Barta24

শনিবার, ২০ জুলাই ২০১৯, ৫ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

বিপন্ন বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় থাকছে না সুন্দরবন

বিপন্ন বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় থাকছে না সুন্দরবন
ছবি: সংগৃহীত
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
ঢাকা


  • Font increase
  • Font Decrease

বিপন্ন বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় সুন্দরবন অন্তর্ভুক্ত না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইউনেস্কো এর বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটি (World Heritage Committee)। আজারবাইজানের বাকুতে অনুষ্ঠিত কমিটির ৪৩তম সভায় ২১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি সর্বসম্মতভাবে এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

বাংলাদেশের পক্ষে কিউবা, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা এবং চীন সুন্দরবনকে বিপন্ন বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত না করার নতুন সিদ্ধান্ত উপস্থাপন করে। আলোচনাকালে পরিবর্তিত সিদ্ধান্ত প্রস্তাবকারী কিউবা, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা এবং চীন ছাড়াও আজারবাইজান, ব্রাজিল, ইন্দোনেশিয়া, কুয়েত, তিউনিসিয়া, তানজানিয়া, বুরকিনাফাসো, উগান্ডা, জিম্বাবুয়ে ও পর্যবেক্ষক রাষ্ট্র হিসেবে ভারতসহ ১৫টি সদস্য রাষ্ট্র সরাসরি এ সিদ্ধান্তের পক্ষে অবস্থান নিয়ে বক্তব্য দেয়।

কমিটিতে সুন্দরবন সংরক্ষণে বাংলাদেশ সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপসমূহ প্রশংসিত হয়। কমিটি সদস্য রাষ্ট্রসমূহ উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও পরিবেশ রক্ষায় পদক্ষেপের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার উপর গুরুত্ব আরোপ করেন এবং এক্ষেত্রে বাংলাদেশের অর্জনকে স্বাগত জানান। পরবর্তীতে অন্যান্য সদস্য রাষ্ট্রের অবস্থানের প্রতিফলন ঘটিয়ে সর্বসম্মতভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

List of World Heritage in Danger

ওই সিদ্ধান্তে এ বছর বাংলাদেশ সরকার বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটির বিশেষজ্ঞের সমন্বয়ে একটি প্রতিনিধিদলকে আমন্ত্রণ জানাবে এবং আগামী ফেব্রুয়ারি ২০২০ -এর মধ্যে হালনাগাদ তথ্য সম্বলিত প্রতিবেদন দাখিল করবে এবং বাংলাদেশের দক্ষিণ পশ্চিম অঞ্চলের জন্য Strategic Environment Assessment (SEA) প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রতিশ্রুতিকে স্বাগত জানায়।

প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী বীর বিক্রম কমিটির সদস্যবর্গকে ধন্যবাদ জানান। বর্তমান কমিটির উন্নয়ন ও পরিবেশ রক্ষার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষাকরণে গৃহীত এ সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ সরকারকে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ ও বাস্তবায়নে উৎসাহিত করবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

List of World Heritage in Danger

এ সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে কমিটি বাংলাদেশের প্রায় পাঁচ কোটি মানুষের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে নির্মিতব্য বিদ্যুৎ কেন্দ্রসমূহের প্রতি সমর্থন জানাল এবং সেই সাথে তারা পরিবেশ সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তার উপরও গুরুত্ব আরোপ করেছেন বলে তিনি তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন। তিনি সুন্দরবনকে বাংলাদেশের গর্ব হিসেবে উল্লেখ করে সুন্দরবন সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ সরকার গ্রহণ করবে বলে কমিটিকে আশ্বস্থ করেন।

World Heritage Committee এর ৪৩তম সভা আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে ৩০ জুন থেকে শুরু হয়ে আগামী ১০ জুলাই পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। এই সভায় বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী বীর বিক্রম। প্রতিনিধি দলে অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন- ফ্রান্সে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও ইউনেস্কোতে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি কাজী ইমতিয়াজ হোসেন।

উল্লেখ্য, সুন্দরবন ১৯৯৭ সালে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়।

আপনার মতামত লিখুন :

সরল বিশ্বাসে কিছু করলে অপরাধ নয় বলেছি : দুদক চেয়ারম্যান

সরল বিশ্বাসে কিছু করলে অপরাধ নয় বলেছি : দুদক চেয়ারম্যান
'দুর্নীতি দমনে আইনজীবী এবং বিচার বিভাগের ভূমিকা' শীর্ষক আলোচনা সভায় দুদক চেয়ারম্যান

সরল বিশ্বাসে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের করা কাজ কোনো অপরাধ নয় সম্প্রতি দেওয়া এমন বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়ে দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেছেন, 'এ ব্যাপারে আমার উত্তর একেবারে সহজ। একটি প্রশ্নের বিপরীতে আমি যে উত্তর দিয়েছিলাম সেখানে আমি দুর্নীতি শব্দটি উচ্চারণ করি নাই। আপনারা দেখেতে পারেন। দুর্নীতি কিভাবে আসলো আই হ্যাভ নো আইডিয়া। যারা এনেছেন সেটা তাদের দায়, মোটেও আমার দায় নয়।'

শনিবার (২০ জুলাই) জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে 'দুর্নীতি দমনে আইনজীবী এবং বিচার বিভাগের ভূমিকা' শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভার আয়োজন করে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ।

