Barta24

শনিবার, ২০ জুলাই ২০১৯, ৫ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে সহায়তা করবে সিপিসি

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে সহায়তা করবে সিপিসি
চীনের কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গে বৈঠকে শেখ হাসিনা, ছবি: সংগৃহীত
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

সমঝোতার ভিত্তিতে দীর্ঘদিনের রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর অং সান সুচি ও অন্যান্য নেতৃবৃন্দের সঙ্গে যোগাযোগ করবে চীনের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিসি)। দলের হয়ে সিপিসি'র প্রভাবশালী নেতা ও দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সং তাও এই আশ্বাস দেন।

তিনি বলেন, 'সমঝোতার মাধ্যমে রোহিঙ্গা সংকটের সমাধানে আমরা অং সান সুচিসহ মিয়ানমারের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনা করব।'

শুক্রবার (৫ জুলাই) বিকেলে স্থানীয় দিয়াওউনতাই রাষ্ট্রীয় গেস্ট হাউসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাতকালে সিপিসি নেতা এ আশ্বাস দেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশে ব্যাপক উন্নয়নের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন সং তাও। বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় চীনের সমর্থন অব্যাহত থাকবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।

তিনি বলেন, 'দু-দেশের মধ্যে বর্তমানে অত্যন্ত বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বিরাজ করছে এবং বাংলাদেশে উন্নয়ন অভিযাত্রায় আমরা আমাদের সমর্থন অব্যাহত রাখব।'

এ সময় সিপিসি নেতা বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনের বিষয়টি 'বিশ্বে দুর্লভ' বলেও উল্লেখ করেন।

এর জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'বাংলাদেশ বিগত অর্থবছরে ৮ দশমিক ১ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। অপরদিকে চলতি অর্থবছরে ৮ দশমিক ২ শতাংশ জিডিপি অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।'

চীনকে বাংলাদেশের উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, 'বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও সিপিপির মধ্যে গভীর সম্পর্ক বিদ্যমান।'

তিনি ১৯৯৩ সালে বিরোধী দলের নেতা হিসেবে চীনে তাঁর প্রথম সফরকে স্মরণ করে বলেন, 'সফরের পর থেকেই উভয় পক্ষের মধ্যে সম্পর্কের ভিত্তি মজবুত হয়। আমরা সব সময় চেষ্টা করব যাতে আমাদের মধ্যে ভাল সম্পর্ক বজায় থাকে। বাংলাদেশ ও চীন উভয়ের লক্ষ্য এক দারিদ্র্য বিমোচন এবং জনগণের মৌলিক চাহিদা পূরণ করা। আমাদের সরকার লক্ষ্য অর্জনে অপ্রত্যাশিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে।'

বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠ কন্যা শেখ হাসিনা, ১৯৫২ ও ১৯৫৭ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের চীন সফরের কথা স্মরণ করেন।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু তাঁর ভ্রমণের কথায় ভবিষ্যতে একটি 'নতুন চীন' তৈরি হচ্ছে বলে উল্লেখ করেছিলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, 'এখন আমি সেটাই দেখছি বঙ্গবন্ধু ভ্রমণের পর যে পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। তিনি এখন বঙ্গবন্ধুর ডায়েরি থেকে নিউ চীন নামে একটি বই সম্পাদনা করছেন। চীন নিয়ে বঙ্গবন্ধুর ভবিষ্যদ্বাণী সম্বলিত বইটি শিগগিরই প্রকাশিত হবে।'

সিপিপি নেতা এই বইটি চীনা ভাষাতে অনুবাদ করার আগ্রহ প্রকাশ করে জানান, তারা প্রকাশ করার পর চীনা জনগণের মধ্যে বইটি বিতরণ করবেন।

