Barta24

বুধবার, ২৪ জুলাই ২০১৯, ৯ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

রোহিঙ্গা সঙ্কট

১ কোটি ৮০ লাখ ইউরো সহায়তার প্রতিশ্রুতি ইইউ’র

১ কোটি ৮০ লাখ ইউরো সহায়তার প্রতিশ্রুতি ইইউ’র
ইউরোপীয় ইউনিয়নের পতাকা
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
ঢাকা


  • Font increase
  • Font Decrease

কক্সবাজার জেলার জন্য ১ কোটি ৮০ লাখ ইউরো সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। রোহিঙ্গা শরণার্থী ও তাদের আশ্রয়দানকারী স্থানীয়দের জীবনে স্থিতিশীলতা আনতে এ তহবিল থেকে ব্যয় করা হবে।

বৃহস্পতিবার (২০ জুন) ইউনিসেফ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি তোমো হোযুমি বলেন, রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশি শিশু, কিশোর-কিশোরী ও তাদের পরিবারের জন্য ইতিবাচক ফল বয়ে আনার পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়নের এই সহায়তা স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে উদ্ভাবনী উপায়ে, সুসংহত ও সমন্বিতভাবে সেবা প্রদানে আমাদের জন্য সুযোগ তৈরি করবে।

তিনি বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো অংশীদারদের সহযোগিতায় আমরা গত দেড় বছরে আমাদের মানবিক সহায়তা কার্যক্রম বেশ জোরদার করেছি। তবে পরিস্থিতি এখনো সংকটময় রয়ে গেছে, কেননা বাংলাদেশের দরিদ্রতম ও সবচেয়ে ঝুঁকির মুখে থাকা জেলাগুলোর একটিতে এখনো ১২ লাখ মানুষের মানবিক সহায়তা প্রয়োজন।

ইউনিসেফের প্রতিনিধি আরো বলেন, কক্সবাজারে বসবাসকারী ২৩ লাখ মানুষের প্রায় ৩৩ শতাংশ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করে। সেখানে শিক্ষার সূচকগুলো দেশের সর্বনিম্ন পর্যায়ে। যেমন, প্রাথমিক শিক্ষা সমাপ্তির হার ৫৫ শতাংশ। ১৮ বছর বয়সের আগেই অর্ধেকের বেশি মেয়ের বিয়ে হয়ে যায় এবং প্রায় ৫০ হাজার শিশু সম্পৃক্ত শিশুশ্রমে। জেলাটিতে অপুষ্টির হারও সুউচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। মায়েদের পুষ্টিহীনতা এবং নবজাতক শিশুদের পর্যাপ্ত না খাওয়ানো ও যথাযথ যত্নের অভাবে সেখানে প্রতি দুইজন শিশুর একটি খর্বাকৃতির সমস্যায় ভুগছে।

তোমো হোযুমি বলেন, রোহিঙ্গা সঙ্কটে ইউনিসেফের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে পাশে আছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। আমরা প্রত্যাশা করি, রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং তাদের আশ্রয় দেওয়া স্থানীয় বাংলাদেশিদের জীবনমান উন্নত করতে গুরুত্বপূর্ণ এই অংশীদারিত্ব অব্যাহত থাকবে।

বাংলাদেশে মৌসুমী বৃষ্টিপাতের কারণে ঘূর্ণিঝড়, বন্যা ও ভূমিধসের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবজনিত কারণে কক্সবাজার অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ জেলা।

এসব সমস্যার কথা উল্লেখ করে বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত রেন্সজে তিরিঙ্ক বলেন, শরণার্থী সংকটের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত সবার জন্য আরো ভালো একটি ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে আমাদের আরো কার্যকরভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। এই কৌশলগত সহায়তার মাধ্যমে আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিগুলোর জন্য মানবিক ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা।

তিনি বলেন, কক্সবাজারে পানি, শিক্ষা, শিশু সুরক্ষা এবং খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা প্রাপ্তির সুযোগ উন্নত করার ক্ষেত্রে অন্তর্নিহিত সমস্যাগুলো আমরা সমাধান করবো। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে স্থানীয় উন্নয়ন প্রচেষ্টা জোরদার করা এবং ভবিষ্যতে মানবিক সহায়তার চাহিদা কমানো।

এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থী ও তাদের আশ্রয় দেওয়া স্থানীয়দের সহায়তা প্রদানে ইউনিসেফকে ২ কোটি ৪৮ লাখ ইউরো অর্থ সহায়তা দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।

আপনার মতামত লিখুন :

উচ্ছেদ অভিযানে নদীতীরের ১৪৫ একর জমি উদ্ধার

উচ্ছেদ অভিযানে নদীতীরের ১৪৫ একর জমি উদ্ধার
ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর

এ বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত পাঁচ হাজার ২৩৯টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের মাধ্যমে ঢাকার চারপাশে নদীতীরের প্রায় ১৪৫ দশমিক ১ একর জমি উদ্ধার করা হয়েছে। নিলামের মাধ্যমে আট কোটি ৬৪ লাখ ৩৮ হাজার ৪০০ টাকা এবং জরিমানার মাধ্যমে ২৭ লাক ৬ হাজার টাকা আদায় করা হয়েছে।