১৯ জুলাই সচিবালয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, এটা সবার জন্য যে সরল বিশ্বাসে সরকারি কর্মকর্তারা কিছু করলে সেটা কোনো অপরাধ নয়, সরল বিশ্বাসে যদি আপনি কোনো কাজ করেন, এবং সেটা যদি বড় কিছুও হয় তাও কোনো অপরাধ নয়। তিনি বলেন, পেনাল কোডেই বলা আছে যে, সরল বিশ্বাসে কৃতকর্ম কোনো অপরাধ নয়, জেনারেল একসেপশন বলে এটাকে। কিন্তু আপনাকে প্রমাণ করতে হবে যে সরল বিশ্বাসে আপনি এ কাজটা করেছেন।'

এ প্রসঙ্গে আলোচনা সভায় তিনি আরও বলেন, 'আমি কোনো ব্যাখ্যা দিতে প্রস্তুত নই। কারণ আপনারা আমাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন পরিষ্কার করতে। আমি পরিষ্কার করেছি ওখানে।'

দুর্নীতির ব্যাপারে তিনি বলেন, 'অনেকেই বলেন সরকারদলীয় মন্ত্রী-এমপিদের কিছু করা হয় না। আমার জানামতে আন্ডার প্রসিকিউশন, আন্ডার ইনভেস্টিগেশন এর নামে ইনকোয়ারিতে ১০ থেকে ১৫ জন রয়েছেন সরকার দলীয়। এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের এক দলে রয়েছে ১৫ জন, আরেক দলে রয়েছে ১২ জন, আরেক দলের ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত ইন কোয়ারিতে আছে প্রায় ২৫ জন। এছাড়াও ঊর্ধ্বতন আমলা রয়েছে সচিব থেকে শুরু করে জয়েন সেক্রেটারি পর্যন্ত প্রায় ১৫ জন আছে। ইনভেস্টিগেশনের সময় তথ্য প্রকাশ হলে সেটি বিব্রতকর হয়ে পড়ে। সেজন্য সব তথ্য জানিয়ে দেওয়া একটু অসুবিধার বিষয়। এরপরও কিভাবে যেন সেই তথ্য পাচার হয়ে যায়। সেটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ, সেই দায় আমার।'

ইকবাল মাহমুদ বলেন, দুদক আকাশ থেকে উড়ে আসে নাই। এখানে যারা কাজ করেন তারা কিন্তু বিদেশ থেকে আসে নাই। আমরা সবাই এই সমাজের মানুষ। আমরা সবাই এই মাটির সন্তান, এই পরিবেশের প্রোডাক্ট। এই সমাজেরই অংশ। সমাজের অন্যান্য জায়গায় যা হয়, আমার এখানে তা হয় না কথাটা সঠিক নয়। ছোট গাছ উপড়ে ফেলার যতটা সহজ, বট গাছ উপড়ে ফেলা অনেক কঠিন। তাই বলে যে আমরা বট গাছ ধরছি না তা নয়।

এ সময় সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, 'আপনারা সংবাদ পরিবেশন করবেন যাতে প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি না হয়। ব্যক্তি ক্ষতি হোক অসুবিধা নাই। কারণ, প্রতিষ্ঠান রাষ্ট্রের, সরকারের নয়। আমাদের ব্যর্থতা আছে। সে ব্যর্থতা কাটানোর জন্য কি করা যায় সেটা আপনারা বলুন। সবার সম্মিলিত প্রয়াস ছাড়া দুর্নীতি দমন সম্ভব না।'

আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. নিজামুল হক, হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ এর প্রেসিডেন্ট অ্যাড. মনজিল মোরসেদ প্রমুখ।

প্রিয়া সাহার কাছে প্রমাণ চাইবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

প্রিয়া সাহার কাছে প্রমাণ চাইবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, পুরনো ছবি

প্রিয়া সাহাকে দেশে এনে তার অভিযোগের প্রমাণ চাইবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। প্রমাণ দিতে না পারলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

শনিবার (২০ জুলাই) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ছাত্রলীগের অনুষ্ঠিত সম্মেলন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।

উল্লেখ্য, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত সপ্তাহে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সহিঞ্ঝুতার জন্য বিশ্বের বিভিন্ন ধর্মীয় নেতা ও প্রতিনিধিদের সঙ্গে তার অফিসে কথা বলেন। ওই অনুষ্ঠানে প্রিয়া সাহা ট্রাম্পের কাছে অভিযোগ করেন, বাংলাদেশে প্রায় ৩ কোটি ৭০ লাখ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান নিখোঁজ হয়েছেন। বর্তমানে এখানে ১ কোটি ৮০ লাখ সংখ্যালঘু রয়েছে উল্লেখ করে তিনি ট্রাম্পের সহায়তা চান।

এদিকে, শুক্রবার (১৯ জুলাই) ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে প্রিয়া সাহা বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের বিষয়ে যে তথ্য দিয়েছেন তা সঠিক নয় বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত রবার্ট মিলার। তিনি বলেছিলেন, বাংলাদেশের বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায় একে অপরকে শ্রদ্ধা করে।

অন্যদিকে, এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। শুক্রবার সন্ধ্যায় ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে মন্ত্রী বলেন, ‘আমি জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থায় একাধিকবার ভরা হাউসে পৃথিবীর সব দেশের এবং বাংলাদেশ ও বাইরের দেশের মানবাধিকার সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিয়েছি। যেখানে শ্রদ্ধেয় রানা দাশ গুপ্তার মতো মানুষেরাও উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু ট্রাম্পকে দেওয়া প্রিয়া সাহার অভিযোগের মতো কোনো অভিযোগ বা প্রশ্ন কাউকে করতে দেখিনি।’

এছাড়া শুক্রবার ফেসবুক লাইভে ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে মিথ্যা অভিযোগ করে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপরাধে প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহীতার মামলা করবেন বলে জানিয়েছেন ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন।

 

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র