Barta24

বুধবার, ২৬ জুন ২০১৯, ১২ আষাঢ় ১৪২৬

English Version

ফজলের স্থলে সজল

মুক্তি পাচ্ছেন সেই ছোট ভাই, ওসিকে শোকজ

মুক্তি পাচ্ছেন সেই ছোট ভাই, ওসিকে শোকজ
আদালতে পাড়ায় বড়ভাইয়ের সাজায় আটক সজল, ছবি: বার্তা২৪.কম
স্টাফ করেসপন্ডেট
বার্তা২৪.কম
রাজশাহী


  • Font increase
  • Font Decrease

রাজশাহীতে বড় ভাই সেলিম হোসেন ওরফে ফজল মিয়ার (৪৫) যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে জেলে পাঠানো ছোট ভাই সজল মিয়াকে (৩৫) মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়ে কারামুক্তির নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে সাজাপ্রাপ্ত বড় ভাইকে গ্রেফতার না পেয়ে ছোটভাইকে গ্রেফতার করে জেলে পাঠানোর দায়ে নগরীর শাহ মখদুম থানার ওসিকে সাত দিনের মধ্যে আদালতে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।

বুধবার (১২ জুন) বিকেলে ভুক্তভোগী সজল মিয়ার আবেদনের প্রেক্ষিতে দীর্ঘ শুনানি শেষে রাজশাহীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মো. মনসুর আলম এই আদেশ দেন। ফলে বিনা দোষে দেড় মাস জেল খাটার পর মুক্তি পাচ্ছেন পেশায় ডাব বিক্রেতা সজল মিয়া।

শুনানিতে অংশ নেওয়া রাষ্ট্র পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোজাফফর হোসেন বার্তা২৪.কম-কে বলেন, 'শোকজের জবাব সন্তোষজনক না হলে ওসির বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।'

সজল মিয়ার আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহন কুমার সাহা বলেন, 'বিনা অপরাধে প্রায় দেড় মাস জেল খাটানোর জন্য ক্ষতিপূরণ আদায়ে মানবাধিকার সংগঠনের মাধ্যমে আদালতে আরেকটি আবেদন করা হবে।'

গত ৩০ এপ্রিল মহানগরীর ছোটবন গ্রাম থেকে সেলিম হোসেন ওরফে ফজল মিয়া দেখিয়ে ছোট ভাই সজল মিয়াকে গ্রেফতার করে পুলিশ। জেল থেকে মুক্তি পেতে গত ২৬ মে কারাগার থেকেই আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতে আবেদন করেন সজল। আবেদন আমলে নিয়ে উপযুক্ত প্রমাণ দাখিলের নির্দেশ দেন আদালত।

আরও পড়ুন: বড় ভাইয়ের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে ছোটভাইকে জেলে পাঠাল পুলিশ!

রায়ে আদালত বলেন, 'জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী- কারাভোগ করা সজল মিয়ার জন্মতারিখ ২৭ মে ১৯৮৪ এবং পিতার নাম তোফাজ উদ্দিন। ২০০১ সালে দায়ের করা মামলার এজাহারে সেলিম হোসেন ওরফে ফজল মিয়ার বয়স লেখা রয়েছে ২৭ বছর। ২০০১ সালে ফজলের বয়স ২৭ হলে, বর্তমানে তার বয়স ৪৫ বছর হবে। কিন্তু জন্মতারিখ অনুযায়ী গ্রেফতার সজল মিয়ার বর্তমান বয়স ৩৫ বছর। যা অসামঞ্জস্য।'

আদালত আরও উল্লেখ করেন, রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ফজলের শারীরিক বর্ণনার সঙ্গে সজলের শারীরিক বর্ণনার মিল নেই। সজলের ভাই ও বোনদের দেওয়া এফিডেফিটের তথ্য মতেও আটক সজল ও দণ্ডপ্রাপ্ত ফজল তাদের সহোদর। কিন্তু একই ব্যক্তি নয়।

আদালত সার্বিক তথ্য উপাত্ত পর্যালোচনা শেষে সজল মিয়া এই মামলার দায় থেকে অব্যাহতি দিয়ে দ্রুত মুক্তির আদেশ দেন।

মামলা সূত্রে জানা যায়, মহানগরীর ছোটবন গ্রামের বাসিন্দা তোফাজের চার ছেলের মধ্যে সেলিম হোসেন ওরফে ফজল মিয়া তৃতীয়। ২০০১ সালের ২০ মে শিশু পাচারের দায়ে ফজল মিয়ার বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করা হয়। মামলার পাঁচদিন পরই গ্রেফতার হন ফজল মিয়া।

বেশ কিছুদিন পরে জামিনে বেরিয়ে গা ঢাকা দেন তিনি। এরপর থেকে তার কোনো হদিস পায়নি পুলিশ এবং পরিবারের সদস্যরাও। ফলে তার অনুপস্থিতিতেই চলে বিচারকার্য। ২০০৯ সালের ২৮ আগস্ট ওই মামলার রায়ে ফজলের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দেন আদালত।

তবে কয়েক দফা অভিযান চালিয়েও পলাতক ফজল মিয়াকে গ্রেফতারে ব্যর্থ হয় পুলিশ। মাঝেমধ্যেই ছোটবন গ্রামে ফজল মিয়ার পৈতৃক বাড়িতে অভিযান চালিয়ে আসছিল শাহ মখদুম থানা পুলিশ। সবশেষ চলতি বছরের ৩০ এপ্রিল অভিযানকালে ফজলকে না পেয়ে ছোট ভাই সজলকে ধরে ‘ফজল’ সাজিয়ে কারাগারে পাঠায় পুলিশ।