প্রধানমন্ত্রী গণপ্রজাতন্ত্রী চীন এর ৭০ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে চীনা জনগণ ও চীনা কমিউনিস্ট পার্টিকে তাঁর আন্তরিক অভিনন্দন জানান।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন, প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি বিনিয়োগ ও শিল্প বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মুহাম্মদ ফারুক খান, পররাষ্ট্র সচিব মো. শহিদুল হক ও চীনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম ফজলুল করিম অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন।

বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের বার্ষিক সভায় যোগদান এবং চীনের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করার জন্য প্রধানমন্ত্রী পাঁচদিনের সরকারি সফরে এখন চীন রয়েছেন। সিপিসি নেতার সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য লেখক মো. নজরুল ইসলাম সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন।

আপনার মতামত লিখুন :

বন্দরের কারণে চট্টগ্রামে যানজট নয়: বন্দর চেয়ার‌ম্যান

বন্দরের কারণে চট্টগ্রামে যানজট নয়: বন্দর চেয়ার‌ম্যান
সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল জুলফিকার আজিজ/ ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

চট্টগ্রাম বন্দরে আসা কন্টেইনার ও কার্গো সার্ভিস ঘণ্টা পর ঘণ্টা রাস্তায় অপেক্ষায় থাকে। একইসাথে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় ঐ রুটে চলাচলকারী গণপরিবহনকে পোহাতে হয় চরম ভোগান্তি। তবে সৃষ্ট এ যানজট কোনোভাবেই বন্দরের কারণে নয় বলে দাবি করছেন বন্দরের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল জুলফিকার আজিজ।

তিনি বলেছেন, গত ১০ থেকে ১২ দিন ধরে মুষলধারে বৃষ্টির কারণে চট্টগ্রাম বন্দরের বাইরে বিভিন্ন রাস্তায় জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। বিশেষ করে পোর্ট কানেকটিং সড়কের সংস্কার, বারিং বিল্ডিং থেকে ফকিরহাট পর্যন্ত ওয়াসার পইপ লাইন ও সিমেন্টে ক্রসিং এলাকায় এলিভেটেড এক্সপ্রেসের কাজের কারণে অধিকাংশ সড়কের প্রশস্ততা কমে এসেছে।’

শনিবার (২০ জুলাই) দুপুরে চট্টগ্রাম বন্দরের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। সম্প্রতি যানজট নিয়ে বেশকিছু গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর বন্দরের অবস্থান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।

এতে লিখিত বক্তব্যে বন্দরের অবস্থান তুলে ধরেন এডমিরাল জুলফিকার আজিজ। তিনি জানান, ঘূর্ণিঝড় ফণীর সময়েও সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার টিইইউএস পণ্যের পাশাপাশি কার্গো ও ডেলিভারি প্রদান করা হয়েছে। গত রমজান মাসেও চার হাজার ৮০০ টিইইউএস কন্টেইনার পণ্য ও কার্গো ডেলিভারি করা সম্ভব হয়।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/20/1563618895066.gif

মাঝখানে এমনও দিন গেছে সাড়ে ৯ থেকে ১০ হাজার কার্গো ও ডেলিভারি দেওয়া হয়েছে। তখন কেউ এমন যানজট অনুভব করেনি। অথচ টানা বর্ষণে বন্দর থেকে পণ্য ভেলিভারি চার হাজার টিইউএস কম ছিল। মূলত প্রাকতিক দুর্যোগ, বন্দরের যানবাহন ও গণপরিবহনের একই রাস্তায় হওয়ায় হওয়ার এমন অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।

বন্দর চেয়ারম্যান বলেন, ‘চট্টগ্রাম শহরের যানজট নিরসনে বিকল্প হিসেবে প্রস্তাবিত দুইট রিং রোড আগ্রাবাদ এক্সেস রোড-বড়পুল সড়ক, আনন্দবাজার ইপিজেড সড়ক ও জিইসি- সাগরিকা বেড়িবাঁধ সড়ক দ্রুততার সময়েও বাস্তবায়ন করতে হবে। যা একইসাথে বন্দরের কার্গো ও কন্টেইনার হ্যান্ডিলিং কার্যক্রমে প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধি করবে।’

