বার্তা২৪.কম
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
রংপুর


  • Font increase
  • Font Decrease

কাজের বিল নিতে আসা এক ঠিকাদারের কাছ থেকে ঘুষ নেয়ার সময় দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা রেজাউল করিম সরকারকে হাতেনাতে আটক করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৯ জুলাই) দুপুরে পার্বতীপুর উপজেলা পরিষদে তার নিজস্ব কার্যালয় থেকে তাকে আটক করা হয়।

দিনাজপুর সমন্বিত দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কার্যালয়ের উপ-পরিচালক আবু হেনা আশিকুর রহমান, সহকারী পরিচালক আহসানুল কবির পলাশসহ একটি দল এ অভিযান চালায়।

অভিযানের সময় উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কাছ থেকে ঘুষের নগদ ২০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

জানা গেছে, পার্বতীপুরের বড়দল ও খুনিয়ার পুকুর সংস্কারে ৪০ লাখ টাকা বাজেট দেয় উপজেলা প্রশাসন। সেই কাজটি করেন ঠিকাদার সবুজ ইসলাম। তিনি ওই মৎস্য কর্মকর্তার কাছে পুকুর খননের বিল তোলার জন্য যান। সবুজ ইসলামের কাছে ৫ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন রেজাউল করিম। সবুজ তিন লাখ টাকা দিতে রাজি হন। কিন্তু রেজাউল করিম কিছুতেই বিল ছাড় করছিলেন না। পরে সবুজ যোগাযোগ করেন দুদকে। দুদক এ ঘটনার সত্যতা উদঘাটনে ফাঁদ পাতে।

দুদকের পরিকল্পনা অনুযায়ী মঙ্গলবার (৯ জুলাই) দুপুরে সেই ৫ লাখ টাকার কিছু অংশ ২০ হাজার টাকা দিতে মৎস্য কার্যালয়ে আসেন সবুজ। ঘুষের ওই টাকা নেয়ার সময় দুদকের টিম মৎস্য কর্মকর্তা রেজাউল করিম সরকারকে টাকাসহ হাতেনাতে আটক করা হয়।

ঠিকাদার সবুজ ইসলাম পার্বতীপুরের শেখপাড়া গ্রামের ইয়াসিন আলীর ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ঠিকাদারি করছেন।

আপনার মতামত লিখুন :

‘প্রিয়া সাহাকে আইনের আওতায় আনতে কাজ করছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়’

‘প্রিয়া সাহাকে আইনের আওতায় আনতে কাজ করছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়’
ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া/ ফাইল ছবি

বাংলাদেশবিরোধী মন্তব্য করায় প্রিয়া সাহাকে আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে আনতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় কাজ করছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া।

শনিবার (২০ জুলাই) দুপুরে রাজধানীতে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনে (বিএফডিসি) বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। সহিংস উগ্রবাদবিরোধী' ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি।

আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, ‘প্রিয়া সাহার এমন মন্তব্যের বিষয়ে জানতে পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় যোগাযোগ করছে। সমস্ত বক্তব্য, তথ্য-প্রমাণ তদন্তের সাপেক্ষে প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় আইনগত ব্যবস্থা নেবে। বাংলাদেশে চলমান সব উন্নয়ন, গণতন্ত্র, সার্বভৌমত্ব ও অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করতে এটি একটি আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/20/1563616113182.gif

তিনি বলেন, ‘রথযাত্রা, ফিরতি রথযাত্রা, দুর্গাপূজাসহ হিন্দু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন অনুষ্ঠান, বড়দিনে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করে থাকি। সংখ্যালঘুদের ওপর কেউ যাতে নির্যাতন ও হামলা করতে না পারে, সে জন্য তৎপর ভূমিকা পালন করে থাকি। সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন চালিয়ে কারো জমি ছিনিয়ে নেওয়ার মতো কোনো ঘটনা বাংলাদেশে ঘটেনি।’

তিনি আরও বলেন, ‘সহিংস উগ্রবাদ দমনে ধর্মীয়, পারিবারিক ও সামাজিক মূল্যবোধ গুরুত্বপূর্ণ। আর বাংলাদেশে ধর্মীয়, পারিবারিক ও সামাজিক মূল্যবোধ আছে বলে আমরা উগ্রবাদ নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছি।’

আরও পড়ুন: প্রিয়া সাহার বক্তব্য অসত্য: কাদের

আরও পড়ুন: প্রিয়া সাহার কাছে প্রমাণ চাইবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

সরল বিশ্বাসে কিছু করলে অপরাধ নয় বলেছি : দুদক চেয়ারম্যান

সরল বিশ্বাসে কিছু করলে অপরাধ নয় বলেছি : দুদক চেয়ারম্যান
'দুর্নীতি দমনে আইনজীবী এবং বিচার বিভাগের ভূমিকা' শীর্ষক আলোচনা সভায় দুদক চেয়ারম্যান