বুধবার (২৪ জুলাই) নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে দেশের গুরুত্বপূর্ণ নদ-নদীর নাব্যতা এবং নদীর স্বাভাবিক গতিপ্রবাহ অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে পরামর্শ প্রদান, সুপারিশ প্রণয়ন এবং বাস্তবায়নের জন্য গঠিত ‘টাস্কফোর্স’ -এর প্রথম সভায় এ তথ্য জানানো হয়।

সভায় জানানো হয়, বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, শীতলক্ষ্যা ও বালু নদীর উচ্ছেদকৃত তীরভূমিতে পিলার স্থাপন, তীররক্ষা, ওয়াকওয়ে ও জেটিসহ আনুষঙ্গিক অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্পের ৫২ কিলোমিটার ওয়াকওয়ে, ১০ হাজার ৮২০টি সীমানা পিলার, বনায়ন, তিনটি ইকোপার্ক, ছয়টি পন্টুন, ৪০ কিলোমিটার কি-ওয়াল, ১৯টি আরসিসি জেটি, ৪০টি স্পার্ড ও ৪০৯টি বসার বেঞ্চ নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে, যা ২০২২ সারের মধ্যে সম্পন্ন হবে।

নদী ভাঙন রোধে স্থায়ী সমাধান চায় গাইবান্ধাবাসী

নদী ভাঙন রোধে স্থায়ী সমাধান চায় গাইবান্ধাবাসী
জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে গাইবান্ধার বন্যা কবলিত মানুষের জন্য ত্রাণের দাবিতে মানববন্ধন করেছে ভালোবাসি গাইবান্ধা সংগঠন।

গাইবান্ধায় বন্যা কবলিত লক্ষাধিক মানুষের জন্য ত্রাণ সাহায্য বৃদ্ধি এবং এলাকার নদী ভাঙন রোধে দ্রুত ও স্থায়ী উদ্যোগ গ্রহণের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।

বুধবার (২৪ জুলাই) স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘ভালোবাসি গাইবান্ধা এর আয়োজনে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

সংগঠনের সভাপতি গোলাম আশিক যাদুর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, খন্দকার আব্দুল্যাহেল কাফি, আব্দুল কুদ্দুছ, কামরুজ্জামান, রিজওয়ান আশরাফ এলিচ,  আবুল হোসেন, নুরুল ইসলাম, এসটি শাহীন, রায়হানুল ইসলাম আকন্দ, খন্দকার শরীর, এবিএম শাহজাহান আকন্দ মাসুম, রাজীব সরকার, আশরাফুল ইসলাম সরকার, সাইফুল ইসলাম-দপ্তর সম্পাদক, মোঃ ফয়জুল ইসলাম, রাহুল ইসলাম বকুলসহ অনেকে।

মানববন্ধনে সংগঠনের নেতারা বলেন, অবিরাম বর্ষণে ও উজান থেকে নেমে আসা পানির প্রচন্ড চাপে গাইবান্ধা জেলার সকল বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ এবং শহররক্ষা বাঁধ ভেঙে জেলার সকল থানার  প্রতিটি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। এতে কয়েক লাখ মানুষ পানিবন্দী হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। পানিবন্দী পরিবারগুলোর বিশুদ্ধ পানি, স্যানিটেশেন এবং জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। এসব এলাকা পানিবাহিত রোগ দেখা দিয়েছে।

তারা জানান, গাইবান্ধার বন্যায় সড়ক, ব্রিজ ও রেলপথ ভেঙে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়েছে। প্রায় ১২ হাজার ৮০৩ হেক্টর জমির ফসল পানিতে ডুবে আছে।  এর মধ্যে আউশ ৯৭৭ হেক্টর, পাট ২ হাজার ৪৩৯ হেক্টর, রোপা আমন বীজতলা ৪৬১ হেক্টর, বিভিন্ন ধরনের সবজি ২৪৭ হেক্টর, পান ৩ হেক্টরসহ অন্যান্য ফসল।   ১৮০টি আশ্রয়কেন্দ্র ৭৪ হাজার ১০৪ মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন।  এছাড়া বন্যায় ৫৭৫ কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা এবং ২৩৫ কিলোমিটার পাকা রাস্তা আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ৬৩ কিলোমিটার বাঁধ, ২১ টি কালর্ভাট এবং ১০ হাজার ৮৩৩ হেক্টর আবাদি জমি বন্যার পানিতে নিমজ্জিত।  মজুদকৃত খাদ্য নষ্ট হয়ে যাওয়ায় অনেকে অনাহারে অর্ধাহারে দিনযাপন করছে। হাজার হাজার মানুষ বসতভিটা হারিয়ে নৌকায়, স্কুল- কলেজ ভবনে, উঁচু সড়কে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে।

স্থানীয় প্রশাসন ও গণমাধ্যমে জানিয়েছে, বন্যা আক্রান্ত লোকজনের তুলনায় সরকারি ত্রাণ সরবরাহ খুবই কম। তাই, অবিলম্বে সরকারি ত্রাণ সাহায্য বাড়ানোর দাবি জানান ভালোবাসি গাইবান্ধার নেতারা।

নেতারা আরও জানান, গাইবান্ধায় নদী ভাঙনের ঘটনা নতুন নয়। নদী ভাঙনের কারণে এই এলাকার মানুষ এখনও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী। তাই দেশের সার্বিক উন্নয়নে এই এলাকার নদী ভাঙন রোধে কার্যকর ও স্থায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র