Barta24

শনিবার, ২০ জুলাই ২০১৯, ৫ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের ঘটনা অনভিপ্রেত: বিদ্যুৎ বিভাগ

পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের ঘটনা অনভিপ্রেত: বিদ্যুৎ বিভাগ
ছবি: সংগৃহীত
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

পায়রা বিদ্যুৎ কেন্দ্রে গত ১৭ ও ১৮ জুন যে ঘটনা ঘটেছে তা অনভিপ্রেত। এটিকে একটি দুর্ঘটনা হিসেবেই দেখছে বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়।

বৃহস্পতিবার (২০ জুন) রাতে মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য অফিসার মীর মোহাম্মদ আসলাম উদ্দিন পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রে উদ্ভূত পরিস্থিতি সম্পর্কে বিদ্যুৎ বিভাগের দেওয়া ব্যাখ্যায় এসব কথা বলা হয়।

ব্যাখ্যায় আরও বলা হয়, নিহত শ্রমিক সাবিন্দ্র চন্দ্র দাস কাজের সময় নিরাপত্তার জন্য ব্যবহৃত সকল সরঞ্জাম পরিহিত ছিল। কিন্তু শেষবার তিনি সেফটি বেল্টের হুক যথাস্থানে ভুলবশত: স্থাপন না করায় উপর থেকে পড়ে গিয়ে নিহত হন। সেখান থেকে ঘটনার সূত্রপাত। পরে রাতে শ্রমিকদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া সৃষ্টি হয়। এতে ১০ জন বাঙালি এবং ৬ জন চীনা শ্রমিক আহত হন। চীনা শ্রমিক ঝাং ইয়াং ফাং ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার সময় পড়ে গিয়ে মাথায় আঘাত পান। রাতেই তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল মেডিকেল কলেজে ভর্তি করা হয়। তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে চিকিৎসকদের আপ্রাণ চেষ্টা সত্ত্বেও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয় নি।

বিদ্যুৎ বিভাগের ব্যাখ্যায় আরও বলা হয়, এ ঘটনায় চীন ও বাংলাদেশি আহত শ্রমিকদের কারো অবস্থা আশঙ্কাজনক নয়। তারপরও তাদের সকলকে ঢাকায় উন্নত চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। উল্লেখ্য, পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের শ্রমিকরা কাজে ফিরে গেছেন। পরিস্থিতি এখন সম্পূর্ণ শান্ত রয়েছে।

পায়রা তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র শ্রমিকদের নিরাপত্তকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে থাকে। ইতোমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু, বিদ্যুৎ সচিব ড. আহমদ কায়কাউস, বাংলাদেশ চায়না পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী এ এম খোরশেদুল আলম এবং চায়না অ্যাম্বাসির দুইজন প্রতিনিধি।

বাংলাদেশ ও চীনা শ্রমিকদের সঙ্গে বৈঠকে সার্বিক বিষয়ে পর্যালোচনা করে ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী দ্রুত সময়ের মধ্যে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্যও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে নির্দেশ দেন।

আপনার মতামত লিখুন :

প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা করবেন ব্যারিস্টার সুমন

প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা করবেন ব্যারিস্টার সুমন
পুরনো ছবি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে মিথ্যা অভিযোগ করে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপরাধে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক পরিচয়দানকারী প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা করবেন বলে জানিয়েছেন ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন।

শুক্রবার (১৯ জুলাই) তার নিজস্ব ফেসবুক পেজে লাইভে এসে এই মামলা করার ঘোষণা দেন।

উল্লেখ্য, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত সপ্তাহে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সহিঞ্ঝুতার জন্য বিশ্বের বিভিন্ন ধর্মীয় নেতা ও প্রতিনিধিদের সঙ্গে তার অফিসে কথা বলেন। ওই অনুষ্ঠানে প্রিয়া সাহা ট্রাম্পের কাছে অভিযোগ করেন, বাংলাদেশে প্রায় ৩ কোটি ৭০ লাখ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান নিখোঁজ হয়েছেন। বর্তমানে এখানে ১ কোটি ৮০ লাখ সংখ্যালঘু রয়েছে উল্লেখ করে তিনি ট্রাম্পের সহায়তা চান।

আরও পড়ুন: সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগ সঠিক নয়: মার্কিন রাষ্ট্রদূত

লাইভে ব্যারিস্টার সুমন বলেছেন, ‘আগামী রোববার (২১ জুলাই) আদালত খোলার সাথে সাথে আমি এই নারীর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করব। যেখানে খোদ মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেছেন, বাংলাদেশ হলো সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উদাহরণের দেশ। সেখানে একজন মহিলা মার্কিন প্রেসিডেন্টের কাছে গিয়ে দেশের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার যে অপচেষ্টা চালিয়েছেন তা অবশ্যই রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল। তার বিরুদ্ধে তাই আদালতে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা করা হবে।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/20/1563565323305.jpg