সরল বিশ্বাসে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের করা কাজ কোনো অপরাধ নয় সম্প্রতি দেওয়া এমন বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়ে দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেছেন, 'এ ব্যাপারে আমার উত্তর একেবারে সহজ। একটি প্রশ্নের বিপরীতে আমি যে উত্তর দিয়েছিলাম সেখানে আমি দুর্নীতি শব্দটি উচ্চারণ করি নাই। আপনারা দেখেতে পারেন। দুর্নীতি কিভাবে আসলো আই হ্যাভ নো আইডিয়া। যারা এনেছেন সেটা তাদের দায়, মোটেও আমার দায় নয়।'

শনিবার (২০ জুলাই) জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে 'দুর্নীতি দমনে আইনজীবী এবং বিচার বিভাগের ভূমিকা' শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভার আয়োজন করে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ।

১৯ জুলাই সচিবালয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, এটা সবার জন্য যে সরল বিশ্বাসে সরকারি কর্মকর্তারা কিছু করলে সেটা কোনো অপরাধ নয়, সরল বিশ্বাসে যদি আপনি কোনো কাজ করেন, এবং সেটা যদি বড় কিছুও হয় তাও কোনো অপরাধ নয়। তিনি বলেন, পেনাল কোডেই বলা আছে যে, সরল বিশ্বাসে কৃতকর্ম কোনো অপরাধ নয়, জেনারেল একসেপশন বলে এটাকে। কিন্তু আপনাকে প্রমাণ করতে হবে যে সরল বিশ্বাসে আপনি এ কাজটা করেছেন।'

এ প্রসঙ্গে আলোচনা সভায় তিনি আরও বলেন, 'আমি কোনো ব্যাখ্যা দিতে প্রস্তুত নই। কারণ আপনারা আমাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন পরিষ্কার করতে। আমি পরিষ্কার করেছি ওখানে।'

দুর্নীতির ব্যাপারে তিনি বলেন, 'অনেকেই বলেন সরকারদলীয় মন্ত্রী-এমপিদের কিছু করা হয় না। আমার জানামতে আন্ডার প্রসিকিউশন, আন্ডার ইনভেস্টিগেশন এর নামে ইনকোয়ারিতে ১০ থেকে ১৫ জন রয়েছেন সরকার দলীয়। এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের এক দলে রয়েছে ১৫ জন, আরেক দলে রয়েছে ১২ জন, আরেক দলের ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত ইন কোয়ারিতে আছে প্রায় ২৫ জন। এছাড়াও ঊর্ধ্বতন আমলা রয়েছে সচিব থেকে শুরু করে জয়েন সেক্রেটারি পর্যন্ত প্রায় ১৫ জন আছে। ইনভেস্টিগেশনের সময় তথ্য প্রকাশ হলে সেটি বিব্রতকর হয়ে পড়ে। সেজন্য সব তথ্য জানিয়ে দেওয়া একটু অসুবিধার বিষয়। এরপরও কিভাবে যেন সেই তথ্য পাচার হয়ে যায়। সেটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ, সেই দায় আমার।'

ইকবাল মাহমুদ বলেন, দুদক আকাশ থেকে উড়ে আসে নাই। এখানে যারা কাজ করেন তারা কিন্তু বিদেশ থেকে আসে নাই। আমরা সবাই এই সমাজের মানুষ। আমরা সবাই এই মাটির সন্তান, এই পরিবেশের প্রোডাক্ট। এই সমাজেরই অংশ। সমাজের অন্যান্য জায়গায় যা হয়, আমার এখানে তা হয় না কথাটা সঠিক নয়। ছোট গাছ উপড়ে ফেলার যতটা সহজ, বট গাছ উপড়ে ফেলা অনেক কঠিন। তাই বলে যে আমরা বট গাছ ধরছি না তা নয়।

এ সময় সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, 'আপনারা সংবাদ পরিবেশন করবেন যাতে প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি না হয়। ব্যক্তি ক্ষতি হোক অসুবিধা নাই। কারণ, প্রতিষ্ঠান রাষ্ট্রের, সরকারের নয়। আমাদের ব্যর্থতা আছে। সে ব্যর্থতা কাটানোর জন্য কি করা যায় সেটা আপনারা বলুন। সবার সম্মিলিত প্রয়াস ছাড়া দুর্নীতি দমন সম্ভব না।'

আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. নিজামুল হক, হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ এর প্রেসিডেন্ট অ্যাড. মনজিল মোরসেদ প্রমুখ।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র