Barta24

শনিবার, ২০ জুলাই ২০১৯, ৪ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

আমার সিএনজি ‘মানতি স্যার’

আমার সিএনজি ‘মানতি স্যার’
অটোরিকশায় লাগানো মান্থলি’র টোকেন, ছবি: বার্তা২৪.কম
স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
ঢাকা
রাঙ্গামাটি থেকে ফিরে


  • Font increase
  • Font Decrease

সিএনজি চালিত অটোরিকশায় রাঙ্গামাটি শহরে ঢুকছিলাম। বনরূপা (শহরের প্রাণকেন্দ্র) এলাকায় ট্রাফিক পুলিশ সিগন্যাল দিলেন অটোরিকশা থামানোর জন্য। গতি খুব একটা ছিল না, চালক চলন্ত অবস্থায় বলে দিলেন, ‘মানতি স্যার’।

ট্রাফিক পুলিশ আর কিছুই বললেন না। যথারীতি এগিয়ে যেতে থাকলাম। মনের মধ্যেই নানান প্রশ্ন উঁকি দিচ্ছিল, চালকের কাছে জানতে চাইলাম, পুলিশকে কী বললেন? জবাব দিলেন, ‘মানতি। আমার অটোরিকশা মানতি করা। না হলে শহরে যতবার ঢুকব ততবার ১শ’ টাকা করে দিতে হবে।’ তখন বুঝলাম, ইংরেজি মান্থলি মানে মাসিক শব্দের স্থানীয় সংস্করণ মানতি।

আবার প্রশ্ন করলাম, হাজার হাজার অটোরিকশা চলাচল করে, যদি মানতি করা না থাকলেও কেউ মানতি বলে! তাহলে বুঝবে কী করে?’ চালক জানালেন, ‘তা হওয়ার সুযোগ নেই। ওদের কাছে সবার তালিকা আছে। আবার বিট ভাগ করা আছে, সন্দেহ হলে বিটের অফিসার সার্জেন্টের নাম জানতে চাইবে। মাসে কত টাকা দিতে হয়? জবাব পাওয়া গেল, ‘২৫০ টাকা।’

আর কোথায় কোথায় এমন টাকা দিতে হয়? ‘সব জায়গায় দিতে হয়, না হলে সেই থানা এলাকায় প্রবেশ করা যায় না,’ বলেন তিনি।

কাপ্তাই লিচু বাগান এলাকার এই চালককে জ্বালানি (সিএনজি) ভরার জন্য যেতে হয় চট্টগ্রাম শহরে। কাপ্তাই রাস্তায় মাথায় অবস্থিত একটি সিএনজি ফিলিং স্টেশন থেকে গ্যাস ভরেন। এ কারণে হাইওয়ে কাপ্তাই রাস্তার মাথায় হাইওয়ে পুলিশকে মাসে দিতে হয় ৫শ’ টাকা।

যেহেতু চট্টগ্রাম যাওয়া আসার জন্য রাঙ্গুনিয়া এলাকার ওপর দিয়ে যেতে হয়, এজন্য রাঙ্গুনিয়া থানা পুলিশকে দিতে হয় ৩শ’ টাকা করে। রাঙ্গুনিয়া থানা পুলিশ এই মাসোহারা আদায় অনেকটাই আধুনিকায়ন করেছে। বিআরটিএ যেভাবে স্বচ্ছ ট্যাক্স টোকেন দেয় গাড়ির গ্লাসে লাগানোর জন্য। রাঙ্গুনিয়া থানা পুলিশও এমন স্বচ্ছ টোকেন চালু করেছে। যা গাড়ির কাঁচে প্রদর্শন করতে হয়।

অধিকাংশ অটোরিকশায় এই টোকেন লক্ষ্যণীয়। এতে তেমন কিছুই লেখা নেই। শুধু থাকে মাসের নাম ও নিচে সন। প্রতি মাসে টাকা দিয়ে এই টোকেন সংগ্রহ করে গাড়ির গ্লাসে লাগিয়ে রাখতে হয়। কোনো মাসে টাকা দিতে দেরি হলেই আর রক্ষে নেই। সোজা মামলা দিয়ে দেয়। আবার কখনও কখনও গাড়িও আটকে দেওয়া হয়। খুব কম চালকই আছেন যারা দৈনিক ভিত্তিতে টাকা দেন।