আদালতের রায়ের পর এ বিষয়ে জানতে চাইলে নগরীর শাহ মখদুম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম মাসুদ পারভেজ কোনো মন্তব্য করেননি। তবে গত ৩০ মে ওসি বার্তা২৪.কম-কে বলেছিলেন, 'আমরা ঠিক আসামিকেই ধরেছি। মামলার সাক্ষীরা আসামিকে শনাক্ত করেছেন। এ নিয়ে তারা এফিডেফিটও করে দিয়েছেন। সেটি আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে।'

আপনার মতামত লিখুন :

লাল নিশান টানিয়ে জমির দখল দিলেন আদালত

লাল নিশান টানিয়ে জমির দখল দিলেন আদালত
আদালতের নির্দেশে জমির দখল বুঝিয়ে দেওয়া হচ্ছে/ ছবি: বার্তা২৪.কম

ময়মনসিংহ নগরীর মাসকান্দা এলাকায় আদালতের রায়ে লাল নিশান টানিয়ে ঢোল পিটিয়ে জমির দখল বুঝিয়ে দিয়েছেন আদালত কর্তৃপক্ষ।

বুধবার (২৬ জুন) দুপুরে জমির মালিক আব্দুল বারীকে এ জমির দখল বুঝিয়ে দেওয়া হয়।

আদালত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০০৪ সালে নগরীর চরছত্তরপুর মৌজায় ০.১৯৫ (দশমিক এক নয় পাঁচ) একর জমি নিয়ে আদালতে বাটোয়ারা মামলা দায়ের করেন জাহাঙ্গীর আলম নামের এক ব্যক্তি।

এ মামলায় র্দীঘ শুনানি শেষে ২০১৪ সালে আদালত বিবাদী আব্দুল বারীর পক্ষে ডিক্রি ঘোষণা করেন।

এরপর চলতি বছর বারীর পক্ষে আদালত ফের চূড়ান্ত ডিক্রি ঘোষণা করেন। বুধবার দুপুরে ঐ ডিক্রির প্রেক্ষিতে আদালত কর্তপক্ষ সরেজমিনে ঐ জমিতে গিয়ে লাল নিশান টানিয়ে ঢোল পিটিয়ে জমির মালিককে দখল বুঝিয়ে দেন।

এ সময় জেলা জজ আদালতের নাজির আ: হালিম, জারীকারক মো: রমজান আলী, অ্যাড. কমিশনার আতিকুল ইসলাম সহ স্থানীয়রা উপস্থিত ছিলেন।

রংপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ

রংপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ
ছবি: বার্তা২৪

রংপুর জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট ছাফিয়া খানমের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (২৬ জুন) বিকেলে রংপুর জেলা পরিষদ হলরুমে সংবাদ সম্মেলনে তার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ আনেন।

তাদের দাবি, রংপুর সিটি করপোরেশনের (রসিক) মেয়রের সাথে কোটি টাকার লেনদেন করে ওরিয়েন্টাল সিনেমা হল নিয়ে চলমান মামলা পরিচালনায় অনাগ্রহ দেখাচ্ছেন চেয়ারম্যান। এতে জেলা পরিষদ প্রায় অর্ধশত কোটি টাকার সম্পত্তি বেহাত হতে পারে। এছাড়াও পরিষদের বিভিন্ন উপজেলার গাছ নামমাত্র দামে বিক্রি করে চেয়ারম্যান তার ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল করেছেন।

লিখিত বক্তব্যে পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ও সদস্য মোহসিনা বেগম বলেন, চেয়ারম্যান ছাফিয়া খানম গত দুই অর্থবছরে অসহায় দরিদ্রদের চিকিৎসা ও শিক্ষা অনুদান দেওয়ার নামে লাখ লাখ টাকা আত্নসাৎ করেছে। সড়কের দু'পাশ থেকে গাছ অপসারণের নামে সদস্যদের না জানিয়ে রাতারাতি গাছ কেটে তার মেয়ের জামাইকে দিয়ে বিক্রি করে প্রচুর অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। ভুয়া প্রকল্পের মাধ্যমে রাজস্ব খাত থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা হেরফের করেছেন। গত দুই অর্থবছরে এডিপি ৪০% কাজ বাস্তবায়িত করতে পারেননি। বরং প্রকল্পের টাকা ব্যাংকে জমা রেখে চেয়ারম্যান ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধি করার পাশাপাশি মাসিক লভ্যাংশ নিচ্ছেন।

তিনি অভিযোগ করেন, জেলা পরিষদের প্রত্যেকটি উন্নয়ন কাজে পরিষদ সদস্যদের সম্পৃক্ত থাকার বিধান আছে, কিন্তু চেয়ারম্যান তা মানেন না। সাতটি স্থায়ী কমিটি থাকার পরও তিনি কারো সুপারিশ বা পরামর্শ গ্রাহ্য করেন না। নিয়মিত মাসিক সভা না করেই নিজের মন মত করে ভুয়া বিল ভাউচার তৈরি করে অর্থ আত্মসাৎ করেছেন।

সংবাদ সম্মলনে পরিষদের সদস্য সিরাজুল হক প্রামানিক, পারভীন আকতার, সৈয়দ দিলনাহার, রিয়াজুল, রফিকুল ইসলাম, সেলিনা খাতুন, রফিকুর রহমান, ফিরোজ হোসেন, আনোয়ার হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

পরিষদ সদস্যরা বলেন, আমরা জনগণের কল্যাণ ও উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি নিয়ে নির্বাচিত হয়েছি, কিন্তু চেয়ারম্যানের স্বেচ্ছাচারিতায় পরিষদ আজ অকার্যকর।

এসব অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট ছাফিয়া খানমের সাথে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র