ব্যারিস্টার সুমন আরও বলেন, ‘যেখানে বাংলাদেশে আমরা সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্ক থাকছি, সেখানে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে এমন মিথ্যা অভিযোগের ব্যাপারে আমরা বসে থাকতে পারি না। তার ব্যাপারে মামলা করা এখন জরুরি হয়ে পড়েছে।’

আরও পড়ুন: ট্রাম্পের কাছে উদ্ভট অভিযোগ, শাহরিয়ার আলমের নিন্দা

এদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে প্রিয়া সাহা বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের বিষয়ে যে তথ্য দিয়েছেন তা সঠিক নয় বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত রবার্ট মিলার। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায় একে অপরকে শ্রদ্ধা করে।

অন্যদিকে, এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। শুক্রবার সন্ধ্যায় ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে মন্ত্রী বলেন, ‘আমি জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থায় একাধিকবার ভরা হাউসে পৃথিবীর সব দেশের এবং বাংলাদেশ ও বাইরের দেশের মানবাধিকার সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিয়েছি। যেখানে শ্রদ্ধেয় রানা দাশ গুপ্তার মতো মানুষেরাও উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু ট্রাম্পকে দেওয়া প্রিয়া সাহার অভিযোগের মতো কোনো অভিযোগ বা প্রশ্ন কাউকে করতে দেখিনি।’

‘কাইয়ো একনা ত্রাণ দিলে না’

‘কাইয়ো একনা ত্রাণ দিলে না’
এখনো ত্রাণ না পাওয়ায় আক্ষেপ করেন এই বৃদ্ধ, ছবি: বার্তটোয়েন্টিফোর.কম

কুড়িগ্রাম থেকে: পানির স্রোতে অশান্ত হয়ে উঠেছে ব্রহ্মপুত্র নদ। চারদিক পানি ছাপিয়ে পড়ায় প্লাবিত হয়েছে গ্রামের পর গ্রাম। এই নদে ক্রমশ পানি বাড়ায় আশপাশের চর, দ্বীপচর ও নিম্নাঞ্চলসহ শহরতলী পানিতে থৈ থৈ করছে।

শুক্রবার (১৯ জুলাই) দুপুরে কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার নয়ারহাটচর ও অষ্টমীরচরের চারদিক শুধু পানি আর পানি দেখা গেছে। পানিবন্দি এসব চরের মানুষরা গবাদি পশুপাখিসহ বাঁধের উঁচুতে আশ্রয় নিয়েছে। কোনোরকম ছোট ছোট ঝাপড়ি তুলে আবার কোথাও কোথাও প্লাস্টিক বা তাবুর নিচে দুর্বিষহ জীবন-যাপন করছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/20/1563560885391.jpg

এদিকে, পুটিমারি বাঁধের উপর গত কয়েকদিন ধরে চড়া রোদ সহ্য করেছেন বানভাসি মানুষরা। তাদেরই একজন বৃদ্ধ আজাদ মিয়া। আক্ষেপ নিয়ে বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে এই বৃদ্ধ বলেন, ‘সাতদিন ধরি বাঁধের উপর ঘর বানবন্দি (বেঁধে) কোনোরকম পড়ি আছি। চেয়ারম্যান-মেম্বর কাইয়ো হামার (আমার) খবর নিলেও না। পাশ দিয়া কত নৌকা যাবার নাগছে (যেতে লাগছে), কাইয়ো (কেউ) একনা (একটু) ত্রাণ দিলে না।’

এই বাঁধের উপর আশ্রয় নিয়েছে অর্ধশত পরিবার। সঙ্গে আছে তাদের গবাদি পশুও। শুক্রবার বিকেলে নৌকায় করে রমনা পয়েন্ট ধরে চরে যাওয়ার পথে চোখ পড়ে এই বাঁধে থাকা মানুষদের দুর্ভোগের দৃশ্য।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/20/1563560935566.jpg

বাঁধের পাশ্ববর্তী সড়কের উপর প্লাস্টিকের নিচে ঘর করে আছে গোলাম হোসেন। তিনি জানান, আশপাশে দুই কিলোমিটারের মধ্যে কোনো শুকনো জায়গা খুঁজে না পেয়ে এখানে উঠেছেন। কিন্তু ত্রিপল না থাকায় মাথার ওপর আচ্ছাদন দিতে পারেননি। একদিন বৃষ্টিতেও ভিজেছেন।

বন্যা কবলিত এলাকাগুলোতে মল-মূত্র ত্যাগের জন্য তেমন ব্যবস্থা নেই। এতে করে রাতে অন্ধকার নামার অপেক্ষায় থাকেন অনেকে। ডুবে যাওয়া পানির নিচে প্রাকৃতিক কাজ সারছেন তারা। খাবার পানির সংকট আরও প্রকট হয়ে উঠেছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/20/1563561018038.jpg

এদিকে, কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ২ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার, ৫০০ মেট্রিকটন চাল, সাড়ে ১৩ লাখ টাকা ও সাড়ে ৪০০ তাবু বিতরণ করা হয়েছে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র