টাকা দিতে হয় নোয়াপাড়াতেও। এখানে মাসে ৩শ’ টাকা হারে দিতে হয়। সবচেয়ে কম মাসোহারা কাপ্তাই থানা পুলিশের। সিএনজি চালিত অটোরিকশা থেকে মাসে দেড়শ’ টাকা আদায় করছে হ্রদের পেটে থাকা এই থানা পুলিশ। মাসোহারা যথা সময়ে না দিলেই মামলা, গাড়ি আটকসহ নানা রকম হয়রানির শিকার হতে হয়। শুধু জরিমানার টাকা দিয়ে এই মামলা থেকে রক্ষা পাওয়া যায় না। ৫শ’ টাকার মামলা দিলেও ৭ হাজার টাকা দিতে হয় বলে অভিযোগ করেন ওই চালক।

পুলিশ ধরলে মামলা, জরিমানায় রক্ষা পেলেও শান্তি বাহিনীর থেকে ছাড় পাচ্ছেন না চালকরা। শান্তি বাহিনীকে মাসে ১ হাজার টাকা করে দিতে হয়। না হলে দুনিয়া থেকে গায়েব করে দেওয়া হতে পারে। এখানে পুলিশও নাকি শান্তি বাহিনীকে সমীহ করে চলে।

ওই অটোরিকশা চালক বলেন, `ছোট-বড় কোনো গাড়িই টাকা না দিয়ে চলতে পারে না। সবাইকে টাকা দিতে হয়। ছোটো গাড়ির কম, বড় গাড়ির বেশি মাসোহারা। অর্থাৎ সব ধরনের যানবাহন থেকে এই টাকা আদায় করা হচ্ছে। সম্ভবত বাংলাদেশের একমাত্র সড়ক রয়েছে নাটোরে, যেটি চলন বিলের ভেতর দিয়ে চলে গেছে। এই সড়কটি ব্যবহারের ক্ষেত্রে টোল দিয়ে চলাচল করতে হয়। কিন্তু অটোরিকশা চালকের কথায় মনে হচ্ছে, সারা দেশের প্রায় সব সড়কেই নিরবে চাঁদাবাজি চলছে। কয়েকদিন আগে রাজধানীর মাংস বিক্রেতারা অভিযোগ করেছেন, ‘চাঁদাবাজি বন্ধ হলে নাকি ৩শ’ টাকা কেজিতে গরুর মাংস বিক্রি করা সম্ভব।’

আপনার মতামত লিখুন :

প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা করবেন ব্যারিস্টার সুমন

প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা করবেন ব্যারিস্টার সুমন
পুরনো ছবি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে মিথ্যা অভিযোগ করে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপরাধে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক পরিচয়দানকারী প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা করবেন বলে জানিয়েছেন ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন।

শুক্রবার (১৯ জুলাই) তার নিজস্ব ফেসবুক পেজে লাইভে এসে এই মামলা করার ঘোষণা দেন।

উল্লেখ্য, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত সপ্তাহে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সহিঞ্ঝুতার জন্য বিশ্বের বিভিন্ন ধর্মীয় নেতা ও প্রতিনিধিদের সঙ্গে তার অফিসে কথা বলেন। ওই অনুষ্ঠানে প্রিয়া সাহা ট্রাম্পের কাছে অভিযোগ করেন, বাংলাদেশে প্রায় ৩ কোটি ৭০ লাখ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান নিখোঁজ হয়েছেন। বর্তমানে এখানে ১ কোটি ৮০ লাখ সংখ্যালঘু রয়েছে উল্লেখ করে তিনি ট্রাম্পের সহায়তা চান।

আরও পড়ুন: সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগ সঠিক নয়: মার্কিন রাষ্ট্রদূত

লাইভে ব্যারিস্টার সুমন বলেছেন, ‘আগামী রোববার (২১ জুলাই) আদালত খোলার সাথে সাথে আমি এই নারীর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করব। যেখানে খোদ মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেছেন, বাংলাদেশ হলো সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উদাহরণের দেশ। সেখানে একজন মহিলা মার্কিন প্রেসিডেন্টের কাছে গিয়ে দেশের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার যে অপচেষ্টা চালিয়েছেন তা অবশ্যই রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল। তার বিরুদ্ধে তাই আদালতে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা করা হবে।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/20/1563565323305.jpg

ব্যারিস্টার সুমন আরও বলেন, ‘যেখানে বাংলাদেশে আমরা সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্ক থাকছি, সেখানে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে এমন মিথ্যা অভিযোগের ব্যাপারে আমরা বসে থাকতে পারি না। তার ব্যাপারে মামলা করা এখন জরুরি হয়ে পড়েছে।’

