Barta24

রোববার, ২১ জুলাই ২০১৯, ৬ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

তিস্তার পানিতে ভেসে গেছে বাদাম চাষিদের স্বপ্ন

তিস্তার পানিতে ভেসে গেছে বাদাম চাষিদের স্বপ্ন
ডুবে গেছে তিস্তা চরাঞ্চলের বাদাম ক্ষেত। ছবি: বার্তা২৪.কম
ফরহাদুজ্জামান ফারুক
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
রংপুর


  • Font increase
  • Font Decrease

আষাঢ়ের শুরুতেই পানি বাড়তে শুরু করেছে তিস্তা নদীতে। ভাঙতে শুরু করেছে নদীর পাড়ও। এতে রংপুরের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। ডুবে গেছে চরাঞ্চলের মানুষের স্বপ্নের বাদাম ক্ষেত। আর কদিন পর ঘরে তোলা হতো এসব ক্ষেতের ফসল।

রংপুরের গঙ্গাচড়া ও কাউনিয়া উপজেলার বেশ কয়েকটি বিস্তীর্ণ অঞ্চল ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, কাউনিয়ার ঢুষমাড়া, গদাই, বিশ্বনাথপুর, মধুপুর, ভূতছড়া, শাব্দি, ট্যাপা এবং গঙ্গাচড়ার মহিপুর, বালাপাড়া, মোহালি গ্রামের নিম্নাঞ্চল পানিতে তলিয়ে গেছে। এসব এলাকায় নদীর ধু-ধু বালুচরে ফলানো বাদাম পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে চাষিরা।

চাষিদের দাবি, ফলন ভালো হলেও পানিতেই ভেসে গেছে তাদের স্বপ্ন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/24/1561390346277.jpg

বিশ্বনাথপুর গ্রামের কৃষক হামিদ মিয়া বার্তা২৪.কমকে বলেন, 'এবার অনেক আশা নিয়ে বাদাম চাষ করেছি। কিন্তু ঘরে তোলার আগেই পানিতে সর্বনাশ হলো। এখন ঋণ পরিশোধ করা কষ্টকর হবে।'

একই এলাকার মর্জিনা বেগম বার্তা২৪.কমকে বলেন, 'বাদাম তোলা হইলো ন্যা, সোগ (সব) পানির তলোত ডুবি গেছে। সংসার চালাইতে কষ্ট হইবে। ছাওয়াগুল্যার (সন্তান) খরচা দিতে দেরি হইবে।'

রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক ড. সরোয়ারুল হক বার্তা২৪.কমকে জানান, রংপুরে প্রায় ৬৮০ হাজার হেক্টর জমিতে বাদাম চাষ হয়েছে। যার বেশির ভাগই নদীর বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল। তবে তিস্তায় হঠাৎ পানি বাড়ায় চাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।

কৃষক সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক পলাশ কান্তি নাগ বার্তা২৪.কমকে জানান, বছরের পর বছর তিস্তা ভরাট হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতে প্লাবিত হচ্ছে দুই পাড়ের বিস্তীর্ণ অঞ্চল। এতে বাদাম চাষিরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এই সমস্যা সমাধানে তিস্তা নদী খনন ও নদী শাসন করা জরুরি হয়ে পড়েছে।

রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের মুখ্য সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. আব্দুল হাকিম বার্তা২৪.কমকে জানান, কিছু জায়গায় ড্রেজিং করা হয়েছে। তবে পুরো তিস্তায় ড্রেজিং করার কাজ শিগগিরই শুরু হবে।

আপনার মতামত লিখুন :

ঢাকার নদী দূষণ ও দখল রোধে মাস্টার প্ল্যান চূড়ান্ত

ঢাকার নদী দূষণ ও দখল রোধে মাস্টার প্ল্যান চূড়ান্ত
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম, ছবি: বর্তাটোয়েন্টিফোর.কম

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীসহ ঢাকার চারপাশের নদীগুলোর দূষণ ও দখল রোধ এবং নাব্যতা বৃদ্ধির জন্য প্রণীত দুটি মাস্টারপ্ল্যান চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম।

রোববার (২১ জুলাই) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।

মন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীসহ ঢাকার চারপাশের নদীগুলোর দূষণ ও দখলরোধ এবং নাব্যতা বৃদ্ধির জন্য প্রণীত দুটি মাস্টারপ্ল্যান প্রধানমন্ত্রী অনুমোদন করেছেন। কালক্ষেপণ না করে বাস্তবায়নের পদক্ষেপ নিতে নির্দেশনা দিয়েছেন। মন্ত্রণালয়, অধিদফতর, সংস্থা এ মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী নিজ নিজ কার্যক্রম শুরু করেছে।

তিনি জানান, ইতোপূর্বে প্রণীত খসড়া মাস্টারপ্ল্যান দুটি নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা পূর্বক সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়/বিভাগের স্ব স্ব দায়িত্ব ও করণীয় মাস্টারপ্ল্যানে যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়েছে কিনা সে বিষয়ে মন্ত্রণালয় ও বিভাগসমূহের বিস্তারিত মতামত গ্রহণ করা হয়। প্রণীত মাস্টারপ্ল্যানে ২৪টি মূল কার্যক্রম এবং এর আওতায় ১৮০টি সহযোগী কার্যক্রম চিহ্নিত করা হয়েছে।

তাজুল ইসলাম আরও জানান, মাস্টারপ্ল্যানটিতে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী এবং হালদা নদীর জন্য ৪৫টি মূল কার্যক্রম এবং এর আওতায় ১৬৭টি সহযোগী কার্যক্রম চিহ্নিত করা হয়েছে। দুটি মাস্টারপ্ল্যানই ক্রাশ প্রোগ্রাম, স্বল্পমেয়াদী, মধ্যমেয়াদী এবং দীর্ঘমেয়াদী পদক্ষেপের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হবে।