এ সময় হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী দ্রুত সময়ে কর্ণফুলী নদীর উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু করার আশ্বাস দেন বন্দর চেয়ারম্যান। মতবিনিময় সভায় বন্দরের অন্যান্য কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

মানুষকে অসত্য তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করবেন না: অধ্যাপক ফারুক

মানুষকে অসত্য তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করবেন না: অধ্যাপক ফারুক
সংবাদ সম্মেলনে কথা বলছেন অধ্যাপক আ ব ম ফারুক হোসেন

মানুষকে অসত্য তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত না করে সত্য দিয়েই তর্ক-বিতর্কের মাধ্যমে সমাধানের পথ খোঁজার আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োমেডিকেল রিসার্চ সেন্টার ও ফার্মেসি অনুষদের  অধ্যাপক  আ ব ম ফারুক হোসেন।

শনিবার (২০ জুলাই) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক সমিতির কার্যালয়ে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় তিনি মৎস ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, সত্যে আসেন, বিজ্ঞান হলো সত্য। আমরা এমন কিছু বলব না যেকারণে বিভ্রান্তি ছড়ায়। সত্য কখনো আমাদের বঞ্চনা করে না। এই সত্যকে অবলম্বন করেই আমাদের মুক্তির দিকে যেতে হবে। সমস্যা দূর করতে হবে।

তরল পদার্থ নিয়ে যে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে তা অত্যন্ত সহজভাবে সমাধান করা যায় উল্লেখ করে অধ্যাপক ফারুক বলেন, পাস্তুরাইজেশন ইউনিটে যারা কাজ করে তাদের আরেকটু মোটিভেট করা। গরু রোগে আক্রান্ত হবেই। তারা জীবন্ত প্রাণি। তাই তাদের চিকিৎসাও করাতে হবে। নিয়ম হচ্ছে অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়ার পর একটা উইথড্রো পিরিয়ড আছে। ততদিন পর্যন্ত গরুর দুধ পান করা যাবে না। এটা খুবই জরুরি। কম পক্ষে ২১ দিন গরুর দুধ নেওয়া যাবে না।

গরুকে চিকিৎসার সময় হিউমান অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া যাবে না। গরুর খাবারে অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া থাকে সেগুলো বিবেচনা করলেই এসব সমস্যার সমাধান হওয়া কঠিন কিছু না।

উকিল নোটিশের ব্যাপারে তিনি বলেন, আমার কাছে একটি উকিল নোটিশ পাঠানো হয়েছে যাকে লিগ্যাল নোটিশও বলা যায়। আমি এতো বড় লোক নই বলে কোনো আইনজীবী দিয়ে নোটিশ পাঠায়নি। আমি সময়মত সেটার উত্তর দিয়েছি। আমি আমার বিবেকমত যতটুকু বলার আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য ততটুকুই বলেছি।

গবেষণার ব্যাপারে সবাই ইতিবাচক দাবি করে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত আমাদের গবেষণার ব্যাপারে সবার ইতিবাচক সাড়া দেখতে পাচ্ছি। যারা  দু’ একটা কথা বলে তারা আমাদের সামনে বলেন না।

গবেষণার উদ্দেশ্য সম্পর্কে তিনি বলেন, আমাদের গবেষণা কোনো কোম্পানির বিরুদ্ধে না। বরং আমরা দুধ সেক্টরটাকে উন্নত হিসাবে দেখতে চাই এবং  উন্নতমানের দুধ সরবরাহ করা হোক। আমরা যেন মানসম্মত, নিরাপদ দুধ খেতে পারি এটিই আমাদের লক্ষ্য।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের আহবায়ক আ ক ম জামাল উদ্দীন, ঢাবি শাখার সভাপতি আল মামুন, সেক্রেটারি আমিনুল ইসলাম বুলবুল প্রমুখ।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র