আরও পড়ুন: ট্রাম্পের কাছে উদ্ভট অভিযোগ, শাহরিয়ার আলমের নিন্দা

এদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে প্রিয়া সাহা বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের বিষয়ে যে তথ্য দিয়েছেন তা সঠিক নয় বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত রবার্ট মিলার। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায় একে অপরকে শ্রদ্ধা করে।

অন্যদিকে, এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। শুক্রবার সন্ধ্যায় ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে মন্ত্রী বলেন, ‘আমি জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থায় একাধিকবার ভরা হাউসে পৃথিবীর সব দেশের এবং বাংলাদেশ ও বাইরের দেশের মানবাধিকার সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিয়েছি। যেখানে শ্রদ্ধেয় রানা দাশ গুপ্তার মতো মানুষেরাও উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু ট্রাম্পকে দেওয়া প্রিয়া সাহার অভিযোগের মতো কোনো অভিযোগ বা প্রশ্ন কাউকে করতে দেখিনি।’

‘কাইয়ো একনা ত্রাণ দিলে না’

‘কাইয়ো একনা ত্রাণ দিলে না’
এখনো ত্রাণ না পাওয়ায় আক্ষেপ করেন এই বৃদ্ধ, ছবি: বার্তটোয়েন্টিফোর.কম

কুড়িগ্রাম থেকে: পানির স্রোতে অশান্ত হয়ে উঠেছে ব্রহ্মপুত্র নদ। চারদিক পানি ছাপিয়ে পড়ায় প্লাবিত হয়েছে গ্রামের পর গ্রাম। এই নদে ক্রমশ পানি বাড়ায় আশপাশের চর, দ্বীপচর ও নিম্নাঞ্চলসহ শহরতলী পানিতে থৈ থৈ করছে।

শুক্রবার (১৯ জুলাই) দুপুরে কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার নয়ারহাটচর ও অষ্টমীরচরের চারদিক শুধু পানি আর পানি দেখা গেছে। পানিবন্দি এসব চরের মানুষরা গবাদি পশুপাখিসহ বাঁধের উঁচুতে আশ্রয় নিয়েছে। কোনোরকম ছোট ছোট ঝাপড়ি তুলে আবার কোথাও কোথাও প্লাস্টিক বা তাবুর নিচে দুর্বিষহ জীবন-যাপন করছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/20/1563560885391.jpg

এদিকে, পুটিমারি বাঁধের উপর গত কয়েকদিন ধরে চড়া রোদ সহ্য করেছেন বানভাসি মানুষরা। তাদেরই একজন বৃদ্ধ আজাদ মিয়া। আক্ষেপ নিয়ে বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে এই বৃদ্ধ বলেন, ‘সাতদিন ধরি বাঁধের উপর ঘর বানবন্দি (বেঁধে) কোনোরকম পড়ি আছি। চেয়ারম্যান-মেম্বর কাইয়ো হামার (আমার) খবর নিলেও না। পাশ দিয়া কত নৌকা যাবার নাগছে (যেতে লাগছে), কাইয়ো (কেউ) একনা (একটু) ত্রাণ দিলে না।’

এই বাঁধের উপর আশ্রয় নিয়েছে অর্ধশত পরিবার। সঙ্গে আছে তাদের গবাদি পশুও। শুক্রবার বিকেলে নৌকায় করে রমনা পয়েন্ট ধরে চরে যাওয়ার পথে চোখ পড়ে এই বাঁধে থাকা মানুষদের দুর্ভোগের দৃশ্য।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/20/1563560935566.jpg

বাঁধের পাশ্ববর্তী সড়কের উপর প্লাস্টিকের নিচে ঘর করে আছে গোলাম হোসেন। তিনি জানান, আশপাশে দুই কিলোমিটারের মধ্যে কোনো শুকনো জায়গা খুঁজে না পেয়ে এখানে উঠেছেন। কিন্তু ত্রিপল না থাকায় মাথার ওপর আচ্ছাদন দিতে পারেননি। একদিন বৃষ্টিতেও ভিজেছেন।

বন্যা কবলিত এলাকাগুলোতে মল-মূত্র ত্যাগের জন্য তেমন ব্যবস্থা নেই। এতে করে রাতে অন্ধকার নামার অপেক্ষায় থাকেন অনেকে। ডুবে যাওয়া পানির নিচে প্রাকৃতিক কাজ সারছেন তারা। খাবার পানির সংকট আরও প্রকট হয়ে উঠেছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/20/1563561018038.jpg

এদিকে, কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ২ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার, ৫০০ মেট্রিকটন চাল, সাড়ে ১৩ লাখ টাকা ও সাড়ে ৪০০ তাবু বিতরণ করা হয়েছে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র