সাম্প্রতিক সময়ের ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো এডিস মশার বিস্তার তথা ডেঙ্গু প্রতিরোধে সর্বাত্মক কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। এজন্য নাগরিকদের সচেতনতা বৃদ্ধি জরুরি।’

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন- নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ, পানি সম্পদ সচিব কবীর বিন আনোয়ার সহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ।

ঈদের আগে পরে ৮ দিন ফেরিতে ট্রাক-লরি পারাপার বন্ধ

ঈদের আগে পরে ৮ দিন ফেরিতে ট্রাক-লরি পারাপার বন্ধ
নৌ প্রতিমন্ত্রীর সভা, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

পবিত্র ঈদুল আজহার আগের পাঁচ দিন ও পরের তিন দিনসহ মোট আট দিন ফেরিতে ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ও লরি পারাপার বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) প্রস্তাবিত ১০ দিন বন্ধ রাখার প্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত হয়। তবে পণ্য ও কোরবানির পশুবাহী ট্রাক এ নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত থাকবে।

রোববার (২১ জুলাই) বিদ্যুৎ ভবনে নৌ প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে ঈদে লঞ্চ, ফেরি, স্টিমার চলাচল ও যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বন্যার কারণে পানি বৃদ্ধি ও তীব্র স্রোতের কারণে ফেরি চলাচল ব্যাহত হওয়ার বিষয়টি উঠে আসে। প্রতিমন্ত্রী এ সমস্যা মোকাবিলায় সব প্রস্তুতি রাখার নির্দেশ দেন, পাশাপাশি ঈদে যাতে যাত্রীদের দুর্ভোগ না হয় সে বিষয়েও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন।

এ সময় বিআইডব্লিউটিসির চেয়ারম্যান ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ও লরি চলাচল ১০ দিন বন্ধ রাখার প্রস্তাব করেন। এর কারণ হিসেবে বলা হয়, বন্যার কারণে বিভিন্ন স্থানে পানি বেড়ে যাওয়ায় ফেরি চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এর ওপর ঈদে বাড়তি গাড়ির চাপ পড়লে দীর্ঘ যানজট হতে পারে। তাই ঈদের আগে পরে ১০ দিন ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ও লরি পারাপার বন্ধ রাখলে দুর্ভোগ লাঘব হবে। তবে ১০ দিন বন্ধ রাখার পক্ষে একমত হওয়া যায়নি। ফলে প্রাথমিকভাবে ঈদের আগে পাঁচ দিন ও পরে তিন দিন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়।

এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিসির চেয়ারম্যান প্রণয় কান্তি বিশ্বাস বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, ‘আমরা বন্যার কারণে নদীতে পানি বৃদ্ধি ও প্রবল স্রোতের বিষয়টি মাথায় রেখে ঈদের আগে ও পরে মিলিয়ে মোট ১০ দিন ফেরিতে পশুবাহী ও নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যবাহী ভারি যানবাহন ছাড়া অন্য সব ট্রাক-লরি পারাপার বন্ধ রাখার প্রস্তাব করেছিলাম। কিন্তু সেটি কমিয়ে ঈদের আগে পাঁচ দিন ও পরে তিন দিন করার সিদ্ধান্ত হয়। তবে এখনও এটি ঘোষণা হয়নি, ঘোষণা হলেই জানা যাবে।’

সূত্র জানায়, রাতে সব ধরনের মালবাহী জাহাজ, বালুবাহী বাল্কহেড চলাচল বন্ধ রাখার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। ঈদের আগে পাঁচ দিন ও ঈদের পরের পাঁচ দিন দিনের বেলায়ও সব বাল্কহেড চলাচল বন্ধ থাকবে। লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী না ওঠানো, বাড়তি ভাড়া না নেওয়া এবং যাত্রীদের জানমালের নিরাপত্তায় পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের ভিজিলেন্স টিম গঠনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয় সভায়।

1
ফেরি ঘাটে ট্রাকের দীর্ঘ সারি, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

 

সভায় প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘যাত্রীদের নিরাপদ যাতায়াতে গত ঈদুল ফিতরের সময় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় একটি টিম ওয়ার্কের মাধ্যমে ভালো কাজ করেছিল। এবারের ঈদুল আজহায়ও সবাই মিলে ঈদ যাত্রাকে আরো নিরাপদ রাখতে চাই। অতিবৃষ্টি ও বন্যার কারণে ফেরি চলাচলে বিঘ্নিত হলেও আমাদের আরো দায়িত্ব নিয়ে কাজ করতে হবে। কোরবানির পশু আসা নিয়ে নৌপথে অনেক সময় অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে থাকে; এসব বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নজরদারি বাড়াতে হবে।’

সভায় অন্যান্যের মধ্যে নৌ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আবদুস সামাদ, বিআইডব্লিউটিএ-এর চেয়ারম্যান কমডোর এম মাহবুব উল ইসলাম, নৌ পরিবহন অধিদফতরের মহাপরিচালক কমডোর সৈয়দ আরিফুল ইসলাম, নৌ পুলিশের ডিআইজি মো. আতিকুল ইসলাম, কোস্টগার্ডের ঢাকা জোনের কমান্ডার রেজাউল হাসান, বিভিন্ন জেলার প্রশাসক এবং পুলিশ সুপার, লঞ্চ মালিক শহীদুল ইসলাম ভূঁইয়া, বদিউজ্জামান বাদল, নৌযান শ্রমিক নেতা মো. শাহ আলম ও জাহাঙ্গীর আলম উপস্থিত ছিলেন।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র